ভরা মৌসুমে বিটুমিনে কারসাজি বিপিসির
jugantor
ভরা মৌসুমে বিটুমিনে কারসাজি বিপিসির
ড্রামজাত সরবরাহ প্রায় বন্ধ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভরা মৌসুমে বিটুমিনে কারসাজি বিপিসির

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) ড্রামজাত বিটুমিন সরবরাহ অস্বাভাবিক কমিয়ে দিয়েছে। এক মাস ধরে সরবরাহ নেই বললেই চলে। ড্রামশিট না থাকার অজুহাতে সংস্থাটি সেই সঙ্গে কমিয়ে দিয়েছে উৎপাদনও। আর এতে বেসরকারি খাতের বিটুমিনের দাম হু হু করে বাড়ছে।

ফলে এক দিকে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্য দিকে সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ কাজ মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ আছে, প্রতি বছরই মৌসুম এলে বিপিসি বা ইআরএল বিটুমিন নিয়ে এ কারসাজি করে। বেসরকারি আমদানিকারকদের কাছ থেকে ‘অনৈতিক সুবিধা’ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে সরবরাহ বন্ধ করে দেন।

সূত্রমতে, বেসরকারি খাতে আমদানি করা ইরানি বিটুমিন এক মাস আগেও বিক্রি হয়েছে পাঁচ হাজার ৩০০ থেকে পাঁচ হাজার ৪০০ টাকায়। রোববার তা বিক্রি হয় প্রতি ড্রাম ছয় হাজার ৮০০ থেকে সাত হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি ড্রামে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

সূত্র জানায়, ইআরএল দৈনিক গড়ে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ড্রাম বিটুমিন উৎপাদন ও সরবরাহ করে। পদ্মা মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে সংস্থাটি বিটুমিন বাজারজাত করে। সরকারি এ বিটুমিন গুণগত মান ভালো থাকায় ও অত্যন্ত টেকসই হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। কিন্তু প্রতি বছর মৌসুম এলেই বিটুমিন নিয়ে কারসাজি শুরু হয়। কখনো বাজার দরের চেয়ে উচ্চমূল্য নির্ধারণ করে সংস্থাটি। কখনো ড্রামশিট না থাকার অজুহাতে সরবরাহই বন্ধ করে দেয়। এতে সৃষ্টি হয় সংকট। ক্রেতারা শেষ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে আমদানি করা বিটুমিনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বর্তমানে সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের মৌসুম চলছে। অথচ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইআরএল-এর বিটুমিন ক্রেতারা পাচ্ছেন না বললেই চলে। সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ঠিকাদার যুগান্তরকে জানান, বিটুমিনের জন্য তারা পদ্মা মেঘনা যমুনায় সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও চাহিদাপত্র জমা দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতের নিুমানের বিটুমিন কিনতে হচ্ছে।

ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, এবারও সরকারি বিটুমিনের দাম আগে থেকেই বাড়িয়ে রাখা হয়েছে। ৮০ গ্রেডের বিটুমিন প্রতি ড্রাম ছয় হাজার ৮০০ টাকা ও ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন সাত হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু গুণগত মান ভালো হওয়ায় দাম বেশি হলেও তারা এ বিটুমিনই কিনে থাকেন। তা ছাড়া সরকারি কাজে সরকারের উৎপাদিত বিটুমিন কেনার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ করে আমাদের বেসরকারি পণ্যের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন) সৈয়দ মেহেদী হাসানও ড্রামজাত বিটুমিন সরবরাহ কম বলে স্বীকার করেছেন। রোববার সন্ধ্যায় তিনি যুগান্তরকে বলেন, ড্রামশিটের কোনো সংকট নেই। এক লাখ ড্রাম তৈরির মতো শিট আমাদের মজুদ রয়েছে। নতুন করে শিট কেনার জন্য টেন্ডারও আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাল্কে বিটুমিনের চাহিদা বেশি।

বাল্কের বিটুমিন সরবরাহ সামাল দিতে গিয়ে ড্রামজাত বিটুমিন সরবরাহের গতি ধীর হয়ে গেছে। পরিচালক আরও বলেন, বেসরকারি খাতে দাম বৃদ্ধি বা সংকট সৃষ্টির কারণ জানি না-হয়তো, আমদানি কম হয়েছে, হয়তো অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে এটা ঠিক সংকটের কারণেই ড্রামজাত বিটুমিনের দাম বেড়েছে।

ভরা মৌসুমে বিটুমিনে কারসাজি বিপিসির

ড্রামজাত সরবরাহ প্রায় বন্ধ
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ভরা মৌসুমে বিটুমিনে কারসাজি বিপিসির
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) ড্রামজাত বিটুমিন সরবরাহ অস্বাভাবিক কমিয়ে দিয়েছে। এক মাস ধরে সরবরাহ নেই বললেই চলে। ড্রামশিট না থাকার অজুহাতে সংস্থাটি সেই সঙ্গে কমিয়ে দিয়েছে উৎপাদনও। আর এতে বেসরকারি খাতের বিটুমিনের দাম হু হু করে বাড়ছে।

ফলে এক দিকে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্য দিকে সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ কাজ মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ আছে, প্রতি বছরই মৌসুম এলে বিপিসি বা ইআরএল বিটুমিন নিয়ে এ কারসাজি করে। বেসরকারি আমদানিকারকদের কাছ থেকে ‘অনৈতিক সুবিধা’ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে সরবরাহ বন্ধ করে দেন।

সূত্রমতে, বেসরকারি খাতে আমদানি করা ইরানি বিটুমিন এক মাস আগেও বিক্রি হয়েছে পাঁচ হাজার ৩০০ থেকে পাঁচ হাজার ৪০০ টাকায়। রোববার তা বিক্রি হয় প্রতি ড্রাম ছয় হাজার ৮০০ থেকে সাত হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি ড্রামে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

সূত্র জানায়, ইআরএল দৈনিক গড়ে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ড্রাম বিটুমিন উৎপাদন ও সরবরাহ করে। পদ্মা মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে সংস্থাটি বিটুমিন বাজারজাত করে। সরকারি এ বিটুমিন গুণগত মান ভালো থাকায় ও অত্যন্ত টেকসই হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। কিন্তু প্রতি বছর মৌসুম এলেই বিটুমিন নিয়ে কারসাজি শুরু হয়। কখনো বাজার দরের চেয়ে উচ্চমূল্য নির্ধারণ করে সংস্থাটি। কখনো ড্রামশিট না থাকার অজুহাতে সরবরাহই বন্ধ করে দেয়। এতে সৃষ্টি হয় সংকট। ক্রেতারা শেষ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে আমদানি করা বিটুমিনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বর্তমানে সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের মৌসুম চলছে। অথচ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইআরএল-এর বিটুমিন ক্রেতারা পাচ্ছেন না বললেই চলে। সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ঠিকাদার যুগান্তরকে জানান, বিটুমিনের জন্য তারা পদ্মা মেঘনা যমুনায় সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও চাহিদাপত্র জমা দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতের নিুমানের বিটুমিন কিনতে হচ্ছে।

ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, এবারও সরকারি বিটুমিনের দাম আগে থেকেই বাড়িয়ে রাখা হয়েছে। ৮০ গ্রেডের বিটুমিন প্রতি ড্রাম ছয় হাজার ৮০০ টাকা ও ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন সাত হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু গুণগত মান ভালো হওয়ায় দাম বেশি হলেও তারা এ বিটুমিনই কিনে থাকেন। তা ছাড়া সরকারি কাজে সরকারের উৎপাদিত বিটুমিন কেনার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ করে আমাদের বেসরকারি পণ্যের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন) সৈয়দ মেহেদী হাসানও ড্রামজাত বিটুমিন সরবরাহ কম বলে স্বীকার করেছেন। রোববার সন্ধ্যায় তিনি যুগান্তরকে বলেন, ড্রামশিটের কোনো সংকট নেই। এক লাখ ড্রাম তৈরির মতো শিট আমাদের মজুদ রয়েছে। নতুন করে শিট কেনার জন্য টেন্ডারও আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাল্কে বিটুমিনের চাহিদা বেশি।

বাল্কের বিটুমিন সরবরাহ সামাল দিতে গিয়ে ড্রামজাত বিটুমিন সরবরাহের গতি ধীর হয়ে গেছে। পরিচালক আরও বলেন, বেসরকারি খাতে দাম বৃদ্ধি বা সংকট সৃষ্টির কারণ জানি না-হয়তো, আমদানি কম হয়েছে, হয়তো অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে এটা ঠিক সংকটের কারণেই ড্রামজাত বিটুমিনের দাম বেড়েছে।