বিতর্কিত প্রার্থী বারেককে নিয়ে অস্বস্তিতে ভোটাররা
jugantor
চসিকের ৪০ নম্বর ওয়ার্ড
বিতর্কিত প্রার্থী বারেককে নিয়ে অস্বস্তিতে ভোটাররা

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরের তীরঘেঁষা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডে রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। একটি হলো চট্টগ্রাম ইপিজেড বা সিইপিজেড, অপরটি কর্ণফুলি ইপিজেড বা কেইপিজেড। চসিক নির্বাচনে এই তিন ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৯ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে সদ্য সাবেক দুই কাউন্সিলরকে। রানিং কাউন্সিলর হওয়ায় নির্বাচনি মাঠ রয়েছে তাদের অনুকূলে। তবে ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিতর্কিত প্রার্থী আবদুল বারেককে নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন সাধারণ ভোটাররা। মহিলা আওয়ামী লীগের এক নেত্রীর দায়ের করা যৌন হয়রানির মামলা মাথায় নিয়ে নির্বাচনি মাঠে আছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছে নগরীর ইপিজেড থানার ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে। চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার এ ওয়ার্ডে। এখানে মোট ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৭৩৮ জন। স্বাভাবিকভাবেই এ ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি ৩০১টি বুথ ও ৪১টি কেন্দ্র রয়েছে। স্থানীয় ভোটারের চেয়ে ভাসমান ভোটারের সংখ্যাই বেশি। জানা গেছে, দেশের সব জেলার ভোটার রয়েছে এ ওয়ার্ডে। তাই স্থানীয় ভোটারদের ওপরই নির্ভর করছে কাউন্সিলর প্রার্থীদের জয়-পরাজয়। তবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনি কৌশলের কারণে ফ্যাক্টর হতে পারে ভাসমান ভোটাররাও। সিইপিজেড-এর দেশি-বিদেশি কারখানাগুলোয় কর্মরত অন্তত পৌনে দুই লাখ শ্রমিকের কারণেই এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা বেশি। এছাড়া কেইপিজেড থাকায় বিপুলসংখ্যক ভাসমান ভোটার রয়েছে ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ও ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডেও।

চসিক নির্বাচন হলফনামা সূত্র জানায়, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিয়াউল হক সুমন ও বিএনপির সরফরাজ কাদের। এর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে রয়েছেন বিকম পাশ সরফরাজ কাদের। এসএসসি পাশ জিয়াউল হক সুমন ইপিজেড থানা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সুমন সদ্যবিদায়ি কাউন্সিলর। তাই নির্বাচনি মাঠ তার অনুকূলে রয়েছে।

৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চার প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল বারেক সপ্তম শ্রেণি, বিদ্রোহী মো. ফরিদুল আলম বিএ পাশ এবং মো. নাছির আহামেদ অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। আবদুল বারেক এরই মধ্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন। একই ওয়ার্ডের খোদ মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছিমা ওয়াদুদ তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। আবদুল বারেক মামলার খক্ষ মাথায় নিয়ে নির্বাচন করছেন। এছাড়া রয়েছে দখল-বেদখলসহ নানা অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করে নৌকার সমর্থক স্থানীয় অনেক ভোটার জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলেও নানা বিতর্কে জড়ানোর কারণে বারেকের পক্ষে নেই তারা। নৌকার মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও কাউন্সিলর হিসাবে আওয়ামী লীগের এ প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারছেন না তারা।

এ কারণে ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফরিদুল আলমের পক্ষেই রয়েছে নির্বাচনি মাঠ। যদিও ফরিদুল আলম অভিযোগ করেছেন, আবদুল বারেক নির্বাচনে পেশি শক্তি খাটানোর পাঁয়তারা করছেন। এ ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ হারুন এসএসসি পাশ।

৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছালেহ আহমদ চৌধুরী এইচএসসি, বিএনপির নুরুল আবছার স্বশিক্ষিত। বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে মঞ্জুর আলম স্বশিক্ষিত, মোহাম্মদ আলমগীর এইচএসসি, আবদুর রহিম এসএসসি, ফজল করিম এইচএসসি, মো. নুরুল আবছার এইচএসসি এবং রফিক স্বশিক্ষিত।

৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ছালেহ আহমদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আমি কখনো সন্ত্রাস ও সহিংসতার পক্ষে নই। আমি জনগণের সঙ্গে কাজ করেছি। এ কারণে আওয়ামী লীগ থেকে পুনরায় আমাকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এবারও জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন।

৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিতর্কিত প্রার্থী আবদুল বারেক অভিযোগ অস্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগে মামলা হয়েছে। আশা করছি তদন্ত হলে সত্যটা বেরিয়ে আসবে।

চসিকের ৪০ নম্বর ওয়ার্ড

বিতর্কিত প্রার্থী বারেককে নিয়ে অস্বস্তিতে ভোটাররা

 এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরের তীরঘেঁষা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডে রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। একটি হলো চট্টগ্রাম ইপিজেড বা সিইপিজেড, অপরটি কর্ণফুলি ইপিজেড বা কেইপিজেড। চসিক নির্বাচনে এই তিন ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৯ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে সদ্য সাবেক দুই কাউন্সিলরকে। রানিং কাউন্সিলর হওয়ায় নির্বাচনি মাঠ রয়েছে তাদের অনুকূলে। তবে ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিতর্কিত প্রার্থী আবদুল বারেককে নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন সাধারণ ভোটাররা। মহিলা আওয়ামী লীগের এক নেত্রীর দায়ের করা যৌন হয়রানির মামলা মাথায় নিয়ে নির্বাচনি মাঠে আছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছে নগরীর ইপিজেড থানার ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে। চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার এ ওয়ার্ডে। এখানে মোট ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৭৩৮ জন। স্বাভাবিকভাবেই এ ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি ৩০১টি বুথ ও ৪১টি কেন্দ্র রয়েছে। স্থানীয় ভোটারের চেয়ে ভাসমান ভোটারের সংখ্যাই বেশি। জানা গেছে, দেশের সব জেলার ভোটার রয়েছে এ ওয়ার্ডে। তাই স্থানীয় ভোটারদের ওপরই নির্ভর করছে কাউন্সিলর প্রার্থীদের জয়-পরাজয়। তবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনি কৌশলের কারণে ফ্যাক্টর হতে পারে ভাসমান ভোটাররাও। সিইপিজেড-এর দেশি-বিদেশি কারখানাগুলোয় কর্মরত অন্তত পৌনে দুই লাখ শ্রমিকের কারণেই এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা বেশি। এছাড়া কেইপিজেড থাকায় বিপুলসংখ্যক ভাসমান ভোটার রয়েছে ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ও ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডেও।

চসিক নির্বাচন হলফনামা সূত্র জানায়, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দুজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিয়াউল হক সুমন ও বিএনপির সরফরাজ কাদের। এর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে রয়েছেন বিকম পাশ সরফরাজ কাদের। এসএসসি পাশ জিয়াউল হক সুমন ইপিজেড থানা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সুমন সদ্যবিদায়ি কাউন্সিলর। তাই নির্বাচনি মাঠ তার অনুকূলে রয়েছে।

৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চার প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল বারেক সপ্তম শ্রেণি, বিদ্রোহী মো. ফরিদুল আলম বিএ পাশ এবং মো. নাছির আহামেদ অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। আবদুল বারেক এরই মধ্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন। একই ওয়ার্ডের খোদ মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছিমা ওয়াদুদ তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। আবদুল বারেক মামলার খক্ষ মাথায় নিয়ে নির্বাচন করছেন। এছাড়া রয়েছে দখল-বেদখলসহ নানা অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করে নৌকার সমর্থক স্থানীয় অনেক ভোটার জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলেও নানা বিতর্কে জড়ানোর কারণে বারেকের পক্ষে নেই তারা। নৌকার মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও কাউন্সিলর হিসাবে আওয়ামী লীগের এ প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারছেন না তারা।

এ কারণে ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফরিদুল আলমের পক্ষেই রয়েছে নির্বাচনি মাঠ। যদিও ফরিদুল আলম অভিযোগ করেছেন, আবদুল বারেক নির্বাচনে পেশি শক্তি খাটানোর পাঁয়তারা করছেন। এ ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ হারুন এসএসসি পাশ।

৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছালেহ আহমদ চৌধুরী এইচএসসি, বিএনপির নুরুল আবছার স্বশিক্ষিত। বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে মঞ্জুর আলম স্বশিক্ষিত, মোহাম্মদ আলমগীর এইচএসসি, আবদুর রহিম এসএসসি, ফজল করিম এইচএসসি, মো. নুরুল আবছার এইচএসসি এবং রফিক স্বশিক্ষিত।

৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ছালেহ আহমদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আমি কখনো সন্ত্রাস ও সহিংসতার পক্ষে নই। আমি জনগণের সঙ্গে কাজ করেছি। এ কারণে আওয়ামী লীগ থেকে পুনরায় আমাকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এবারও জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন।

৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিতর্কিত প্রার্থী আবদুল বারেক অভিযোগ অস্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগে মামলা হয়েছে। আশা করছি তদন্ত হলে সত্যটা বেরিয়ে আসবে।