ভোট সামনে রেখে নগরে বহিরাগতদের আনাগোনা
jugantor
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন
ভোট সামনে রেখে নগরে বহিরাগতদের আনাগোনা

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম  

২৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন ঘিরে বন্দর নগরীতে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে। নির্বাচনের দিন বহিরাগত লোকজন বিশেষ কোনো প্রার্থীর পক্ষে পেশিশক্তির প্রদর্শন কিংবা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ছয়জন বহিরাগতকে আটক করেছে পুলিশ। বহিরাগতদের ঠেকাতে নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে নগরীর আবাসিক হোটেল, বাসা-বাড়িসহ প্রার্থী ও তাদের স্বজনদের বাসা-বাড়ি। এছাড়া নগরীর পাঁচ প্রবেশপথে বসানো হচ্ছে চেকপোস্ট।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর যুগান্তরকে বলেন, ‘চসিক নির্বাচনে ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীনরা। তারা ভোট ডাকাতির ফন্দি খুঁজছে। শুনছি শনিবার থেকে নগরীতে বহিরাগতদের আনা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলা ছাড়াও ফেনী, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগতদের জড়ো করা হচ্ছে। অথচ বহিরাগত ঠেকানোর ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না পুলিশ। বরং পুলিশ বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি দিচ্ছে।

চসিকের ৪নং চান্দগাঁও ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনিসুর রহমানের অভিযোগ- রাঙ্গুনিয়া ও সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগতদের এলাকায় জড়ো করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু। ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় সাইফু ভোট কেন্দ্রে পেশিশক্তি প্রয়োগের পাঁয়তারা করছেন।

চসিকের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী তৌফিক আহমদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, দলীয় লোকজন ও এলাকার জনসমর্থন যাদের পক্ষে নেই তারা বহিরাগতদের ওপর নির্ভরশীল। ফটিকছড়িসহ জেলার কয়েকটি স্থানের সন্ত্রাসীদের নির্বাচনের দিন এনে প্রভাব বিস্তার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। আশা করছি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বহিরাগতদের বিষয়ে কঠোর হবেন। তিনি আরও বলেন, ৫ বছরে আমি এলাকায় ৬২ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। জনগণ আমার সঙ্গে আছেন। এ কারণে বহিরাগত বা পেশিশক্তির ওপর আমি নির্ভরশীল নই।

২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাহেদ ইকবাল বাবু যুগান্তরকে বলেন, ইতোমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর পক্ষে বহু বহিরাগত লোকজনকে এলাকায় জড়ো করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। বহিরাগতদের নিয়ে আমি শঙ্কিত। তারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করতে পারে। বিষয়টি আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও জানিয়েছি। আশা করছি প্রশাসন সতর্ক থাকবে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আবদুল ওয়ারিশ খান যুগান্তরকে বলেন, বহিরাগতরা যাতে নগরীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পুলিশ কঠোর অবস্থানে আছে। আবাসিক হোটেল ও বাসাবাড়িতে বহিরাগতরা যাতে আশ্রয় নিতে না পারে সেদিন লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এর বাইরে নগরীর পাঁচ প্রবেশ পথেও চেকপোস্ট থাকবে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, ইতোমধ্যে কোতোয়ালি এলাকা থেকে ছয়জন বহিরাগতকে আটক করা হয়েছে। তারা নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে নগরীতে জড়ো হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলাও রয়েছে। আটকরা হলো- চন্দনাইশ থানার পূর্ব কেশুয়া এলাকার বদিউল আলমের ছেলে আলমগীর হোসেন, মহেশখালী থানার সাইটপাড়া এলাকার রফিক আহমদের ছেলে আজিজ, আনোয়ারা থানার পূর্ব বড়ইয়া এলাকার এসএম বদরুদ্দোজার ছেলে এসএম তারেকুর রহমান রাকিব, উখিয়া থানার মরিচ্যা পাগলির বিল এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে মনির হোসেন, পটিয়া থানার দক্ষিণ আশিয়া এলাকার জিয়াউদ্দিন বাবলু ও রাউজান থানার গহিরা বদুরঘোনা এলাকার হাসানের ছেলে রাশেদুজ্জামান।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন

ভোট সামনে রেখে নগরে বহিরাগতদের আনাগোনা

 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম 
২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন ঘিরে বন্দর নগরীতে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে। নির্বাচনের দিন বহিরাগত লোকজন বিশেষ কোনো প্রার্থীর পক্ষে পেশিশক্তির প্রদর্শন কিংবা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ছয়জন বহিরাগতকে আটক করেছে পুলিশ। বহিরাগতদের ঠেকাতে নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে নগরীর আবাসিক হোটেল, বাসা-বাড়িসহ প্রার্থী ও তাদের স্বজনদের বাসা-বাড়ি। এছাড়া নগরীর পাঁচ প্রবেশপথে বসানো হচ্ছে চেকপোস্ট।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর যুগান্তরকে বলেন, ‘চসিক নির্বাচনে ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীনরা। তারা ভোট ডাকাতির ফন্দি খুঁজছে। শুনছি শনিবার থেকে নগরীতে বহিরাগতদের আনা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলা ছাড়াও ফেনী, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগতদের জড়ো করা হচ্ছে। অথচ বহিরাগত ঠেকানোর ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না পুলিশ। বরং পুলিশ বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি দিচ্ছে।

চসিকের ৪নং চান্দগাঁও ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনিসুর রহমানের অভিযোগ- রাঙ্গুনিয়া ও সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগতদের এলাকায় জড়ো করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু। ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় সাইফু ভোট কেন্দ্রে পেশিশক্তি প্রয়োগের পাঁয়তারা করছেন।

চসিকের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী তৌফিক আহমদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, দলীয় লোকজন ও এলাকার জনসমর্থন যাদের পক্ষে নেই তারা বহিরাগতদের ওপর নির্ভরশীল। ফটিকছড়িসহ জেলার কয়েকটি স্থানের সন্ত্রাসীদের নির্বাচনের দিন এনে প্রভাব বিস্তার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। আশা করছি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বহিরাগতদের বিষয়ে কঠোর হবেন। তিনি আরও বলেন, ৫ বছরে আমি এলাকায় ৬২ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। জনগণ আমার সঙ্গে আছেন। এ কারণে বহিরাগত বা পেশিশক্তির ওপর আমি নির্ভরশীল নই।

২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাহেদ ইকবাল বাবু যুগান্তরকে বলেন, ইতোমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর পক্ষে বহু বহিরাগত লোকজনকে এলাকায় জড়ো করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। বহিরাগতদের নিয়ে আমি শঙ্কিত। তারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করতে পারে। বিষয়টি আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও জানিয়েছি। আশা করছি প্রশাসন সতর্ক থাকবে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আবদুল ওয়ারিশ খান যুগান্তরকে বলেন, বহিরাগতরা যাতে নগরীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পুলিশ কঠোর অবস্থানে আছে। আবাসিক হোটেল ও বাসাবাড়িতে বহিরাগতরা যাতে আশ্রয় নিতে না পারে সেদিন লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এর বাইরে নগরীর পাঁচ প্রবেশ পথেও চেকপোস্ট থাকবে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, ইতোমধ্যে কোতোয়ালি এলাকা থেকে ছয়জন বহিরাগতকে আটক করা হয়েছে। তারা নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে নগরীতে জড়ো হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলাও রয়েছে। আটকরা হলো- চন্দনাইশ থানার পূর্ব কেশুয়া এলাকার বদিউল আলমের ছেলে আলমগীর হোসেন, মহেশখালী থানার সাইটপাড়া এলাকার রফিক আহমদের ছেলে আজিজ, আনোয়ারা থানার পূর্ব বড়ইয়া এলাকার এসএম বদরুদ্দোজার ছেলে এসএম তারেকুর রহমান রাকিব, উখিয়া থানার মরিচ্যা পাগলির বিল এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে মনির হোসেন, পটিয়া থানার দক্ষিণ আশিয়া এলাকার জিয়াউদ্দিন বাবলু ও রাউজান থানার গহিরা বদুরঘোনা এলাকার হাসানের ছেলে রাশেদুজ্জামান।