৭০ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে
jugantor
অনলাইনে ক্লাস নিয়ে সানেম-একশন এইডের জরিপ
৭০ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনায় অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি কুড়িগ্রামের ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া সাতক্ষীরাতে ৫৬ শতাংশ, রাজশাহীতে ৩৯ শতাংশ ও বরগুনায় ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই ছিল অনলাইন ক্লাস সুবিধার বাইরে। গড়ে এই চারটি জেলার ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি। এই চার জেলার ৫০ শতাংশ ছেলে ও ৫৬ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি। করোনায় এই জেলাগুলোর ৫২ শতাংশ ছেলে এবং ৬৫ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না। গড়ে এই চারটি জেলার ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং একশনএইড বাংলাদেশের যৌথ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার এক ওয়েবিনারে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
জরিপে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের নভেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের নভেম্বরে চারটি জেলায় মজুরি বা বেতনভুক্ত কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশের আয় কমেছে। এছাড়া ২৮ শতাংশের আয় অপরিবর্তিত এবং ২ শতাংশের আয় বেড়েছে। স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিতদের মধ্যে এই সময়কালে লাভ কমেছে ৮২ শতাংশের, অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫ শতাংশের এবং বেড়েছে ৩ শতাংশের। স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিত এই চারটি জেলায় করোনার সময়ে ব্যবসা বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হয়েছে ৩১ শতাংশের।
ওয়েবিনারে ‘মহামারি এবং বাংলাদেশের যুব জনগোষ্ঠী : চারটি নির্বাচিত জেলার জরিপের ফলাফল’ শিরোনামের এ জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন সানেমের রিসার্চ ইকোনমিস্ট মাহতাব উদ্দিন। সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশার সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। আলোচক ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব দিলরুবা শারমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সানজিদা আখতার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ, সুইসকনট্যাক্টের টিম লিডার নাদিয়া আফরিন শামস এবং ব্র্যাকের দিবা ফারাহ হক। বক্তব্য দেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। ওয়েবিনারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১১০ ব্যক্তি যোগ দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হলে নিয়মিত পড়াশোনায় ফিরবেন না অথবা এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা আছে এমন মত দিয়েছেন এই চারটি জেলার ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী। ছেলে শিক্ষার্থীর মধ্যে এই হার ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ। গ্রামে এই হার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং শহরে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই চারটি জেলার লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে জরিপকৃত খানাগুলোর (পরিবার) ১৫-৩৫ বছর বয়সি ১২৭০ জন নারীকে প্রশ্ন করা হয়। জরিপের ৮৫ শতাংশ উত্তরদাতা গ্রামের এবং ১৫ শতাংশ শহরের। জরিপে অংশগ্রহণ করা ১৯ শতাংশ অবিবাহিত এবং ৮১ শতাংশ বিবাহিত। বিবাহিত নারীদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ জানিয়েছেন তাদের স্বামীদের দ্বারা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। কুড়িগ্রামে এই হার ৪১ শতাংশ, সাতক্ষীরাতে ২২ শতাংশ, রাজশাহীতে ২৮ শতাংশ এবং বরগুনায় ৫৫ শতাংশ। স্বামী ছাড়া অন্য কারও মাধ্যমে শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন বিবাহিত নারীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ, অবিবাহিত নারীদের মধ্যে ২৮ শতাংশ। কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার হওয়ার পরে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন ৫ শতাংশ নারী। আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার পেছনে ৬৫ শতাংশ জানিয়েছেন তারা প্রয়োজন মনে করেননি। লজ্জা বা ভয়কে কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন ৩২ শতাংশ, পরিবারের সদস্যদের ভয়কে কারণ হিসাবে দেখিয়েছেন ১৯ শতাংশ। আর্থিক সক্ষমতার অভাবকে চিহ্নিত করেছেন ১৩ শতাংশ। আইনের প্রতি আস্থার অভাবকে চিহ্নিত করেছেন ১২ শতাংশ নারী। গণপরিবহণে যাতায়াত করতে নিরাপদ বোধ করেন কি না এই প্রশ্নের উত্তরে ৪০ শতাংশ নারী জানিয়েছেন তারা নিরাপদ বোধ করেন। জরিপে ৬৫ শতাংশ নারী জানিয়েছেন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে। জরিপকৃত ১৪ শতাংশ নারী জানিয়েছেন তারা ফেসবুক বা ইউটিউব ব্যবহার করতে পারেন। পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা আছে ৬৫ শতাংশ নারীর, বিবাহিতদের মধ্যে এই হার ৬৭ শতাংশ এবং অবিবাহিতদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ।
জরিপে আরও দেখা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুবদের অংশগ্রহণের হার ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। কুড়িগ্রামে এ হার ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সাতক্ষীরায় ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং বরগুনায় ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অরাজনৈতিক সংগঠনে যুবদের অংশগ্রহণের হার ৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং রাজনৈতিক সংগঠনে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, বাংলাদেশ জনমিতির যে সুবিধাজনক অবস্থান উপভোগ করছে তা কাজে লাগানোর জন্য তারুণ্যের সঠিক ব্যবহার করা জরুরি। যার ব্যত্যয় আমরা অনুধাবন করি সার্বিক বেকারত্বের হার অপেক্ষা তরুণ জনগোষ্ঠীর অধিকতর বেকারত্বের হার এবং শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রের বাইরে থাকা তরুণসমাজের উপস্থিতির হার এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ঝরেপড়া তরুণদের উপস্থিতি থেকে। এর পাশাপাশি তরুণ নারীরা কর্মক্ষেত্রে, উচ্চশিক্ষায় এবং প্রশিক্ষণে লিঙ্গবৈষম্যের পাশাপাশি সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
ড. সেলিম রায়হান বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মরত শ্রমশক্তির মধ্যে নারী ও তরুণরাই প্রধান এবং এই খাতগুলোই কোভিডের নেতিবাচক প্রভাব সর্বাপেক্ষা অনুভব করেছে। কোভিডপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে লেবার অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট কমিশন গঠনের প্রয়োজন। পাশাপাশি গতানুগতিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে করোনাকালীন অভিঘাত মোকাবিলা সম্ভব নয় এবং এর ব্যাপ্তি বাড়ানো প্রয়োজন। ফারাহ কবির বলেন, দক্ষতা, জীবিকা, সামাজিক নিরাপত্তা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে নারী ও তরুণকেন্দ্রিক কর্মসূচির অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে আরও কাজ করার এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের অধিকতর সংযুক্ত করা প্রয়োজন। কোভিডপরবর্তী বিশ্বে তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকতর সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত পরিবর্তনকে বাস্তবে রূপদান জরুরি।

অনলাইনে ক্লাস নিয়ে সানেম-একশন এইডের জরিপ

৭০ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনায় অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি কুড়িগ্রামের ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এছাড়া সাতক্ষীরাতে ৫৬ শতাংশ, রাজশাহীতে ৩৯ শতাংশ ও বরগুনায় ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থীই ছিল অনলাইন ক্লাস সুবিধার বাইরে। গড়ে এই চারটি জেলার ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি। এই চার জেলার ৫০ শতাংশ ছেলে ও ৫৬ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের সুযোগ পাননি। করোনায় এই জেলাগুলোর ৫২ শতাংশ ছেলে এবং ৬৫ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না। গড়ে এই চারটি জেলার ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ছিল না। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং একশনএইড বাংলাদেশের যৌথ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার এক ওয়েবিনারে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
জরিপে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের নভেম্বরের তুলনায় ২০২০ সালের নভেম্বরে চারটি জেলায় মজুরি বা বেতনভুক্ত কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশের আয় কমেছে। এছাড়া ২৮ শতাংশের আয় অপরিবর্তিত এবং ২ শতাংশের আয় বেড়েছে। স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিতদের মধ্যে এই সময়কালে লাভ কমেছে ৮২ শতাংশের, অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫ শতাংশের এবং বেড়েছে ৩ শতাংশের। স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিত এই চারটি জেলায় করোনার সময়ে ব্যবসা বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হয়েছে ৩১ শতাংশের।
ওয়েবিনারে ‘মহামারি এবং বাংলাদেশের যুব জনগোষ্ঠী : চারটি নির্বাচিত জেলার জরিপের ফলাফল’ শিরোনামের এ জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন সানেমের রিসার্চ ইকোনমিস্ট মাহতাব উদ্দিন। সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশার সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। আলোচক ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব দিলরুবা শারমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সানজিদা আখতার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ, সুইসকনট্যাক্টের টিম লিডার নাদিয়া আফরিন শামস এবং ব্র্যাকের দিবা ফারাহ হক। বক্তব্য দেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। ওয়েবিনারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১১০ ব্যক্তি যোগ দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হলে নিয়মিত পড়াশোনায় ফিরবেন না অথবা এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা আছে এমন মত দিয়েছেন এই চারটি জেলার ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী। ছেলে শিক্ষার্থীর মধ্যে এই হার ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ। গ্রামে এই হার ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং শহরে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই চারটি জেলার লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে জরিপকৃত খানাগুলোর (পরিবার) ১৫-৩৫ বছর বয়সি ১২৭০ জন নারীকে প্রশ্ন করা হয়। জরিপের ৮৫ শতাংশ উত্তরদাতা গ্রামের এবং ১৫ শতাংশ শহরের। জরিপে অংশগ্রহণ করা ১৯ শতাংশ অবিবাহিত এবং ৮১ শতাংশ বিবাহিত। বিবাহিত নারীদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ জানিয়েছেন তাদের স্বামীদের দ্বারা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। কুড়িগ্রামে এই হার ৪১ শতাংশ, সাতক্ষীরাতে ২২ শতাংশ, রাজশাহীতে ২৮ শতাংশ এবং বরগুনায় ৫৫ শতাংশ। স্বামী ছাড়া অন্য কারও মাধ্যমে শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন বিবাহিত নারীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ, অবিবাহিত নারীদের মধ্যে ২৮ শতাংশ। কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার হওয়ার পরে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন ৫ শতাংশ নারী। আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার পেছনে ৬৫ শতাংশ জানিয়েছেন তারা প্রয়োজন মনে করেননি। লজ্জা বা ভয়কে কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন ৩২ শতাংশ, পরিবারের সদস্যদের ভয়কে কারণ হিসাবে দেখিয়েছেন ১৯ শতাংশ। আর্থিক সক্ষমতার অভাবকে চিহ্নিত করেছেন ১৩ শতাংশ। আইনের প্রতি আস্থার অভাবকে চিহ্নিত করেছেন ১২ শতাংশ নারী। গণপরিবহণে যাতায়াত করতে নিরাপদ বোধ করেন কি না এই প্রশ্নের উত্তরে ৪০ শতাংশ নারী জানিয়েছেন তারা নিরাপদ বোধ করেন। জরিপে ৬৫ শতাংশ নারী জানিয়েছেন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে। জরিপকৃত ১৪ শতাংশ নারী জানিয়েছেন তারা ফেসবুক বা ইউটিউব ব্যবহার করতে পারেন। পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা আছে ৬৫ শতাংশ নারীর, বিবাহিতদের মধ্যে এই হার ৬৭ শতাংশ এবং অবিবাহিতদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ।
জরিপে আরও দেখা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুবদের অংশগ্রহণের হার ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। কুড়িগ্রামে এ হার ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সাতক্ষীরায় ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং বরগুনায় ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অরাজনৈতিক সংগঠনে যুবদের অংশগ্রহণের হার ৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং রাজনৈতিক সংগঠনে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, বাংলাদেশ জনমিতির যে সুবিধাজনক অবস্থান উপভোগ করছে তা কাজে লাগানোর জন্য তারুণ্যের সঠিক ব্যবহার করা জরুরি। যার ব্যত্যয় আমরা অনুধাবন করি সার্বিক বেকারত্বের হার অপেক্ষা তরুণ জনগোষ্ঠীর অধিকতর বেকারত্বের হার এবং শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রের বাইরে থাকা তরুণসমাজের উপস্থিতির হার এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ঝরেপড়া তরুণদের উপস্থিতি থেকে। এর পাশাপাশি তরুণ নারীরা কর্মক্ষেত্রে, উচ্চশিক্ষায় এবং প্রশিক্ষণে লিঙ্গবৈষম্যের পাশাপাশি সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
ড. সেলিম রায়হান বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মরত শ্রমশক্তির মধ্যে নারী ও তরুণরাই প্রধান এবং এই খাতগুলোই কোভিডের নেতিবাচক প্রভাব সর্বাপেক্ষা অনুভব করেছে। কোভিডপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে লেবার অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট কমিশন গঠনের প্রয়োজন। পাশাপাশি গতানুগতিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে করোনাকালীন অভিঘাত মোকাবিলা সম্ভব নয় এবং এর ব্যাপ্তি বাড়ানো প্রয়োজন। ফারাহ কবির বলেন, দক্ষতা, জীবিকা, সামাজিক নিরাপত্তা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে নারী ও তরুণকেন্দ্রিক কর্মসূচির অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে আরও কাজ করার এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের অধিকতর সংযুক্ত করা প্রয়োজন। কোভিডপরবর্তী বিশ্বে তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকতর সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত পরিবর্তনকে বাস্তবে রূপদান জরুরি।