রাজশাহী আওয়ামী লীগে চরম বিশৃঙ্খলা
jugantor
বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃতকে দলীয় সংবর্ধনা!
রাজশাহী আওয়ামী লীগে চরম বিশৃঙ্খলা

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর ১৪টি পৌরসভার ১১টিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি পৌরসভায় নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিদ্রোহীরা। দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হওয়ায় দল থেকে তাদের বহিষ্কারও করা হয়েছে। কিন্তু ভোটের পর এই বহিষ্কৃতরাই জেলা, উপজেলা নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। দলীয় কর্মসূচিতেও তাদের অংগ্রহণ রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, মুন্ডুমালা পৌরসভায় বিজয়ী বিদ্রোহী মেয়রকে সংবর্ধনা দিয়েছে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে পরাজিত দলীয় প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্রোহীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলেও তারা কীভাবে দলীয় নেতাদের সাহচর্য পাচ্ছেন ও দলীয় কর্মসূচিতে থাকছেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

মুন্ডুমালা পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত আমির হোসেন আমিনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান। ২৪ জানুয়ারি সাইদুরকে দল থেকে বহিষ্কার করে মুন্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগ বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করে তা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়। কেন্দ্র থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। এদিকে জেলা কমিটির সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সাইদুরকে ২২ ফেব্র“য়ারি তানোরের দুবইল স্কুল মাঠে জমকালো সংবর্ধনা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বিদ্রোহী সাইদুরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারেরও ঘোষণা দেন।

শুধু তাই নয় রাব্বানী ও মামুন ২১ ফেব্র“য়ারি সাইদুর রহমানকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতোর দপ্তরে নিয়ে যান এবং ইউএনওকে ফুলের তোড়া দেন।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুন্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দল মনোনীত পরাজিত মেয়র প্রার্থী আমির হোসেন আমিন বলেন, যারা জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন তাদের দল করার অধিকার নেই। তারা বিদ্রোহীকে সংবর্ধনা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা দল ছেড়ে দেবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা সভাপতি গোলাম রাব্বানীর কারণে দলের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।

বহিষ্কৃত ও বিদ্রোহী মেয়রদের সংবর্ধনা দেওয়া প্রসঙ্গে গোলাম রাব্বানী বলেন, সাইদুরকে মুন্ডুমালা পৌর কমিটি বহিষ্কার করেছে। তাকে জেলা কমিটি বহিষ্কার করেনি। এজন্য সাইদুরকে আবার দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে। সেখানে আমি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলাম।

জানা যায়, পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র হয়ে উঠেছে। উপজেলা কমিটির অনেকে জেলা কমিটি কিংবা কেন্দ্রের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বিদ্রোহীদের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে কাজ করেছেন। নির্বাচিত বিদ্রোহীদের সংবর্ধনা ও দলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হলেই তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত বলে বিবেচিত হবেন। জেলা বা কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কোনো বিদ্রোহী মেয়রকে সংবর্ধনা দেওয়া মানে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা। বিদ্রোহী ও তাদের প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে জেলা কমিটি। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় এর কোনো বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, রাজশাহীর আড়ানীতে মুক্তার আলী, মুন্ডুমালায় সাইদুর রহমান, গোদাগাড়ীতে মনিরুল ইসলাম বাবু ও পুঠিয়ায় আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হন।

বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃতকে দলীয় সংবর্ধনা!

রাজশাহী আওয়ামী লীগে চরম বিশৃঙ্খলা

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর ১৪টি পৌরসভার ১১টিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি পৌরসভায় নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিদ্রোহীরা। দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হওয়ায় দল থেকে তাদের বহিষ্কারও করা হয়েছে। কিন্তু ভোটের পর এই বহিষ্কৃতরাই জেলা, উপজেলা নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। দলীয় কর্মসূচিতেও তাদের অংগ্রহণ রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, মুন্ডুমালা পৌরসভায় বিজয়ী বিদ্রোহী মেয়রকে সংবর্ধনা দিয়েছে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে পরাজিত দলীয় প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্রোহীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলেও তারা কীভাবে দলীয় নেতাদের সাহচর্য পাচ্ছেন ও দলীয় কর্মসূচিতে থাকছেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

মুন্ডুমালা পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত আমির হোসেন আমিনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান। ২৪ জানুয়ারি সাইদুরকে দল থেকে বহিষ্কার করে মুন্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগ বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন করে তা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়। কেন্দ্র থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। এদিকে জেলা কমিটির সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সাইদুরকে ২২ ফেব্র“য়ারি তানোরের দুবইল স্কুল মাঠে জমকালো সংবর্ধনা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বিদ্রোহী সাইদুরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারেরও ঘোষণা দেন।

শুধু তাই নয় রাব্বানী ও মামুন ২১ ফেব্র“য়ারি সাইদুর রহমানকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতোর দপ্তরে নিয়ে যান এবং ইউএনওকে ফুলের তোড়া দেন।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুন্ডুমালা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দল মনোনীত পরাজিত মেয়র প্রার্থী আমির হোসেন আমিন বলেন, যারা জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন তাদের দল করার অধিকার নেই। তারা বিদ্রোহীকে সংবর্ধনা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা দল ছেড়ে দেবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা সভাপতি গোলাম রাব্বানীর কারণে দলের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।

বহিষ্কৃত ও বিদ্রোহী মেয়রদের সংবর্ধনা দেওয়া প্রসঙ্গে গোলাম রাব্বানী বলেন, সাইদুরকে মুন্ডুমালা পৌর কমিটি বহিষ্কার করেছে। তাকে জেলা কমিটি বহিষ্কার করেনি। এজন্য সাইদুরকে আবার দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে। সেখানে আমি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলাম।

জানা যায়, পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র হয়ে উঠেছে। উপজেলা কমিটির অনেকে জেলা কমিটি কিংবা কেন্দ্রের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বিদ্রোহীদের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে কাজ করেছেন। নির্বাচিত বিদ্রোহীদের সংবর্ধনা ও দলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হলেই তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত বলে বিবেচিত হবেন। জেলা বা কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কোনো বিদ্রোহী মেয়রকে সংবর্ধনা দেওয়া মানে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা। বিদ্রোহী ও তাদের প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে জেলা কমিটি। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় এর কোনো বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, রাজশাহীর আড়ানীতে মুক্তার আলী, মুন্ডুমালায় সাইদুর রহমান, গোদাগাড়ীতে মনিরুল ইসলাম বাবু ও পুঠিয়ায় আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেয়র নির্বাচিত হন।