চসিক নির্বাচন বাতিল চেয়ে ডা. শাহাদাতের মামলা
jugantor
চসিক নির্বাচন বাতিল চেয়ে ডা. শাহাদাতের মামলা

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা ঠুকে দিলেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। নির্বাচনের ২৮ দিন পর বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক খাইরুল আমিনের আদালতে এ মামলা করেন তিনি।

মামলার এজাহারে নির্বাচনে অবিশ্বাস্য কারচুপির অভিযোগ এনে বেশ কয়েকটি তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। বাদী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পুনঃতফসিল ও পুনঃনির্বাচন দাবি করেছেন। মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা ও বর্তমান চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। অন্য বিবাদীরা হচ্ছেন চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার (আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) মো. হাসানুজ্জামান, চসিক নির্বাচনে আরও ছয় মেয়র প্রার্থী- যথাক্রমে আবুল মনজুর, এমএ মতিন, খোকন চৌধুরী, মুহাম্মাদ ওয়াহেদ মুরাদ ও মো. জান্নাতুল ইসলাম।

বাদীপক্ষের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছেন। যার নম্বর ২/২০২১। আদালত আগামী ২১ মার্চ এ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন। মামলা করার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এএসএম বদরুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক, অ্যাডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিনহ বিপুলসংখ্যক আইনজীবী। মামলার বাদী ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চসিক নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি করা হয়েছে। আমাকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। নৌকা প্রতীক পাওয়ার পর থেকে চসিক কর্মকর্তারা রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছিলেন। এ থেকে বোঝা যায় আওয়ামী লীগ শুধু নির্বাচনের নামে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে।

মামলা এজাহারে ৫০ টি কেন্দ্রের অস্বাভাবিক ফলাফল তুলে ধরে ডা. শাহাদাত অভিযোগ করেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে সব কেন্দ্রের প্রিন্টেড ফলাফলের কপি চেয়ে লিখিত আবেদন জানালেও কমিশন তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ২২টি কেন্দ্রে আমাকে শূন্য ভোট এবং ১৭৮টি কেন্দ্রে ১০টির কম ভোট দেখিয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভোট জালিয়াতির জ্বলন্ত নমুনা। এসবের প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। এছাড়াও নির্বাচনের পর প্রথমে আমাদের যে ফলাফলের তালিকা দিয়েছিল তাতে আমার শূন্য ভোট ছিল মাত্র দুটি কেন্দ্রে, কিন্তু ফাইনাল তালিকায় শূন্য ভোট দেখানো হয়েছে ২২টি কেন্দে । এ থেকে বুঝতে হবে তারা ভোট ডাকাতি করলেও সেটা সূক্ষ্মভাবে করতে পারেনি।

শাহাদাত আরও বলেন, ভোটের দিন দুপুর পর্যন্ত ৪ থেকে ৬ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। কিন্তু ভোটের হিসাবে দেখানো হয়েছে ২২ শতাংশ পর্যন্ত।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ভোট পেয়েছেন। কিন্তু তাকে আরও সাড়ে তিন লাখ ভোট যোগ করে মেয়র হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

চসিক নির্বাচন বাতিল চেয়ে ডা. শাহাদাতের মামলা

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা ঠুকে দিলেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। নির্বাচনের ২৮ দিন পর বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক খাইরুল আমিনের আদালতে এ মামলা করেন তিনি।

মামলার এজাহারে নির্বাচনে অবিশ্বাস্য কারচুপির অভিযোগ এনে বেশ কয়েকটি তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। বাদী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পুনঃতফসিল ও পুনঃনির্বাচন দাবি করেছেন। মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা ও বর্তমান চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। অন্য বিবাদীরা হচ্ছেন চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার (আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) মো. হাসানুজ্জামান, চসিক নির্বাচনে আরও ছয় মেয়র প্রার্থী- যথাক্রমে আবুল মনজুর, এমএ মতিন, খোকন চৌধুরী, মুহাম্মাদ ওয়াহেদ মুরাদ ও মো. জান্নাতুল ইসলাম।

বাদীপক্ষের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, মামলাটি আদালত গ্রহণ করেছেন। যার নম্বর ২/২০২১। আদালত আগামী ২১ মার্চ এ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন। মামলা করার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এএসএম বদরুল আনোয়ার, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক, অ্যাডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিনহ বিপুলসংখ্যক আইনজীবী। মামলার বাদী ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, চসিক নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি করা হয়েছে। আমাকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। নৌকা প্রতীক পাওয়ার পর থেকে চসিক কর্মকর্তারা রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছিলেন। এ থেকে বোঝা যায় আওয়ামী লীগ শুধু নির্বাচনের নামে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে।

মামলা এজাহারে ৫০ টি কেন্দ্রের অস্বাভাবিক ফলাফল তুলে ধরে ডা. শাহাদাত অভিযোগ করেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে সব কেন্দ্রের প্রিন্টেড ফলাফলের কপি চেয়ে লিখিত আবেদন জানালেও কমিশন তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ২২টি কেন্দ্রে আমাকে শূন্য ভোট এবং ১৭৮টি কেন্দ্রে ১০টির কম ভোট দেখিয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভোট জালিয়াতির জ্বলন্ত নমুনা। এসবের প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি। এছাড়াও নির্বাচনের পর প্রথমে আমাদের যে ফলাফলের তালিকা দিয়েছিল তাতে আমার শূন্য ভোট ছিল মাত্র দুটি কেন্দ্রে, কিন্তু ফাইনাল তালিকায় শূন্য ভোট দেখানো হয়েছে ২২টি কেন্দে । এ থেকে বুঝতে হবে তারা ভোট ডাকাতি করলেও সেটা সূক্ষ্মভাবে করতে পারেনি।

শাহাদাত আরও বলেন, ভোটের দিন দুপুর পর্যন্ত ৪ থেকে ৬ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। কিন্তু ভোটের হিসাবে দেখানো হয়েছে ২২ শতাংশ পর্যন্ত।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ভোট পেয়েছেন। কিন্তু তাকে আরও সাড়ে তিন লাখ ভোট যোগ করে মেয়র হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন