কালবৈশাখী

সাত জেলায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

বজ্রপাত ও গাছচাপায় ৪ জনের মৃত্যু

  যুগান্তর ডেস্ক ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কালবৈশাখী ঝড়ে দেশের সাত জেলায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কুমিল্লার দাউদকান্দি, বরিশাল ও সাতক্ষীরায় বজ পাত ও গাছচাপায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুই দফায় এসব জেলায় কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। ভোলার মনপুরা উপকূলে আধাপাকা ও টিনের প্রায় তিন শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া একটি সিমেন্ট বোঝাই কার্গো ও ১২টি মাছ ধরার ট্রলারের ক্ষতি হয়েছে। মাদারীপুরে দুটি উপজেলায় ৪০টি গ্রামের প্রায় চার শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বরিশালের তিন উপজেলায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অন্য জেলাগুলোতেও বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

মনপুরা (ভোলা) : মঙ্গলবার দুই দফা ঝড়ে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৪৬টি বাড়িঘর সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়। আংশিক ক্ষতি হয় ৫৮টি বাড়িঘরের। এ ছাড়াও ১২টি মাছ ধরার ট্রলারসহ দুটি মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মনপুরা ইউনিয়নে ৪৫টি বাড়িঘর সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত ও শতাধিক বাড়িঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে একটি মহিলা দাখিল মাদ্রাসাসহ ১৫টি বাড়িঘর সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়। আংশিক ক্ষতি হয় ২০টি বাড়িঘরসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের। বুধবার মহিলা দাখিল মাদ্রাসার বিধ্বস্ত ক্লাসরুমে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান শিক্ষকরা। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে ছয়টি বাড়িঘর সম্পূর্ণরূপে ও ২৫টি বাড়িঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও দাসেরহাট এলাকায় সিমেন্ট বোঝাই কার্গো কাত হয়ে পড়ে যায়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ ভূঞা যুগান্তরকে বলেন, দুই দফা ঝড়ে বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার জন্য চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বরিশাল ও আগৈলঝাড়া : আগৈলঝাড়া, মুলাদী ও গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মঙ্গলবার দুপুর ও রাতে তিন উপজেলার ওপর দিয়ে দুই দফায় বয়ে যায় প্রচণ্ড ঝড়। এতে উঠতি বোরো ধান, পানবরজসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা, একাধিক মসজিদসহ দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। মুলাদীতে গাছচাপায় রাশিদা বেগম নামে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। তিন উপজেলায় বিধ্বস্ত ঘর ও গাছচাপায় আহত হয়েছেন আরও ছয়-সাতজন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাদারীপুর : ঝড়ে রাজৈর ও কালকিনি উপজেলার ৪০টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এর মধ্যে রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী, ফুলবাড়ী, মৃধাবাড়ী, নটাখোলা, পুকুরিয়া দিঘিরপাড়, হিজলবাড়ী, গোলাবাড়ী, আমগ্রাম ইউনিয়নের পাখুল্যা, লখণ্ডা, সিরাজকাঠি, লাউসার গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কালকিনি উপজেলার নবগ্রাম, গোপালপুর, সিডিখান, শশিকর, মোল্লার হাট ও পৌরসভার বেশ কয়েকটি এলাকার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। এতে মোল্লারহাট ফাজিল মাদ্রাসা, শশীকর কলেজসহ প্রায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগও বিছিন্ন হয়ে যায়। এদিকে উপজেলার প্রধান সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়কে শতবর্ষী গাছ উপড়ে পড়ে যোগাযোগ দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এ ছাড়া ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সাতক্ষীরা ও কলারোয়া : বুধবার ভোরে কলারোয়ায় বজ পাতে বিল্লাল হোসেন নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। তিনি বাড়ির পাশে নিজের পটল ক্ষেতে কাজ করছিলেন। এ সময় তার স্ত্রীও তার সঙ্গে কাজ করছিলেন। তবে তার কোনো ক্ষতি হয়নি। তাদের বাড়ি কাদপুর গ্রামে।

ঝালকাঠি : মঙ্গলবার দিনে দুই দফায় কালবৈশাখী আঘাত হানার পর রাত দেড়টার দিকে আবারো প্রচণ্ড গতিতে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। এতে জেলার চারটি উপজেলায় দুই শতাধিক গাছ উপড়ে পড়ে। গাছ চাপায় অন্তত শতাধিক বসতঘর বিধ্বস্ত হয় এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। কোথাও কোথাও বসতঘরের চালা উড়ে যায়। ২২ ঘণ্টা পর নলছিটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) : মঙ্গলবার সকালে শিলাবৃষ্টিতে কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া, বলাইশিমুল, দলপা ও রোয়াইলবাড়িসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাওরে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষকরা হতাশায় পড়েছেন।

দাউদকান্দি : কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার চান্দেরচর ও দক্ষিণ নছরুদ্দি গ্রামে মঙ্গলবার বিকালে ঝড়ের সময় বজ পাতে দুই গৃহবধূ মারা গেছেন। এ সময় এক শিশু আহত হয়। নিহতরা হলেন- চান্দেরচর গ্রামের ছিদ্দিক মিয়ার স্ত্রী রুফিয়া বেগম (৬০) ও দক্ষিণ নছরুদ্দি গ্রামের সামছুল হকের স্ত্রী আজমীর বেগম (৪২)।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.