বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু
jugantor
বাসামালিকের ছেলের বিরুদ্ধে উত্ত্যক্তের অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর কলাবাগানে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তাজরিন মোস্তফা মৌমিতা (১৯) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে তার লাশ উদ্ধার করে কলাবাগান থানা পুলিশ। স্বজনদের দাবি, ওই বাসার মালিকের ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তবে মৌমিতার লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলছেন, প্রাথমিকভাবে তার শরীরে ধস্তাধস্তির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদনান নামের এক যুবককে হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি আসবে। মৌমিতার স্বজনরা জানিয়েছেন, তিন বোনের মধ্যে মেজ মৌমিতা ছিলেন চাপা স্বভাবের। তবে সব সময় হাসিখুশি থাকতেন। ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলাবাগান শাখা থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে এশিয়ান প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির মালয়েশিয়া শাখায় পড়ালেখা করছিলেন। তিনি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত বছর করোনার কারণে দেশে আসেন। এরপর থেকে অনলাইনে নিয়মিত ক্লাস করছিলেন তিনি।

মৌমিতার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, উপর থেকে পড়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ থেকে ব্লাড, ভিসেরা ও হাইভেজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষার জন্য হিস্ট্রোপ্যাথলোজিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে বলা যাবে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিলো কিনা। তার শরীরে যে আঘাতগুলো রয়েছে তা ভবন থেকে পড়ার কারণেই হয়েছে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। নিহত মৌমিতার বাবা কামাল মোস্তফা শামীম জানান, তাদের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর ঘাটানদি গ্রামে। তারা সপরিবারে মালয়েশিয়াতে থাকতেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর ঢাকায় ফিরে আসেন। এরপর থেকে কলাবাগান ৮ নম্বর রোডের, ২ নম্বরে একটি ৭ তলা বাসার ৪র্থ তলায় থাকেন। তিনি আরও জানান, কলাবাগানের ওই বাড়ির মালিকের ছেলে ফাইজার তাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করত। ফাইজারের বন্ধু আদনানও তাকে উত্ত্যক্ত করত। বাড়িওয়ালার একটিই ছেলে। সে বাইরে থেকে বিভিন্ন ছেলেদের বাসায় নিয়ে আসত। গত সপ্তাহে মৌমিতার মা ফাইজারের মাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে তিনি উল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমার ছেলে যা মন চায় তাই করবে, আপনার মেয়েকে বের হতে না দিলেই তো হয়, আমার ছেলেকে কেন থ্রেট দিতে আসছেন?’

কামাল মোস্তফা বলেন, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মৌমিতা ছাদে ওঠে। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুনি সে পড়ে গেছে ছাদ থেকে। আমি মৌমিতাকে মেসেজ দিয়েছিলাম। সে বলল আসতেছি। এরপর আমি গ্রীন রোডে আমার অফিসে চলে যাই। তখন আমার ছোট মেয়ে ফোনে বলে, আব্বু তাড়াতাড়ি গ্রীন লাইফ হাসপাতালে আসো।

মৌমিতার ফুপু শাহনেওয়াজ খানম বলেন, ঘটনার সময় ছাদে ফাইজার ছিল। আমাদের ধারণা, মৌমিতাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই সে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলা করা হবে বলে তিনি জানান।

কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ বলেন, নিহত মৌমিতার পরিবার এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।

বাসামালিকের ছেলের বিরুদ্ধে উত্ত্যক্তের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর কলাবাগানে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তাজরিন মোস্তফা মৌমিতা (১৯) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে তার লাশ উদ্ধার করে কলাবাগান থানা পুলিশ। স্বজনদের দাবি, ওই বাসার মালিকের ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তবে মৌমিতার লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলছেন, প্রাথমিকভাবে তার শরীরে ধস্তাধস্তির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদনান নামের এক যুবককে হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি আসবে। মৌমিতার স্বজনরা জানিয়েছেন, তিন বোনের মধ্যে মেজ মৌমিতা ছিলেন চাপা স্বভাবের। তবে সব সময় হাসিখুশি থাকতেন। ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলাবাগান শাখা থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে এশিয়ান প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির মালয়েশিয়া শাখায় পড়ালেখা করছিলেন। তিনি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত বছর করোনার কারণে দেশে আসেন। এরপর থেকে অনলাইনে নিয়মিত ক্লাস করছিলেন তিনি।

মৌমিতার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, উপর থেকে পড়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ থেকে ব্লাড, ভিসেরা ও হাইভেজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষার জন্য হিস্ট্রোপ্যাথলোজিতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে বলা যাবে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিলো কিনা। তার শরীরে যে আঘাতগুলো রয়েছে তা ভবন থেকে পড়ার কারণেই হয়েছে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। নিহত মৌমিতার বাবা কামাল মোস্তফা শামীম জানান, তাদের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর ঘাটানদি গ্রামে। তারা সপরিবারে মালয়েশিয়াতে থাকতেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর ঢাকায় ফিরে আসেন। এরপর থেকে কলাবাগান ৮ নম্বর রোডের, ২ নম্বরে একটি ৭ তলা বাসার ৪র্থ তলায় থাকেন। তিনি আরও জানান, কলাবাগানের ওই বাড়ির মালিকের ছেলে ফাইজার তাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করত। ফাইজারের বন্ধু আদনানও তাকে উত্ত্যক্ত করত। বাড়িওয়ালার একটিই ছেলে। সে বাইরে থেকে বিভিন্ন ছেলেদের বাসায় নিয়ে আসত। গত সপ্তাহে মৌমিতার মা ফাইজারের মাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে তিনি উল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমার ছেলে যা মন চায় তাই করবে, আপনার মেয়েকে বের হতে না দিলেই তো হয়, আমার ছেলেকে কেন থ্রেট দিতে আসছেন?’

কামাল মোস্তফা বলেন, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মৌমিতা ছাদে ওঠে। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুনি সে পড়ে গেছে ছাদ থেকে। আমি মৌমিতাকে মেসেজ দিয়েছিলাম। সে বলল আসতেছি। এরপর আমি গ্রীন রোডে আমার অফিসে চলে যাই। তখন আমার ছোট মেয়ে ফোনে বলে, আব্বু তাড়াতাড়ি গ্রীন লাইফ হাসপাতালে আসো।

মৌমিতার ফুপু শাহনেওয়াজ খানম বলেন, ঘটনার সময় ছাদে ফাইজার ছিল। আমাদের ধারণা, মৌমিতাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই সে মৌমিতাকে উত্ত্যক্ত করছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলা করা হবে বলে তিনি জানান।

কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ বলেন, নিহত মৌমিতার পরিবার এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন