মানুষের মন জয় করলেই সংগঠন শক্তিশালী হবে
jugantor
জাতীয় মহিলা পার্টির মতবিনিময় সভায় সালমা ইসলাম
মানুষের মন জয় করলেই সংগঠন শক্তিশালী হবে
ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটি গঠনে দেওয়া হলো দুই মাস সময়, পুরস্কৃত হবে সেরা ইউনিট

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০১ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় পার্টি

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ভালোবাসা ও ভদ্রতা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে। সবার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করতে হবে এবং এটাই রাজনীতি।

যার ব্যবহার ভালো না তিনি কখনো রাজনীতি করতে পারবেন না। ব্যবহার দিয়েই মানুষের মন জয় করা যায়। যিনি মানুষকে তাচ্ছিল্য করবেন, তিনি আমার দলের কেউ নন।

মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ব্যবহার দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। এ সময় জাতীয় মহিলা পার্টির ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটি গঠনে দুই মাসের সময় বেঁধে দেন তিনি। ভালো কাজের জন্য সেরা ইউনিটকে পুরস্কৃত করারও ঘোষণা দেন তিনি।

যমুনা ফিউচার পার্কের হলরুমে রোববার জাতীয় মহিলা পার্টির বিভিন্ন জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

পার্টির সদস্য সচিব হেনা খান পন্নির সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান এমপি, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ, কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা রানীসহ ২২ জেলা থেকে আগত নেত্রীরা।

মহিলা পার্টির আহ্বায়কের অনুমতিক্রমে আসমা আক্তার রুমির কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় মতবিনিময় সভা। পরে জেলার নেত্রীরা মহিলা পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ফুল দেওয়া হয় সদস্য সচিব হেনা খান পন্নিসহ অতিথিদের।

এরপর পরিবেশন করা হয় ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ব মোরা’ সংগীত। পরে শুরু হয় মতবিনিময়। সংগঠন নিয়ে তৃণমূলের ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক বলেন, নারীরা ঘর সামলে মাঠের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এটা ভাবতেই গর্ব হয়। আমাদের নারীরা এখন আর ঘরে বসে নেই। যেদিকে তাকাই শুধু নারী আর নারী। আপনাদের নেতৃত্বেই এই দেশ রচিত হবে নতুন করে।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকটি ইউনিটে কমিটি ঘোষণা করব। আপনারা প্রত্যেকে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়নের প্রতিটি ঘরে যাবেন। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি সাজাবেন। মা বোনদের কাছে আলহাজ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কথা ও তার কাজের কথা তুলে ধরবেন। তিনি ৯ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছেন। তখন মানুষ পেট ভরে খেতে পারত। কোনো অভাব ছিল না। বড় বড় সব রাস্তা তার সময়েই করা। সোডিয়াম লাইট তার সময়েই হয়েছিল। শুক্রবারকে তিনি-ই ছুটির দিন ঘোষণা করেছেন। একসময় বন্যা এলে ঢাকা শহর ডুবে যেত। বেড়িবাঁধ দিয়ে তিনি ঢাকাকে বন্যা থেকে রক্ষা করেন। এসব কথা মানুষকে বলতে হবে।

জাতীয় পার্টির এই কো-চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণ মানুষকে দলে টানতে আমাদের কথাগুলো বলতে হবে। বিশেষ করে নারীদের কাছে বেশি যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী হয়ে দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন, তাকে অনুসরণ করে আপনাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান কাজে লাগিয়ে প্রত্যেক জেলা থেকে নারীদের দলে টানতে হবে। দলে আগত ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও এক কপি করে ছবি সংগ্রহ করে খাতায় লিপিবদ্ধ করতে হবে। তার এক কপি থাকবে ইউনিট সভাপতির কাছে আরেক কপি সেক্রেটারির কাছে। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রত্যেকের নাম সেখানে লিখতে হবে। এতে আপনারও জানা থাকবে কতজন মানুষকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কতজনকে পার্টিতে আনলেন।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষকে পল্লীবন্ধু এরশাদ, তার ভাই জিএম কাদের ও আমার কথা বলতে হবে। আমার নেত্রীদের কথা বলতে হবে। বলতে হবে আমাদের মধ্যে কোনো সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নেই। আমরা ক্লিন। তিনি বলেন, সবাই জাতীয় পার্টির দিকে চেয়ে আছে। একমাত্র জাতীয় পার্টি-ই পারে দেশ গড়তে।

কমিটি গঠনে দুই মাস সময় দিয়ে তিনি বলেন, যারা বেশি সংখ্যক কর্মী মহিলা পার্টিতে আনবেন তাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কৃত করব। আপনাদের আমি দুই মাস সময় দিলাম। দুই মাস পর সম্মেলন। সেখানে পার্টির চেয়ারম্যানসহ নেতারা থাকবেন। এ সময়ে আপনারা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে যান। মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। আমি আশা করি, এই দুই মাসে পুরো বাংলাদেশ ছেয়ে যাবে জাতীয় পার্টিতে।

কর্মীদের উদ্দেশে জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক বলেন, আমি আপনাদের ভালোবাসি। একটা পিঁপড়াও বলতে পারবে না যে দুর্ব্যবহার করেছে। এটা আমার রক্তে নেই। আপনারা দোহার-নবাবগঞ্জে যান। সেখানে ১৫ বছর এমপি ছিলাম। আমার ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রতিমন্ত্রী করেছেন। আমি ঘরে ঘরে গিয়েছি।

তারা কেমন আছে, কি প্রয়োজন-জেনেছি। বিভিন্ন সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করেছি। আপনাদেরও এই বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে। টাকা না থাকলেও ব্যবহার দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে। ব্যবহারই মানুষের সব। তিনি বলেন, দলের ভিতরে অভদ্রতা সহ্য করা হবে না। আমি যেহেতু এখানে এসেছি, জাতীয় পার্টিকে একটা ভালো ফলাফল দেব। আমাদের মধ্যে গন্ধযুক্ত মানুষ থাকবে না। গন্ধ থাকলে ধুয়ে-মুছে নতুন জীবন শুরু করবেন।

যেসব জেলা শাখার নেত্রীরা বক্তব্য রাখেন তার মধ্যে রয়েছেন-ঢাকা, গাজীপুর মহানগর, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, টাঙ্গাইল, বান্দরবান, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর, নড়াইল, চট্টগ্রাম জেলা, চট্টগ্রাম মহানগর ও গাজীপুর। এ সময় জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট লাকী বেগম, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ মো. এয়াকুব হোসেন, জাতীয় পার্টির নির্বাহী সদস্য জেসমিন নূর প্রিয়াংকা প্রমুখ।

রওশন আরা মান্নান এমপি বলেন, এই দুর্যোগে যখন দেশের রাজনৈতিক দলসমূহের কোনো কর্মসূচি নেই, তখনো অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম সংগঠন চাঙ্গা রেখেছেন। দলের নেতাকর্মীদের জন্য তার চিন্তা আমরা দেখেছি। তিনবারের এই সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাবে মহিলা পার্টি।

সোলায়মান আলম শেঠ বলেন, মহিলা পার্টির এ সভাই সংগঠন শক্তিশালী হওয়ার একটা দৃষ্টান্ত। আর সালমা ইসলামের নেতৃত্বেই সেটি হয়েছে। হেনা খান পন্নি বলেন, সালমা ইসলাম সংগঠন শক্তিশালী করতে দিন-রাত নিরলস কাজ করছেন। নেতাকর্মীদেরও মনে রাখতে হবে মহিলা পার্টি শক্তিশালী হলে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হবে। আর সেটা হলে আগামী দিনে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। নিগার সুলতানা রানী বলেন, দেশে অর্ধেকের বেশি নারী ভোটার। সেজন্য নারীদের সংগঠিত করার কোনো বিকল্প নেই।

জাতীয় মহিলা পার্টির মতবিনিময় সভায় সালমা ইসলাম

মানুষের মন জয় করলেই সংগঠন শক্তিশালী হবে

ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটি গঠনে দেওয়া হলো দুই মাস সময়, পুরস্কৃত হবে সেরা ইউনিট
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০১ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় পার্টি
যমুনা ফিউচার পার্কে রোববার জাতীয় মহিলা পার্টির বিভিন্ন জেলা ও মহানগর নেতাদের মতবিনিময়ে বক্তব্য দিচ্ছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, মহিলা পার্টির আহ্বায়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি -যুগান্তর

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ভালোবাসা ও ভদ্রতা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে। সবার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করতে হবে এবং এটাই রাজনীতি।

যার ব্যবহার ভালো না তিনি কখনো রাজনীতি করতে পারবেন না। ব্যবহার দিয়েই মানুষের মন জয় করা যায়। যিনি মানুষকে তাচ্ছিল্য করবেন, তিনি আমার দলের কেউ নন।

মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ব্যবহার দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। এ সময় জাতীয় মহিলা পার্টির ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটি গঠনে দুই মাসের সময় বেঁধে দেন তিনি। ভালো কাজের জন্য সেরা ইউনিটকে পুরস্কৃত করারও ঘোষণা দেন তিনি।

যমুনা ফিউচার পার্কের হলরুমে রোববার জাতীয় মহিলা পার্টির বিভিন্ন জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

পার্টির সদস্য সচিব হেনা খান পন্নির সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান এমপি, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ, কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা রানীসহ ২২ জেলা থেকে আগত নেত্রীরা।

মহিলা পার্টির আহ্বায়কের অনুমতিক্রমে আসমা আক্তার রুমির কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় মতবিনিময় সভা। পরে জেলার নেত্রীরা মহিলা পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ফুল দেওয়া হয় সদস্য সচিব হেনা খান পন্নিসহ অতিথিদের।

এরপর পরিবেশন করা হয় ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ব মোরা’ সংগীত। পরে শুরু হয় মতবিনিময়। সংগঠন নিয়ে তৃণমূলের ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক বলেন, নারীরা ঘর সামলে মাঠের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এটা ভাবতেই গর্ব হয়। আমাদের নারীরা এখন আর ঘরে বসে নেই। যেদিকে তাকাই শুধু নারী আর নারী। আপনাদের নেতৃত্বেই এই দেশ রচিত হবে নতুন করে।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকটি ইউনিটে কমিটি ঘোষণা করব। আপনারা প্রত্যেকে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়নের প্রতিটি ঘরে যাবেন। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি সাজাবেন। মা বোনদের কাছে আলহাজ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কথা ও তার কাজের কথা তুলে ধরবেন। তিনি ৯ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছেন। তখন মানুষ পেট ভরে খেতে পারত। কোনো অভাব ছিল না। বড় বড় সব রাস্তা তার সময়েই করা। সোডিয়াম লাইট তার সময়েই হয়েছিল। শুক্রবারকে তিনি-ই ছুটির দিন ঘোষণা করেছেন। একসময় বন্যা এলে ঢাকা শহর ডুবে যেত। বেড়িবাঁধ দিয়ে তিনি ঢাকাকে বন্যা থেকে রক্ষা করেন। এসব কথা মানুষকে বলতে হবে।

জাতীয় পার্টির এই কো-চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণ মানুষকে দলে টানতে আমাদের কথাগুলো বলতে হবে। বিশেষ করে নারীদের কাছে বেশি যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী হয়ে দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন, তাকে অনুসরণ করে আপনাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান কাজে লাগিয়ে প্রত্যেক জেলা থেকে নারীদের দলে টানতে হবে। দলে আগত ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও এক কপি করে ছবি সংগ্রহ করে খাতায় লিপিবদ্ধ করতে হবে। তার এক কপি থাকবে ইউনিট সভাপতির কাছে আরেক কপি সেক্রেটারির কাছে। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রত্যেকের নাম সেখানে লিখতে হবে। এতে আপনারও জানা থাকবে কতজন মানুষকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কতজনকে পার্টিতে আনলেন।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষকে পল্লীবন্ধু এরশাদ, তার ভাই জিএম কাদের ও আমার কথা বলতে হবে। আমার নেত্রীদের কথা বলতে হবে। বলতে হবে আমাদের মধ্যে কোনো সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নেই। আমরা ক্লিন। তিনি বলেন, সবাই জাতীয় পার্টির দিকে চেয়ে আছে। একমাত্র জাতীয় পার্টি-ই পারে দেশ গড়তে।

কমিটি গঠনে দুই মাস সময় দিয়ে তিনি বলেন, যারা বেশি সংখ্যক কর্মী মহিলা পার্টিতে আনবেন তাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কৃত করব। আপনাদের আমি দুই মাস সময় দিলাম। দুই মাস পর সম্মেলন। সেখানে পার্টির চেয়ারম্যানসহ নেতারা থাকবেন। এ সময়ে আপনারা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে যান। মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। আমি আশা করি, এই দুই মাসে পুরো বাংলাদেশ ছেয়ে যাবে জাতীয় পার্টিতে।

কর্মীদের উদ্দেশে জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক বলেন, আমি আপনাদের ভালোবাসি। একটা পিঁপড়াও বলতে পারবে না যে দুর্ব্যবহার করেছে। এটা আমার রক্তে নেই। আপনারা দোহার-নবাবগঞ্জে যান। সেখানে ১৫ বছর এমপি ছিলাম। আমার ব্যবহারে প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রতিমন্ত্রী করেছেন। আমি ঘরে ঘরে গিয়েছি।

তারা কেমন আছে, কি প্রয়োজন-জেনেছি। বিভিন্ন সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করেছি। আপনাদেরও এই বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে। টাকা না থাকলেও ব্যবহার দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে। ব্যবহারই মানুষের সব। তিনি বলেন, দলের ভিতরে অভদ্রতা সহ্য করা হবে না। আমি যেহেতু এখানে এসেছি, জাতীয় পার্টিকে একটা ভালো ফলাফল দেব। আমাদের মধ্যে গন্ধযুক্ত মানুষ থাকবে না। গন্ধ থাকলে ধুয়ে-মুছে নতুন জীবন শুরু করবেন।

যেসব জেলা শাখার নেত্রীরা বক্তব্য রাখেন তার মধ্যে রয়েছেন-ঢাকা, গাজীপুর মহানগর, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, টাঙ্গাইল, বান্দরবান, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর, নড়াইল, চট্টগ্রাম জেলা, চট্টগ্রাম মহানগর ও গাজীপুর। এ সময় জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট লাকী বেগম, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ মো. এয়াকুব হোসেন, জাতীয় পার্টির নির্বাহী সদস্য জেসমিন নূর প্রিয়াংকা প্রমুখ।

রওশন আরা মান্নান এমপি বলেন, এই দুর্যোগে যখন দেশের রাজনৈতিক দলসমূহের কোনো কর্মসূচি নেই, তখনো অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম সংগঠন চাঙ্গা রেখেছেন। দলের নেতাকর্মীদের জন্য তার চিন্তা আমরা দেখেছি। তিনবারের এই সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাবে মহিলা পার্টি।

সোলায়মান আলম শেঠ বলেন, মহিলা পার্টির এ সভাই সংগঠন শক্তিশালী হওয়ার একটা দৃষ্টান্ত। আর সালমা ইসলামের নেতৃত্বেই সেটি হয়েছে। হেনা খান পন্নি বলেন, সালমা ইসলাম সংগঠন শক্তিশালী করতে দিন-রাত নিরলস কাজ করছেন। নেতাকর্মীদেরও মনে রাখতে হবে মহিলা পার্টি শক্তিশালী হলে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হবে। আর সেটা হলে আগামী দিনে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। নিগার সুলতানা রানী বলেন, দেশে অর্ধেকের বেশি নারী ভোটার। সেজন্য নারীদের সংগঠিত করার কোনো বিকল্প নেই।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন