এলডিসি উত্তরণের প্রভাব পড়বে চার খাতে
jugantor
সিপিডির মূল্যায়ন
এলডিসি উত্তরণের প্রভাব পড়বে চার খাতে
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি আছে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে চার খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর মধ্যে রয়েছে-বাজারসুবিধা, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, নীতি ও শৃঙ্খলা এবং বিভিন্ন আইনের বাস্তবায়ন।

আর এ পর্যন্ত উত্তরণ হওয়া ১২টি এলডিসি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পণ্যমূল্যেই বেশি প্রভাব পড়বে। গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে ১২ শতাংশ পর্যন্ত খরচ বাড়তে পারে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতাভিত্তিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, এলডিসির প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, সংসদ-সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক চেয়ারম্যান এ মতিন চৌধুরী, আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর তোমো পৌতাইয়ানেন এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের মতে, এলডিসি থেকে বের হলে এক দিকে চ্যালেঞ্জ আছে, অন্য দিকে সুযোগ বাড়বে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণকালীন সময়ের মধ্যে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্পগুলো শেষ হয়ে যাবে, যা ব্যবসায় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। তাই এলডিসি উত্তরণের ফলে যে ক্ষতি হবে, তা কাটানো সহজ হবে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এসব উত্তরণের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো অফিসিয়াল স্বীকৃতি দেয় না। ফলে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা কম। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের ফলে আমাদের বেসরকারি খাত বিদেশ থেকে ঋণ পাবে।

ড. রেহমান সোবহান বলেন, সংখ্যার বিচারে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হবে বাংলাদেশ। তবে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ উত্তরণও লাগবে। যেমন এলডিসি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রফতানি পণ্য যাতে প্রতিযোগিতা সক্ষম হতে পারে। ওষুধ খাতের চ্যালেঞ্জগুলো দূর করা জরুরি।

তাই এখন থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতির অভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে ওষুধশিল্পের এপিআই পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু এখনো তা শেষ হয়নি। অথচ এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে স্থানীয় বাজারেও ওষুধের দাম বাড়তে পারে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে এলডিসি থেকে বের হবে। কিন্তু ওইদিন সকালে উঠে যেন এমন মনে না হয়, অনেক কিছুই করা হয়নি। তাহলে বিপাকে পড়তে হবে। তিনি বলেন, চার খাতে সমস্যা সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দুই খাত এবং বৈশ্বিক দুই খাত।

বৈশ্বিক খাতের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বাজার সুবিধা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব। বিশ্বের যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের আগের যে চুক্তি রয়েছে, এলসিডি উত্তরণের পর তাতে পরিবর্তন হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের উচিত বাজার সুবিধাভিত্তিক প্রতিযোগী বাদ দিয়ে দক্ষতাভিত্তিক প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে বের হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। এভাবে কানাডা আমেরিকার সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। আর অভ্যন্তরীণ সমস্যার মধ্যে রয়েছে নীতিশৃঙ্খলা এবং আইনের বাস্তবায়ন। বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে আমরা আইন-কানুন মানি না। এখান থেকে বের হয়ে আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানি, ওষুধ খাতসহ বিভিন্ন খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। স্থানীয় বাজারে শুধু ইনুসলিনের দাম ৮ গুণ বাড়তে পারে। সব কিছু মিলিয়ে আগামী পাঁচ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনোভাবেই সময় নষ্ট করা যাবে না।

রুবানা হক বলেন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এখনই কৌশল ঠিক করতে হবে। নাসের এজাজ বিজয় বলেন, এলডিসি উত্তরণ হলে জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ মিলবে না। এ ছাড়া অন্য বিদেশি ঋণ পাওয়ার খরচ বাড়বে। তিনি পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগের অর্থ আনাকে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন।

সিপিডির মূল্যায়ন

এলডিসি উত্তরণের প্রভাব পড়বে চার খাতে

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি আছে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে চার খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর মধ্যে রয়েছে-বাজারসুবিধা, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, নীতি ও শৃঙ্খলা এবং বিভিন্ন আইনের বাস্তবায়ন।

আর এ পর্যন্ত উত্তরণ হওয়া ১২টি এলডিসি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পণ্যমূল্যেই বেশি প্রভাব পড়বে। গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে ১২ শতাংশ পর্যন্ত খরচ বাড়তে পারে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতাভিত্তিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, এলডিসির প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, সংসদ-সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক চেয়ারম্যান এ মতিন চৌধুরী, আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর তোমো পৌতাইয়ানেন এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের মতে, এলডিসি থেকে বের হলে এক দিকে চ্যালেঞ্জ আছে, অন্য দিকে সুযোগ বাড়বে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণকালীন সময়ের মধ্যে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্পগুলো শেষ হয়ে যাবে, যা ব্যবসায় প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। তাই এলডিসি উত্তরণের ফলে যে ক্ষতি হবে, তা কাটানো সহজ হবে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এসব উত্তরণের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো অফিসিয়াল স্বীকৃতি দেয় না। ফলে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা কম। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের ফলে আমাদের বেসরকারি খাত বিদেশ থেকে ঋণ পাবে।

ড. রেহমান সোবহান বলেন, সংখ্যার বিচারে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হবে বাংলাদেশ। তবে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ উত্তরণও লাগবে। যেমন এলডিসি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রফতানি পণ্য যাতে প্রতিযোগিতা সক্ষম হতে পারে। ওষুধ খাতের চ্যালেঞ্জগুলো দূর করা জরুরি।

তাই এখন থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতির অভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে ওষুধশিল্পের এপিআই পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু এখনো তা শেষ হয়নি। অথচ এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে স্থানীয় বাজারেও ওষুধের দাম বাড়তে পারে।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে এলডিসি থেকে বের হবে। কিন্তু ওইদিন সকালে উঠে যেন এমন মনে না হয়, অনেক কিছুই করা হয়নি। তাহলে বিপাকে পড়তে হবে। তিনি বলেন, চার খাতে সমস্যা সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দুই খাত এবং বৈশ্বিক দুই খাত।

বৈশ্বিক খাতের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বাজার সুবিধা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব। বিশ্বের যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের আগের যে চুক্তি রয়েছে, এলসিডি উত্তরণের পর তাতে পরিবর্তন হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের উচিত বাজার সুবিধাভিত্তিক প্রতিযোগী বাদ দিয়ে দক্ষতাভিত্তিক প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে বের হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। এভাবে কানাডা আমেরিকার সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। আর অভ্যন্তরীণ সমস্যার মধ্যে রয়েছে নীতিশৃঙ্খলা এবং আইনের বাস্তবায়ন। বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে আমরা আইন-কানুন মানি না। এখান থেকে বের হয়ে আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানি, ওষুধ খাতসহ বিভিন্ন খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। স্থানীয় বাজারে শুধু ইনুসলিনের দাম ৮ গুণ বাড়তে পারে। সব কিছু মিলিয়ে আগামী পাঁচ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোনোভাবেই সময় নষ্ট করা যাবে না।

রুবানা হক বলেন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এখনই কৌশল ঠিক করতে হবে। নাসের এজাজ বিজয় বলেন, এলডিসি উত্তরণ হলে জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ মিলবে না। এ ছাড়া অন্য বিদেশি ঋণ পাওয়ার খরচ বাড়বে। তিনি পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগের অর্থ আনাকে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন