লেখক মুশতাক রাষ্ট্রীয় ‘হত্যাকাণ্ডের’ শিকার
jugantor
বিক্ষোভ সমাবেশে মির্জা ফখরুল
লেখক মুশতাক রাষ্ট্রীয় ‘হত্যাকাণ্ডের’ শিকার
যুবদলের মজনুসহ ২০ নেতাকর্মী আটক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লেখক মুশতাক আহমেদের ‘হত্যাকাণ্ড’ রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, লেখক মুশতাককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে এদিন বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে ফেরার পথে ঢাকা মহানগর যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনুসহ ২০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা প্রথমেই বলেছিলাম এ হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছি। মুশতাকের মৃত্যুর বিষয়ে সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, শুধু একজনকে নয় এ আইনে সাত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু সরকারের সমালোচনা করা, কার্টুন আঁকা বা লেখার কারণে এর আগে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছে সাংবাদিকরা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, এ সরকার সম্পূর্ণ অবৈধ সরকার, অনির্বাচিত সরকার। জোর করে তারা ক্ষমতায় টিকে আছে এবং টিকে থাকার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো গণবিরোধী আইন তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এ সরকারের কোনো বৈধতা নেই। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তাই অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারকে হঠাতে হবে। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে। আসুন এ লক্ষ্যে আমরা সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হই।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ও নোয়াখালীর বসিরহাটে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাংবাদিক মোজাক্কির হত্যার বিচারের দাবিতে সমাবেশ করা হয়। যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানের পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, সহসভাপতি আবদুল খালেক হাওলাদার, মোনায়েম মুন্না, মাহবুবুল হাসান ভুঁইয়া পিংকু, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম জাহাঙ্গীর, রফিকুল আলম মজনু, নুরুল ইসলাম নয়ন, গোলাম মওলা শাহিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, এ সরকার কাউকে সম্মান দিতে জানে না। এ সরকার কোনো সম্মান পেতে পারে না। এ সরকার ভোটের সরকার নয়, এ সরকার নির্বাচিত সরকার নয়। সুতরাং এ সরকারকে আমরাও মানি না। জনগণের আন্দোলনের স্রোতে এ সরকার খড়কুটোর মধ্যে ভেসে যাবে। সমাবেশ উপলক্ষ্যে সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ব্যাপক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রেস ক্লাবের পূর্বদিকের সড়কে সাঁজোয়াযান, রায়ট কার ও জলকামানের গাড়ি রাখা হয়। সকাল ১০টায় সমাবেশ শুরু হয়ে ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তা শেষ হয়। এরপর নেতাকর্মীরা দ্রুত সমাবেশস্থল ত্যাগ করে। আমানউল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ফুটপাতে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের চলে যেতে বলেন। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর প্রেস ক্লাবের সামনে এটাই বিএনপির প্রথম কর্মসূচি। এদিকে সমাবেশ শেষে ফেরার পথে মৎস্যভবনের কাছ থেকে যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনুকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে তিনি বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন। দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সমাবেশ শেষে ওতপেতে থাকা পুলিশ ক্ষুধার্ত হায়েনার মতো যুবদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন- নারায়ণগঞ্জের মাহবুব, ফতুল্লার আবু খালেক টিপু, বন্দর থানার মাহবুব, রূপনগর থানার মো. ফাহিম, সূত্রাপুর থানার সৌরভ রাসেল, কামরাঙ্গীরচরের দিলগণি, কাফরুলের মো. ওয়াহিদ, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের তরিকুল ইসলাম রুবেল, আব্দুল মান্নান, আব্দুর রাজ্জাক, মো. সাগর প্রমুখ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান রিজভী।

বিক্ষোভ সমাবেশে মির্জা ফখরুল

লেখক মুশতাক রাষ্ট্রীয় ‘হত্যাকাণ্ডের’ শিকার

যুবদলের মজনুসহ ২০ নেতাকর্মী আটক
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লেখক মুশতাক আহমেদের ‘হত্যাকাণ্ড’ রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, লেখক মুশতাককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে এদিন বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে ফেরার পথে ঢাকা মহানগর যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনুসহ ২০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা প্রথমেই বলেছিলাম এ হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছি। মুশতাকের মৃত্যুর বিষয়ে সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, শুধু একজনকে নয় এ আইনে সাত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু সরকারের সমালোচনা করা, কার্টুন আঁকা বা লেখার কারণে এর আগে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছে সাংবাদিকরা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, এ সরকার সম্পূর্ণ অবৈধ সরকার, অনির্বাচিত সরকার। জোর করে তারা ক্ষমতায় টিকে আছে এবং টিকে থাকার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো গণবিরোধী আইন তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এ সরকারের কোনো বৈধতা নেই। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তাই অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারকে হঠাতে হবে। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে। আসুন এ লক্ষ্যে আমরা সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হই।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ও নোয়াখালীর বসিরহাটে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাংবাদিক মোজাক্কির হত্যার বিচারের দাবিতে সমাবেশ করা হয়। যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানের পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, সহসভাপতি আবদুল খালেক হাওলাদার, মোনায়েম মুন্না, মাহবুবুল হাসান ভুঁইয়া পিংকু, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম জাহাঙ্গীর, রফিকুল আলম মজনু, নুরুল ইসলাম নয়ন, গোলাম মওলা শাহিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, এ সরকার কাউকে সম্মান দিতে জানে না। এ সরকার কোনো সম্মান পেতে পারে না। এ সরকার ভোটের সরকার নয়, এ সরকার নির্বাচিত সরকার নয়। সুতরাং এ সরকারকে আমরাও মানি না। জনগণের আন্দোলনের স্রোতে এ সরকার খড়কুটোর মধ্যে ভেসে যাবে। সমাবেশ উপলক্ষ্যে সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ব্যাপক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রেস ক্লাবের পূর্বদিকের সড়কে সাঁজোয়াযান, রায়ট কার ও জলকামানের গাড়ি রাখা হয়। সকাল ১০টায় সমাবেশ শুরু হয়ে ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তা শেষ হয়। এরপর নেতাকর্মীরা দ্রুত সমাবেশস্থল ত্যাগ করে। আমানউল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ফুটপাতে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের চলে যেতে বলেন। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর প্রেস ক্লাবের সামনে এটাই বিএনপির প্রথম কর্মসূচি। এদিকে সমাবেশ শেষে ফেরার পথে মৎস্যভবনের কাছ থেকে যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনুকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে তিনি বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন। দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সমাবেশ শেষে ওতপেতে থাকা পুলিশ ক্ষুধার্ত হায়েনার মতো যুবদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন- নারায়ণগঞ্জের মাহবুব, ফতুল্লার আবু খালেক টিপু, বন্দর থানার মাহবুব, রূপনগর থানার মো. ফাহিম, সূত্রাপুর থানার সৌরভ রাসেল, কামরাঙ্গীরচরের দিলগণি, কাফরুলের মো. ওয়াহিদ, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের তরিকুল ইসলাম রুবেল, আব্দুল মান্নান, আব্দুর রাজ্জাক, মো. সাগর প্রমুখ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান রিজভী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন