নিষেধাজ্ঞায়ও ভয় নেই মিয়ানমার জান্তার
jugantor
বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা-গুলি অব্যাহত
নিষেধাজ্ঞায়ও ভয় নেই মিয়ানমার জান্তার
নিহত ৫৪ গ্রেফতার ১৭শ’ -জাতিসংঘ

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৫ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারে বুধবার রক্তক্ষয়ী দিনের পর বৃহস্পতিবার ফের বিক্ষোভে জড়ো হয়েছেন সেনা অভ্যুত্থানবিরোধীরা। এদিনও বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছুড়েছে পুলিশ। মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে হত্যা বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। কিন্তু এসব হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দিচ্ছে না জান্তা সরকার। দেশটির সেনাবাহিনীর উপপ্রধান সোয়ে উইন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনারকে বলেছেন, ‘আমরা নিষেধাজ্ঞায় অভ্যস্ত এবং আমরা টিকে আছি।’ এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫৪ জন নিহত এবং ১৭শ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স, এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

বুধবার মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৩৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। মান্দালয়ে ‘অ্যাঞ্জেল’ নামে ১৯ বছর বয়সি এক তরুণী কিয়াল সিন মারা যান। মৃত্যুর সময় তিনি ‘এভরিথিং উইল বি ওকে’ লেখা একটি টি-শার্ট পরিহিত ছিলেন। অ্যাঞ্জেলকে শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অগণিত মানুষ জড়ো হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘বীর’ হিসাবে সম্বোধন করে অনেকেই শ্রদ্ধা জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবারও নেপিদো, ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও মনিওয়াতে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মান্দালয় ও বাগানসহ বেশকিছু শহরে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী শান্তিপূর্ণভাবে র‌্যালি করেছেন। এ সময় শত শত বিক্ষোভকারী অং সান সু চির ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে পদযাত্রা করেন। এদিন সকালে পাঁচটি ফাইটার জেট বিমান মান্দালয়ের উপর দিয়ে উড়ে গেছে। সামরিক বাহিনী সতর্কতা দেখাতে এমনটা করেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেল বেচলেট বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অবশ্যই হত্যা ও গণগ্রেফতার বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি করছে নিরাপত্তা বাহিনী-এটি একেবারেই ঘৃণ্য ঘটনা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অনতিবিলম্বে হত্যা ও নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ।

তবে বিশ্বের এসব হুঁশিয়ারি আমলে নিচ্ছে না মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

অভ্যুত্থানের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বা একঘরে করে দেয়, তাহলে তা মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত আছে দেশটির জান্তা সরকার। মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্গেনার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর উপপ্রধান সোয়ে উইনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

এ সময় তিনি সোয়ে উইনকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনী কিছু দেশের শক্ত পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারে এবং তারা বিশ্বসম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। জাতিসংঘ দূত বলেন, তার (সোয়ে উইন) উত্তর ছিল, ‘আমরা নিষেধাজ্ঞায় অভ্যস্ত এবং আমরা টিকে আছি। অল্পকিছু বন্ধুর সঙ্গেই আমাদের চলতে শিখতে হবে।’

আজ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমার বিষয়ে ব্রিফ করবেন শ্রেনার বার্গেনার। যুক্তরাজ্যের ডাকে নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি হবে।

মিয়ানমারে গত নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল জয় পায়। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে সেনাবাহিনী। তারা পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায়। এদিন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এরপর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সেনাবাহিনী সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। জান্তা শাসকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দিন দিন জোরালো হচ্ছে। সঙ্গে দমনপীড়নও জোরদার করছে নিরাপত্তা বাহিনী।

বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা-গুলি অব্যাহত

নিষেধাজ্ঞায়ও ভয় নেই মিয়ানমার জান্তার

নিহত ৫৪ গ্রেফতার ১৭শ’ -জাতিসংঘ
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৫ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারে বুধবার রক্তক্ষয়ী দিনের পর বৃহস্পতিবার ফের বিক্ষোভে জড়ো হয়েছেন সেনা অভ্যুত্থানবিরোধীরা। এদিনও বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে টিয়ার গ্যাস ও গুলি ছুড়েছে পুলিশ। মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে হত্যা বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। কিন্তু এসব হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দিচ্ছে না জান্তা সরকার। দেশটির সেনাবাহিনীর উপপ্রধান সোয়ে উইন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনারকে বলেছেন, ‘আমরা নিষেধাজ্ঞায় অভ্যস্ত এবং আমরা টিকে আছি।’ এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫৪ জন নিহত এবং ১৭শ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স, এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

বুধবার মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৩৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। মান্দালয়ে ‘অ্যাঞ্জেল’ নামে ১৯ বছর বয়সি এক তরুণী কিয়াল সিন মারা যান। মৃত্যুর সময় তিনি ‘এভরিথিং উইল বি ওকে’ লেখা একটি টি-শার্ট পরিহিত ছিলেন। অ্যাঞ্জেলকে শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অগণিত মানুষ জড়ো হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘বীর’ হিসাবে সম্বোধন করে অনেকেই শ্রদ্ধা জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবারও নেপিদো, ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও মনিওয়াতে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মান্দালয় ও বাগানসহ বেশকিছু শহরে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী শান্তিপূর্ণভাবে র‌্যালি করেছেন। এ সময় শত শত বিক্ষোভকারী অং সান সু চির ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে পদযাত্রা করেন। এদিন সকালে পাঁচটি ফাইটার জেট বিমান মান্দালয়ের উপর দিয়ে উড়ে গেছে। সামরিক বাহিনী সতর্কতা দেখাতে এমনটা করেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেল বেচলেট বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অবশ্যই হত্যা ও গণগ্রেফতার বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি করছে নিরাপত্তা বাহিনী-এটি একেবারেই ঘৃণ্য ঘটনা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অনতিবিলম্বে হত্যা ও নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ।

তবে বিশ্বের এসব হুঁশিয়ারি আমলে নিচ্ছে না মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

অভ্যুত্থানের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বা একঘরে করে দেয়, তাহলে তা মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত আছে দেশটির জান্তা সরকার। মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্গেনার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর উপপ্রধান সোয়ে উইনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

এ সময় তিনি সোয়ে উইনকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনী কিছু দেশের শক্ত পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারে এবং তারা বিশ্বসম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। জাতিসংঘ দূত বলেন, তার (সোয়ে উইন) উত্তর ছিল, ‘আমরা নিষেধাজ্ঞায় অভ্যস্ত এবং আমরা টিকে আছি। অল্পকিছু বন্ধুর সঙ্গেই আমাদের চলতে শিখতে হবে।’

আজ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমার বিষয়ে ব্রিফ করবেন শ্রেনার বার্গেনার। যুক্তরাজ্যের ডাকে নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি হবে।

মিয়ানমারে গত নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল জয় পায়। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে সেনাবাহিনী। তারা পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায়। এদিন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এরপর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সেনাবাহিনী সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে। জান্তা শাসকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দিন দিন জোরালো হচ্ছে। সঙ্গে দমনপীড়নও জোরদার করছে নিরাপত্তা বাহিনী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন