সোনার বাংলা গড়ার ডাক নরেন্দ্র মোদির
jugantor
সোনার বাংলা গড়ার ডাক নরেন্দ্র মোদির
মমতাকে তীব্র আক্রমণ

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা  

০৮ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র আক্রমণ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মমতাকে একের পর এক আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বাস ভেঙেছেন দিদি। সবাই আপনাকে তাদের দিদি ভেবেছিল। কিন্তু আপনি একজনেরই পিসি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ রোববার বলিউড তারকা মিঠুন চক্রবর্তীকে পাশে নিয়ে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসমুদ্রে তিনি ভাষণ দেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, আমরা পশ্চিমবঙ্গে শুধু ক্ষমতাবদল চাই না, একটা উন্নয়নকেন্দ্রিক সরকার গড়তে চাই। অনেক বছর নষ্ট হয়ে গেছে। আর সময় নষ্ট করা যাবে না। আসল পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলার মানুষকে মনে রাখতে হবে- কীভাবে বারবার তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘পরিবর্তন চাই’, ‘বদলা নয়, বদল চাই’ স্লোগান দিয়েই পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা। এদিন সেই স্লোগানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মোদি ‘আসল পরিবর্তন’ আনতে চাই বলে পাল্টা দাবি করেন। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ শিলিগুড়িতে এদিন প্রায় একই সময়ে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিশাল র‌্যালি করেন মমতা। বক্তৃতায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো মোদিকে খোলা চ্যালেঞ্জ দিয়ে মমতা বলেন, ‘মুখোমুখি বসুন। দিন, তারিখ, স্থান সবই আপনি ঠিক করুন। সামনে থাকবে জনগণ, রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে দুজনই কথা বলব। দেখি কে জেতে?’ বক্তব্যর শুরুতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, সারা জীবনে কয়েকশ সভা করেছি। কিন্তু এতবড় রাজনৈতিক সভা আগে দেখিনি। বক্তৃতার মাঝে-মাঝে বাংলায় একাধিক ইস্যু তুলে ধরেন তিনি।

মাঝে-মধ্যে টিপ্পনিও কাটেন। তিনি যতবার বাংলায় ভাষণের বাক্য উচ্চারণ করেছেন ততবারই ব্রিগেডের জনসমুদ্র উল্লাসে ফেটে পড়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে মমতাকেই আক্রমণ করেছেন। মমতার সরকার এবং তৃণমূলের ছড়ানো পাঁকেই আজ বাংলায় পদ্ম গজিয়ে উঠেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘কখনো আমাকে রাবণ, কখনো দৈত্য, কখনো গুন্ডা বলছেন দিদি। এত রাগ কেন দিদি? আপনার দল এবং আপনার সরকারের ছড়ানো পাঁকেই আজ বাংলায় পদ্ম ফুটছে।’

মমতার উদ্দেশে নরেন্দ্র মোদি বলেন, গণতন্ত্রের নামে বাংলায় লুঠতন্ত্রকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, জাত-ধর্মের নামে বিভেদের রাজনীতি করেছেন, তাই আজ বাংলায় পদ্ম ফুটছে। দিদিকে অনেক দিন ধরে চিনি। বামপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়া দিদি এমন ছিলেন না। কিন্তু আজ দিদির রিমোট কন্ট্রোল অন্যের হাতে। বারবার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যেকার সংঘাতের প্রসঙ্গও তার ভাষণে উঠে আসে। কিষাণ নিধি প্রকল্পে টাকা থেকে আয়ুষ্মান ভারত, পানীয় জল থেকে ঝুপড়িবাসীদের জন্য এক বছরের মধ্যে পাকা বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন মোদি।

পেট্রোপণ্যের প্রতিবাদে মমতার স্কুটি চালানো নিয়েও কটাক্ষ করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘আপনি যেদিন স্কুটি সামলানোর দায়িত্ব নিলেন পুরো রাস্তায় সবাই প্রার্থনা করছিল সবকিছু ঠিক থাকুক। নইলে স্কুটিটা যে রাজ্যে তৈরি হয়েছে, তাকেই শত্রু বানিয়ে দোষারোপ করতে লেগে পড়তেন।’ একইসঙ্গে ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে মমতার প্রার্থী হওয়া নিয়েও তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষ করেন। হারের ভবিষ্যদ্বাণীর ইঙ্গিত দিয়ে স্কুটি চালানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভবানীপুর যেতে যেতে নন্দীগ্রামের দিকে ঘুরে গেছে আপনার স্কুটি। আমি চাই না কেউ আঘাত পান। কিন্তু স্কুটি যখন নন্দীগ্রামেই গিয়ে পড়েছে, তখন আমরা আর কী করব।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে কী কী করবে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদি। অনেকটা বিজেপির ইশতেহার উল্লেখ করার ঢঙে তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের কমিশনবাজির জেরে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকার উন্নয়ন আটকে রয়েছে। কলকাতার স্মার্টসিটি প্রকল্প আনবে বিজেপি। নতুন উড়ালপুল গড়া হবে। ঝুপড়িবাসীদের পাকা বাড়ি করে দেওয়া হবে। ঠেলাওয়ালাদের স্বনিধি যোজনার আওতায় আনা হবে। কলকাতার সঙ্গেই বাংলার অন্য শহরেও আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য নিয়ে এগোব আমরা। যাতে পড়াশোনা, রোজগার এবং প্রবীণদের জন্য ওষুধের বন্দোবস্ত করা যায়। বাংলায় নতুন শিল্প আসবে। বাংলায় আসল পরিবর্তন আনতে হলে গ্রাম পঞ্চায়েত, নগর নিগম এবং নগর পালিকাদের পারদর্শিতা ততটাই জরুরি। বাংলায় যেভাবে গণতন্ত্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বিজেপি তার পুনর্নির্মাণ করবে।

পশ্চিমবঙ্গে নয়া শিক্ষানীতি চালুর কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি বাংলায় প্রণয়ন করা হবে। বাংলা ভাষায় ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি পড়ানো হবে। প্রান্তিক পড়ুয়ারা ইংরেজি না জানলেও ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি পড়তে পারবে।

মমতা ও তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণের পাশাপাশি বাম ও কংগ্রেসকেও প্রধানমন্ত্রী মোদি মিনিট চারেক আক্রমণ করেন। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রু কংগ্রেস এবং বামেরা এবার ভোটে যেহেতু জোট করেছে তাই সেই জোটবন্ধন নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার লড়াইকে ভিত্তি করে কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল। এরপর কিছু দিন কাজ হয়েছিল। তারপর থেকেই রাজনীতির খেলা শুরু হয়। বামপন্থিরা অত্যাচার চালাতে শুরু করে। বামপন্থিরা এক সময় বলতেন কংগ্রেসের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। এ স্লোগানবাজির বদৌলতেই ক্ষমতা দখল করে ও প্রায় তিন দশক ক্ষমতায় থাকে। আমি জানতে চাই, আজ সেই কালো হাতের কী হলো? কালো হাত ফরসা হয়ে গেল কীভাবে? যে হাতকে বামপন্থিরা কালো ভাবতেন, আজ তা সাদা হলো কীভাবে? যে হাত গুঁড়িয়ে দিতে চাইতেন, আজ সেই হাত ধরেই এগোচ্ছেন কেন?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশাপাশি ব্রিগেডের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বাঙালির সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তীর গেরুয়া শিবিরে প্রবেশ। সব জল্পনা-কল্পনাকে সত্যি করে ব্রিগেডের মাঠে হাতে পদ্মের ঝান্ডা তুলে নিলেন মহাগুরু মিঠুন। মোদি ঝলকের আগেই স্বভাবোচিত ঢঙে মঞ্চ মাতালেন তিনি। ভোটের প্রচারে রীতিমতো দামামা বাজিয়ে মিঠুন এদিন ফিল্মি স্টাইলে বলেন, ‘আমি জলঢোঁড়া নই, বেলেবরা নই, আমি জাত কোবরা-গোখরো, এক ছোবলেই ছবি।’ নিজের হিট সিনেমার ডায়লগ তুলে মিঠুন বলেন, ‘এবার এটাই হবে, এক ছোবলেই ছবি।’ লকেট থেকে অর্জুন সিং, শুভেন্দু থেকে মুকুল সবার ভাষণে শোনা গেল মমতার ভাইপো ও ভাইপোর বউয়ের প্রসঙ্গও। সংসদ অর্জুন সিংয়ের আক্রমণ, মোদিজি বহিরাগত তো আপনার বউমা কী? ২ মে ৩ দিন আগেই তো আপনি আর ভাইপো সিঙ্গাপুরে পালাবেন। ব্রিগেডের মাঠেও প্রতিপক্ষ প্রার্থী মমতার উদ্দেশে আক্রমণ শুভেন্দুর। ২৪ ঘণ্টাও হয়নি নন্দীগ্রামে প্রার্থী হিসাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামে মাননীয়াকে হারাবই, ভরসা রাখতে পারেন। ওটা আমার জায়গা, মাননীয়া, আপনি প্রাক্তন বিধায়কের প্যাড ছাপিয়ে রাখুন, আপনাকে হারতে হবেই। কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজদের শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে বাংলায়। তা তুলতে না পারলে বাংলা অনেক পিছিয়ে যাবে। আর ওই দলটা এখন প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হয়ে গেছে। চেয়ারম্যান মমতা আর ভাইস প্রেসিডেন্ট তোলাবাজ ভাইপো, বাকি সব ল্যামপোস্ট।’

সোনার বাংলা গড়ার ডাক নরেন্দ্র মোদির

মমতাকে তীব্র আক্রমণ
 কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা 
০৮ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র আক্রমণ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মমতাকে একের পর এক আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বাস ভেঙেছেন দিদি। সবাই আপনাকে তাদের দিদি ভেবেছিল। কিন্তু আপনি একজনেরই পিসি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ রোববার বলিউড তারকা মিঠুন চক্রবর্তীকে পাশে নিয়ে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসমুদ্রে তিনি ভাষণ দেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, আমরা পশ্চিমবঙ্গে শুধু ক্ষমতাবদল চাই না, একটা উন্নয়নকেন্দ্রিক সরকার গড়তে চাই। অনেক বছর নষ্ট হয়ে গেছে। আর সময় নষ্ট করা যাবে না। আসল পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলার মানুষকে মনে রাখতে হবে- কীভাবে বারবার তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘পরিবর্তন চাই’, ‘বদলা নয়, বদল চাই’ স্লোগান দিয়েই পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা। এদিন সেই স্লোগানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মোদি ‘আসল পরিবর্তন’ আনতে চাই বলে পাল্টা দাবি করেন। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ শিলিগুড়িতে এদিন প্রায় একই সময়ে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিশাল র‌্যালি করেন মমতা। বক্তৃতায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো মোদিকে খোলা চ্যালেঞ্জ দিয়ে মমতা বলেন, ‘মুখোমুখি বসুন। দিন, তারিখ, স্থান সবই আপনি ঠিক করুন। সামনে থাকবে জনগণ, রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে দুজনই কথা বলব। দেখি কে জেতে?’ বক্তব্যর শুরুতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, সারা জীবনে কয়েকশ সভা করেছি। কিন্তু এতবড় রাজনৈতিক সভা আগে দেখিনি। বক্তৃতার মাঝে-মাঝে বাংলায় একাধিক ইস্যু তুলে ধরেন তিনি।

মাঝে-মধ্যে টিপ্পনিও কাটেন। তিনি যতবার বাংলায় ভাষণের বাক্য উচ্চারণ করেছেন ততবারই ব্রিগেডের জনসমুদ্র উল্লাসে ফেটে পড়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে মমতাকেই আক্রমণ করেছেন। মমতার সরকার এবং তৃণমূলের ছড়ানো পাঁকেই আজ বাংলায় পদ্ম গজিয়ে উঠেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘কখনো আমাকে রাবণ, কখনো দৈত্য, কখনো গুন্ডা বলছেন দিদি। এত রাগ কেন দিদি? আপনার দল এবং আপনার সরকারের ছড়ানো পাঁকেই আজ বাংলায় পদ্ম ফুটছে।’

মমতার উদ্দেশে নরেন্দ্র মোদি বলেন, গণতন্ত্রের নামে বাংলায় লুঠতন্ত্রকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, জাত-ধর্মের নামে বিভেদের রাজনীতি করেছেন, তাই আজ বাংলায় পদ্ম ফুটছে। দিদিকে অনেক দিন ধরে চিনি। বামপন্থিদের বিরুদ্ধে লড়া দিদি এমন ছিলেন না। কিন্তু আজ দিদির রিমোট কন্ট্রোল অন্যের হাতে। বারবার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যেকার সংঘাতের প্রসঙ্গও তার ভাষণে উঠে আসে। কিষাণ নিধি প্রকল্পে টাকা থেকে আয়ুষ্মান ভারত, পানীয় জল থেকে ঝুপড়িবাসীদের জন্য এক বছরের মধ্যে পাকা বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন মোদি।

পেট্রোপণ্যের প্রতিবাদে মমতার স্কুটি চালানো নিয়েও কটাক্ষ করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘আপনি যেদিন স্কুটি সামলানোর দায়িত্ব নিলেন পুরো রাস্তায় সবাই প্রার্থনা করছিল সবকিছু ঠিক থাকুক। নইলে স্কুটিটা যে রাজ্যে তৈরি হয়েছে, তাকেই শত্রু বানিয়ে দোষারোপ করতে লেগে পড়তেন।’ একইসঙ্গে ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে মমতার প্রার্থী হওয়া নিয়েও তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষ করেন। হারের ভবিষ্যদ্বাণীর ইঙ্গিত দিয়ে স্কুটি চালানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভবানীপুর যেতে যেতে নন্দীগ্রামের দিকে ঘুরে গেছে আপনার স্কুটি। আমি চাই না কেউ আঘাত পান। কিন্তু স্কুটি যখন নন্দীগ্রামেই গিয়ে পড়েছে, তখন আমরা আর কী করব।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে কী কী করবে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদি। অনেকটা বিজেপির ইশতেহার উল্লেখ করার ঢঙে তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের কমিশনবাজির জেরে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকার উন্নয়ন আটকে রয়েছে। কলকাতার স্মার্টসিটি প্রকল্প আনবে বিজেপি। নতুন উড়ালপুল গড়া হবে। ঝুপড়িবাসীদের পাকা বাড়ি করে দেওয়া হবে। ঠেলাওয়ালাদের স্বনিধি যোজনার আওতায় আনা হবে। কলকাতার সঙ্গেই বাংলার অন্য শহরেও আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য নিয়ে এগোব আমরা। যাতে পড়াশোনা, রোজগার এবং প্রবীণদের জন্য ওষুধের বন্দোবস্ত করা যায়। বাংলায় নতুন শিল্প আসবে। বাংলায় আসল পরিবর্তন আনতে হলে গ্রাম পঞ্চায়েত, নগর নিগম এবং নগর পালিকাদের পারদর্শিতা ততটাই জরুরি। বাংলায় যেভাবে গণতন্ত্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বিজেপি তার পুনর্নির্মাণ করবে।

পশ্চিমবঙ্গে নয়া শিক্ষানীতি চালুর কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি বাংলায় প্রণয়ন করা হবে। বাংলা ভাষায় ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি পড়ানো হবে। প্রান্তিক পড়ুয়ারা ইংরেজি না জানলেও ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি পড়তে পারবে।

মমতা ও তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণের পাশাপাশি বাম ও কংগ্রেসকেও প্রধানমন্ত্রী মোদি মিনিট চারেক আক্রমণ করেন। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রু কংগ্রেস এবং বামেরা এবার ভোটে যেহেতু জোট করেছে তাই সেই জোটবন্ধন নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার লড়াইকে ভিত্তি করে কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল। এরপর কিছু দিন কাজ হয়েছিল। তারপর থেকেই রাজনীতির খেলা শুরু হয়। বামপন্থিরা অত্যাচার চালাতে শুরু করে। বামপন্থিরা এক সময় বলতেন কংগ্রেসের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। এ স্লোগানবাজির বদৌলতেই ক্ষমতা দখল করে ও প্রায় তিন দশক ক্ষমতায় থাকে। আমি জানতে চাই, আজ সেই কালো হাতের কী হলো? কালো হাত ফরসা হয়ে গেল কীভাবে? যে হাতকে বামপন্থিরা কালো ভাবতেন, আজ তা সাদা হলো কীভাবে? যে হাত গুঁড়িয়ে দিতে চাইতেন, আজ সেই হাত ধরেই এগোচ্ছেন কেন?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাশাপাশি ব্রিগেডের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বাঙালির সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তীর গেরুয়া শিবিরে প্রবেশ। সব জল্পনা-কল্পনাকে সত্যি করে ব্রিগেডের মাঠে হাতে পদ্মের ঝান্ডা তুলে নিলেন মহাগুরু মিঠুন। মোদি ঝলকের আগেই স্বভাবোচিত ঢঙে মঞ্চ মাতালেন তিনি। ভোটের প্রচারে রীতিমতো দামামা বাজিয়ে মিঠুন এদিন ফিল্মি স্টাইলে বলেন, ‘আমি জলঢোঁড়া নই, বেলেবরা নই, আমি জাত কোবরা-গোখরো, এক ছোবলেই ছবি।’ নিজের হিট সিনেমার ডায়লগ তুলে মিঠুন বলেন, ‘এবার এটাই হবে, এক ছোবলেই ছবি।’ লকেট থেকে অর্জুন সিং, শুভেন্দু থেকে মুকুল সবার ভাষণে শোনা গেল মমতার ভাইপো ও ভাইপোর বউয়ের প্রসঙ্গও। সংসদ অর্জুন সিংয়ের আক্রমণ, মোদিজি বহিরাগত তো আপনার বউমা কী? ২ মে ৩ দিন আগেই তো আপনি আর ভাইপো সিঙ্গাপুরে পালাবেন। ব্রিগেডের মাঠেও প্রতিপক্ষ প্রার্থী মমতার উদ্দেশে আক্রমণ শুভেন্দুর। ২৪ ঘণ্টাও হয়নি নন্দীগ্রামে প্রার্থী হিসাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামে মাননীয়াকে হারাবই, ভরসা রাখতে পারেন। ওটা আমার জায়গা, মাননীয়া, আপনি প্রাক্তন বিধায়কের প্যাড ছাপিয়ে রাখুন, আপনাকে হারতে হবেই। কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজদের শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে বাংলায়। তা তুলতে না পারলে বাংলা অনেক পিছিয়ে যাবে। আর ওই দলটা এখন প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হয়ে গেছে। চেয়ারম্যান মমতা আর ভাইস প্রেসিডেন্ট তোলাবাজ ভাইপো, বাকি সব ল্যামপোস্ট।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন