কোম্পানীগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে ৭ মার্চের কর্মসূচি
jugantor
কোম্পানীগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে ৭ মার্চের কর্মসূচি
দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওবায়দুল কাদের -কাদের মির্জা * চাঁদাবাজির টাকায় কাদের মির্জা আমেরিকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন -নেতাদের দাবি

  নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি  

০৮ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ৭ মার্চে রোববার আওয়ামী লীগের দুই দ্রুপে পালটাপালটি কর্মসূচি ঘিরে চরম উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বসুরহাট জিরো পয়েন্টে বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে সকালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এর আগে বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে কাদের মির্জা বলেন, ওবায়দুল কাদের এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কিছু ষড়যন্ত্রকারীর খপ্পরে ও চক্রান্তে পড়ে তার মদদে এবং সহযোগিতায় ওরা (উপজেলা আওয়ামী লীগ) কর্মসূচি পালন করছে। মুজিব শতবর্ষের মেলার সমাপন মঞ্চে সন্ধ্যার পর আলোচনাসভায় আবদুল কাদের মির্জা বলেন, সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র করছে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার। দুইজনকে গ্রেফতার করে টাকার বিনিময়ে একজনকে ছেড়ে দিয়েছে, অপরজনকে মুজাক্কির হত্যা মামলায় নাকি গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, একাই বিভিন্ন সেক্টর থেকে কোটি কোটি টাকা কামাই করে দেশ-বিদেশে শতকোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন কাদের মির্জা। আমেরিকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন, কক্সবাজারে ফাইভ স্টার হোটেল ব্যবসা চালাচ্ছেন।

শহরের সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিকালে অগ্নিঝরা ৭ মার্চের আলোচনাসভায় নোয়াখালী-৪ আসনের (সদর-সুবর্ণচর) সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী আবদুল কাদের মির্জাকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, পূর্বদিকে (কোম্পানীগঞ্জ) একটা পাগল হইছে। আমি নেত্রী ও কাদের ভাইয়ের কাছে নোয়াখালী পৌর মেয়র হিসাবে নতুন নেতৃত্ব চাই। আমরা ওই নেতৃত্ব চাই, যারা প্রতিটি মুহূর্তে শহরকে এবং শহরের নেতাকর্মীকে বুকে আগলে রাখতে পারবে। একশ টাকা, দুইশ টাকার জন্য পাগল হবেন না।

আবদুল কাদের মির্জা অভিযোগ করে বলেন, আমাকে সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি দলীয় নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশ মেনে আজকের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেছি। নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে বলেছেন। এজন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিয়ে আমাদের আজকের (৭ মার্চ) কর্মসূচি সমাপ্ত করব।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, মেয়র আবদুল কাদের মির্জা দলের কোনো শীর্ষ পদে না থাকলেও অবৈধ ক্ষমতার দাপটে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্রসহ সবকিছু প্রকাশ্যে লুট করে নিয়ে গেছেন। মেয়র আবদুল কাদের মির্জার একচ্ছত্র আধিপত্য, অপরাজনীতি ও একনায়কতন্ত্রের কারণে ২৫ বছরে এখানকার আওয়ামী পরিবার তার কাছে জিম্মি ছিল। আজকের সমাবেশে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকায় তার অশুভ জিম্মিদশা থেকে আওয়ামী লীগ ও আমরা মুক্ত হয়েছি। ২৫ বছর তার অপকর্ম-নির্যাতনের কারণে দলের ২৫ হাজার নেতাকর্মী দলীয় কর্মকাণ্ড ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল।

বসুরহাট বীর-উত্তম নুরুল হক মিলনায়তন চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াতের সভাপতিত্বে ৭ মার্চ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভীন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের তিন ভাগনে সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু, স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম রাহাত প্রমুখ। আলোচনাসভা শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

কোম্পানীগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে ৭ মার্চের কর্মসূচি

দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওবায়দুল কাদের -কাদের মির্জা * চাঁদাবাজির টাকায় কাদের মির্জা আমেরিকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন -নেতাদের দাবি
 নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি 
০৮ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ৭ মার্চে রোববার আওয়ামী লীগের দুই দ্রুপে পালটাপালটি কর্মসূচি ঘিরে চরম উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বসুরহাট জিরো পয়েন্টে বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে সকালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এর আগে বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে কাদের মির্জা বলেন, ওবায়দুল কাদের এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কিছু ষড়যন্ত্রকারীর খপ্পরে ও চক্রান্তে পড়ে তার মদদে এবং সহযোগিতায় ওরা (উপজেলা আওয়ামী লীগ) কর্মসূচি পালন করছে। মুজিব শতবর্ষের মেলার সমাপন মঞ্চে সন্ধ্যার পর আলোচনাসভায় আবদুল কাদের মির্জা বলেন, সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র করছে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার। দুইজনকে গ্রেফতার করে টাকার বিনিময়ে একজনকে ছেড়ে দিয়েছে, অপরজনকে মুজাক্কির হত্যা মামলায় নাকি গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, একাই বিভিন্ন সেক্টর থেকে কোটি কোটি টাকা কামাই করে দেশ-বিদেশে শতকোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন কাদের মির্জা। আমেরিকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন, কক্সবাজারে ফাইভ স্টার হোটেল ব্যবসা চালাচ্ছেন।

শহরের সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিকালে অগ্নিঝরা ৭ মার্চের আলোচনাসভায় নোয়াখালী-৪ আসনের (সদর-সুবর্ণচর) সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী আবদুল কাদের মির্জাকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, পূর্বদিকে (কোম্পানীগঞ্জ) একটা পাগল হইছে। আমি নেত্রী ও কাদের ভাইয়ের কাছে নোয়াখালী পৌর মেয়র হিসাবে নতুন নেতৃত্ব চাই। আমরা ওই নেতৃত্ব চাই, যারা প্রতিটি মুহূর্তে শহরকে এবং শহরের নেতাকর্মীকে বুকে আগলে রাখতে পারবে। একশ টাকা, দুইশ টাকার জন্য পাগল হবেন না।

আবদুল কাদের মির্জা অভিযোগ করে বলেন, আমাকে সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি দলীয় নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশ মেনে আজকের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেছি। নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে বলেছেন। এজন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিয়ে আমাদের আজকের (৭ মার্চ) কর্মসূচি সমাপ্ত করব।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, মেয়র আবদুল কাদের মির্জা দলের কোনো শীর্ষ পদে না থাকলেও অবৈধ ক্ষমতার দাপটে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্রসহ সবকিছু প্রকাশ্যে লুট করে নিয়ে গেছেন। মেয়র আবদুল কাদের মির্জার একচ্ছত্র আধিপত্য, অপরাজনীতি ও একনায়কতন্ত্রের কারণে ২৫ বছরে এখানকার আওয়ামী পরিবার তার কাছে জিম্মি ছিল। আজকের সমাবেশে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকায় তার অশুভ জিম্মিদশা থেকে আওয়ামী লীগ ও আমরা মুক্ত হয়েছি। ২৫ বছর তার অপকর্ম-নির্যাতনের কারণে দলের ২৫ হাজার নেতাকর্মী দলীয় কর্মকাণ্ড ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল।

বসুরহাট বীর-উত্তম নুরুল হক মিলনায়তন চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াতের সভাপতিত্বে ৭ মার্চ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজুমান পারভীন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের তিন ভাগনে সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু, স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম রাহাত প্রমুখ। আলোচনাসভা শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন