নবনির্বাচিত পৌর মেয়রকে লক্ষ্য করে গুলি
jugantor
গৌরীপুরে ওসির প্রত্যাহার দাবি
নবনির্বাচিত পৌর মেয়রকে লক্ষ্য করে গুলি
পালটা অভিযোগ এমপির

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

০৮ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে। মেয়র বলেন, বিগত নির্বাচনে পরাজিত করতে না পারায় আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। নির্বাচনের আগেও আমাকে একটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছিল। পৌর মেয়রের বাসায় রোববার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।

অপরদিকে সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৭ মার্চের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গৌরীপুর আসার পথে গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর মেয়রের নেতৃত্বে আমার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় প্রায় ৮-১০ জন আহত হন। ৮টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু চত্বরে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে কার্যালয়ে ফিরে আসি। কার্যালয় থেকে বাসায় আসার মুহূর্তে ভবনের গেটে পাকা রাস্তায় আসতেই হত্যার উদ্দেশ্যে রোববার বেলা ১টায় গুলি করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপির ছেলে তানজির আহমেদ রাজিবের নির্দেশে এ গুলি চালানো হয়। আমি শুনেছি, রাজিব বলছে, ‘এই মেয়র চলে যাচ্ছে গুলি কর, গুলি কর’। এ কথা বলার পরে প্রথমে সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দুলাল আহাম্মেদ গুলি চালায়, এরপর গুলি করে শোয়েব মুনশী। আমাকে বাঁচাতে এসে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দিলু (৩৫) ও যুবলীগ কর্মী আল আমিন (৩১) আহত হন।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, ঘটনার আগে পরে কেউ গোলাগুলির শব্দ শোনেনি। আমরাও গুলিবর্ষণের কোনো খবর পাইনি। দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট) কেউ মামলা দেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ রাজিব বাহিনীকে মদদ দিয়েছে। এ কারণে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিম সিদ্দিকীর প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

এমপির ছেলে তানজির আহমেদ রাজিব বলেন, গুলি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা বঙ্গবন্ধু চত্বরে যাওয়ার সময় লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার পরেই এলোপাতাড়িভাবে আমাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে উলটা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে গৌরীপুর পৌরসভা পরিষদের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পৌর যুবলীগ ও দলীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি পৌর মেয়রের বাসার কার্যালয়ে সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশের জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান পৌর যুবলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান মিথুন।

পৌর মেয়রের বাসায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত কাউন্সিলর দিলুয়ারা আক্তার দিলু, রোজিনা আক্তার চৌধুরী মিতু, সালেহা আক্তার, সাধারণ ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন বাচ্চু, মো. মাসুদ মিয়া রতন, জিয়াউর রহমান জিয়া, মো. এমরান মুনশী, মো. নাজিম উদ্দিন, সাদেকুর রহমান সাদেক, আরিফুল ইসলাম ভূঞা এনাম, সাবেক কাউন্সিলর দেওয়ান মাসুদুর রহমান খান সুজন, শিউলী চৌধুরী প্রমুখ।

গৌরীপুরে ওসির প্রত্যাহার দাবি

নবনির্বাচিত পৌর মেয়রকে লক্ষ্য করে গুলি

পালটা অভিযোগ এমপির
 গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
০৮ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে। মেয়র বলেন, বিগত নির্বাচনে পরাজিত করতে না পারায় আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। নির্বাচনের আগেও আমাকে একটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছিল। পৌর মেয়রের বাসায় রোববার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।

অপরদিকে সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৭ মার্চের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গৌরীপুর আসার পথে গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌর মেয়রের নেতৃত্বে আমার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় প্রায় ৮-১০ জন আহত হন। ৮টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু চত্বরে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে কার্যালয়ে ফিরে আসি। কার্যালয় থেকে বাসায় আসার মুহূর্তে ভবনের গেটে পাকা রাস্তায় আসতেই হত্যার উদ্দেশ্যে রোববার বেলা ১টায় গুলি করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপির ছেলে তানজির আহমেদ রাজিবের নির্দেশে এ গুলি চালানো হয়। আমি শুনেছি, রাজিব বলছে, ‘এই মেয়র চলে যাচ্ছে গুলি কর, গুলি কর’। এ কথা বলার পরে প্রথমে সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দুলাল আহাম্মেদ গুলি চালায়, এরপর গুলি করে শোয়েব মুনশী। আমাকে বাঁচাতে এসে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দিলু (৩৫) ও যুবলীগ কর্মী আল আমিন (৩১) আহত হন।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, ঘটনার আগে পরে কেউ গোলাগুলির শব্দ শোনেনি। আমরাও গুলিবর্ষণের কোনো খবর পাইনি। দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট) কেউ মামলা দেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ রাজিব বাহিনীকে মদদ দিয়েছে। এ কারণে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিম সিদ্দিকীর প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

এমপির ছেলে তানজির আহমেদ রাজিব বলেন, গুলি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা বঙ্গবন্ধু চত্বরে যাওয়ার সময় লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার পরেই এলোপাতাড়িভাবে আমাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে উলটা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে গৌরীপুর পৌরসভা পরিষদের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পৌর যুবলীগ ও দলীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিলটি পৌর মেয়রের বাসার কার্যালয়ে সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশের জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান পৌর যুবলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান মিথুন।

পৌর মেয়রের বাসায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত কাউন্সিলর দিলুয়ারা আক্তার দিলু, রোজিনা আক্তার চৌধুরী মিতু, সালেহা আক্তার, সাধারণ ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন বাচ্চু, মো. মাসুদ মিয়া রতন, জিয়াউর রহমান জিয়া, মো. এমরান মুনশী, মো. নাজিম উদ্দিন, সাদেকুর রহমান সাদেক, আরিফুল ইসলাম ভূঞা এনাম, সাবেক কাউন্সিলর দেওয়ান মাসুদুর রহমান খান সুজন, শিউলী চৌধুরী প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন