ইসির গাফিলতিসহ ১০ কারণ চিহ্নিত
jugantor
৫ লাখ ৩০ হাজার দ্বৈত ভোটার শনাক্ত
ইসির গাফিলতিসহ ১০ কারণ চিহ্নিত
ভোটার তালিকা আইন সংশোধন করে দণ্ড বাড়ানোর সুপারিশ * ৮৬১ জন জীবিত মানুষ ভোটার তালিকায় ‘মৃত’

  কাজী জেবেল  

০১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একই ব্যক্তির দুইবার ভোটার (দ্বৈত ভোটার) হওয়া বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া, কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও ব্যক্তির অসৎ উদ্দেশ্যসহ ১০ কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কারণের মধ্যে পাঁচটির জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী ইসি। বাকি পাঁচটি কারণ দ্বৈত নাগরিক হওয়া ব্যক্তিদের নিজস্ব সমস্যা বা অসৎ উদ্দেশ্য। সম্প্রতি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের একটি কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে আঙুলের ছাপ শনাক্তের পদ্ধতি এএফআইএস শক্তিশালী করা, ভোটার তালিকা আইনে অপরাধ জামিন অযোগ্য ও দণ্ড বাড়ানো এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের আজকের সভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের কথা। কমিশনের এ সভায় প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন, রাজনৈতিক দলের ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব ২০২০ সালের মধ্যে অর্জনের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণসহ কয়েকটি ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ভোটার তালিকায় বর্তমানে ১১ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ৬৬৯ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ লাখ ২৯ হাজার ৮০৬ জন দ্বৈত ভোটার হিসাবে চিহ্নিত করেছে ইসি। তাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক দ্বৈত ভোটারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অপর একটি সূত্র বলছে, সারাদেশে ৮৬১ জন নাগরিককে ভোটার তালিকায় মৃত দেখিয়ে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সার্ভার থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। অথচ তারা জীবিত। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সংখ্যা বেশি হবে। প্রায় প্রতিদিনই জীবিত মানুষকে মৃত দেখানোর ঘটনায় ইসি সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে আবেদন জমা পড়ছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি, একই ব্যক্তির একাধিকবার ভোটার হওয়া, রোহিঙ্গাদের ভোটার করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের একাধিক ঘটনা প্রকাশের পর বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে ইসি। ওইসব ঘটনায় কয়েকটি কমিটিও গঠন করা হয়। এর একটি হচ্ছে-দ্বৈত ভোটার হওয়ার কারণ ও বন্ধের সুপারিশ সংক্রান্ত কমিটি। জাতীয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মো. নুরুজ্জামান তালুকদারকে প্রধান করে গঠিত কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

এতে দ্বৈত ভোটার হওয়ার ১০ কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণগুলো হচ্ছে-অজ্ঞতা, ভোটার হিসাবে নিবন্ধনের পর জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ ও বিতরণে দীর্ঘসূত্রতা অর্থাৎ এনআইডি কার্ড হাতে না পাওয়া এবং নিবন্ধনের রসিদ হারিয়ে যাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে ভোটার তালিকায় তাদের তথ্য না থাকা বা তাৎক্ষণিক সহায়তা না পাওয়া।

বাকি কারণগুলো হচ্ছে-দ্বৈত ভোটার হওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ সংক্রান্ত প্রচার প্রচারণার যথেষ্ট অভাব, করণিক ভুলের কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তন, বিবাহজনিত কারণ (মহিলা ভোটারদের স্বামী বা শ্বশুর বাড়িতে পুনরায় ভোটার হওয়া) এবং আগের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম যুক্ত থাকায় তালাকজনিত কারণে ওই নাম কাটা ও নতুন নাম সংযুক্ত করা।

আরও রয়েছে আবাসন পরিবর্তনের কারণে আগের ঠিকানায় জাতীয় পরিচয়পত্র না পাওয়ায়, ভাসমান ভোটার ও বিভিন্ন অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল যেমন অন্যের সম্পত্তি অর্জন, বিদেশ গমন, সরকারি চাকরি ও অপরাধ সংঘটনের পর তা থেকে মুক্তি পেতে দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১০টির মধ্যে পাঁচটির জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী ইসি। বাকি পাঁচটির জন্য দ্বৈত ভোটাররা দায়ী। মাঠ পর্যায়ে আঙুলের ছাপ নিয়ে দ্বৈত ভোটার চিহ্নিত করার প্রযুক্তি থাকলে এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব হতো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ অনুযায়ী অসত্য তথ্য দেওয়া ও দ্বৈত ভোটার হওয়া অপরাধ। ভোটার তালিকা আইনে এ অপরাধে অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড বা দুই হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনটি অআমলযোগ্য উল্লেখ করে তা সংশোধন করে দণ্ড বাড়ানো এবং জামিন অযোগ্য বিধান সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।

আইনটি সংশোধনের আগ পর্যন্ত দ্বৈত ভোটার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে এজাহারের নমুনা কপি মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন অফিসে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনে দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রবণতা বন্ধে আরও কিছু সপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অটোমেটিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এএফআইএস) শক্তিশালী করা, অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ারে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যাপচার ও ম্যাচিংয়ের ব্যবস্থা করা, সব নাগরিকের আইরিশ দ্রুত সংগ্রহ করে সার্ভারে আপডেট করা অন্যতম।

আরও রয়েছে-খসড়া ভোটার তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করা, নিজস্ব দক্ষ জনবল তৈরি করে সারা বছর ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অফিসে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া, মৃত দেখানো জীবিত ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সচল করা।

ইউপি ও পৌর নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আজ : করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি ও সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনার কারণ দেখিয়ে সামনের নির্বাচনগুলো স্থগিতের সিদ্ধান্ত হতে পারে আজকের কমিশন সভায়। সভায় এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এতে আগামী ১১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপ-নির্বাচন এবং প্রথম ধাপের ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও ষষ্ঠ ধাপের ১১টি পৌরসভাসহ অন্যান্য ভোট স্থগিত হতে পারে।

৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব : রাজনৈতিক দলের ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব অর্জনের সময়সীমা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে ইসি।

রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার বিষয়টি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ, ১৯৭২তেই উল্লেখ রয়েছে। সম্প্রতি ওই আইনটি বাংলায় অনুবাদ করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানেও একই বিধান রাখা হয়েছে। অথচ কমিশনের পাঠানো আরেক আইন ‘রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন, ২০২০’ এর খসড়ার ৪(খ)(আ) তে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরপিওতে এ সংক্রান্ত ধারা সংশোধন ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন পাস হবে কি না-সে বিষয়ে এখনো সরকারের সিদ্ধান্ত জানতে পারেনি ইসি। এমন পরিস্থিতিতে এ বিষয়ে করণীয় কি হবে-তা আজ কমিশন সভায় আলোচনার কথা রয়েছে।

৫ লাখ ৩০ হাজার দ্বৈত ভোটার শনাক্ত

ইসির গাফিলতিসহ ১০ কারণ চিহ্নিত

ভোটার তালিকা আইন সংশোধন করে দণ্ড বাড়ানোর সুপারিশ * ৮৬১ জন জীবিত মানুষ ভোটার তালিকায় ‘মৃত’
 কাজী জেবেল 
০১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

একই ব্যক্তির দুইবার ভোটার (দ্বৈত ভোটার) হওয়া বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া, কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও ব্যক্তির অসৎ উদ্দেশ্যসহ ১০ কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কারণের মধ্যে পাঁচটির জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী ইসি। বাকি পাঁচটি কারণ দ্বৈত নাগরিক হওয়া ব্যক্তিদের নিজস্ব সমস্যা বা অসৎ উদ্দেশ্য। সম্প্রতি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের একটি কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে আঙুলের ছাপ শনাক্তের পদ্ধতি এএফআইএস শক্তিশালী করা, ভোটার তালিকা আইনে অপরাধ জামিন অযোগ্য ও দণ্ড বাড়ানো এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের আজকের সভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের কথা। কমিশনের এ সভায় প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন, রাজনৈতিক দলের ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব ২০২০ সালের মধ্যে অর্জনের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণসহ কয়েকটি ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ভোটার তালিকায় বর্তমানে ১১ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ৬৬৯ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচ লাখ ২৯ হাজার ৮০৬ জন দ্বৈত ভোটার হিসাবে চিহ্নিত করেছে ইসি। তাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক দ্বৈত ভোটারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অপর একটি সূত্র বলছে, সারাদেশে ৮৬১ জন নাগরিককে ভোটার তালিকায় মৃত দেখিয়ে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সার্ভার থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। অথচ তারা জীবিত। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সংখ্যা বেশি হবে। প্রায় প্রতিদিনই জীবিত মানুষকে মৃত দেখানোর ঘটনায় ইসি সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে আবেদন জমা পড়ছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি, একই ব্যক্তির একাধিকবার ভোটার হওয়া, রোহিঙ্গাদের ভোটার করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের একাধিক ঘটনা প্রকাশের পর বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে ইসি। ওইসব ঘটনায় কয়েকটি কমিটিও গঠন করা হয়। এর একটি হচ্ছে-দ্বৈত ভোটার হওয়ার কারণ ও বন্ধের সুপারিশ সংক্রান্ত কমিটি। জাতীয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মো. নুরুজ্জামান তালুকদারকে প্রধান করে গঠিত কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

এতে দ্বৈত ভোটার হওয়ার ১০ কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণগুলো হচ্ছে-অজ্ঞতা, ভোটার হিসাবে নিবন্ধনের পর জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ ও বিতরণে দীর্ঘসূত্রতা অর্থাৎ এনআইডি কার্ড হাতে না পাওয়া এবং নিবন্ধনের রসিদ হারিয়ে যাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে ভোটার তালিকায় তাদের তথ্য না থাকা বা তাৎক্ষণিক সহায়তা না পাওয়া।

বাকি কারণগুলো হচ্ছে-দ্বৈত ভোটার হওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ সংক্রান্ত প্রচার প্রচারণার যথেষ্ট অভাব, করণিক ভুলের কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তন, বিবাহজনিত কারণ (মহিলা ভোটারদের স্বামী বা শ্বশুর বাড়িতে পুনরায় ভোটার হওয়া) এবং আগের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম যুক্ত থাকায় তালাকজনিত কারণে ওই নাম কাটা ও নতুন নাম সংযুক্ত করা।

আরও রয়েছে আবাসন পরিবর্তনের কারণে আগের ঠিকানায় জাতীয় পরিচয়পত্র না পাওয়ায়, ভাসমান ভোটার ও বিভিন্ন অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল যেমন অন্যের সম্পত্তি অর্জন, বিদেশ গমন, সরকারি চাকরি ও অপরাধ সংঘটনের পর তা থেকে মুক্তি পেতে দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১০টির মধ্যে পাঁচটির জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী ইসি। বাকি পাঁচটির জন্য দ্বৈত ভোটাররা দায়ী। মাঠ পর্যায়ে আঙুলের ছাপ নিয়ে দ্বৈত ভোটার চিহ্নিত করার প্রযুক্তি থাকলে এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব হতো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ অনুযায়ী অসত্য তথ্য দেওয়া ও দ্বৈত ভোটার হওয়া অপরাধ। ভোটার তালিকা আইনে এ অপরাধে অনধিক ছয় মাস কারাদণ্ড বা দুই হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনটি অআমলযোগ্য উল্লেখ করে তা সংশোধন করে দণ্ড বাড়ানো এবং জামিন অযোগ্য বিধান সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।

আইনটি সংশোধনের আগ পর্যন্ত দ্বৈত ভোটার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে এজাহারের নমুনা কপি মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন অফিসে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনে দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রবণতা বন্ধে আরও কিছু সপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অটোমেটিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এএফআইএস) শক্তিশালী করা, অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ারে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যাপচার ও ম্যাচিংয়ের ব্যবস্থা করা, সব নাগরিকের আইরিশ দ্রুত সংগ্রহ করে সার্ভারে আপডেট করা অন্যতম।

আরও রয়েছে-খসড়া ভোটার তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করা, নিজস্ব দক্ষ জনবল তৈরি করে সারা বছর ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অফিসে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া, মৃত দেখানো জীবিত ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সচল করা।

ইউপি ও পৌর নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আজ : করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি ও সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনার কারণ দেখিয়ে সামনের নির্বাচনগুলো স্থগিতের সিদ্ধান্ত হতে পারে আজকের কমিশন সভায়। সভায় এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এতে আগামী ১১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপ-নির্বাচন এবং প্রথম ধাপের ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও ষষ্ঠ ধাপের ১১টি পৌরসভাসহ অন্যান্য ভোট স্থগিত হতে পারে।

৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব : রাজনৈতিক দলের ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব অর্জনের সময়সীমা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে ইসি।

রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার বিষয়টি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ, ১৯৭২তেই উল্লেখ রয়েছে। সম্প্রতি ওই আইনটি বাংলায় অনুবাদ করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানেও একই বিধান রাখা হয়েছে। অথচ কমিশনের পাঠানো আরেক আইন ‘রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইন, ২০২০’ এর খসড়ার ৪(খ)(আ) তে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরপিওতে এ সংক্রান্ত ধারা সংশোধন ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন পাস হবে কি না-সে বিষয়ে এখনো সরকারের সিদ্ধান্ত জানতে পারেনি ইসি। এমন পরিস্থিতিতে এ বিষয়ে করণীয় কি হবে-তা আজ কমিশন সভায় আলোচনার কথা রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন