চট্টগ্রাম চেম্বারে মতবিনিময়কালে এনবিআর চেয়ারম্যান

আগামী বাজেটে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে

কর্পোরেট কর কমানোর ইঙ্গিত

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ২২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম চেম্বারে মতবিনিময়কালে এনবিআর চেয়ারম্যান
চট্টগ্রাম চেম্বারে মতবিনিময়কালে এনবিআর চেয়ারম্যান

আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া।

তিনি বলেন, জাতীয় আয় ও মাথাপিছু আয় অনেক বেড়েছে, প্রবৃদ্ধিও অনেক ভালো। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে যাচ্ছি- এসব চিন্তাভাবনা করে এবার বাজেটের আকারও বড় হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ যাতে বাড়ে সেদিকে নজর দেয়া হবে।

তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘যেসব পণ্য দেশে উৎপাদিত হয় আমরা তাদের আরও উৎসাহিত করব। এ জন্য দেশে তৈরি করা যায় এমন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আগামীতে খুব বেশি সুবিধা থাকবে না।’

শনিবার দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম চেম্বার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দীর্ঘদিনের দাবি- কর্পোরেট কর কমানোর ইঙ্গিত দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘কর্পোরেট করের যে সিলিং আছে তা যদি সামান্য কমাই তাহলে একটা বড় প্রভাব পড়বে।

বড় কর্পোরেট হাউস যারা ট্যাক্স কম দিতে লাভ কম দেখায়, সেই প্রবণতা কমবে। তখন সত্যিকার হিসাবটাই তারা দেখাবে’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেটের সঙ্গে রাজস্ব আহরণের বিষয়টি জড়িত। বাজেট বড় হলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও বড় হয়। সরকার আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে তা পূরণ করতে হবে। তবে আমি কিছু বিষয়ে আশ্বস্ত করতে পারি।

ব্যক্তিগতভাবে আমি ব্যবসাবান্ধব। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেব, যাতে তারা ব্যবসা করতে পারেন। ব্যবসায় রাজস্ব আসবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যদি ঘাটতি থাকে, সেটা দিয়ে পূরণ হয়ে যাবে।’

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়ে। যারা আয় করে তারা ভোক্তা হয়। বাজারে দেশি পণ্যের চাহিদা বাড়ে। তাই এবারের বাজেটে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।’

মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘জীবনযাত্রার মান বেড়েছে বলে করসীমা বাড়ানোর দাবি আছে। আমাদের জিডিপি যেভাবে বাড়ছে সেভাবে করদাতা বাড়ছে না।

যিনি আড়াই লাখ টাকার সীমায় কর দিয়েছেন, করসীমা বাড়ালে হয়তো তিনি করের আওতা থেকে বাদ পড়ে যাবেন। এ ক্ষেত্রে করদাতার সংখ্যা কমে যাবে।

যদি করের হার কমানো হয় তবে করদাতার সংখ্যা কমবে না। এ ছাড়া বাজেটে প্রতিবন্ধী ও নারী উদ্যোক্তাদের সুবিধা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা আছে।’

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স কমানোর দাবি জানিয়েছেন। তবে সব ক্ষেত্রে ট্যাক্স কমানো সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে খাতগুলো পর্যালোচনা করে কিছু ক্ষেত্রে কমানো হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে বাড়ানো হবে।

অগ্রিম আয়কর মওকুফের দাবি জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। এ ক্ষেত্রেও সব পণ্যের অগ্রিম আয়কর এক লেভেলে না রেখে কিছু কিছু পণ্যের বাড়িয়ে-কমিয়ে সমন্বয় করার চিন্তা করছি।

আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানোর ব্যবসায়ীদের যে দাবি সেটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। লোকসানে পড়ে পোলট্রি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধরনের শিল্পকে চিহ্নিত করে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে যাতে এসব শিল্প অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে।’

বন্দরে জট সৃষ্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা দুু’দিক থেকেই হচ্ছে। কাস্টম অফিসাররা যেমন দেরি করেন, তেমনি অনেক আমদানিকারকও পণ্য খালাস নিতে দেরি করেন।

যারা পণ্য এনে খালাস নেবে না সে ক্ষেত্রে আমরা নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুত করব। এতে ব্যবসায়ীরা সচেতন হবেন।’

আয়কর রিফান্ড এডজাস্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই থেকে যারা রিফান্ড পাবে তা দ্রুত ফেরত দেয়া হবে। এতে সরকারের ওপর আস্থা বাড়বে।’ এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোন কোন পণ্যে অসমতা আছে তা চিহ্নিত করে সাপটা চুক্তির আওতায় আনার অনুরোধ জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় এনবিআর সদস্য ফিরোজ শাহ আলম, কানন কুমার রায়, মো. রেজাউল হাসান, চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, আমীর হুমায়ুন চৌধুরী, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু প্রমুখ বক্তব্য দেন।

চেম্বার সভাপতি শুল্ক সংক্রান্ত ১৪৮টি, ভ্যাট সংক্রান্ত ৩০টি ও আয়কর সংক্রান্ত ৪৮টিসহ মোট ২২৬টি প্রস্তাব এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে উত্থাপন করেন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের মতবিনিময় সভা শেষে এনবিআর চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার নেতাদের সঙ্গে আসন্ন বাজেট নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যদি ক্রমান্বয়ে উন্নত দেশ হতে চাই তাহলে ম্যানুফেকচারিং খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের ফিস্কল পলিসি হতে হবে ব্যবসাবান্ধব।

সেটি করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব। দেশে যেন বিনিয়োগ বাড়ে সে জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছি। এ কমিটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুল্ক কোথায় কমাতে বা বাড়াতে হবে তা নির্ধারণে সহায়তা করবে। বিশেষ করে মুদ্রণ ও শিপ বিল্ডিংয়ের কিছু প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে আমাদের নজর থাকবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে। তবে তা নিয়মের মধ্যে করতে হবে। জরিমানার যে ব্যবস্থা আছে তাও থাকবে। তবে সেটা কমানো যায় কিনা তা বিবেচনা করা হবে। কিন্তু এখনই এ নিয়ে কোনো আশ্বাস দিতে পারছি না।’

মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক, নাদের খান প্রমুখ। একইদিন সকালে এনবিআর চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার নেতাদের সঙ্গে বাজেট নিয়ে পৃথক মতবিনিময় করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter