১০ টাকা চালের কার্ড আ.লীগ নেতার স্ত্রী-ছেলের নামে
jugantor
১০ টাকা চালের কার্ড আ.লীগ নেতার স্ত্রী-ছেলের নামে

  পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি  

০৭ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

১০ টাকা চালের কার্ড আ.লীগ নেতার স্ত্রী-ছেলের নামে

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী ও দুই ছেলের নামে ফেয়ার প্রাইজ চালের কার্ড প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভোমরাদহ ইউপি চেয়ারম্যান হিটলার হক সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে একই পরিবারের তিনজনকে ১০ টাকা কেজি দরের ফেয়ার প্রাইজ চালের কার্ড দিয়েছেন।

কার্ডপ্রাপ্তরা হলেন ভোমরাদহ সর্দারপাড়া গ্রামের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সালামের স্ত্রী আরিফা ও দুই ছেলে আমিন ও আকাশ, যার কার্ড নম্বর ১০৮০, ১১১০, ১০৫৫। আব্দুস সালামের পরিবারকে কার্ডে দেখানো হয়েছে দিনমজুর।

এদিকে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালাম বলেন, আমরা সচ্ছল নই। এজন্য তিনটি কার্ড পেয়েছি। আমার এক ছেলে বিয়ে করে আলাদা খায়। আমি দুটি কার্ডের সুবিধা পাই।

স্থানীয়রা বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি ও উদাসীনতার কারণে সালামের পরিবারের মতো অনেক সচ্ছল পরিবার অবৈধভাবে ফেয়ার প্রাইজের চালসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগসুবিধা গ্রহণ করছে। অথচ একই ইউনিয়নের ভোমরাদহ গ্রামের দিনমজুর খতিব এবং সেনুয়া গ্রামের হাকিমের মতো অনেক হতদরিদ্র ফেয়ার প্রাইজের চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ভোমরাদহ গ্রামের ৫৭ বছর বয়সি দিনমজুর আব্দুল খতিব অভিযোগ করেন, একটি প্রতিবন্ধী ছেলেসহ তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৮।

দিনমজুরের কাজ করে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন চলে তাদের। সম্প্রতি করোনাকালীন কাজকর্ম না থাকায় মহাবিপাকে পড়েন তারা। অবশেষে প্রতিবন্ধী ছেলের ভাতাসহ সরকারি সহায়তার জন্য ধরনা দেন জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে। কিছু ভিজিএফ চাল ছাড়া তার ভাগ্যে আর কোনো সরকারি সহায়তা জোটেনি।

এছাড়াও সেনুয়া গ্রামে দিনমজুর আব্দুল হাকিম বলেন, তার পরিবারের সদস্য ৫ জন। তার ভাগ্যেও জোটেনি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তেমন কোনো সুবিধা। অথচ প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি, ফেয়ার প্রাইজ ১০ টাকা কেজি চালের কার্ডসহ সরকারের চলমান কোনো কর্মসূচির সুবিধা পাননি তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হিটলার হক বলেন, তালিকাটি ৫ বছর আগের করা। তালিকায় কী আছে, দেখতে হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, এমনটা হয়ে থাকলে কার্ড বাতিল করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১০ টাকা চালের কার্ড আ.লীগ নেতার স্ত্রী-ছেলের নামে

 পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি 
০৭ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
১০ টাকা চালের কার্ড আ.লীগ নেতার স্ত্রী-ছেলের নামে
প্রতীকী ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী ও দুই ছেলের নামে ফেয়ার প্রাইজ চালের কার্ড প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভোমরাদহ ইউপি চেয়ারম্যান হিটলার হক সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে একই পরিবারের তিনজনকে ১০ টাকা কেজি দরের ফেয়ার প্রাইজ চালের কার্ড দিয়েছেন।

কার্ডপ্রাপ্তরা হলেন ভোমরাদহ সর্দারপাড়া গ্রামের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সালামের স্ত্রী আরিফা ও দুই ছেলে আমিন ও আকাশ, যার কার্ড নম্বর ১০৮০, ১১১০, ১০৫৫। আব্দুস সালামের পরিবারকে কার্ডে দেখানো হয়েছে দিনমজুর।

এদিকে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালাম বলেন, আমরা সচ্ছল নই। এজন্য তিনটি কার্ড পেয়েছি। আমার এক ছেলে বিয়ে করে আলাদা খায়। আমি দুটি কার্ডের সুবিধা পাই।

স্থানীয়রা বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি ও উদাসীনতার কারণে সালামের পরিবারের মতো অনেক সচ্ছল পরিবার অবৈধভাবে ফেয়ার প্রাইজের চালসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগসুবিধা গ্রহণ করছে। অথচ একই ইউনিয়নের ভোমরাদহ গ্রামের দিনমজুর খতিব এবং সেনুয়া গ্রামের হাকিমের মতো অনেক হতদরিদ্র ফেয়ার প্রাইজের চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ভোমরাদহ গ্রামের ৫৭ বছর বয়সি দিনমজুর আব্দুল খতিব অভিযোগ করেন, একটি প্রতিবন্ধী ছেলেসহ তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৮।

দিনমজুরের কাজ করে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন চলে তাদের। সম্প্রতি করোনাকালীন কাজকর্ম না থাকায় মহাবিপাকে পড়েন তারা। অবশেষে প্রতিবন্ধী ছেলের ভাতাসহ সরকারি সহায়তার জন্য ধরনা দেন জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে। কিছু ভিজিএফ চাল ছাড়া তার ভাগ্যে আর কোনো সরকারি সহায়তা জোটেনি।

এছাড়াও সেনুয়া গ্রামে দিনমজুর আব্দুল হাকিম বলেন, তার পরিবারের সদস্য ৫ জন। তার ভাগ্যেও জোটেনি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তেমন কোনো সুবিধা। অথচ প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি, ফেয়ার প্রাইজ ১০ টাকা কেজি চালের কার্ডসহ সরকারের চলমান কোনো কর্মসূচির সুবিধা পাননি তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হিটলার হক বলেন, তালিকাটি ৫ বছর আগের করা। তালিকায় কী আছে, দেখতে হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, এমনটা হয়ে থাকলে কার্ড বাতিল করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন