সেই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
jugantor
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন
সেই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

  নেসারুল হক খোকন  

১৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনার চাটমোহর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (সাময়িক বরখাস্ত) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ৬০ লাখ টাকার তথ্য গোপন এবং ৬৪ লাখ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সোমবার পাবনা দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান। গতকালই মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে চাটমোহর ডিগ্রি কলেজ থেকে এই মিজানুর রহমান কত কোটি টাকা লুটপাট করেছেন তার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। মাউশির রাজশাহী আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর ড. কামাল হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করে সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘মিজানুর রহমান যেহেতু সাময়িক বরখাস্ত আছেন সেহেতু প্রতিবেদনে কি পাওয়া গেছে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। এর বেশি বলা যাবে না। পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন মহাপরিচালক।’ যোগাযোগ করা হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মো. গোলাম ফারুক যুগান্তরকে বলেন, তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বিষয়টি কোথায় আটকে আছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর ‘টাকার মেশিন চাটমোহর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যুগান্তরে ছাপা হয়। এর পরই তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রশাসনিক তদন্ত চালায় মাউশি। প্রায় ১৭ মাসের দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুদকের মামলাটি দায়ের করা হলো। এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি ভূতাপেক্ষভাবে মিজানুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

মামলায় যা বলা হয়েছে : দুদকের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান সম্প্রতি দুদকের নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তিনি আটটি দলিলে ১.০২৫ একর জমির মালিক। চাটমোহরে তিনটি দোকানঘর ও একটি পুরাতন বাড়িসহ এক কোটি ১৬ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৩ টাকায় কিনেছেন।

তিনি ঈশ্বর্দীর মাজদিয়া মৌজায় কেনা জমিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স কর্পোরেশন থেকে ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১৫৫০ বর্গফুটের ৪ তলা বিল্ডিং নির্মাণ করেন। দুদক তার এই তথ্য চ্যালেঞ্জ করে গণপূর্তের প্রকৌশলী নিয়ে চার তলা ভবন নির্মাণে প্রকৃত খরচ বের করার চেষ্টা করে। মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতেই এই হিসাব করা হয়। এরপর পাবনার গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী দুদককে জানান, ২০১৫-২০১৬ সালে নির্মিত ৫ তলা ফাউন্ডেশন দেওয়া ৪ তলা বাড়ির ঠিকাদারি লভ্যাংশ ও তদারকি ব্যয় বাদ দিয়ে প্রকৃত ব্যয় ১ কোটি ৯ লাখ ৯৪ হাজার ২৮১ টাকা পাওয়া যায়।

অর্থাৎ প্রকৌশলীর মতামত অনুযায়ী মিজানুর রহমান দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৪ তলা বিল্ডিং নির্মাণে ঋণ গ্রহণের ৫০ লাখ টাকার অতিরিক্ত আরও ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ২৮১ টাকা কম প্রদর্শন করেন। মোদ্দা কথা, তার সম্পদ হচ্ছে এক কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার ২০১ টাকা। আর দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শন করেন এক কোটি ১৬ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৩ টাকা। অর্থাৎ ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকার কোনো বৈধ দালিলিক রেকর্ডপত্র পায়নি দুদক।

এ কারণে দুদক মনে করছে, অবৈধ পন্থায় অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদে বিনিয়োগ করেছেন। বিয়ের সময় শ্বশুর বাড়ি থেকে আসবাবপত্র বাবদ দেড় লাখ টাকা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন সম্পদ বিবরণীতে। ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ দখল ও তথ্য গোপন করে মিজানুর রহমান দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এদিকে ২০১৯ সালের অক্টোবরে যুগান্তরে অদক্ষের দুর্নীতির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তদন্ত করতে মাউশিকে লিখিত নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা পেয়ে মাউশি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত কমিটি গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন প্রাপ্ত অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য এবং তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা না করার কারণে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

এ সংক্রান্ত আদেশের এক স্থানে শিক্ষা সচিব উল্লেখ করেন, ‘তদন্তকালে মিজানুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেননি। বরং কিভাবে তা বাধাগ্রস্ত করা যায় সেই অপচেষ্টা করেছেন। তদন্ত কমিটির সঙ্গে অধ্যক্ষের এমন আচরণ ‘অসদাচরণ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ।’ আরও বলা হয়, ‘তদন্ত কাজে অসহযোগিতা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়।’

চিঠির আরেক স্থানে বলা হয়, চাটমোহর কলেজটি নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও অধ্যক্ষের মধ্যে বিভক্তি আছে। মিজানুর রহমানের অপকর্ম বিরোধী কর্মসূচি পালন ও উত্তেজনাকর পরিবেশের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রায়শ সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এর ফলে কলেজটিতে শিক্ষাদান কর্মসূচি হুমকির মুখে পড়েছে। এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের কাজ অনিশ্চিত হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।’

এসব কারণ দেখিয়ে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি ভূতাপেক্ষভাবে মিজানুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে তিনি আর কলেজেও যাচ্ছেন না। অধ্যক্ষের কক্ষটি তালাবদ্ধ রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ অন্য আরেকটি কক্ষে অফিস করছেন। কলেজের যাবতীয় নথিপত্র, সরঞ্জামাদি ও অনলাইন পাসওয়ার্ডসহ কোনো কিছুই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্মীকরণের কাগজপত্র এখনও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরে পাঠানো হয়নি। উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৮ সালে চাটমোহর ডিগ্রি কলেজটি সরকারি হয়। এরপর মাউশি থেকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়ার পরও সাবেক অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত নথি পাঠাননি। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদও গত এক বছরে এ সংক্রান্ত নথিপত্র পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ অবস্থায় সৃষ্ট সংকট নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন

সেই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

 নেসারুল হক খোকন 
১৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনার চাটমোহর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (সাময়িক বরখাস্ত) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ৬০ লাখ টাকার তথ্য গোপন এবং ৬৪ লাখ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সোমবার পাবনা দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান। গতকালই মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে চাটমোহর ডিগ্রি কলেজ থেকে এই মিজানুর রহমান কত কোটি টাকা লুটপাট করেছেন তার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। মাউশির রাজশাহী আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর ড. কামাল হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা স্বীকার করে সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘মিজানুর রহমান যেহেতু সাময়িক বরখাস্ত আছেন সেহেতু প্রতিবেদনে কি পাওয়া গেছে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। এর বেশি বলা যাবে না। পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন মহাপরিচালক।’ যোগাযোগ করা হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মো. গোলাম ফারুক যুগান্তরকে বলেন, তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বিষয়টি কোথায় আটকে আছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর ‘টাকার মেশিন চাটমোহর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যুগান্তরে ছাপা হয়। এর পরই তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রশাসনিক তদন্ত চালায় মাউশি। প্রায় ১৭ মাসের দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুদকের মামলাটি দায়ের করা হলো। এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি ভূতাপেক্ষভাবে মিজানুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

মামলায় যা বলা হয়েছে : দুদকের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান সম্প্রতি দুদকের নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তিনি আটটি দলিলে ১.০২৫ একর জমির মালিক। চাটমোহরে তিনটি দোকানঘর ও একটি পুরাতন বাড়িসহ এক কোটি ১৬ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৩ টাকায় কিনেছেন।

তিনি ঈশ্বর্দীর মাজদিয়া মৌজায় কেনা জমিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স কর্পোরেশন থেকে ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১৫৫০ বর্গফুটের ৪ তলা বিল্ডিং নির্মাণ করেন। দুদক তার এই তথ্য চ্যালেঞ্জ করে গণপূর্তের প্রকৌশলী নিয়ে চার তলা ভবন নির্মাণে প্রকৃত খরচ বের করার চেষ্টা করে। মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতেই এই হিসাব করা হয়। এরপর পাবনার গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী দুদককে জানান, ২০১৫-২০১৬ সালে নির্মিত ৫ তলা ফাউন্ডেশন দেওয়া ৪ তলা বাড়ির ঠিকাদারি লভ্যাংশ ও তদারকি ব্যয় বাদ দিয়ে প্রকৃত ব্যয় ১ কোটি ৯ লাখ ৯৪ হাজার ২৮১ টাকা পাওয়া যায়।

অর্থাৎ প্রকৌশলীর মতামত অনুযায়ী মিজানুর রহমান দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৪ তলা বিল্ডিং নির্মাণে ঋণ গ্রহণের ৫০ লাখ টাকার অতিরিক্ত আরও ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ২৮১ টাকা কম প্রদর্শন করেন। মোদ্দা কথা, তার সম্পদ হচ্ছে এক কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার ২০১ টাকা। আর দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শন করেন এক কোটি ১৬ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৩ টাকা। অর্থাৎ ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকার কোনো বৈধ দালিলিক রেকর্ডপত্র পায়নি দুদক।

এ কারণে দুদক মনে করছে, অবৈধ পন্থায় অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদে বিনিয়োগ করেছেন। বিয়ের সময় শ্বশুর বাড়ি থেকে আসবাবপত্র বাবদ দেড় লাখ টাকা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন সম্পদ বিবরণীতে। ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ দখল ও তথ্য গোপন করে মিজানুর রহমান দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এদিকে ২০১৯ সালের অক্টোবরে যুগান্তরে অদক্ষের দুর্নীতির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তদন্ত করতে মাউশিকে লিখিত নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা পেয়ে মাউশি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত কমিটি গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন প্রাপ্ত অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য এবং তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা না করার কারণে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

এ সংক্রান্ত আদেশের এক স্থানে শিক্ষা সচিব উল্লেখ করেন, ‘তদন্তকালে মিজানুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেননি। বরং কিভাবে তা বাধাগ্রস্ত করা যায় সেই অপচেষ্টা করেছেন। তদন্ত কমিটির সঙ্গে অধ্যক্ষের এমন আচরণ ‘অসদাচরণ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ।’ আরও বলা হয়, ‘তদন্ত কাজে অসহযোগিতা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়।’

চিঠির আরেক স্থানে বলা হয়, চাটমোহর কলেজটি নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও অধ্যক্ষের মধ্যে বিভক্তি আছে। মিজানুর রহমানের অপকর্ম বিরোধী কর্মসূচি পালন ও উত্তেজনাকর পরিবেশের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রায়শ সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এর ফলে কলেজটিতে শিক্ষাদান কর্মসূচি হুমকির মুখে পড়েছে। এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের কাজ অনিশ্চিত হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।’

এসব কারণ দেখিয়ে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি ভূতাপেক্ষভাবে মিজানুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে তিনি আর কলেজেও যাচ্ছেন না। অধ্যক্ষের কক্ষটি তালাবদ্ধ রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ অন্য আরেকটি কক্ষে অফিস করছেন। কলেজের যাবতীয় নথিপত্র, সরঞ্জামাদি ও অনলাইন পাসওয়ার্ডসহ কোনো কিছুই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্মীকরণের কাগজপত্র এখনও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরে পাঠানো হয়নি। উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৮ সালে চাটমোহর ডিগ্রি কলেজটি সরকারি হয়। এরপর মাউশি থেকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়ার পরও সাবেক অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত নথি পাঠাননি। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদও গত এক বছরে এ সংক্রান্ত নথিপত্র পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ অবস্থায় সৃষ্ট সংকট নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন