তদন্তে ধীরগতি ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা
jugantor
ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহননে প্ররোচনা মামলা
তদন্তে ধীরগতি ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা
অর্থকষ্টে বাসা ছেড়ে দিচ্ছেন মোরশেদের স্ত্রী * হুইপের ছেলে হয়ে কীভাবে সম্পৃক্ত হন!

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২০ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে তরুণ ব্যাংকার আবদুল মোরশেদ চৌধুরীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলার তদন্তে অগ্রগতি নেই। এক সপ্তাহ পার হলেও আসামিদের কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। আসামি গ্রেফতার ও তদন্তের ধীর গতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মোরশেদ চৌধুরীর স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী। স্বামী হারিয়ে তিনি চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন। এ কারণে তিনি বর্তমান বাসাও ছেড়ে দিচ্ছেন।

মামলাটি তদন্ত করছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার যুগান্তরকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মইনুর রহমান বলেন, ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। তদন্তভার বুঝে নেওয়ার পর তথ্যপ্রমাণগুলো জোগাড় করছি। বাদীর সঙ্গেও কথা বলেছি। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেফতারেরও চেষ্টা করছি।

ধীরেসুস্থে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে যা যা করা দরকার সবই করছি। জানা গেছে, মামলার এজাহারে চারজনের নাম থাকলেও এর বাইরেও হুইপের ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি সন্দেহের তালিকায় রয়েছে।

আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে ইশরাত জাহান চৌধুরী বলেন, মামলার আইও বিভিন্ন বিষয় তার কাছে জানতে চাইছেন। বিভিন্ন ডকুমেন্ট চাইছেন। সবই সরবরাহ করছি। তিনি বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে পারভেজ ইকবাল ও জাভেদ ইকবালের লেনদেন ছিল। তবে হুইপের ছেলে শারুনের সঙ্গে কোনো লেনদেন ছিল না।

এরপরও তাদের (জাবেদ ও পারভেজ) পক্ষ নিয়ে শারুন কীভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করলেন সেটাই আমার কাছে বড় প্রশ্ন। কারণ তার তো একটা মর্যাদা (স্ট্যাটাস) আছে। তার বাবা হুইপ। কোনো বন্ধু বললেই কি তিনি কাউকে হুমকি-ধমকি দিতে চলে যাবেন। ইশরাত বলেন, তারা আমার স্বামীকে হুমকি-ধমকি না দিলে, বাসায় গিয়ে চাপ না দিলে এবং শারুন পারভেজ-জাবেদদের পক্ষ না নিলে হয়তো স্বামীকে অকালে হারাতে হতো না।

স্বামী হারিয়ে মানসিক যন্ত্রণা ও কষ্টের পাশাপাশি চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন পাঁচলাইশ ফ্লোবেল একাডেমির শিক্ষিকা ইশরাত জাহান। তিনি বলেন, অর্থকষ্টে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছি। পাঁচলাইশের বাসার ভাড়া ২৬ হাজার টাকা। দুই মাসের সময় চেয়ে তিনি নোটিশ দিয়েছেন। স্কুলের বেতনছাড়া আমার আর কোনো আয় নেই।

তাই একমাত্র মেয়েকে নিয়ে কম ভাড়ার বাসায় চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আর স্বামীর আত্মহননে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইন্ধন ও প্ররোচনা দিয়েছেন তাদের বিচার দেখে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রভাবশালীদের হুমকি-ধমকি ও চাপ সহ্য করতে না পেরে নিরুপায় হয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মোরশেদ আত্মহত্যা করেছেন। তার সুইসাইড নোটই সেটি প্রমাণ করে। হুমকি-ধমকি প্রদানকারী জাবেদ, পারভেজ, নাঈম ও রাসেলকে অভিযুক্ত করে ৮ এপ্রিল পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মোরশেদের স্ত্রী ইশরাত জাহান। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে তিনি বলেন, পারভেজ ও জাবেদ স্বামীর ফুপাতো ভাই।

ব্যবসার জন্য তাদের কাছ থেকে মোরশেদ ২৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন। সুদসহ ৩৮ কোটি টাকা তিনি পরিশোধ করেন। আরও টাকা দাবি করে অস্ত্রের মুখে তারা ৮৪টি চেক ও ছয়টি স্ট্যাম্পে জোর করে মোরশেদের সই নেন। টাকা প্রাপ্তি সংক্রান্ত একাধিক মুচলেকাও নেন তারা। এরপরও ২০১৯ সালে বাসায় গিয়ে তারা হুমকি দেন।

সেখানে পারভেজ ও জাভেদ ছাড়া হুইপের ছেলে শারুন ও আরশেদুল আলম বাচ্চু উপস্থিত ছিলেন। সবশেষ যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল হক রাসেল ফোন করে মোরশেদকে হুমকি দেন। মূলত এসব কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

উল্লেখ্য, ৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ থানার মিমি সুপার মার্কেট সংলগ্ন হিলভিউ আবাসিক এলাকায় নাহার ভবনের ছয়তলার ফ্ল্যাট থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা মোরশেদ চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ির বাসিন্দা আবদুল মোমিন চৌধুরীর ছেলে মোরশেদ মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোট লিখে যান।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আর পারছি না। সত্যি আর নিতে পারছি না। প্রতিদিন একবার করে মরছি। কিছু লোকের অমানুষিক প্রেশার আমি আর নিতে পারছি না। প্লিজ সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমার জুমকে (মেয়ে) সবাই দেখে রেখ। আল্লাহ হাফেজ।’

ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহননে প্ররোচনা মামলা

তদন্তে ধীরগতি ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা

অর্থকষ্টে বাসা ছেড়ে দিচ্ছেন মোরশেদের স্ত্রী * হুইপের ছেলে হয়ে কীভাবে সম্পৃক্ত হন!
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২০ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে তরুণ ব্যাংকার আবদুল মোরশেদ চৌধুরীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলার তদন্তে অগ্রগতি নেই। এক সপ্তাহ পার হলেও আসামিদের কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। আসামি গ্রেফতার ও তদন্তের ধীর গতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মোরশেদ চৌধুরীর স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী। স্বামী হারিয়ে তিনি চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন। এ কারণে তিনি বর্তমান বাসাও ছেড়ে দিচ্ছেন।

মামলাটি তদন্ত করছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার যুগান্তরকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মইনুর রহমান বলেন, ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। তদন্তভার বুঝে নেওয়ার পর তথ্যপ্রমাণগুলো জোগাড় করছি। বাদীর সঙ্গেও কথা বলেছি। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেফতারেরও চেষ্টা করছি।

ধীরেসুস্থে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে যা যা করা দরকার সবই করছি। জানা গেছে, মামলার এজাহারে চারজনের নাম থাকলেও এর বাইরেও হুইপের ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি সন্দেহের তালিকায় রয়েছে।

আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে ইশরাত জাহান চৌধুরী বলেন, মামলার আইও বিভিন্ন বিষয় তার কাছে জানতে চাইছেন। বিভিন্ন ডকুমেন্ট চাইছেন। সবই সরবরাহ করছি। তিনি বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে পারভেজ ইকবাল ও জাভেদ ইকবালের লেনদেন ছিল। তবে হুইপের ছেলে শারুনের সঙ্গে কোনো লেনদেন ছিল না।

এরপরও তাদের (জাবেদ ও পারভেজ) পক্ষ নিয়ে শারুন কীভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করলেন সেটাই আমার কাছে বড় প্রশ্ন। কারণ তার তো একটা মর্যাদা (স্ট্যাটাস) আছে। তার বাবা হুইপ। কোনো বন্ধু বললেই কি তিনি কাউকে হুমকি-ধমকি দিতে চলে যাবেন। ইশরাত বলেন, তারা আমার স্বামীকে হুমকি-ধমকি না দিলে, বাসায় গিয়ে চাপ না দিলে এবং শারুন পারভেজ-জাবেদদের পক্ষ না নিলে হয়তো স্বামীকে অকালে হারাতে হতো না।

স্বামী হারিয়ে মানসিক যন্ত্রণা ও কষ্টের পাশাপাশি চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন পাঁচলাইশ ফ্লোবেল একাডেমির শিক্ষিকা ইশরাত জাহান। তিনি বলেন, অর্থকষ্টে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছি। পাঁচলাইশের বাসার ভাড়া ২৬ হাজার টাকা। দুই মাসের সময় চেয়ে তিনি নোটিশ দিয়েছেন। স্কুলের বেতনছাড়া আমার আর কোনো আয় নেই।

তাই একমাত্র মেয়েকে নিয়ে কম ভাড়ার বাসায় চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আর স্বামীর আত্মহননে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইন্ধন ও প্ররোচনা দিয়েছেন তাদের বিচার দেখে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রভাবশালীদের হুমকি-ধমকি ও চাপ সহ্য করতে না পেরে নিরুপায় হয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মোরশেদ আত্মহত্যা করেছেন। তার সুইসাইড নোটই সেটি প্রমাণ করে। হুমকি-ধমকি প্রদানকারী জাবেদ, পারভেজ, নাঈম ও রাসেলকে অভিযুক্ত করে ৮ এপ্রিল পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মোরশেদের স্ত্রী ইশরাত জাহান। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে তিনি বলেন, পারভেজ ও জাবেদ স্বামীর ফুপাতো ভাই।

ব্যবসার জন্য তাদের কাছ থেকে মোরশেদ ২৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন। সুদসহ ৩৮ কোটি টাকা তিনি পরিশোধ করেন। আরও টাকা দাবি করে অস্ত্রের মুখে তারা ৮৪টি চেক ও ছয়টি স্ট্যাম্পে জোর করে মোরশেদের সই নেন। টাকা প্রাপ্তি সংক্রান্ত একাধিক মুচলেকাও নেন তারা। এরপরও ২০১৯ সালে বাসায় গিয়ে তারা হুমকি দেন।

সেখানে পারভেজ ও জাভেদ ছাড়া হুইপের ছেলে শারুন ও আরশেদুল আলম বাচ্চু উপস্থিত ছিলেন। সবশেষ যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল হক রাসেল ফোন করে মোরশেদকে হুমকি দেন। মূলত এসব কারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

উল্লেখ্য, ৭ এপ্রিল নগরীর পাঁচলাইশ থানার মিমি সুপার মার্কেট সংলগ্ন হিলভিউ আবাসিক এলাকায় নাহার ভবনের ছয়তলার ফ্ল্যাট থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা মোরশেদ চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ির বাসিন্দা আবদুল মোমিন চৌধুরীর ছেলে মোরশেদ মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোট লিখে যান।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আর পারছি না। সত্যি আর নিতে পারছি না। প্রতিদিন একবার করে মরছি। কিছু লোকের অমানুষিক প্রেশার আমি আর নিতে পারছি না। প্লিজ সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমার জুমকে (মেয়ে) সবাই দেখে রেখ। আল্লাহ হাফেজ।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন