৮৫ হাজার বন্দি নিয়ে দুশ্চিন্তায় কর্তৃপক্ষ
jugantor
চট্টগ্রাম কারাগারে করোনায় একজনের মৃত্যৃ
৮৫ হাজার বন্দি নিয়ে দুশ্চিন্তায় কর্তৃপক্ষ
আক্রান্ত জি কে শামীমসহ ৩৫, কেরানীগঞ্জের একটি ওয়ার্ড লকডাউন * করণীয় নির্ধারণে ৫ সদস্যের কমিটি

  মিজান মালিক  

২০ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার প্রাদুর্ভাবে ৮৫ হাজার বন্দি ও রক্ষীদের নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে রোববার চটগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আব্দুর রহমান নামে এক বন্দি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আর অন্যান্য কারাগারে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩৫ বন্দি।

এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) বহুল আলোচিত গোলাম কিবরিয়া শামীমও (জি কে শামীম) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় কারাগারের একটি ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড লকডাউন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

আরও জানা গেছে, কারাবন্দিদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার জরুরি ভার্চুয়াল সভায় মিলিত হন করা অধিদপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ নিয়ে করণীয় নির্ধারণে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইজি প্রিজন ওই সভায় সব বিভাগীয় ডিআইজি ও সিভিল সার্জনদের নিয়ে কমিটি গঠন করেন।

সূত্র আরও জানায় ওই ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বাহির থেকে নতুন আসামি কারাগারে প্রবেশ করলে তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

গেল বছর মার্চে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলেও মাঝে করোনার প্রকোপ কমে এলে তাতে ঢিলেঢালা ভাব চলে আসে। তবে নির্দেশনাটি পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে কারাগারে বন্দি আসামিদের আদালতে হাজির করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চায় কারা কর্তৃপক্ষ। উচ্চ আদালত সম্প্রতি নতুন করে সিদ্ধান্ত জারি করেছে, সব ধরনের শুনানি ভার্চুয়ালি হবে।

এ ক্ষেত্রে আসামি থাকবে কারাগারে, শুনানির দিন ভার্চুয়াল কোর্টে শুনানিতে অংশ নেবেন তার পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী।

আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাবিবুর রহমান জিন্নাহ বলেন, আসামির পক্ষে যে আইনজীবী হাজিরা দেবেন, তা আগেই রেজিস্ট্রেশন করা হবে। নথির বিষয়টি অনলাইনে থাকবে। রেকর্ড মিলিয়ে দেখেন বিচারক।

সব ঠিক আছে কিনা। তিনি আরও জানান, বন্দি আসামির কাস্টডি ওয়ারেন্ট আদালতে জানাবে কারা কর্তৃপক্ষ।

ডিআইজি (প্রিজন) তৌহিদুর রহমান বলেন, কারা অভ্যন্তরে যাতে আসামিরা নিরাপদে থাকে, সে লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা। করোনাকালে বন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার না দিয়ে আমরা ফোনে তাদের কথা বলিয়ে দিচ্ছি।

এদিকে, একজন মানবাধিকার কর্মী দাবি করেছেন, ইদানীং আসামিকে আদালতে হাজির না করে রিমান্ড শুনানি হচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

এটি আইনের লঙ্ঘন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে একটি সিদ্ধান্ত জারি হলে বা ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হলে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটবে না।

এদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম সোমবার রাতে জি কে শামীমের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

জেলার জানান, জি কে শামীম এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি অসুস্থ হলে তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুকের ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে গেলে তাকে ১৪ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়।

সেখানে তার করোনা পরীক্ষার পর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। জি কে শামীমের করোনা পজিটিভ আসার কারণে কারাগারের পদ্মা ওয়ার্ড লকডাউন করা হয়েছে।

কারণ কারাগারে থাকা অবস্থায় জি কে শামীম ওই ওয়ার্ডে ছিলেন। এছাড়া হাসপাতালে যে ওয়ার্ডে জি কে শামীম চিকিৎসাধীন ছিলেন সেখানে আরও কয়েকজন রোগী ছিল। এ কারণে ওই ওয়ার্ডও লকডাউন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন জি কে শামীম। বিদেশি মদ ও বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ তাকে তার নিকেতনের বাসা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম কারাগারে করোনায় একজনের মৃত্যৃ

৮৫ হাজার বন্দি নিয়ে দুশ্চিন্তায় কর্তৃপক্ষ

আক্রান্ত জি কে শামীমসহ ৩৫, কেরানীগঞ্জের একটি ওয়ার্ড লকডাউন * করণীয় নির্ধারণে ৫ সদস্যের কমিটি
 মিজান মালিক 
২০ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার প্রাদুর্ভাবে ৮৫ হাজার বন্দি ও রক্ষীদের নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে রোববার চটগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আব্দুর রহমান নামে এক বন্দি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আর অন্যান্য কারাগারে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩৫ বন্দি।

এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) বহুল আলোচিত গোলাম কিবরিয়া শামীমও (জি কে শামীম) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় কারাগারের একটি ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড লকডাউন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। 

আরও জানা গেছে, কারাবন্দিদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার জরুরি ভার্চুয়াল সভায় মিলিত হন করা অধিদপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ নিয়ে করণীয় নির্ধারণে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইজি প্রিজন ওই সভায় সব বিভাগীয় ডিআইজি ও সিভিল সার্জনদের নিয়ে কমিটি গঠন করেন। 

সূত্র আরও জানায় ওই ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বাহির থেকে নতুন আসামি কারাগারে প্রবেশ করলে তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

গেল বছর মার্চে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলেও মাঝে করোনার প্রকোপ কমে এলে তাতে ঢিলেঢালা ভাব চলে আসে। তবে নির্দেশনাটি পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

এদিকে কারাগারে বন্দি আসামিদের আদালতে হাজির করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চায় কারা কর্তৃপক্ষ। উচ্চ আদালত সম্প্রতি নতুন করে সিদ্ধান্ত জারি করেছে, সব ধরনের শুনানি ভার্চুয়ালি হবে।

এ ক্ষেত্রে আসামি থাকবে কারাগারে, শুনানির দিন ভার্চুয়াল কোর্টে শুনানিতে অংশ নেবেন তার পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী।

আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাবিবুর রহমান জিন্নাহ বলেন, আসামির পক্ষে যে আইনজীবী হাজিরা দেবেন, তা আগেই রেজিস্ট্রেশন করা হবে। নথির বিষয়টি অনলাইনে থাকবে। রেকর্ড মিলিয়ে দেখেন বিচারক।

সব ঠিক আছে কিনা। তিনি আরও জানান, বন্দি আসামির কাস্টডি ওয়ারেন্ট আদালতে জানাবে কারা কর্তৃপক্ষ। 

ডিআইজি (প্রিজন) তৌহিদুর রহমান বলেন, কারা অভ্যন্তরে যাতে আসামিরা নিরাপদে থাকে, সে লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা। করোনাকালে বন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার না দিয়ে আমরা ফোনে তাদের কথা বলিয়ে দিচ্ছি।

এদিকে, একজন মানবাধিকার কর্মী দাবি করেছেন, ইদানীং আসামিকে আদালতে হাজির না করে রিমান্ড শুনানি হচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

এটি আইনের লঙ্ঘন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে একটি সিদ্ধান্ত জারি হলে বা ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হলে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটবে না।

এদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম সোমবার রাতে জি কে শামীমের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

জেলার জানান, জি কে শামীম এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি অসুস্থ হলে তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুকের ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে গেলে তাকে ১৪ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়।

সেখানে তার করোনা পরীক্ষার পর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। জি কে শামীমের করোনা পজিটিভ আসার কারণে কারাগারের পদ্মা ওয়ার্ড লকডাউন করা হয়েছে।

কারণ কারাগারে থাকা অবস্থায় জি কে শামীম ওই ওয়ার্ডে ছিলেন। এছাড়া হাসপাতালে যে ওয়ার্ডে জি কে শামীম চিকিৎসাধীন ছিলেন সেখানে আরও কয়েকজন রোগী ছিল। এ কারণে ওই ওয়ার্ডও লকডাউন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন জি কে শামীম। বিদেশি মদ ও বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ তাকে তার নিকেতনের বাসা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন