বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় ননিকাকে হত্যা করে প্রেমিক
jugantor
রাজশাহীতে নার্স হত্যার রহস্য উন্মোচন
বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় ননিকাকে হত্যা করে প্রেমিক

  তানজিমুল হক, রাজশাহী  

২০ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে ডোবায় পড়ে থাকা ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার তরুণীর লাশের পরিচয় মিলেছে। নাম ননিকা রাণী রায় (২৩)। পেশায় নার্স। তিনি ঠাকুরগাঁও সদরের মিলনপুর এলাকার নিপেন চন্দ্র বর্মণের মেয়ে। ননিকা রায়ের প্রেমিক কনস্টেবল নিমাই চন্দ্র সরকারকে (৪৩) গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রাজশাহী কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ জানান, বিয়ে করার জন্য ননিকা তার প্রেমিক নিমাইকে চাপ দিচ্ছিল। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে ননিকাকে হত্যা করা হয়। নিমাই এবং তার সহযোগীরা হত্যকাণ্ড সফল করতে কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করছিল। এ জন্য ছুটিও নিয়েছিল নিমাই। রাজশাহীর পিবিআই সদস্যরা নিমাই চন্দ্র সরকারকে রোববার নাটোরের লালপুর উপজেলা সদরের তার বোন জামাইয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। নিমাই পাবনার আতাইকুলা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের মৃত হেমন্ত সরকারের ছেলে। বর্তমানে সে রেল পুলিশের (জিআরপি) রাজশাহী থানায় কর্মরত। নিমাইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাস চালকসহ তার অপর সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো- মহানগরীর উপকণ্ঠ আদারিপড়ার কবির আহম্মেদ (৩০), সুমন আলী (৩৪) এবং আব্দুর রহমান (২৫)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ কনস্টেবল নিমাই চন্দ্র সরকার জানায়, ছয় বছর আগে ননিকা রাণী রায়ের সঙ্গে তার ট্রেনে পরিচয়। এরপর একে অপরকে নিজেদের মোবাইল ফোন নম্বর দেন। শুরু হয় প্রেমের সম্পর্ক। ননিকা সে সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নার্সিং ইন্সটিটিউটে লেখাপড়া করত। সম্প্রতি লেখাপড়া শেষ করে রাজশাহী মহানগরীর একটি ক্লিনিকে চাকরি নেয়। অপরদিকে নিমাই বিবাহিত। তার স্ত্রীও নার্স। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে স্ত্রীর সঙ্গে নিমাইয়ের সম্পর্ক ভালো না। স্ত্রী থাকে বগুড়ায়। স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ননিকার সঙ্গে মেলামেশা করত নিমাই।

পিবিআই রাজশাহীর এসআই (সহকারী পরিদর্শক) জামাল উদ্দিন জানান, গত এক বছর ধরে ননিকা বিয়ের জন্য নিমাইকে চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু নিমাই রাজি হচ্ছিল না। বারবার চাপ দেওয়ার কারণে নিমাই মেয়েটিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতো ৬ এপ্রিল মহানগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় নাব্বী শাহাদত নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ভাড়া নেয় নিমাই। ননিকাকে ১০ এপ্রিল ভাড়া বাসায় ডেকে নেয়। এরপর তারা এক সঙ্গে থাকা শুরু করে। ১৪ এপ্রিল সকালে নিমাই তার সহযোগীরা ননিকাকে হত্যা করে। কবির ও সুমন ননিকার পা-হাত চেপে ধরে। আর নিমাই ওড়না পেঁচিয়ে ননিকাকে শ্বাসরোধ করে। হত্যার পর মহানগরীর আরডিএ মার্কেট থেকে একটি বড় চালের ড্রাম কিনে আনে নিমাই এবং তার দুই সহযোগী। এরপর লাশ ওই ড্রামে ভরা হয়। ড্রামের মধ্যে কম্বল এবং বালিশ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় ভাড়া বাসা থেকে বের হয় নিমাই, কবির ও সুমন। এরপর মহানগরীর লক্ষ্মীপুর স্ট্যান্ড থেকে নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে দুই হাজার টাকায় একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে। এর কিছুক্ষণ পর মাইক্রোবাসটির চালক আবদুর রহমান তেরখাদিয়া এলাকায় ওই ভাড়াবাসার সামনে আসে। রাত পৌনে নয়টার দিকে তারাবির নামাজ চলার সময় ড্রাম মাইক্রোবাসে তোলা হয়। এর পর মাইক্রোবাস নিয়ে মহানগরীর উপকণ্ঠ সিটি হাটের তিনশ গজ পশ্চিমে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় মাইক্রোবাস চালককে সিগারেট আনার জন্য পার্শ্ববর্তী সিটি হাটে পাঠানো হয়। এ সুযোগে নিমাই, কবির এবং সুমন লাশ ডোবায় ফেলে দেয়। এরপর তারা ফিরে এসে মহানগরীর উত্তরা ক্লিনিক মোড়ে এসে চা পান করে।

১৬ এপ্রিল শুক্রবার মহানগরীর উপকণ্ঠ সিটি হাটের কাছে একটি ডোবায় ড্রামের মধ্যে এক তরুণীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে শাহ মখদুম থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় শাহ মখদুম থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরবর্তীতে পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হয়।

রাজশাহীতে নার্স হত্যার রহস্য উন্মোচন

বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় ননিকাকে হত্যা করে প্রেমিক

 তানজিমুল হক, রাজশাহী 
২০ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে ডোবায় পড়ে থাকা ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার তরুণীর লাশের পরিচয় মিলেছে। নাম ননিকা রাণী রায় (২৩)। পেশায় নার্স। তিনি ঠাকুরগাঁও সদরের মিলনপুর এলাকার নিপেন চন্দ্র বর্মণের মেয়ে। ননিকা রায়ের প্রেমিক কনস্টেবল নিমাই চন্দ্র সরকারকে (৪৩) গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রাজশাহী কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ জানান, বিয়ে করার জন্য ননিকা তার প্রেমিক নিমাইকে চাপ দিচ্ছিল। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে ননিকাকে হত্যা করা হয়। নিমাই এবং তার সহযোগীরা হত্যকাণ্ড সফল করতে কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করছিল। এ জন্য ছুটিও নিয়েছিল নিমাই। রাজশাহীর পিবিআই সদস্যরা নিমাই চন্দ্র সরকারকে রোববার নাটোরের লালপুর উপজেলা সদরের তার বোন জামাইয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। নিমাই পাবনার আতাইকুলা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের মৃত হেমন্ত সরকারের ছেলে। বর্তমানে সে রেল পুলিশের (জিআরপি) রাজশাহী থানায় কর্মরত। নিমাইয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাস চালকসহ তার অপর সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো- মহানগরীর উপকণ্ঠ আদারিপড়ার কবির আহম্মেদ (৩০), সুমন আলী (৩৪) এবং আব্দুর রহমান (২৫)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ কনস্টেবল নিমাই চন্দ্র সরকার জানায়, ছয় বছর আগে ননিকা রাণী রায়ের সঙ্গে তার ট্রেনে পরিচয়। এরপর একে অপরকে নিজেদের মোবাইল ফোন নম্বর দেন। শুরু হয় প্রেমের সম্পর্ক। ননিকা সে সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নার্সিং ইন্সটিটিউটে লেখাপড়া করত। সম্প্রতি লেখাপড়া শেষ করে রাজশাহী মহানগরীর একটি ক্লিনিকে চাকরি নেয়। অপরদিকে নিমাই বিবাহিত। তার স্ত্রীও নার্স। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। তবে স্ত্রীর সঙ্গে নিমাইয়ের সম্পর্ক ভালো না। স্ত্রী থাকে বগুড়ায়। স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ননিকার সঙ্গে মেলামেশা করত নিমাই।

পিবিআই রাজশাহীর এসআই (সহকারী পরিদর্শক) জামাল উদ্দিন জানান, গত এক বছর ধরে ননিকা বিয়ের জন্য নিমাইকে চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু নিমাই রাজি হচ্ছিল না। বারবার চাপ দেওয়ার কারণে নিমাই মেয়েটিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতো ৬ এপ্রিল মহানগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় নাব্বী শাহাদত নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ভাড়া নেয় নিমাই। ননিকাকে ১০ এপ্রিল ভাড়া বাসায় ডেকে নেয়। এরপর তারা এক সঙ্গে থাকা শুরু করে। ১৪ এপ্রিল সকালে নিমাই তার সহযোগীরা ননিকাকে হত্যা করে। কবির ও সুমন ননিকার পা-হাত চেপে ধরে। আর নিমাই ওড়না পেঁচিয়ে ননিকাকে শ্বাসরোধ করে। হত্যার পর মহানগরীর আরডিএ মার্কেট থেকে একটি বড় চালের ড্রাম কিনে আনে নিমাই এবং তার দুই সহযোগী। এরপর লাশ ওই ড্রামে ভরা হয়। ড্রামের মধ্যে কম্বল এবং বালিশ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় ভাড়া বাসা থেকে বের হয় নিমাই, কবির ও সুমন। এরপর মহানগরীর লক্ষ্মীপুর স্ট্যান্ড থেকে নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে দুই হাজার টাকায় একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে। এর কিছুক্ষণ পর মাইক্রোবাসটির চালক আবদুর রহমান তেরখাদিয়া এলাকায় ওই ভাড়াবাসার সামনে আসে। রাত পৌনে নয়টার দিকে তারাবির নামাজ চলার সময় ড্রাম মাইক্রোবাসে তোলা হয়। এর পর মাইক্রোবাস নিয়ে মহানগরীর উপকণ্ঠ সিটি হাটের তিনশ গজ পশ্চিমে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় মাইক্রোবাস চালককে সিগারেট আনার জন্য পার্শ্ববর্তী সিটি হাটে পাঠানো হয়। এ সুযোগে নিমাই, কবির এবং সুমন লাশ ডোবায় ফেলে দেয়। এরপর তারা ফিরে এসে মহানগরীর উত্তরা ক্লিনিক মোড়ে এসে চা পান করে।

১৬ এপ্রিল শুক্রবার মহানগরীর উপকণ্ঠ সিটি হাটের কাছে একটি ডোবায় ড্রামের মধ্যে এক তরুণীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে শাহ মখদুম থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় শাহ মখদুম থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরবর্তীতে পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন