বিধিনিষেধ মানতে নারাজ নিম্ন আয়ের মানুষ
jugantor
ঢাকায় ‘সর্বাত্মক লকডাউন’র ষষ্ঠ দিন
বিধিনিষেধ মানতে নারাজ নিম্ন আয়ের মানুষ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ রোধে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ আর মানতে চাচ্ছে না রাজধানীবাসীর নিম্ন আয়ের মানুষ। পুলিশের ‘মুভমেন্ট পাস’ অ্যাপস থেকে পাস প্রিন্ট করে কারণে অকারণে অনেকেই বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন। ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে এমন মানুষের চলাচল বেড়েছে। অন্যদিকে নিম্নবিত্ত ও কর্মজীবী মানুষেরা জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে বের হচ্ছে।

নিম্নবিত্ত ও কর্মজীবীরা বলছেন, এভাবে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ ঘোষণা করে আমাদের আয়-রোজগার বন্ধ করে দিলে আমরা তো না খেয়ে মরব। আমাদের কাজকর্ম করার সুযোগ দিতে হবে। একই দাবি পরিবহণ ও নৌ শ্রমিকদের। তারা বলছেন, গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় আমরা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। সরকার থেকেও আমাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। এমতাবস্থায় আমাদের জীবনযাপন করা দুরূহ হয়ে পড়ছে। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই। সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুরের মূল সড়কে মানুষের আনাগোনা ছিল তূলনামূলক বেশি। গত কয়েকদিন অলিগলিতে মানুষের চলাচল বেশি থাকলেও মূল সড়ক ছিল অনেকটাই ফাঁকা। এখন জীবিকার তাগিদে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে রাস্তায় বের হচ্ছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুরের পশ্চিম কাজীপাড়ার মূল সড়কে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি, পণ্যবাহী বিভিন্ন আকারের পিকআপের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি ছিল। এসব বাহনে চলার পাশাপাশি মানুষ হেঁটেও চলাচল করছে।

শেওড়াপাড়ায় কথা হয় রিকশাচালক সাফায়েত হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, শেওড়াপাড়া মূল সড়কে মানুষের চলাচল বেড়েছে। ‘সর্বাত্মক লকডাউন’-এর শুরুতে মূল সড়কে মানুষ কম থাকায় যাত্রী কম পাওয়া যেত, এখন যাত্রীর জন্য বসে থাকতে হয় না। সোমবার ভ্যানে অল্প কয়েকটি কাপড় নিয়ে বিক্রির জন্য পশ্চিম কাজীপাড়া মূল সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বাসায় বাজারের জন্য একটা টাকাও দিয়ে আসতে পারিনি। মেয়ের এসএসসি পরীক্ষার টাকাও দিতে পারিনি। খুব খারাপ লাগছে। পরে মেয়ে তাদের দুই আন্টির কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফরম ফিলাপ করছে। এসব আর ভালো লাগে না। কাপড়ের দোকান খোলার অনুমতি নেই। তারপরও ভয়ে ভয়ে বের হইছি। পুলিশ যা বলে বলুক। আমার মতো অনেক মানুষ আছে, যাদের বাইরে বের না হলে বেঁচে থাকার উপায় নেই।

সরকারি বিধিনিষেধের ষষ্ঠ দিনে পুলিশকেও কিছুটা নমনীয় দেখা গেছে। আগের দিন পুলিশকে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে বেশ সক্রিয় দেখা গেলেও সোমবার কিছুটা ঢিলেঢালা দেখা গেছে। কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, কলাবাগান, ধানমণ্ডি, পান্থপথ, সায়েন্সল্যাবসহ শুক্রাবাদ এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় এমন চিত্র দেখা গেল। আগের তুলনায় ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। অপ্রয়োজনে বের হওয়া মানুষের আনাগোনাও বেড়েছে। পুলিশ চেকপোস্টগুলোতে কড়াকড়ি কমেছে অনেকখানি। চেকপোস্টের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে এমন ঢিলেঢালাভাব বলে মনে করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, থানা থেকে সড়কে তল্লাশির ক্ষেত্রে নমনীয় অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ দিয়েছে। সে কারণেই সড়কে তল্লাশি চলছে। বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলেই পুলিশের ওপর দোষারোপ করা হচ্ছে।

সোমবার গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ছোট গাড়ি ও মানুষ চলছে দেদার। সোমবার সকালে কাকরাইল, বিজয়নগর, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তবে শপিংমল-বিপণিবিতান বন্ধ ছিল। তবে কাঁচাবাজার সংলগ্ন দোকানপাট খোলা ছিল। মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, সংসদ ভবন, বনানী, গুলশান এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, টেম্পো ও অনেক সংখ্যক মোটরসাইকেলের চলাচল চোখে পড়েছে। মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী এলাকাও ছিল ঢিলাঢালা ভাব। এসব এলাকায় যথারীতি বেচাকেনা চলছে। শান্তিনগর বাজারের সামনে হ্যান্ডমাইকে ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজার করে দ্রুত বাসায় চলে যেতে বলা হচ্ছে।

আদাবর এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি হলেও সেখানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত ছিল। পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি দেখলে মুহূর্তেই রাস্তা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, কিছুক্ষণ পর আবারো মানুষের চলাচল বেড়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক অবস্থায় যে যার মতো স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে কেনাকাটা ও চলাচল করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডিসি শাহ ইফতেখার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সাধারণ মানুষ যেন রাস্তায় বের না হয় সেজন্য সব ধরনের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি টহল বাড়ানো হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রাস্তায় যেসব গাড়ি বের হচ্ছে অধিকাংশই সরকারি নির্দেশনা মেনে চলাচল করছে। বিভিন্ন স্থানে আমরা চেক করে দেখছি, সরকারি নির্দেশনা মেনে বের হচ্ছে কিনা। যারা নির্দেশনা অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকায় ‘সর্বাত্মক লকডাউন’র ষষ্ঠ দিন

বিধিনিষেধ মানতে নারাজ নিম্ন আয়ের মানুষ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ রোধে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ আর মানতে চাচ্ছে না রাজধানীবাসীর নিম্ন আয়ের মানুষ। পুলিশের ‘মুভমেন্ট পাস’ অ্যাপস থেকে পাস প্রিন্ট করে কারণে অকারণে অনেকেই বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন। ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে এমন মানুষের চলাচল বেড়েছে। অন্যদিকে নিম্নবিত্ত ও কর্মজীবী মানুষেরা জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে বের হচ্ছে।

নিম্নবিত্ত ও কর্মজীবীরা বলছেন, এভাবে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ ঘোষণা করে আমাদের আয়-রোজগার বন্ধ করে দিলে আমরা তো না খেয়ে মরব। আমাদের কাজকর্ম করার সুযোগ দিতে হবে। একই দাবি পরিবহণ ও নৌ শ্রমিকদের। তারা বলছেন, গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় আমরা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। সরকার থেকেও আমাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। এমতাবস্থায় আমাদের জীবনযাপন করা দুরূহ হয়ে পড়ছে। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই। সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুরের মূল সড়কে মানুষের আনাগোনা ছিল তূলনামূলক বেশি। গত কয়েকদিন অলিগলিতে মানুষের চলাচল বেশি থাকলেও মূল সড়ক ছিল অনেকটাই ফাঁকা। এখন জীবিকার তাগিদে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে রাস্তায় বের হচ্ছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুরের পশ্চিম কাজীপাড়ার মূল সড়কে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি, পণ্যবাহী বিভিন্ন আকারের পিকআপের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি ছিল। এসব বাহনে চলার পাশাপাশি মানুষ হেঁটেও চলাচল করছে।

শেওড়াপাড়ায় কথা হয় রিকশাচালক সাফায়েত হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, শেওড়াপাড়া মূল সড়কে মানুষের চলাচল বেড়েছে। ‘সর্বাত্মক লকডাউন’-এর শুরুতে মূল সড়কে মানুষ কম থাকায় যাত্রী কম পাওয়া যেত, এখন যাত্রীর জন্য বসে থাকতে হয় না। সোমবার ভ্যানে অল্প কয়েকটি কাপড় নিয়ে বিক্রির জন্য পশ্চিম কাজীপাড়া মূল সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বাসায় বাজারের জন্য একটা টাকাও দিয়ে আসতে পারিনি। মেয়ের এসএসসি পরীক্ষার টাকাও দিতে পারিনি। খুব খারাপ লাগছে। পরে মেয়ে তাদের দুই আন্টির কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফরম ফিলাপ করছে। এসব আর ভালো লাগে না। কাপড়ের দোকান খোলার অনুমতি নেই। তারপরও ভয়ে ভয়ে বের হইছি। পুলিশ যা বলে বলুক। আমার মতো অনেক মানুষ আছে, যাদের বাইরে বের না হলে বেঁচে থাকার উপায় নেই।

 

সরকারি বিধিনিষেধের ষষ্ঠ দিনে পুলিশকেও কিছুটা নমনীয় দেখা গেছে। আগের দিন পুলিশকে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে বেশ সক্রিয় দেখা গেলেও সোমবার কিছুটা ঢিলেঢালা দেখা গেছে। কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, কলাবাগান, ধানমণ্ডি, পান্থপথ, সায়েন্সল্যাবসহ শুক্রাবাদ এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় এমন চিত্র দেখা গেল। আগের তুলনায় ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। অপ্রয়োজনে বের হওয়া মানুষের আনাগোনাও বেড়েছে। পুলিশ চেকপোস্টগুলোতে কড়াকড়ি কমেছে অনেকখানি। চেকপোস্টের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে এমন ঢিলেঢালাভাব বলে মনে করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, থানা থেকে সড়কে তল্লাশির ক্ষেত্রে নমনীয় অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ দিয়েছে। সে কারণেই সড়কে তল্লাশি চলছে। বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলেই পুলিশের ওপর দোষারোপ করা হচ্ছে।

সোমবার গণপরিবহণ বন্ধ থাকলেও ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ছোট গাড়ি ও মানুষ চলছে দেদার। সোমবার সকালে কাকরাইল, বিজয়নগর, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তবে শপিংমল-বিপণিবিতান বন্ধ ছিল। তবে কাঁচাবাজার সংলগ্ন দোকানপাট খোলা ছিল। মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, সংসদ ভবন, বনানী, গুলশান এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, টেম্পো ও অনেক সংখ্যক মোটরসাইকেলের চলাচল চোখে পড়েছে। মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী এলাকাও ছিল ঢিলাঢালা ভাব। এসব এলাকায় যথারীতি বেচাকেনা চলছে। শান্তিনগর বাজারের সামনে হ্যান্ডমাইকে ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজার করে দ্রুত বাসায় চলে যেতে বলা হচ্ছে।

আদাবর এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি হলেও সেখানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত ছিল। পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি দেখলে মুহূর্তেই রাস্তা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, কিছুক্ষণ পর আবারো মানুষের চলাচল বেড়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক অবস্থায় যে যার মতো স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে কেনাকাটা ও চলাচল করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডিসি শাহ ইফতেখার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সাধারণ মানুষ যেন রাস্তায় বের না হয় সেজন্য সব ধরনের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি টহল বাড়ানো হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রাস্তায় যেসব গাড়ি বের হচ্ছে অধিকাংশই সরকারি নির্দেশনা মেনে চলাচল করছে। বিভিন্ন স্থানে আমরা চেক করে দেখছি, সরকারি নির্দেশনা মেনে বের হচ্ছে কিনা। যারা নির্দেশনা অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন