দক্ষিণে ডায়রিয়া রূপ নিচ্ছে মহামারিতে
jugantor
দক্ষিণে ডায়রিয়া রূপ নিচ্ছে মহামারিতে
পেছনে লবণাক্ত পানি নাকি অন্যকিছু; কারণ খুঁজতে মাঠে টিম * আক্রান্ত ৩২ হাজারের বেশি * হাসপাতালগুলোতে স্যালাইনের তীব্র সংকট

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল  

২১ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ক্রমেই মহামারি আকার ধারণ করছে ডায়রিয়া। সরকারি হিসাবে গেল এক সপ্তাহে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ডায়রিয়ায় মারা গেছেন ৮ জন। তবে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মৃত্যুর সংখ্যা এর প্রায় তিনগুণ। সরকারি হিসাবে, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩২ হাজার। প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজারের বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত এ রোগে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন এ বির্পযয় দেখা দেয়ায় চোখে অন্ধকার দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিভিন্ন এলাকা থেকে ডায়রিয়ার স্যালাইনের তীব্র সংকটের খবরও আসছে। অবশ্য সংকটের বিষয়টি স্বীকার করছে না এখানকার স্বাস্থ্য বিভাগ। পর্যাপ্ত স্যালাইন থাকার দাবি করার পাশাপাশি হঠাৎ করে ডায়রিয়ার কেন এ ভয়াবহ প্রকোপ তা জানতে অধিক আক্রান্ত এলাকায় গবেষণা চলছে বলে জানিয়েছে তারা। ঢাকার রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা কেন্দ্র (আইইডিসিআর) থেকেও বরিশালে এসেছে একটি বিশেষ টিম। বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করছে তারা। জানার চেষ্টা করছে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ার কারণ। অনেকে বলছেন, লবণাক্ত পানি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে গবেষণার পরই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শয্যা ৩১টি। সব ধরনের রোগীর জন্য থাকা এ সংখ্যক শয্যার বিপরীতে মঙ্গলবার শুধু ডায়রিয়া রোগীই ভর্তি ছিলেন ১৮৮ জন। এ চিত্র এখন বরিশাল বিভাগের প্রায় সর্বত্র। হাসপাতাল ভবনের বাইরে প্যান্ডেল টাঙিয়েও সামাল দেয়া যাচ্ছে না রোগীর চাপ। বরিশাল নগরে বয়স্ক ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসার একমাত্র কেন্দ্র হচ্ছে সদর হাসপাতাল। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড ছিল মাত্র ৪টি। চলতি মাসের গোড়ার দিকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তা বাড়িয়ে ১৪টি করা হয়। এরপর ওয়ার্ডের বাইরে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে লাগানো হয় প্যান্ডেল। কিন্তু তারপরও হচ্ছে না সঙ্কুলান। প্যান্ডেলের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে রোগীদের। সেখানে দায়িত্ব পালন করা স্টাফ নার্স মিনি রানী রায় বলেন, ‘এত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি আমরা। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৭০ জন রোগী আসছেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত নতুন রোগী এসেছেন ২৬ জন। সোমবার এ সংখ্যা ছিল ৭০। ১৪ বেডের ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি আছেন ৫০ জন রোগী। এদিকে পর্যাপ্ত লোকবল নেই আমাদের। কি করব বুঝতে পারছি না।’

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত বরিশালের ৬ জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ১৮৩ জন। চলতি মাসে ডায়রিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার বলেন, করোনার এ অতিমারীর সময়ে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবে হিমশিম খাচ্ছি আমরা। প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫শর বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়ায়। ১৭ এপ্রিল যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৬৫২ সেখানে সোমবার তা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৮৩ জনে। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ভোলা জেলায় ৮ হাজার ৯০ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পটুয়াখালীতে আক্রান্ত ৭ হাজার ৩৪১ জন। এছাড়া বরগুনায় ৪ হাজার ৮৪৯, বরিশালে ৪ হাজার ৩৬৯, পিরোজপুরে ৪ হাজার এবং ঝালকাঠীতে ২ হাজার ৭৮৪ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।

কারণ খুঁজছে স্বাস্থ্য বিভাগ : এক সময় বরিশাল তথা দেশের দক্ষিণাঞ্চল ছিল ডায়রিয়াপ্রবণ এলাকা। গরমের মৌসুমে প্রতি বছর এখানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতেন হাজার হাজার মানুষ। মৃত্যুর সংখ্যাও ছাড়াত কয়েকশ। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিশ্রম আর সরকারের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে সেই পরিস্থিতি বদলে যায়। দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায় ডায়রিয়া। মাঝে বেশ কয়েক বছর এরকম পরিস্থিতি থাকলেও হঠাৎ করে বদলে যায় সব। চলতি মাসের গোড়ার দিকে বিভাগের বরগুনা, ভোলা এবং পটুয়াখালী থেকে প্রথম শুরু হয় ডায়রিয়ার সংক্রমণ। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিভাগে। ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কী কারণে হঠাৎ আবার ফিরে এলো ডায়রিয়া তা জানতে গবেষণা চালানো হয় সংক্রমিত এলাকা বরগুনার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার বলেন, প্রধানত দুটি কারণে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে বলে তথ্য পাচ্ছি আমরা। উপকূলীয় এলাকায় এখনো প্রচলন রয়েছে পান্তা ভাত খাওয়ার। টিউবওয়েলের পানিতে পান্তার আসল স্বাদ পাওয়া যায় না বিবেচনায় বহু পরিবার পান্তা তৈরিতে ব্যবহার করে পুকুরের পানি। শুকনো মৌসুমে এমনিতেই শুকিয়ে যায় পুকুরের পানি। ফলে পানিতে থাকা জীবাণু চলে আসে কম্প্রেসারাইজড অবস্থায়। সেই পানি দিয়ে পান্তা তৈরি করে খাওয়া মানে হলো ডায়রিয়া নিমন্ত্রণ করে আনা। তাছাড়া গ্রীষ্মের এ সময়ে তৃষ্ণা নিবারণে অনেকেই রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া শরবত আর আখের রস পান করেন। এটাও ডায়রিয়া ছাড়ানোর একটি কারণ।’

ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের কারণ খুঁজতে এরই মধ্যে ঢাকা থেকে বরিশালে এসেছে রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা কেন্দ্রের ৪ সদস্যের একটি টিম। সোমবার বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করে তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী আরো কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করবে এ টিম। তারপর সংগৃহীত নমুনা ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে ডায়রিয়া ছড়ানোর কারণ।

এ বছর ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাব ব্যাপক হারে দেখা দেয়ার কারণ হিসাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবকেও দায়ী করছেন অনেকে। স্মরণাতীত কালের রেকর্ড ভেঙে এ বছর সাগরের পানির লবণাক্ততা চলে আসে বরিশাল নগর ছুঁয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তনখোলা নদী পর্যন্ত। বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. তোতা মিয়া বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে কীর্তনখোলা নদীর পানিতে তড়িৎ পরিবাহিতা ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০। মার্চে এসে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩০০ থেকে ১৩৬৫ পর্যন্ত। এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেই শুধু তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এ পরিবাহিতার সর্বোচ্চ স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ১২০০ পর্যন্ত।

এদিকে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরো দক্ষিণাঞ্চলেই দেখা দিয়েছে আইভি স্যালাইনের তীব্র সংকট। হাসপাতালগুলোতে আইভি স্যালাইন নেই বলে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে রোগীদের। অথচ গুরুতর ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসায় এটি অত্যন্ত জরুরি। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মলয় কুমার বড়াল জানান, ‘বাড়তি স্যালাইন চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি আমরা।’

লবণ পানিতে সয়লাব দুমকির খালবিল : দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুমকিতে পায়রা ও লোহালিয়া নদী সমুদ্রের লবণ পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। এ পানি আশপাশের খালবিলেও প্রবেশ করেছে। এ লবণাক্ত পানি মানুষের জীবনযাত্রা ও কৃষিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। পায়রা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা বশির উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, পাংগাশিয়া ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পায়রা নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। অভ্যন্তরীণ ছোট ছোট খাল, নালা, ডোবা-পুকুরেও নদীর পানি ঢুকে গেছে। দৈনন্দিন প্রয়োজনে এ পানি ব্যবহার করতে হয়। আবার কৃষি কাজেও সেচের জন্য এ পানি ব্যবহার করতে হয়। নোনা পানির কারণে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন বলেন, উপজেলার পায়রা ও লোহালিয়া নদী এবং অভ্যন্তরীণ সব খাল-বিলের পানিতে স্যালাইনিটি ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ।

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ে ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) : কাঁঠালিয়া উপজেলার বাঁশবুনিয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মানিক বেপারী (৪৭) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (আমুয়া) তার মৃত্যু হয়। মানিক বেপারী উপজেলার বাঁশবুনিয়া গ্রামের মৃত খবির উদ্দিনের ছেলে। স্বজনরা জানান, সোমবার গভীর রাতে তিনি ডায়রিয়া আক্রান্ত হন। এলাকায় কোনো স্যালাইন ও ওষুধ না পাওয়ায় সকালে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর মানিক মারা যান।

শরণখোলা (বাগেরহাট) : শরণখোলার সর্বত্র চলছে বিশুদ্ধ পানির হাহাকার। নদী ও খালের পানি লবণাক্ত। এলাকার কোথাও গভীর নলকূপ কার্যকর নয়। অগভীর নলকূপের পানিও লবণাক্ত। অনাবৃষ্টি ও গ্রীষ্মের দাবদাহে পুকুরের পানি শুকিয়ে তলানিতে ঠেকেছে। শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াছমিন জানান, শরণখোলায় পানি সংকটের কারণেই ডায়রিয়ায় আক্রান্তসহ পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলবার একদিনেই ২১ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। শয্যা সংকটের কারণে তাদের মেঝেতে রাখতে হচ্ছে।

মির্জাগঞ্জ ও দক্ষিণ (পটুয়াখালী) : ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ গ্রামের আলম গোলদার (৫৫) ও পশ্চিম কালিকাপুর হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসাশিক্ষক এবং আমড়াগাছি ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মো. সুলতান আহমেদ (৫২)। এ নিয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলায় ৪ দিনে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : ভাণ্ডারিয়া ১০০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোমবার ৩০ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেশির ভাগ শিশু এবং বৃদ্ধ আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে সিট না থাকায় বারান্দায়ও রোগীঢদের চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা গেছে।

বরিশাল : মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদলের নিজ উদ্যোগে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৩০ হাজার খাবার স্যালাইন বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুর রাজ্জাক, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস, জেলা প্রশাসক বরিশাল জসীম উদ্দীন হায়দার, জেলা প্রশাসক ঝালকাঠি মো. জোহর আলী, সিভিল সার্জন বরিশাল ডা. মনোয়ার হোসেনসহ বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলার সিভিল সার্জনরা।

ভোলা : ভোলা জেনারেল হাসপাতালে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১১২ জন ডায়রিয়া রোগী। সোমবার ভর্তি হন ১৫২ জন। জেলার ৭টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে ৩৫২ জন রোগী। এদের মধ্যে দৌলতখানে ৩১ জন, বোরহানউদ্দিনে ৬২, লালমোহনে ৩১, চরফ্যাশনে ৬৫, তজুমদ্দিনে ২০, মনপুরায় ১৮ জন। এদিকে হাসপাতালগুলোতে বেড সংকটের কারণে ডায়রিয়া রোগীদের মেঝেতে রাখতে হচ্ছে।

দক্ষিণে ডায়রিয়া রূপ নিচ্ছে মহামারিতে

পেছনে লবণাক্ত পানি নাকি অন্যকিছু; কারণ খুঁজতে মাঠে টিম * আক্রান্ত ৩২ হাজারের বেশি * হাসপাতালগুলোতে স্যালাইনের তীব্র সংকট
 আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল 
২১ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ক্রমেই মহামারি আকার ধারণ করছে ডায়রিয়া। সরকারি হিসাবে গেল এক সপ্তাহে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ডায়রিয়ায় মারা গেছেন ৮ জন। তবে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মৃত্যুর সংখ্যা এর প্রায় তিনগুণ। সরকারি হিসাবে, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩২ হাজার। প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজারের বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত এ রোগে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন এ বির্পযয় দেখা দেয়ায় চোখে অন্ধকার দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিভিন্ন এলাকা থেকে ডায়রিয়ার স্যালাইনের তীব্র সংকটের খবরও আসছে। অবশ্য সংকটের বিষয়টি স্বীকার করছে না এখানকার স্বাস্থ্য বিভাগ। পর্যাপ্ত স্যালাইন থাকার দাবি করার পাশাপাশি হঠাৎ করে ডায়রিয়ার কেন এ ভয়াবহ প্রকোপ তা জানতে অধিক আক্রান্ত এলাকায় গবেষণা চলছে বলে জানিয়েছে তারা। ঢাকার রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা কেন্দ্র (আইইডিসিআর) থেকেও বরিশালে এসেছে একটি বিশেষ টিম। বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করছে তারা। জানার চেষ্টা করছে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ার কারণ। অনেকে বলছেন, লবণাক্ত পানি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে গবেষণার পরই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শয্যা ৩১টি। সব ধরনের রোগীর জন্য থাকা এ সংখ্যক শয্যার বিপরীতে মঙ্গলবার শুধু ডায়রিয়া রোগীই ভর্তি ছিলেন ১৮৮ জন। এ চিত্র এখন বরিশাল বিভাগের প্রায় সর্বত্র। হাসপাতাল ভবনের বাইরে প্যান্ডেল টাঙিয়েও সামাল দেয়া যাচ্ছে না রোগীর চাপ। বরিশাল নগরে বয়স্ক ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসার একমাত্র কেন্দ্র হচ্ছে সদর হাসপাতাল। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড ছিল মাত্র ৪টি। চলতি মাসের গোড়ার দিকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তা বাড়িয়ে ১৪টি করা হয়। এরপর ওয়ার্ডের বাইরে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে লাগানো হয় প্যান্ডেল। কিন্তু তারপরও হচ্ছে না সঙ্কুলান। প্যান্ডেলের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে রোগীদের। সেখানে দায়িত্ব পালন করা স্টাফ নার্স মিনি রানী রায় বলেন, ‘এত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি আমরা। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৭০ জন রোগী আসছেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত নতুন রোগী এসেছেন ২৬ জন। সোমবার এ সংখ্যা ছিল ৭০। ১৪ বেডের ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি আছেন ৫০ জন রোগী। এদিকে পর্যাপ্ত লোকবল নেই আমাদের। কি করব বুঝতে পারছি না।’

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত বরিশালের ৬ জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ১৮৩ জন। চলতি মাসে ডায়রিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার বলেন, করোনার এ অতিমারীর সময়ে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবে হিমশিম খাচ্ছি আমরা। প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫শর বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়ায়। ১৭ এপ্রিল যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৬৫২ সেখানে সোমবার তা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৮৩ জনে। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ভোলা জেলায় ৮ হাজার ৯০ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পটুয়াখালীতে আক্রান্ত ৭ হাজার ৩৪১ জন। এছাড়া বরগুনায় ৪ হাজার ৮৪৯, বরিশালে ৪ হাজার ৩৬৯, পিরোজপুরে ৪ হাজার এবং ঝালকাঠীতে ২ হাজার ৭৮৪ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।

কারণ খুঁজছে স্বাস্থ্য বিভাগ : এক সময় বরিশাল তথা দেশের দক্ষিণাঞ্চল ছিল ডায়রিয়াপ্রবণ এলাকা। গরমের মৌসুমে প্রতি বছর এখানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতেন হাজার হাজার মানুষ। মৃত্যুর সংখ্যাও ছাড়াত কয়েকশ। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিশ্রম আর সরকারের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে সেই পরিস্থিতি বদলে যায়। দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায় ডায়রিয়া। মাঝে বেশ কয়েক বছর এরকম পরিস্থিতি থাকলেও হঠাৎ করে বদলে যায় সব। চলতি মাসের গোড়ার দিকে বিভাগের বরগুনা, ভোলা এবং পটুয়াখালী থেকে প্রথম শুরু হয় ডায়রিয়ার সংক্রমণ। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিভাগে। ৩ সপ্তাহের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কী কারণে হঠাৎ আবার ফিরে এলো ডায়রিয়া তা জানতে গবেষণা চালানো হয় সংক্রমিত এলাকা বরগুনার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার বলেন, প্রধানত দুটি কারণে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে বলে তথ্য পাচ্ছি আমরা। উপকূলীয় এলাকায় এখনো প্রচলন রয়েছে পান্তা ভাত খাওয়ার। টিউবওয়েলের পানিতে পান্তার আসল স্বাদ পাওয়া যায় না বিবেচনায় বহু পরিবার পান্তা তৈরিতে ব্যবহার করে পুকুরের পানি। শুকনো মৌসুমে এমনিতেই শুকিয়ে যায় পুকুরের পানি। ফলে পানিতে থাকা জীবাণু চলে আসে কম্প্রেসারাইজড অবস্থায়। সেই পানি দিয়ে পান্তা তৈরি করে খাওয়া মানে হলো ডায়রিয়া নিমন্ত্রণ করে আনা। তাছাড়া গ্রীষ্মের এ সময়ে তৃষ্ণা নিবারণে অনেকেই রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া শরবত আর আখের রস পান করেন। এটাও ডায়রিয়া ছাড়ানোর একটি কারণ।’

ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের কারণ খুঁজতে এরই মধ্যে ঢাকা থেকে বরিশালে এসেছে রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা কেন্দ্রের ৪ সদস্যের একটি টিম। সোমবার বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করে তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী আরো কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করবে এ টিম। তারপর সংগৃহীত নমুনা ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে ডায়রিয়া ছড়ানোর কারণ।

এ বছর ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাব ব্যাপক হারে দেখা দেয়ার কারণ হিসাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবকেও দায়ী করছেন অনেকে। স্মরণাতীত কালের রেকর্ড ভেঙে এ বছর সাগরের পানির লবণাক্ততা চলে আসে বরিশাল নগর ছুঁয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তনখোলা নদী পর্যন্ত। বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. তোতা মিয়া বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে কীর্তনখোলা নদীর পানিতে তড়িৎ পরিবাহিতা ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০। মার্চে এসে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩০০ থেকে ১৩৬৫ পর্যন্ত। এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেই শুধু তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া এ পরিবাহিতার সর্বোচ্চ স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ১২০০ পর্যন্ত।

এদিকে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরো দক্ষিণাঞ্চলেই দেখা দিয়েছে আইভি স্যালাইনের তীব্র সংকট। হাসপাতালগুলোতে আইভি স্যালাইন নেই বলে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে রোগীদের। অথচ গুরুতর ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসায় এটি অত্যন্ত জরুরি। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মলয় কুমার বড়াল জানান, ‘বাড়তি স্যালাইন চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি আমরা।’

লবণ পানিতে সয়লাব দুমকির খালবিল : দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুমকিতে পায়রা ও লোহালিয়া নদী সমুদ্রের লবণ পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। এ পানি আশপাশের খালবিলেও প্রবেশ করেছে। এ লবণাক্ত পানি মানুষের জীবনযাত্রা ও কৃষিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। পায়রা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা বশির উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, পাংগাশিয়া ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পায়রা নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। অভ্যন্তরীণ ছোট ছোট খাল, নালা, ডোবা-পুকুরেও নদীর পানি ঢুকে গেছে। দৈনন্দিন প্রয়োজনে এ পানি ব্যবহার করতে হয়। আবার কৃষি কাজেও সেচের জন্য এ পানি ব্যবহার করতে হয়। নোনা পানির কারণে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন বলেন, উপজেলার পায়রা ও লোহালিয়া নদী এবং অভ্যন্তরীণ সব খাল-বিলের পানিতে স্যালাইনিটি ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ।

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ডায়রিয়া পরিস্থিতি নিয়ে ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) : কাঁঠালিয়া উপজেলার বাঁশবুনিয়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মানিক বেপারী (৪৭) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (আমুয়া) তার মৃত্যু হয়। মানিক বেপারী উপজেলার বাঁশবুনিয়া গ্রামের মৃত খবির উদ্দিনের ছেলে। স্বজনরা জানান, সোমবার গভীর রাতে তিনি ডায়রিয়া আক্রান্ত হন। এলাকায় কোনো স্যালাইন ও ওষুধ না পাওয়ায় সকালে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর মানিক মারা যান।

শরণখোলা (বাগেরহাট) : শরণখোলার সর্বত্র চলছে বিশুদ্ধ পানির হাহাকার। নদী ও খালের পানি লবণাক্ত। এলাকার কোথাও গভীর নলকূপ কার্যকর নয়। অগভীর নলকূপের পানিও লবণাক্ত। অনাবৃষ্টি ও গ্রীষ্মের দাবদাহে পুকুরের পানি শুকিয়ে তলানিতে ঠেকেছে। শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াছমিন জানান, শরণখোলায় পানি সংকটের কারণেই ডায়রিয়ায় আক্রান্তসহ পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলবার একদিনেই ২১ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। শয্যা সংকটের কারণে তাদের মেঝেতে রাখতে হচ্ছে।

মির্জাগঞ্জ ও দক্ষিণ (পটুয়াখালী) : ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ গ্রামের আলম গোলদার (৫৫) ও পশ্চিম কালিকাপুর হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসাশিক্ষক এবং আমড়াগাছি ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মো. সুলতান আহমেদ (৫২)। এ নিয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলায় ৪ দিনে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : ভাণ্ডারিয়া ১০০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোমবার ৩০ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেশির ভাগ শিশু এবং বৃদ্ধ আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে সিট না থাকায় বারান্দায়ও রোগীঢদের চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা গেছে।

বরিশাল : মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদলের নিজ উদ্যোগে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৩০ হাজার খাবার স্যালাইন বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুর রাজ্জাক, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস, জেলা প্রশাসক বরিশাল জসীম উদ্দীন হায়দার, জেলা প্রশাসক ঝালকাঠি মো. জোহর আলী, সিভিল সার্জন বরিশাল ডা. মনোয়ার হোসেনসহ বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলার সিভিল সার্জনরা।

ভোলা : ভোলা জেনারেল হাসপাতালে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১১২ জন ডায়রিয়া রোগী। সোমবার ভর্তি হন ১৫২ জন। জেলার ৭টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে ৩৫২ জন রোগী। এদের মধ্যে দৌলতখানে ৩১ জন, বোরহানউদ্দিনে ৬২, লালমোহনে ৩১, চরফ্যাশনে ৬৫, তজুমদ্দিনে ২০, মনপুরায় ১৮ জন। এদিকে হাসপাতালগুলোতে বেড সংকটের কারণে ডায়রিয়া রোগীদের মেঝেতে রাখতে হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন