লকডাউনে বেড়েছে তারল্য প্রবাহ
jugantor
শেয়ারবাজার
লকডাউনে বেড়েছে তারল্য প্রবাহ

  মনির হোসেন  

২৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লকডাউনের মধ্যে শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বেড়েছে ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের চেয়ে যা দ্বিগুণেরও বেশি। একইভাবে বেড়েছে মূল্যসূচক ও বাজারমূলধন। এ সময়ে ডিএসইর বাজারমূলধন ৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। তবে মোট লেনদেনের ৪২ শতাংশই ছিল শীর্ষ দশ কোম্পানির। এছাড়া আলোচ্য সময়ে মার্কেটে লেনদেন অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের সীমা বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, লেনদেন বৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে তা কতদিন টেকসই হয়, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। করোনার মধ্যে বাজার খোলা রাখা ইতিবাচক বলে মত দিয়েছেন তারা।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, লেনদেন বৃদ্ধি বাজারের জন্য ইতিবাচক। সামগ্রিকভাবে শেয়ারবাজারের মূল্যস্তর অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ফলে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুসময়। তাই বিনিয়োগকারীদের মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা উচিত। এ সময়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মির্জ্জা আজিজ বলেন, করোনার মধ্যে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। ফলে লেনদেন কতদিন টেকসই হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ।

জানা যায়, গত ২ মাস থেকে বাজারে কিছুটা মন্দা যাচ্ছিল। লেনদেন ও মূল্যসূচক সবকিছুই ছিল নিম্নমুখী। এ সময়ে ডিএসইর গড় লেনদেন ৪শ’ কোটি টাকায় নেমে এসেছিল। কিন্তু লকডাউনের পর বাজারে তারল্য প্রবাহ কিছুটা বেড়ে যায়। এ সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় দেখা গেছে। আর সামগ্রিকভাবে বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৪ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহের লেনদেন ছিল ২ হাজার ১৯ কোটি টাকা। এছাড়া ডিএসইর বাজারমূলধন ৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে করোনায় লকডাউন দেওয়া যৌক্তিক নয়। কারণ আমাদের অর্থনীতির এখনো ওই সক্ষমতা তৈরি হয়নি। এ অবস্থায় শেয়ারবাজার খোলা রাখা ইতিবাচক। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থনীতির সব কর্মকাণ্ড চালু রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

শীর্ষ দশ কোম্পানির মধ্যে শুধু বেক্সিমকো লিমিটেডের লেনদেন ৬৫১ কোটি টাকা। যা মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। এরপর আছে লংকা বাংলা ফাইন্যান্সের লেনদেন ১৮১ কোটি, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ১৮১ কোটি টাকা, বেক্সিমকো ফার্মা ১৬৯ কোটি, ব্রিটিশ-আামেরিকান টোব্যাকো ১৪৪ কোটি, রবি আজিয়াটা ১৪৩ কোটি, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ ১২০ কোটি, এশিয়া প্যাসেফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৯৯ কোটি, সামিট পাওয়ার ৫৬ কোটি এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ৫৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর মূল্যসূচক ছিল ৫ হাজার ৩১০ পয়েন্ট। সপ্তাহ শেষে তা বেড়ে ৫ হাজার ৪৩৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে সূচক বেড়েছে ১২৪ পয়েন্ট।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে মার্জিন ঋণের সীমা বাড়িয়েছে বিএসইসি। বর্তমানে কোনো বিনিয়োগকারীর ১ লাখ টাকা থাকলে শেয়ার কেনার জন্য আরও ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিতে পারে। আগে এই সীমা ছিল ৫০ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ঋণ বাজারের জন্য ইতিবাচক নয়। কারণ ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। তিনি বলেন, একটি কোম্পানি যে হারে লভ্যাংশ দেয়, মার্জিন ঋণের সুদের হার তার চেয়ে বেশি। এছাড়া ওই বিনিয়োগকারীর যে শেয়ার কিনবে, ওই শেয়ারের দাম কমে এলে ব্রোকারেজ হাউস শেয়ার বিক্রি করে তাদের ঋণের টাকা নিয়ে নেয়। এতে ওই বিনিয়োগকারী সবকিছু হারিয়ে ফেলে। তিনি বলেন, এ কারণে আমরা সব সময় ঋণকে নিরুৎসাহিত করি। বিনিয়োগকারীর উচিত মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা।

শেয়ারবাজার

লকডাউনে বেড়েছে তারল্য প্রবাহ

 মনির হোসেন 
২৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লকডাউনের মধ্যে শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বেড়েছে ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের চেয়ে যা দ্বিগুণেরও বেশি। একইভাবে বেড়েছে মূল্যসূচক ও বাজারমূলধন। এ সময়ে ডিএসইর বাজারমূলধন ৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। তবে মোট লেনদেনের ৪২ শতাংশই ছিল শীর্ষ দশ কোম্পানির। এছাড়া আলোচ্য সময়ে মার্কেটে লেনদেন অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের সীমা বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, লেনদেন বৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে তা কতদিন টেকসই হয়, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। করোনার মধ্যে বাজার খোলা রাখা ইতিবাচক বলে মত দিয়েছেন তারা।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, লেনদেন বৃদ্ধি বাজারের জন্য ইতিবাচক। সামগ্রিকভাবে শেয়ারবাজারের মূল্যস্তর অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ফলে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুসময়। তাই বিনিয়োগকারীদের মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা উচিত। এ সময়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মির্জ্জা আজিজ বলেন, করোনার মধ্যে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। ফলে লেনদেন কতদিন টেকসই হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ।

জানা যায়, গত ২ মাস থেকে বাজারে কিছুটা মন্দা যাচ্ছিল। লেনদেন ও মূল্যসূচক সবকিছুই ছিল নিম্নমুখী। এ সময়ে ডিএসইর গড় লেনদেন ৪শ’ কোটি টাকায় নেমে এসেছিল। কিন্তু লকডাউনের পর বাজারে তারল্য প্রবাহ কিছুটা বেড়ে যায়। এ সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় দেখা গেছে। আর সামগ্রিকভাবে বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৪ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহের লেনদেন ছিল ২ হাজার ১৯ কোটি টাকা। এছাড়া ডিএসইর বাজারমূলধন ৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে করোনায় লকডাউন দেওয়া যৌক্তিক নয়। কারণ আমাদের অর্থনীতির এখনো ওই সক্ষমতা তৈরি হয়নি। এ অবস্থায় শেয়ারবাজার খোলা রাখা ইতিবাচক। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থনীতির সব কর্মকাণ্ড চালু রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

শীর্ষ দশ কোম্পানির মধ্যে শুধু বেক্সিমকো লিমিটেডের লেনদেন ৬৫১ কোটি টাকা। যা মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। এরপর আছে লংকা বাংলা ফাইন্যান্সের লেনদেন ১৮১ কোটি, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ১৮১ কোটি টাকা, বেক্সিমকো ফার্মা ১৬৯ কোটি, ব্রিটিশ-আামেরিকান টোব্যাকো ১৪৪ কোটি, রবি আজিয়াটা ১৪৩ কোটি, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ ১২০ কোটি, এশিয়া প্যাসেফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৯৯ কোটি, সামিট পাওয়ার ৫৬ কোটি এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ৫৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর মূল্যসূচক ছিল ৫ হাজার ৩১০ পয়েন্ট। সপ্তাহ শেষে তা বেড়ে ৫ হাজার ৪৩৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে সূচক বেড়েছে ১২৪ পয়েন্ট।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে মার্জিন ঋণের সীমা বাড়িয়েছে বিএসইসি। বর্তমানে কোনো বিনিয়োগকারীর ১ লাখ টাকা থাকলে শেয়ার কেনার জন্য আরও ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিতে পারে। আগে এই সীমা ছিল ৫০ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ঋণ বাজারের জন্য ইতিবাচক নয়। কারণ ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। তিনি বলেন, একটি কোম্পানি যে হারে লভ্যাংশ দেয়, মার্জিন ঋণের সুদের হার তার চেয়ে বেশি। এছাড়া ওই বিনিয়োগকারীর যে শেয়ার কিনবে, ওই শেয়ারের দাম কমে এলে ব্রোকারেজ হাউস শেয়ার বিক্রি করে তাদের ঋণের টাকা নিয়ে নেয়। এতে ওই বিনিয়োগকারী সবকিছু হারিয়ে ফেলে। তিনি বলেন, এ কারণে আমরা সব সময় ঋণকে নিরুৎসাহিত করি। বিনিয়োগকারীর উচিত মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন