উদ্বোধনের অপেক্ষায় রানওয়ের সম্প্রসারণ প্রকল্প
jugantor
কক্সবাজার বিমানবন্দর
উদ্বোধনের অপেক্ষায় রানওয়ের সম্প্রসারণ প্রকল্প

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প। দেশের চতুর্থ বিমানবন্দর হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফা রানওয়ের সম্প্রসারণ প্রকল্পের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তত স্থাপনের অপেক্ষায় ক্ষণ গণনা চলছে। পৃথিবীর অন্যতম বিমানবন্দর নির্মাতা কোম্পানি এরই মধ্যে গ্রাউন্ড ব্রেকিং কাজের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বেসামরিবক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ চলমান লকডাউনের পরপরই বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের আনুষ্ঠনিক উদ্বোধন করবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, করোনা মহামারিতে লকডাউন না থাকলে এতদিনে একটা সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ ঠিক করা যেত। এ প্রকল্পের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলেই উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

জানা গেছে, পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের কোলে অপূর্ব নৈসর্গিক ভূবেষ্টনীতে গড়ে তোলা হয়েছে দেশে চতুর্থ আন্তার্তিক বিমানবন্দর। এরই মধ্যে প্রথম দফার কাজ শেষ। এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প বিমানবন্দরের রানওয়েকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বাড়ানো হচ্ছে বর্তমান ৯ হাজার ফুট থেকে পৌনে এগার হাজার ফুটে উন্নীত করার কাজ।

মূলত এই রানওয়ের কাজ সম্প্রসারণের পরই এখানে ওঠানামা করতে পারবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুপরিসর এয়ারবাস ৩৮০ এর মতো উড়োজাহাজ। আগামী পঞ্চাশ বছরের চাহিদা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে এই রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প। বেবিচক জানিয়েছে, বর্তমানে এ বিমানবন্দরে দৈনিক যাত্রীবাহী ও কার্গোবিমান চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণের এই প্রকল্প চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদিত হয়। সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করার উদ্দেশ্যে এই রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটি গৃহীত হয়।

বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেক জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরের মহেশখালী চ্যানেলের দিকে রেক্লেমেশন প্রক্রিয়ায় আরও এক হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে সম্প্রসারিত হবে। তা ছাড়া প্রকল্প কাজগুলোর অন্য প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের জলাবদ্ধতা রক্ষাসহ সমুদ্রের জমি পুনরুদ্ধার, নমনীয় ফুটপাতসহ রানওয়ের সম্প্রসারণ, সমুদ্রের যথাযথ পদ্ধতির আলোক ব্যবস্থাসহ এজিএল সিস্টেম স্থাপন, নিকাশীর সুবিধা ইত্যাদি।

বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুপরিসর বিমান তথা বি-৭৭৭-৩০০ ইআর, বি-৭৪৭-৪০০ পরিচালনায় সুবিধা হবে। ফলে এ বিমানবন্দর থেকে সাধারণ যাত্রীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টুরিস্টের যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শল মফিদুর রহমান বলেন, চলমান মহামারি ও লকডাউনের সংকট না থাকলে এতদিনে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তুর উদ্বোধন করা হয়ে যেত।

এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সুনির্দিষ্ট তারিখ চেয়ে একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী যখনই দিনক্ষণ ঠিক করবেন। তার পরই ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর

উদ্বোধনের অপেক্ষায় রানওয়ের সম্প্রসারণ প্রকল্প

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প। দেশের চতুর্থ বিমানবন্দর হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফা রানওয়ের সম্প্রসারণ প্রকল্পের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তত স্থাপনের অপেক্ষায় ক্ষণ গণনা চলছে। পৃথিবীর অন্যতম বিমানবন্দর নির্মাতা কোম্পানি এরই মধ্যে গ্রাউন্ড ব্রেকিং কাজের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বেসামরিবক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ চলমান লকডাউনের পরপরই বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের আনুষ্ঠনিক উদ্বোধন করবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, করোনা মহামারিতে লকডাউন না থাকলে এতদিনে একটা সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ ঠিক করা যেত। এ প্রকল্পের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলেই উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

জানা গেছে, পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের কোলে অপূর্ব নৈসর্গিক ভূবেষ্টনীতে গড়ে তোলা হয়েছে দেশে চতুর্থ আন্তার্তিক বিমানবন্দর। এরই মধ্যে প্রথম দফার কাজ শেষ। এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প বিমানবন্দরের রানওয়েকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বাড়ানো হচ্ছে বর্তমান ৯ হাজার ফুট থেকে পৌনে এগার হাজার ফুটে উন্নীত করার কাজ।

মূলত এই রানওয়ের কাজ সম্প্রসারণের পরই এখানে ওঠানামা করতে পারবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুপরিসর এয়ারবাস ৩৮০ এর মতো উড়োজাহাজ। আগামী পঞ্চাশ বছরের চাহিদা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে এই রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প। বেবিচক জানিয়েছে, বর্তমানে এ বিমানবন্দরে দৈনিক যাত্রীবাহী ও কার্গোবিমান চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণের এই প্রকল্প চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদিত হয়। সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করার উদ্দেশ্যে এই রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটি গৃহীত হয়।

বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেক জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরের মহেশখালী চ্যানেলের দিকে রেক্লেমেশন প্রক্রিয়ায় আরও এক হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে সম্প্রসারিত হবে। তা ছাড়া প্রকল্প কাজগুলোর অন্য প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের জলাবদ্ধতা রক্ষাসহ সমুদ্রের জমি পুনরুদ্ধার, নমনীয় ফুটপাতসহ রানওয়ের সম্প্রসারণ, সমুদ্রের যথাযথ পদ্ধতির আলোক ব্যবস্থাসহ এজিএল সিস্টেম স্থাপন, নিকাশীর সুবিধা ইত্যাদি।

বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুপরিসর বিমান তথা বি-৭৭৭-৩০০ ইআর, বি-৭৪৭-৪০০ পরিচালনায় সুবিধা হবে। ফলে এ বিমানবন্দর থেকে সাধারণ যাত্রীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টুরিস্টের যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শল মফিদুর রহমান বলেন, চলমান মহামারি ও লকডাউনের সংকট না থাকলে এতদিনে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তুর উদ্বোধন করা হয়ে যেত।

এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সুনির্দিষ্ট তারিখ চেয়ে একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী যখনই দিনক্ষণ ঠিক করবেন। তার পরই ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন