৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ চান মালিকরা
jugantor
বস্ত্র-পোশাক শিল্পে শ্রমিক বেতন
৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ চান মালিকরা
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠক * করোনার প্রভাবে রপ্তানি বিল না-আসায় আর্থিক সংকটে উদ্যোক্তারা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ এপ্রিল ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস দিতে সহজ শর্তে ছয় হাজার কোটি টাকার ঋণ চেয়েছেন বস্ত্র ও পোশাক খাত শিল্পমালিকরা। করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার জন্য আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে এ ঋণ চাওয়া হয়।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনজন ব্যবসায়ী নেতা। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতাদের।

বৈঠকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে তারা বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে দেশে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। যেসব পণ্য রপ্তানি করছেন, সেগুলোর বিল দেশে আসছে না। কারণ, ক্রেতারাও এখন করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের শিকার হয়ে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে রপ্তানিকারকরা এখন আর্থিক সংকটে রয়েছেন। এ অবস্থায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে জরুরি ভিত্তিতে ঋণ দেওয়ার দাবি করেছেন। ঋণের অর্থে তারা শ্রমিকদের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতন-ভাতা দেবেন। জরুরি ভিত্তিতে ঋণ না-দিলে উদ্যোক্তারা বড় ধরনের সংকটে পড়বেন বলে জানান। এ সংকট এড়াতে গত বছরের মতো একই শর্তে ও সুদে ঋণ দেওয়ার দাবি করেছেন।

এর আগে গত রোববার জরুরি ভিত্তিতে ঋণ চেয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে চিঠি দিয়েছেন এ খাতের সংশ্লিষ্ট তিনটি শিল্পমালিকদের সংগঠন। এরা হচ্ছেন : বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)।

চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার ওই চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদের সচিবকে দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তারা আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে এই তিন খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতন-ভাতা ও বোনাস দিতে গত বছরের মতো সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর করোনার প্রভাব মোকাবিলায় রপ্তানিমুখী শিল্পখাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সরকার থেকে এ খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথমে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল দেওয়া হয়েছিল। পরে তা আরও তিন হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট আট হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়। এতে সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়েছিল ২ শতাংশ।

বস্ত্র-পোশাক শিল্পে শ্রমিক বেতন

৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ চান মালিকরা

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠক * করোনার প্রভাবে রপ্তানি বিল না-আসায় আর্থিক সংকটে উদ্যোক্তারা
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস দিতে সহজ শর্তে ছয় হাজার কোটি টাকার ঋণ চেয়েছেন বস্ত্র ও পোশাক খাত শিল্পমালিকরা। করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলার জন্য আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে এ ঋণ চাওয়া হয়।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনজন ব্যবসায়ী নেতা। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতাদের।

বৈঠকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে তারা বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে দেশে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। যেসব পণ্য রপ্তানি করছেন, সেগুলোর বিল দেশে আসছে না। কারণ, ক্রেতারাও এখন করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের শিকার হয়ে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে রপ্তানিকারকরা এখন আর্থিক সংকটে রয়েছেন। এ অবস্থায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে জরুরি ভিত্তিতে ঋণ দেওয়ার দাবি করেছেন। ঋণের অর্থে তারা শ্রমিকদের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতন-ভাতা দেবেন। জরুরি ভিত্তিতে ঋণ না-দিলে উদ্যোক্তারা বড় ধরনের সংকটে পড়বেন বলে জানান। এ সংকট এড়াতে গত বছরের মতো একই শর্তে ও সুদে ঋণ দেওয়ার দাবি করেছেন।

এর আগে গত রোববার জরুরি ভিত্তিতে ঋণ চেয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে চিঠি দিয়েছেন এ খাতের সংশ্লিষ্ট তিনটি শিল্পমালিকদের সংগঠন। এরা হচ্ছেন : বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)।

চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার ওই চিঠির অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদের সচিবকে দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তারা আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে এই তিন খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতন-ভাতা ও বোনাস দিতে গত বছরের মতো সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর করোনার প্রভাব মোকাবিলায় রপ্তানিমুখী শিল্পখাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সরকার থেকে এ খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথমে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল দেওয়া হয়েছিল। পরে তা আরও তিন হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট আট হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়। এতে সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়েছিল ২ শতাংশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন