বিল গেটস-মেলিন্ডার বিয়ে বিচ্ছেদ
jugantor
বিল গেটস-মেলিন্ডার বিয়ে বিচ্ছেদ

  যুগান্তর ডেস্ক   

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। সোমবার টুইটার বার্তায় দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন বিল ও মেলিন্ডা। ২৭ বছর সংসার করার পর বিলিয়নিয়ার দম্পতির হঠাৎ বিয়ে বিচ্ছেদের ঘোষণায় বিশ্ববাসী অবাক হয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। খবর বিবিসির।
টুইটারে পোস্ট করা যৌথ বার্তায় গেটস দম্পতি বলেন, আমাদের সম্পর্কটি নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা ও কাজের পর আমরা আমাদের বিয়ের সমাপ্তি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা বলেন, গত ২৭ বছরে আমরা অসাধারণ তিনটি সন্তান পেয়েছি। এমন একটা ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি যা বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। আমরা যে বিশ্বাস থেকে ফাউন্ডেশনটি চালু করেছি, সেটা থাকবে। এ ফাউন্ডেশনের কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যাব। তবে জীবনের পরবর্তী ধাপে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারব বলে আমরা আর বিশ্বাস করি না। তারা তাদের নতুন জীবনের গোপনীয়তার দিকটিও সবাইকে মনে করিয়ে দেন।
জানা গেছে, দুজন দুজনের পৃথিবী নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় কেউ কাউকে সময় দিতে পারছিলেন না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। বিয়ে বিচ্ছেদের ঘোষণার আগে আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন বিল (৬৫) ও মেলিন্ডা (৫৬)। আদালতে বিচ্ছেদের যৌথ আবেদনে এ যুগল জানান, অপ্রত্যাশিতভাবে তাদের আইনি সম্পর্ক ভেঙে পড়েছে। তবে বৈবাহিক সম্পদ কীভাবে বণ্টন হবে তা নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছেন বলে জানান তারা। তবে ওই চুক্তির বিস্তারিত সম্পর্কে সিয়াটলের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র আদালতে দাখিল করা আবেদনে কিছুই বলা হয়নি। সম্পত্তি ভাগাভাগির দায়িত্ব তারা আদালতের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। বছর দুই আগে মেলিন্ডা বলেছিলেন, ‘তাদের বিয়েটা বেশ কঠিন পর্যায়ে ঠেকেছে। বিল নিয়মিত দিনের ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন। পরিবারের জন্য তার সময় বের করা দুঃসাধ্য হয়ে যায়।’ ২০১৯ সালে ২৫তম বিবাহবার্ষিকীতে সানডে টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা জানান, ‘কাজ ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন কিনা তা নিয়ে ব্যাপক মাত্রায় সন্দিহান ছিলেন বিল গেটস। এমনকি তিনি হোয়াইট বোর্ডে বিয়ের ভালো ও মন্দ দিকগুলো লিখতে শুরু করেন।’
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী-বিল গেটস এ মুহূর্তে বিশ্বের চতুর্থ ধনী এবং তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ডলার। তিনি মূলত এ অর্থের মালিক হয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সফটওয়্যার কোম্পানি মাইক্রোসফটের মাধ্যমে। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠা করা এ কোম্পানিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ১৯৮৭ সালে মেলিন্ডা মাইক্রোসফটে যোগ দেয়ার পর বিল গেটসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মেলিন্ডা মাইক্রোসফটে যোগ দিয়েছিলেন প্রডাক্ট ম্যানেজার হিসাবে। ওই বছর তারা নিউইয়র্কে একটি বিজনেস ডিনারে মিলিত হন। নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারিতে বিল বলেছেন, আমরা একে অপরের খুব খেয়াল রাখতাম। এখানে দুটি সম্ভাবনা ছিল। হয় আমাদের প্রেমে বিচ্ছেদ হবে, নয়তো আমাদের বিয়ে করতে হবে। মেলিন্ডা বলেন, তিনি বিল গেটসকে একজন সুশৃঙ্খল মানুষ হিসাবে আবিষ্কার করেছিলেন। এমনকি তাকে বিয়ে করার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিও দিয়েছিলেন বিল। এরপর প্রেম আরও গভীর হয়। প্রেম শুরুর ৭ বছর পর ১৯৯৪ সালে তারা এক ছাদের নিচে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। হাওয়াই দ্বীপের লানাইয়ে হয়েছিল সেই আয়োজন। এরপর মাইক্রোসফট বড় হয়েছে। কিন্তু গত বছর তারা এ প্রতিষ্ঠান থেকে অবসরে যান। ব্যস্ত হয়ে পড়েন দাতব্য কাজে।
গেটস দম্পতির তিন সন্তান- জেনিফার (২৫), রোরি (২১) ও ফোয়েব (১৮)। বিবৃতিতে তারা বলেন, ফাউন্ডেশনে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাব। তারা যৌথভাবে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন পরিচালনা করেন। বিচ্ছেদের পর ইনস্টাগ্রামে বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বড় মেয়ে জেনিফার গেটস লিখেছেন, আমাদের পুরো পরিবারের জন্য একটা দুঃসময় ছিল। জীবনের পরবর্তী ধাপে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি বোঝার জন্য সবাইকে অগ্রিম ধন্যবাদ দেন তিনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শীর্ষ ধনী দম্পতির বিচ্ছেদের দ্বিতীয় ঘটনা এটি। ২০১৯ সালে বিশ্বখ্যাত ই-কমার্স অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি স্কটের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটান। বিচ্ছেদের ফলে বেজোসের স্ত্রী বিশ্বের চতুর্থ ধনী নারীতে পরিণত হন। ৩৮ বিলিয়ন ডলার পরিমাণ সম্পত্তি পান ম্যাকেঞ্জি।
বিল গেটস দম্পতির বিচ্ছেদ হলেও অক্ষত থাকছে ফাউন্ডেশন : বিশ্বের অন্যতম বড় বেসরকারি দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের দাতা বিল ও মেলিন্ডা গেটস। সোমবার তারা বিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দাতব্য সংস্থাটি আক্রান্ত হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তারা দুজনই ঘোষণা দিয়েছেন, বিচ্ছেদ হলেও মানবহিতৈষী কাজ একত্রে চালিয়ে যাবেন তারা। দুই দশক ধরে এ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করে তারা দারিদ্র্য এবং রোগ মোকাবিলায় বাণিজ্যিক মনোভাব আনার চেষ্টা করেছেন। ম্যালেরিয়া ও পোলিও নির্মূল, শিশু পুষ্টি এবং টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তার জন্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন গেটস যুগল। গত বছর কোভিড-১৯ ত্রাণ হিসাবে ফাউন্ডেশনটি ১৭৫ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
২০০০ সালে বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস মিলে অলাভজনক সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বেসরকারি মানবহিতৈষী ফাউন্ডেশন এটি। এছাড়া বিশ্বের অন্যতম বড় দাতব্য ফাউন্ডেশনও। এটি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই ও শিশুদের টিকাদানে উৎসাহিত করতে এ ফাউন্ডেশন কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে। ওয়েবসাইটে সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ বার্ষিক হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালের শেষে ফাউন্ডেশনটির নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় চার হাজার ৩৩০ কোটি ডলারে। ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই যুগল সিয়াটলভিত্তিক ফাউন্ডেশনটিকে তিন হাজার ছয়শ কোটি ডলার উপহার দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ওই ওয়েবসাইট।

বিল গেটস-মেলিন্ডার বিয়ে বিচ্ছেদ

 যুগান্তর ডেস্ক  
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। সোমবার টুইটার বার্তায় দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন বিল ও মেলিন্ডা। ২৭ বছর সংসার করার পর বিলিয়নিয়ার দম্পতির হঠাৎ বিয়ে বিচ্ছেদের ঘোষণায় বিশ্ববাসী অবাক হয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। খবর বিবিসির।
টুইটারে পোস্ট করা যৌথ বার্তায় গেটস দম্পতি বলেন, আমাদের সম্পর্কটি নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা ও কাজের পর আমরা আমাদের বিয়ের সমাপ্তি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা বলেন, গত ২৭ বছরে আমরা অসাধারণ তিনটি সন্তান পেয়েছি। এমন একটা ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি যা বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। আমরা যে বিশ্বাস থেকে ফাউন্ডেশনটি চালু করেছি, সেটা থাকবে। এ ফাউন্ডেশনের কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যাব। তবে জীবনের পরবর্তী ধাপে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারব বলে আমরা আর বিশ্বাস করি না। তারা তাদের নতুন জীবনের গোপনীয়তার দিকটিও সবাইকে মনে করিয়ে দেন।
জানা গেছে, দুজন দুজনের পৃথিবী নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় কেউ কাউকে সময় দিতে পারছিলেন না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। বিয়ে বিচ্ছেদের ঘোষণার আগে আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন বিল (৬৫) ও মেলিন্ডা (৫৬)। আদালতে বিচ্ছেদের যৌথ আবেদনে এ যুগল জানান, অপ্রত্যাশিতভাবে তাদের আইনি সম্পর্ক ভেঙে পড়েছে। তবে বৈবাহিক সম্পদ কীভাবে বণ্টন হবে তা নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছেন বলে জানান তারা। তবে ওই চুক্তির বিস্তারিত সম্পর্কে সিয়াটলের কিং কাউন্টি সুপিরিয়র আদালতে দাখিল করা আবেদনে কিছুই বলা হয়নি। সম্পত্তি ভাগাভাগির দায়িত্ব তারা আদালতের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। বছর দুই আগে মেলিন্ডা বলেছিলেন, ‘তাদের বিয়েটা বেশ কঠিন পর্যায়ে ঠেকেছে। বিল নিয়মিত দিনের ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন। পরিবারের জন্য তার সময় বের করা দুঃসাধ্য হয়ে যায়।’ ২০১৯ সালে ২৫তম বিবাহবার্ষিকীতে সানডে টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা জানান, ‘কাজ ও পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন কিনা তা নিয়ে ব্যাপক মাত্রায় সন্দিহান ছিলেন বিল গেটস। এমনকি তিনি হোয়াইট বোর্ডে বিয়ের ভালো ও মন্দ দিকগুলো লিখতে শুরু করেন।’ 
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী-বিল গেটস এ মুহূর্তে বিশ্বের চতুর্থ ধনী এবং তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ডলার। তিনি মূলত এ অর্থের মালিক হয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সফটওয়্যার কোম্পানি মাইক্রোসফটের মাধ্যমে। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠা করা এ কোম্পানিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ১৯৮৭ সালে মেলিন্ডা মাইক্রোসফটে যোগ দেয়ার পর বিল গেটসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মেলিন্ডা মাইক্রোসফটে যোগ দিয়েছিলেন প্রডাক্ট ম্যানেজার হিসাবে। ওই বছর তারা নিউইয়র্কে একটি বিজনেস ডিনারে মিলিত হন। নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারিতে বিল বলেছেন, আমরা একে অপরের খুব খেয়াল রাখতাম। এখানে দুটি সম্ভাবনা ছিল। হয় আমাদের প্রেমে বিচ্ছেদ হবে, নয়তো আমাদের বিয়ে করতে হবে। মেলিন্ডা বলেন, তিনি বিল গেটসকে একজন সুশৃঙ্খল মানুষ হিসাবে আবিষ্কার করেছিলেন। এমনকি তাকে বিয়ে করার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিও দিয়েছিলেন বিল। এরপর প্রেম আরও গভীর হয়। প্রেম শুরুর ৭ বছর পর ১৯৯৪ সালে তারা এক ছাদের নিচে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। হাওয়াই দ্বীপের লানাইয়ে হয়েছিল সেই আয়োজন। এরপর মাইক্রোসফট বড় হয়েছে। কিন্তু গত বছর তারা এ প্রতিষ্ঠান থেকে অবসরে যান। ব্যস্ত হয়ে পড়েন দাতব্য কাজে। 
গেটস দম্পতির তিন সন্তান- জেনিফার (২৫), রোরি (২১) ও ফোয়েব (১৮)। বিবৃতিতে তারা বলেন, ফাউন্ডেশনে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাব। তারা যৌথভাবে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন পরিচালনা করেন। বিচ্ছেদের পর ইনস্টাগ্রামে বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বড় মেয়ে জেনিফার গেটস লিখেছেন, আমাদের পুরো পরিবারের জন্য একটা দুঃসময় ছিল। জীবনের পরবর্তী ধাপে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি বোঝার জন্য সবাইকে অগ্রিম ধন্যবাদ দেন তিনি। 
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শীর্ষ ধনী দম্পতির বিচ্ছেদের দ্বিতীয় ঘটনা এটি। ২০১৯ সালে বিশ্বখ্যাত ই-কমার্স অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি স্কটের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটান। বিচ্ছেদের ফলে বেজোসের স্ত্রী বিশ্বের চতুর্থ ধনী নারীতে পরিণত হন। ৩৮ বিলিয়ন ডলার পরিমাণ সম্পত্তি পান ম্যাকেঞ্জি।
বিল গেটস দম্পতির বিচ্ছেদ হলেও অক্ষত থাকছে ফাউন্ডেশন : বিশ্বের অন্যতম বড় বেসরকারি দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের দাতা বিল ও মেলিন্ডা গেটস। সোমবার তারা বিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দাতব্য সংস্থাটি আক্রান্ত হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তারা দুজনই ঘোষণা দিয়েছেন, বিচ্ছেদ হলেও মানবহিতৈষী কাজ একত্রে চালিয়ে যাবেন তারা। দুই দশক ধরে এ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করে তারা দারিদ্র্য এবং রোগ মোকাবিলায় বাণিজ্যিক মনোভাব আনার চেষ্টা করেছেন। ম্যালেরিয়া ও পোলিও নির্মূল, শিশু পুষ্টি এবং টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তার জন্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন গেটস যুগল। গত বছর কোভিড-১৯ ত্রাণ হিসাবে ফাউন্ডেশনটি ১৭৫ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
২০০০ সালে বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস মিলে অলাভজনক সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বেসরকারি মানবহিতৈষী ফাউন্ডেশন এটি। এছাড়া বিশ্বের অন্যতম বড় দাতব্য ফাউন্ডেশনও। এটি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই ও শিশুদের টিকাদানে উৎসাহিত করতে এ ফাউন্ডেশন কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে। ওয়েবসাইটে সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ বার্ষিক হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালের শেষে ফাউন্ডেশনটির নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় চার হাজার ৩৩০ কোটি ডলারে। ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই যুগল সিয়াটলভিত্তিক ফাউন্ডেশনটিকে তিন হাজার ছয়শ কোটি ডলার উপহার দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ওই ওয়েবসাইট।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন