স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৪ দাবি
jugantor
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৪ দাবি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আবারো বৈঠক করেছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাসায় প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন।

এতে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেফাজত নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ এবং গ্রেফতারদের মুক্তিসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন। অন্য দাবি দুটি হলো-২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সহিংসতার ঘটনার মামলা প্রত্যাহার এবং মাদ্রাসা খুলে দেওয়া।

হেফাজত নেতারা মঙ্গলবার রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান। বৈঠক শেষে তারা বের হন রাত ১২টার দিকে।

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটির বিলুপ্ত কমিটির মহাসচিব ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদি এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। হেফাজত নেতা ও বেফাকের মহাসচিব মাহফুজুল হক, গাজীপুরের কাপাসিয়ার অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসার আতাউল্লাহ হাফিজিও এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন। মাহফুজুল হক কারাবন্দি হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ভাই।

এছাড়া হেফাজতের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। বৈঠক চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে নুরুল ইসলাম জেহাদি সাংবাদিকদের বলেন, গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। দাবিগুলো আমরা লিখিত আকারেই জানিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।

হেফাজত নেতারা জানান, সাম্প্রতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে গ্রেফতার আলেম-ওলামাসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবি জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে আলেম-ওলামা এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হয়রানি এবং আতঙ্ক থেকে মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাছাড়া ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে যে মামলাগুলো হয়েছে তা পূর্ব আলোচনা অনুযায়ী প্রত্যাহারের দাবি তোলেন।

এর বাইরে দ্রুত কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা। উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ ও সহিংস ঘটনার পর সরকার হেফাজতে ইসলামের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়।

প্রায় এক মাস ধরে সংগঠনটির অন্তত ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেফতার হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। একাধিকবার হেফাজত নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে গ্রেফতার বন্ধ এবং গ্রেফতার নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ গত রোববার রাতেও হেফাজতের সাবেক দুই যুগ্ম-মহাসচিব মাঈনুদ্দীন রুহী ও মুফতি ফয়জুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসায় সাক্ষাৎ করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৪ দাবি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আবারো বৈঠক করেছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাসায় প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন।

এতে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেফাজত নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ এবং গ্রেফতারদের মুক্তিসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন। অন্য দাবি দুটি হলো-২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সহিংসতার ঘটনার মামলা প্রত্যাহার এবং মাদ্রাসা খুলে দেওয়া।

হেফাজত নেতারা মঙ্গলবার রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান। বৈঠক শেষে তারা বের হন রাত ১২টার দিকে।

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটির বিলুপ্ত কমিটির মহাসচিব ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদি এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। হেফাজত নেতা ও বেফাকের মহাসচিব মাহফুজুল হক, গাজীপুরের কাপাসিয়ার অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসার আতাউল্লাহ হাফিজিও এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন। মাহফুজুল হক কারাবন্দি হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ভাই।

এছাড়া হেফাজতের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। বৈঠক চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। 

বৈঠক থেকে বেরিয়ে নুরুল ইসলাম জেহাদি সাংবাদিকদের বলেন, গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। দাবিগুলো আমরা লিখিত আকারেই জানিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। 

হেফাজত নেতারা জানান, সাম্প্রতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে গ্রেফতার আলেম-ওলামাসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবি জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে আলেম-ওলামা এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হয়রানি এবং আতঙ্ক থেকে মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাছাড়া ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে যে মামলাগুলো হয়েছে তা পূর্ব আলোচনা অনুযায়ী প্রত্যাহারের দাবি তোলেন।

এর বাইরে দ্রুত কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানান তারা। উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ ও সহিংস ঘটনার পর সরকার হেফাজতে ইসলামের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়।

প্রায় এক মাস ধরে সংগঠনটির অন্তত ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেফতার হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। একাধিকবার হেফাজত নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে গ্রেফতার বন্ধ এবং গ্রেফতার নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ গত রোববার রাতেও হেফাজতের সাবেক দুই যুগ্ম-মহাসচিব মাঈনুদ্দীন রুহী ও মুফতি ফয়জুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসায় সাক্ষাৎ করেছেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন