স্পিডবোট মালিক চালকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
jugantor
শিবচরে ২৬ যাত্রীর প্রাণহানি
স্পিডবোট মালিক চালকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বিভিন্ন স্থানে শোকের মাতম, লাশ দাফন

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৫ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিবচরে সোমবার বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে স্পিডবোটের ২৬ যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার স্পিডবোট মালিক ও চালক, ঘাট ইজারাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে নৌপুলিশ মামলা করে। এ দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া ও কুমিল্লার দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েকজনের লাশ দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়া খুলনার তেরখাদার পারোখালীতে শিশু মিমের বাবা, মা ও দুই বোনের লাশও দাফন করা হয়েছে। এ সম্পর্কে ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

শিবচর (মাদারীপুর) : শিবচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমির হোসেন সেরনিয়াবাত জানান, সোমবার রাতে শিমুলিয়া ঘাটের ইজারাদার, স্পিডবোটের মালিক ও চালকসহ চারজনকে আসামি করে নৌপুলিশের এসআই লোকমান হোসেন মামলা করেন। শিবচর থানায় করা মামলার আসামিরা হলেন : স্পিডবোট চালক নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শাহ আলম, স্পিডবোটের মালিক মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের চান্দু মোল্লা ও লৌহজংয়ের রেজাউল হক এবং শিমুলিয়া ঘাটের ইজারাদার শাহ আলম খান। এ ছাড়া শিমুলিয়া স্পিডবোট পরিচালনাকারী একজনকে আসামি করা হয়েছে। তার পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন জানান, মামলা হয়েছে। শিগগির আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।

বাংলাবাজার ঘাট স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, বাংলাবাজার ঘাট থেকে স্পিডবোট চলাচলে অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, লকডাউনের শুরু থেকেই অনিয়মের খবর পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া তিনজন জানান, স্পিডবোটের চালক নেশাগ্রস্ত ছিল। নদীর মধ্যে একবার দুর্ঘটনারও উপক্রম হয়েছিল। বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন স্পিডবোট চালানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

বরিশাল : শিবচরে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ জনের মধ্যে বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠির নয়জন রয়েছেন। নিহতরা হলেন : বরিশালের ভেদুরিয়া এলাকার আনোয়ার চৌকিদার (৫০), বানারীপাড়া উপজেলার আলাউদ্দিন ব্যাপারী (৪৫), মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আশা এলাকার রত্তু হোসেনের ছেলে সাইদুল হোসেন (২৭), একই উপজেলার পূর্বষট্টি এলাকার রিয়াজ হোসেন (৩৩), সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও উপজেলার পাতারহাট বন্দরের মনির হোসেন চাপরাশি (৩৫), ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রাজাবাড়িয়া এলাকার নাসিরউদ্দিন শিকদার (৪৫), পিরোজপুর সদর উপজেলার চরখানা এলাকার মো. ওহিদুরের ছেলে বাপ্পী (২৮) এবং পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পসারিয়াবুনিয়া এলাকার রঞ্জন অধিকারীর ছেলে জনি অধিকারী (২৬)। নলছিটির তানভির জানান, মামা নাসিরউদ্দিনের মৃত্যুর খবরে সবাই ভেঙে পড়েছে। মামার অকালমৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না।

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পশারীবুনিয়া গ্রামের জনি অধিকারী ঢাকার একটি কেজি স্কুলে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। বড় ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ি আসতে গিয়ে নিহত হন। মঙ্গলবার পারিবারিক শ্মশানে তার লাশ সমাহিত করা হয়েছে। অপরদিকে মানজুরুল ইসলাম বাপ্পীর লাশ উপজেলার নদমূলা শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের চরখালী পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। বাপ্পী বরিশালের সরকারি জাগুয়াস্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। বাপ্পীর বাবা অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স করপোরাল ওহিদুল খান জানান, ঢাকায় ফুপাতো বোনের বাসায় বেড়ানো শেষে বাড়ি আসার পথে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় বাপ্পী মারা গেছেন।

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) : শিবচরে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের মাইথার কান্দি গ্রামের রুহুল আমিন মিয়া ও কাউসার মিয়ার লাশ দাফন করা হয়েছে। জানাজায় বিভিন্ন গ্রামের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

শিবচরে ২৬ যাত্রীর প্রাণহানি

স্পিডবোট মালিক চালকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বিভিন্ন স্থানে শোকের মাতম, লাশ দাফন
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৫ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিবচরে সোমবার বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে স্পিডবোটের ২৬ যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার স্পিডবোট মালিক ও চালক, ঘাট ইজারাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে নৌপুলিশ মামলা করে। এ দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া ও কুমিল্লার দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েকজনের লাশ দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়া খুলনার তেরখাদার পারোখালীতে শিশু মিমের বাবা, মা ও দুই বোনের লাশও দাফন করা হয়েছে। এ সম্পর্কে ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

শিবচর (মাদারীপুর) : শিবচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমির হোসেন সেরনিয়াবাত জানান, সোমবার রাতে শিমুলিয়া ঘাটের ইজারাদার, স্পিডবোটের মালিক ও চালকসহ চারজনকে আসামি করে নৌপুলিশের এসআই লোকমান হোসেন মামলা করেন। শিবচর থানায় করা মামলার আসামিরা হলেন : স্পিডবোট চালক নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শাহ আলম, স্পিডবোটের মালিক মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের চান্দু মোল্লা ও লৌহজংয়ের রেজাউল হক এবং শিমুলিয়া ঘাটের ইজারাদার শাহ আলম খান। এ ছাড়া শিমুলিয়া স্পিডবোট পরিচালনাকারী একজনকে আসামি করা হয়েছে। তার পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন জানান, মামলা হয়েছে। শিগগির আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।

বাংলাবাজার ঘাট স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, বাংলাবাজার ঘাট থেকে স্পিডবোট চলাচলে অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, লকডাউনের শুরু থেকেই অনিয়মের খবর পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া তিনজন জানান, স্পিডবোটের চালক নেশাগ্রস্ত ছিল। নদীর মধ্যে একবার দুর্ঘটনারও উপক্রম হয়েছিল। বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন স্পিডবোট চালানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

বরিশাল : শিবচরে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ জনের মধ্যে বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠির নয়জন রয়েছেন। নিহতরা হলেন : বরিশালের ভেদুরিয়া এলাকার আনোয়ার চৌকিদার (৫০), বানারীপাড়া উপজেলার আলাউদ্দিন ব্যাপারী (৪৫), মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আশা এলাকার রত্তু হোসেনের ছেলে সাইদুল হোসেন (২৭), একই উপজেলার পূর্বষট্টি এলাকার রিয়াজ হোসেন (৩৩), সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও উপজেলার পাতারহাট বন্দরের মনির হোসেন চাপরাশি (৩৫), ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রাজাবাড়িয়া এলাকার নাসিরউদ্দিন শিকদার (৪৫), পিরোজপুর সদর উপজেলার চরখানা এলাকার মো. ওহিদুরের ছেলে বাপ্পী (২৮) এবং পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পসারিয়াবুনিয়া এলাকার রঞ্জন অধিকারীর ছেলে জনি অধিকারী (২৬)। নলছিটির তানভির জানান, মামা নাসিরউদ্দিনের মৃত্যুর খবরে সবাই ভেঙে পড়েছে। মামার অকালমৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না।

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) : স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পশারীবুনিয়া গ্রামের জনি অধিকারী ঢাকার একটি কেজি স্কুলে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। বড় ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ি আসতে গিয়ে নিহত হন। মঙ্গলবার পারিবারিক শ্মশানে তার লাশ সমাহিত করা হয়েছে। অপরদিকে মানজুরুল ইসলাম বাপ্পীর লাশ উপজেলার নদমূলা শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের চরখালী পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। বাপ্পী বরিশালের সরকারি জাগুয়াস্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। বাপ্পীর বাবা অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স করপোরাল ওহিদুল খান জানান, ঢাকায় ফুপাতো বোনের বাসায় বেড়ানো শেষে বাড়ি আসার পথে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় বাপ্পী মারা গেছেন।

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) : শিবচরে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের মাইথার কান্দি গ্রামের রুহুল আমিন মিয়া ও কাউসার মিয়ার লাশ দাফন করা হয়েছে। জানাজায় বিভিন্ন গ্রামের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন