উলটো আত্মসাৎ মামলা পরিবহণ ঠিকাদারের
jugantor
চট্টগ্রামে ১৪শ বস্তা চাল জব্দ
উলটো আত্মসাৎ মামলা পরিবহণ ঠিকাদারের
ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চলছে

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

০৬ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ১৪শ বস্তা সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় সম্পৃক্ত পরিবহণ ঠিকাদার মেসার্স সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক একরাম হোসেন সবুজ উলটো ৩শ বস্তা চাল আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছেন।

এতে আসামি করা হয়েছে-ট্রাক মালিক খোকন চন্দ্র দাশ, ট্রাকচালক সোহেল, হেলপার (অজ্ঞাত) ও চাল ব্যবসায়ী বাহার মিয়াকে। চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে গত সোমবার করা মামলা নিয়ে চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগে তোলপাড় চলছে। নগর গোয়েন্দা পুলিশ গত ২১ এপ্রিল ১৪শ বস্তা চাল জব্দ করলেও পরিবহণ ঠিকাদার মামলা করেছেন ৩শ বস্তা চাল আত্মসাতের। এ নিয়ে রহস্যের জন্ম দিয়েছে। খাদ্য বিভাগ বলছে, আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

খাদ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, খাদ্য বিভাগের তালিকাভুক্ত পরিবহণ ঠিকাদারদের মধ্যে জব্দ চাল পরিবহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার হচ্ছে মেসার্স সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্স। ১৪শ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক একরাম হোসেন সবুজের দায় থাকার কথা। অভিযোগ থেকে বাঁচতেই সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্স উলটো মামলা করেছেন। কথা হয় পরিবহণ ঠিকাদার একরাম হোসেন সবুজের সঙ্গে।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার এক ট্রাক বা ৩শ বস্তা চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগে মামলা করেছি। মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। গোয়েন্দা পুলিশ ওই একই গুদাম থেকে ১৪শ বস্তা চাল জব্দ করলেও বাকি ১১শ বস্তা সরকারি চাল কোথা থেকে এলো সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই বলে জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, চাল আত্মসাতের অভিযোগ থেকে বাঁচতে পরিবহণ ঠিকাদার মেসার্স সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্স উলটো ট্রাক মালিক, চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে।

পরিবহণ ঠিকাদার এজাহারে বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৪৫ টন চাল নোয়াখালীর চরভাটা খাদ্যগুদামে পরিবহণের দায়িত্ব পায় তারা। চাল পরিবহণের জন্য শুভ ট্রান্সপোর্টের মালিক খোকন চন্দ্র দাশ থেকে তিনটি ট্রাক ভাড়া নেওয়া হয়। ২৪ এপ্রিল বন্দর থেকে তিনটি ট্রাক চাল নিয়ে নোয়াখালীর চরভাটা এলএসডিতে রওনা হয়। কিন্তু দুটি ট্রাক গন্তব্যস্থল পৌঁছলেও একটি ট্রাক পৌঁছেনি। এতে ৩শ বস্তা চাল খোয়া যায়। লোভে পড়ে এসব চাল পাহাড়তলী বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল বাহার মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাহার মিয়ার গুদাম থেকে ১৪শ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিবহণ ঠিকাদারের মামলার আসামি খোকন চন্দ্র দাশ বলেন, ‘আমি ট্রাক ভাড়া দিয়েছিলাম নোয়াখালীর চরভাটা এলএসডিতে যাওয়ার জন্য। এরপর গাড়ি কোথায় নামল এটি দেখার দায়িত্ব আমার নয়। আমি ট্রাক ভাড়ার মালিক। ট্রাকের মালের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পরিবহণ ঠিকাদারের। খাদ্য বিভাগের দেওয়া ভি-ইনভয়েসে স্বাক্ষর রয়েছে সাইফুল আলম ওরফে নাতি সাইফুল নামে পরিবহণ ঠিকাদারের কর্মচারীর। আমার বিরুদ্ধে মামলা করে নিজেরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে।

কয়েক মাস ধরে জিটুজি ভিত্তিতে ভারত থেকে আমদানি করা সরকারি চাল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হয়ে দেশের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে মজুত করা হচ্ছে। পাহাড়তলী চালের বাজার থেকে উদ্ধার করা ১৪শ বস্তা চাল এই চালানেরই অংশ। চাল জব্দের পর গুদাম মালিক ব্যবসায়ী বাহার মিয়াকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গোয়েন্দা পুলিশের চাল জব্দের ঘটনায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) চাল পরিবহণে জড়িত তিন খাদ্য পরিবহণ ঠিকাদারকে কর্মসূচি থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মেসার্স সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্র্স, মেসার্স জয় কন্সট্রাকশন ও মেসার্স মাদানি কেরিয়ার্স।

গত ২১ এপ্রিল সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যেই প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কেউ মুখ খুলছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনায় যেহেতু মামলা হয়েছে তাই এখনই কিছুই বলা ঠিক হবে না। রিপোর্ট জানাজানি হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সমস্যা হবে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক অনিল কুমার চাকমা। অপর দুই সদস্য হলেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) রূপান্তর চাকমা ও চলাচল সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের উপনিয়ন্ত্রক সুনীল দত্ত।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) রূপান্তর চাকমা যুগান্তরকে বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। প্রতিবেদনে সবকিছুই উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) জহিরুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে আসবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চট্টগ্রামে ১৪শ বস্তা চাল জব্দ

উলটো আত্মসাৎ মামলা পরিবহণ ঠিকাদারের

ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চলছে
 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
০৬ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ১৪শ বস্তা সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় সম্পৃক্ত পরিবহণ ঠিকাদার মেসার্স সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক একরাম হোসেন সবুজ উলটো ৩শ বস্তা চাল আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছেন।

এতে আসামি করা হয়েছে-ট্রাক মালিক খোকন চন্দ্র দাশ, ট্রাকচালক সোহেল, হেলপার (অজ্ঞাত) ও চাল ব্যবসায়ী বাহার মিয়াকে। চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে গত সোমবার করা মামলা নিয়ে চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগে তোলপাড় চলছে। নগর গোয়েন্দা পুলিশ গত ২১ এপ্রিল ১৪শ বস্তা চাল জব্দ করলেও পরিবহণ ঠিকাদার মামলা করেছেন ৩শ বস্তা চাল আত্মসাতের। এ নিয়ে রহস্যের জন্ম দিয়েছে। খাদ্য বিভাগ বলছে, আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

খাদ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, খাদ্য বিভাগের তালিকাভুক্ত পরিবহণ ঠিকাদারদের মধ্যে জব্দ চাল পরিবহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার হচ্ছে মেসার্স সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্স। ১৪শ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক একরাম হোসেন সবুজের দায় থাকার কথা। অভিযোগ থেকে বাঁচতেই সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্স উলটো মামলা করেছেন। কথা হয় পরিবহণ ঠিকাদার একরাম হোসেন সবুজের সঙ্গে।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার এক ট্রাক বা ৩শ বস্তা চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগে মামলা করেছি। মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। গোয়েন্দা পুলিশ ওই একই গুদাম থেকে ১৪শ বস্তা চাল জব্দ করলেও বাকি ১১শ বস্তা সরকারি চাল কোথা থেকে এলো সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই বলে জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, চাল আত্মসাতের অভিযোগ থেকে বাঁচতে পরিবহণ ঠিকাদার মেসার্স সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্স উলটো ট্রাক মালিক, চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে।

পরিবহণ ঠিকাদার এজাহারে বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৪৫ টন চাল নোয়াখালীর চরভাটা খাদ্যগুদামে পরিবহণের দায়িত্ব পায় তারা। চাল পরিবহণের জন্য শুভ ট্রান্সপোর্টের মালিক খোকন চন্দ্র দাশ থেকে তিনটি ট্রাক ভাড়া নেওয়া হয়। ২৪ এপ্রিল বন্দর থেকে তিনটি ট্রাক চাল নিয়ে নোয়াখালীর চরভাটা এলএসডিতে রওনা হয়। কিন্তু দুটি ট্রাক গন্তব্যস্থল পৌঁছলেও একটি ট্রাক পৌঁছেনি। এতে ৩শ বস্তা চাল খোয়া যায়। লোভে পড়ে এসব চাল পাহাড়তলী বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল বাহার মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাহার মিয়ার গুদাম থেকে ১৪শ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিবহণ ঠিকাদারের মামলার আসামি খোকন চন্দ্র দাশ বলেন, ‘আমি ট্রাক ভাড়া দিয়েছিলাম নোয়াখালীর চরভাটা এলএসডিতে যাওয়ার জন্য। এরপর গাড়ি কোথায় নামল এটি দেখার দায়িত্ব আমার নয়। আমি ট্রাক ভাড়ার মালিক। ট্রাকের মালের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পরিবহণ ঠিকাদারের। খাদ্য বিভাগের দেওয়া ভি-ইনভয়েসে স্বাক্ষর রয়েছে সাইফুল আলম ওরফে নাতি সাইফুল নামে পরিবহণ ঠিকাদারের কর্মচারীর। আমার বিরুদ্ধে মামলা করে নিজেরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে।

কয়েক মাস ধরে জিটুজি ভিত্তিতে ভারত থেকে আমদানি করা সরকারি চাল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হয়ে দেশের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে মজুত করা হচ্ছে। পাহাড়তলী চালের বাজার থেকে উদ্ধার করা ১৪শ বস্তা চাল এই চালানেরই অংশ। চাল জব্দের পর গুদাম মালিক ব্যবসায়ী বাহার মিয়াকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গোয়েন্দা পুলিশের চাল জব্দের ঘটনায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) চাল পরিবহণে জড়িত তিন খাদ্য পরিবহণ ঠিকাদারকে কর্মসূচি থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মেসার্স সবুজ অ্যান্ড ব্রাদার্র্স, মেসার্স জয় কন্সট্রাকশন ও মেসার্স মাদানি কেরিয়ার্স।

গত ২১ এপ্রিল সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যেই প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কেউ মুখ খুলছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনায় যেহেতু মামলা হয়েছে তাই এখনই কিছুই বলা ঠিক হবে না। রিপোর্ট জানাজানি হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সমস্যা হবে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক অনিল কুমার চাকমা। অপর দুই সদস্য হলেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) রূপান্তর চাকমা ও চলাচল সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের উপনিয়ন্ত্রক সুনীল দত্ত।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) রূপান্তর চাকমা যুগান্তরকে বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। প্রতিবেদনে সবকিছুই উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) জহিরুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে আসবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন