ইসির সহযোগিতায় বিজেপি রিগিং করেছে : মমতা
jugantor
ফের স্পিকার বরিশালের ভূমিপুত্র বিমান
ইসির সহযোগিতায় বিজেপি রিগিং করেছে : মমতা

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা  

০৯ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এবার বিধানসভা ভোটে বিজেপি রিগিং করেছে বলে শনিবার অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বিধানসভা অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের পর স্বাগত ভাষণ দিতে গিয়ে মমতার স্পষ্ট অভিযোগ, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কোথাও কোথাও রিগিং হয়েছে। আমরা তার সবটা জানি। সব বুঝতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা সুপ্রিমকোর্টে মামলা করব।’ তবে মুখ্যমন্ত্রীর এদিন স্পষ্ট মন্তব্য, কমিশন সাহায্য না করলে বিজেপি ৩০টি আসনও পেত না। বিরোধীরা এবার যে কজন জিতেছেন তা পুরোপুরি কমিশনের দয়ায়।

এবার বিধানসভা ভোটে ২৯২টি আসনে ভোট হয়েছে। মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩ এবং বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়েছে। এদিন ফের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বি^তায় তৃতীয়বারের জন্য স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের বরিশালের ভূমিপুত্র বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বরিশাল কলেজের উল্টোদিকে পৈতৃকবাড়ি বিমান বাবুদের। মাত্র ৪ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে তিনি কলকাতা চলে যান। ২০১৮ সালে কমনওয়েলথ স্পিকার সম্মেলনে তিনি ঢাকায় এসে বরিশালে নিজের জন্মভিটায় গিয়েছিলেন। কাল, সোমবার সকালে মমতার মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ হবে কলকাতার রাজভবনে। শপথের পরেই প্রথম কেবিনেট বৈঠকও করবেন মমতা।

বিধানসভা ভোটে নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন কমিশনার ও শীর্ষ অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে এদিন রাজ্য আইনসভায় দাঁড়িয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন মমতা। বিশেষ করে বিজেপি যেসব অভিযোগ করেছে সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোকেই বাস্তবায়িত করে একের পর এক দক্ষ ও সৎ অফিসারকে প্রশাসনিক বদলি করা হয়েছে। বস্তুত নির্বাচন কমিশনারদের ভূমিকা নিয়ে কড়া তোপ দেগে মমতার বক্তব্য, ‘আমরা আবার বলছি, নির্বাচন কমিশনের আমূল সংস্কার হওয়ার প্রয়োজন আছে। তিনজন মনোনীত আমলা কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে নিয়ে ভোটের সময় যা খুশি সিদ্ধান্ত নেবে তা মানা যায় না। বিজেপি অফিস থেকে যা বলে দিচ্ছে, তাই মেনে নিয়ে বদলির অর্ডার করে দিচ্ছে। চিরকুট লিখে লিখে জেলায় জেলায় ডিএম, এসপি বদলি করে দিয়েছে কমিশন।’ ভোটে কমিশনের প্রকৃত ভূমিকা ব্যাখ্যা করে মমতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাজ রিগিং না হতে দেওয়া। তাই হয়ে আসছিল এতদিন। টিএন শেষনের সময় থেকে আমি কমিশনকে দেখে এসেছি। এখন তার পুরো উল্টো ভূমিকা কমিশনের। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ মদতে একাধিক জায়গায় এবার রিগিং হয়েছে।’ এদিন নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে এক হাত নিয়ে ভোটে জলের মতো টাকা খরচের অভিযোগ করেন মমতা। বলেন, ‘কত কোটি টাকা খরচ করেছে, তার কোনো হিসাব নেই। কত কোটি টাকার হোটেল, বিমান ভাড়া হয়েছে তা ভাবা যাবে না। হোস পাইপে করে জল ঢালার মতো ওরা টাকা খরচ করেছে। ওই টাকাটা খরচ করে যদি সবাইকে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া যেত, তা হলে এতদিনে সবার টিকা পাওয়া হয়ে যেত। সার্বিক টিকাকরণ হতো, মানুষ কোভিড থেকে বেঁচে যেত।’

বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে কার্যত গোটা কেন্দ্রীয় সরকারই বাংলায় উঠে এসেছিল। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তাদের মন্ত্রীরাও বাংলায় জেলায় জেলায় ঘাঁটি গেড়েছিলেন। কিন্তু তাতেও যে ২১৩ আসন নিয়ে তৃণমূলের তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরা কোনো ভাবে আটকানো যায়নি এদিন তা ফের উল্লেখ করেন মমতা।

বলেন, ‘এত চক্রান্ত ভাবা যায় না। কার্যত রাষ্ট্রশক্তি যেন বাংলায় উঠে এসেছিল। যে কোনো মূল্যে নাকি ওদের বাংলা দখল করতে হবে। ওরা বলেছিল, ডাবল ইঞ্জিন সরকার, আমরা বলেছিলাম ডাবল সেঞ্চুরির সরকার। কিন্তু মানুষ লোকসভা ভোটের মতো এবার আর ওদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়নি। একবার ডাবল ইঞ্জিন করতে গিয়ে নোটবন্দি চালু করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা।

ভারতের নির্বাচনি ইতিহাসে এই প্রথম তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ী ২১৩ জন বিধায়কই প্রত্যেকে গড়ে ৩১ হাজার ৭৬০টি হিসাবে ভোট পেয়েছেন। এর আগে দেশের অন্য কোনো দলের বিধায়করা বিধানসভা নির্বাচনে গড়ে এত ভোট পাননি বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার কথায়, ‘এ এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ইতিহাস। মিরাকল! আমি বাংলার নারীশক্তির কাছে মাথানত করছি। মা-বোন তরুণ প্রজšে§র অধিকাংশ ভোটও আমরা পেয়েছি। অনেকের কোভিড হওয়া সত্ত্বেও তারা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। বাংলার মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতায় আমার মাথা নত হয়ে আসছে।’ নির্বাচন পরবর্তী হিংসা রুখতে তার সরকার যে ইতোমধ্যে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে তা একাধিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে রাজধর্ম পালনের মধ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনও বিধানসভার বক্তব্যে তার স্পষ্ট বার্তা ছিল, রাজ্যের কোনো এলাকায় কোথাও বিন্দুমাত্র অশান্তি তিনি বরদাস্ত করবেন না। মমতার কথায়, ‘বাংলার মানুষ প্রমাণ করেছেন, তাদের মেরুদণ্ড আছে। বাংলার মেরুদণ্ড আছে। তারা বলেছেন, চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।’

ফের স্পিকার বরিশালের ভূমিপুত্র বিমান

ইসির সহযোগিতায় বিজেপি রিগিং করেছে : মমতা

 কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা 
০৯ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এবার বিধানসভা ভোটে বিজেপি রিগিং করেছে বলে শনিবার অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বিধানসভা অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের পর স্বাগত ভাষণ দিতে গিয়ে মমতার স্পষ্ট অভিযোগ, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কোথাও কোথাও রিগিং হয়েছে। আমরা তার সবটা জানি। সব বুঝতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা সুপ্রিমকোর্টে মামলা করব।’ তবে মুখ্যমন্ত্রীর এদিন স্পষ্ট মন্তব্য, কমিশন সাহায্য না করলে বিজেপি ৩০টি আসনও পেত না। বিরোধীরা এবার যে কজন জিতেছেন তা পুরোপুরি কমিশনের দয়ায়।

এবার বিধানসভা ভোটে ২৯২টি আসনে ভোট হয়েছে। মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩ এবং বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়েছে। এদিন ফের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বি^তায় তৃতীয়বারের জন্য স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের বরিশালের ভূমিপুত্র বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বরিশাল কলেজের উল্টোদিকে পৈতৃকবাড়ি বিমান বাবুদের। মাত্র ৪ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে তিনি কলকাতা চলে যান। ২০১৮ সালে কমনওয়েলথ স্পিকার সম্মেলনে তিনি ঢাকায় এসে বরিশালে নিজের জন্মভিটায় গিয়েছিলেন। কাল, সোমবার সকালে মমতার মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ হবে কলকাতার রাজভবনে। শপথের পরেই প্রথম কেবিনেট বৈঠকও করবেন মমতা।

বিধানসভা ভোটে নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন কমিশনার ও শীর্ষ অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে এদিন রাজ্য আইনসভায় দাঁড়িয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন মমতা। বিশেষ করে বিজেপি যেসব অভিযোগ করেছে সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোকেই বাস্তবায়িত করে একের পর এক দক্ষ ও সৎ অফিসারকে প্রশাসনিক বদলি করা হয়েছে। বস্তুত নির্বাচন কমিশনারদের ভূমিকা নিয়ে কড়া তোপ দেগে মমতার বক্তব্য, ‘আমরা আবার বলছি, নির্বাচন কমিশনের আমূল সংস্কার হওয়ার প্রয়োজন আছে। তিনজন মনোনীত আমলা কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে নিয়ে ভোটের সময় যা খুশি সিদ্ধান্ত নেবে তা মানা যায় না। বিজেপি অফিস থেকে যা বলে দিচ্ছে, তাই মেনে নিয়ে বদলির অর্ডার করে দিচ্ছে। চিরকুট লিখে লিখে জেলায় জেলায় ডিএম, এসপি বদলি করে দিয়েছে কমিশন।’ ভোটে কমিশনের প্রকৃত ভূমিকা ব্যাখ্যা করে মমতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাজ রিগিং না হতে দেওয়া। তাই হয়ে আসছিল এতদিন। টিএন শেষনের সময় থেকে আমি কমিশনকে দেখে এসেছি। এখন তার পুরো উল্টো ভূমিকা কমিশনের। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ মদতে একাধিক জায়গায় এবার রিগিং হয়েছে।’ এদিন নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে এক হাত নিয়ে ভোটে জলের মতো টাকা খরচের অভিযোগ করেন মমতা। বলেন, ‘কত কোটি টাকা খরচ করেছে, তার কোনো হিসাব নেই। কত কোটি টাকার হোটেল, বিমান ভাড়া হয়েছে তা ভাবা যাবে না। হোস পাইপে করে জল ঢালার মতো ওরা টাকা খরচ করেছে। ওই টাকাটা খরচ করে যদি সবাইকে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া যেত, তা হলে এতদিনে সবার টিকা পাওয়া হয়ে যেত। সার্বিক টিকাকরণ হতো, মানুষ কোভিড থেকে বেঁচে যেত।’

বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে কার্যত গোটা কেন্দ্রীয় সরকারই বাংলায় উঠে এসেছিল। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তাদের মন্ত্রীরাও বাংলায় জেলায় জেলায় ঘাঁটি গেড়েছিলেন। কিন্তু তাতেও যে ২১৩ আসন নিয়ে তৃণমূলের তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরা কোনো ভাবে আটকানো যায়নি এদিন তা ফের উল্লেখ করেন মমতা।

বলেন, ‘এত চক্রান্ত ভাবা যায় না। কার্যত রাষ্ট্রশক্তি যেন বাংলায় উঠে এসেছিল। যে কোনো মূল্যে নাকি ওদের বাংলা দখল করতে হবে। ওরা বলেছিল, ডাবল ইঞ্জিন সরকার, আমরা বলেছিলাম ডাবল সেঞ্চুরির সরকার। কিন্তু মানুষ লোকসভা ভোটের মতো এবার আর ওদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়নি। একবার ডাবল ইঞ্জিন করতে গিয়ে নোটবন্দি চালু করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা।

ভারতের নির্বাচনি ইতিহাসে এই প্রথম তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ী ২১৩ জন বিধায়কই প্রত্যেকে গড়ে ৩১ হাজার ৭৬০টি হিসাবে ভোট পেয়েছেন। এর আগে দেশের অন্য কোনো দলের বিধায়করা বিধানসভা নির্বাচনে গড়ে এত ভোট পাননি বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার কথায়, ‘এ এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ইতিহাস। মিরাকল! আমি বাংলার নারীশক্তির কাছে মাথানত করছি। মা-বোন তরুণ প্রজšে§র অধিকাংশ ভোটও আমরা পেয়েছি। অনেকের কোভিড হওয়া সত্ত্বেও তারা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। বাংলার মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতায় আমার মাথা নত হয়ে আসছে।’ নির্বাচন পরবর্তী হিংসা রুখতে তার সরকার যে ইতোমধ্যে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে তা একাধিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে রাজধর্ম পালনের মধ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনও বিধানসভার বক্তব্যে তার স্পষ্ট বার্তা ছিল, রাজ্যের কোনো এলাকায় কোথাও বিন্দুমাত্র অশান্তি তিনি বরদাস্ত করবেন না। মমতার কথায়, ‘বাংলার মানুষ প্রমাণ করেছেন, তাদের মেরুদণ্ড আছে। বাংলার মেরুদণ্ড আছে। তারা বলেছেন, চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন