গাছ কাটা বন্ধে ৭ আইনি নোটিশ
jugantor
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
গাছ কাটা বন্ধে ৭ আইনি নোটিশ

  যুগান্তর প্রতিবেদন ও ঢাবি প্রতিনিধি  

০৯ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা বন্ধে ছয়টি সংগঠন ও এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ১০টি জাতীয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ফেডারেশন। এছাড়া উদ্যানের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। এদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুগ্ম সচিব মো. হাবিবুল ইসলাম।

সাত সংগঠন-ব্যক্তির নোটিশ : বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফরমস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), নিজেরা করি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন এ আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর। বৃহস্পতিবার পাঠানো এ নোটিশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বিনষ্টকরণ হতে বিরত থাকতে, শতবর্ষী ও বিলুপ্ত প্রায় পাখিদের আশ্রয়স্থল বৃক্ষগুলোকে না কাটতে এবং এরই মধ্যে কেটে ফেলা বৃক্ষগুলোর জায়গায় একই প্রজাতির তিনগুণ বৃক্ষরোপণের দাবি জানানো হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়।

উদ্যানকে ধ্বংস থেকে রক্ষার আহবান : গাছ কাটাসহ নানা স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ১০টি জাতীয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ফেডারেশন। সংগঠনগুলো হলো- সম্মিলিতসাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্র ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে শনিবার বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই উদ্যানকে খণ্ডিত করে ইট-পাথরের কাঠামো এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ বানিয়ে কোনো অবস্থাতেই ধ্বংস করা যাবে না। ইতিহাসকে রক্ষা করতে হলে তার পরিবেশ এবং স্থানিক অবস্থানকেও রক্ষা করতে হয়।

ছাত্র ফ্রন্টের বিক্ষোভ : সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটি শনিবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানার সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাশিদুজ্জামান ফরিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী প্রমুখ।

এক হাজার গাছ লাগানো হবে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে প্রায় ১ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক ও যুগ্মসচিব মো. হাবিবুল ইসলাম বাসসকে শনিবার এ কথা জানান। তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, আধুনিক নগর উপযোগী সবুজের আবহে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

গাছ কাটা বন্ধে ৭ আইনি নোটিশ

 যুগান্তর প্রতিবেদন ও ঢাবি প্রতিনিধি 
০৯ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা বন্ধে ছয়টি সংগঠন ও এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ১০টি জাতীয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ফেডারেশন। এছাড়া উদ্যানের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। এদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুগ্ম সচিব মো. হাবিবুল ইসলাম।

সাত সংগঠন-ব্যক্তির নোটিশ : বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফরমস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), নিজেরা করি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন এ আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবীর। বৃহস্পতিবার পাঠানো এ নোটিশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বিনষ্টকরণ হতে বিরত থাকতে, শতবর্ষী ও বিলুপ্ত প্রায় পাখিদের আশ্রয়স্থল বৃক্ষগুলোকে না কাটতে এবং এরই মধ্যে কেটে ফেলা বৃক্ষগুলোর জায়গায় একই প্রজাতির তিনগুণ বৃক্ষরোপণের দাবি জানানো হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়।

উদ্যানকে ধ্বংস থেকে রক্ষার আহবান : গাছ কাটাসহ নানা স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ১০টি জাতীয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ফেডারেশন। সংগঠনগুলো হলো- সম্মিলিতসাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্র ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে শনিবার বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই উদ্যানকে খণ্ডিত করে ইট-পাথরের কাঠামো এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ বানিয়ে কোনো অবস্থাতেই ধ্বংস করা যাবে না। ইতিহাসকে রক্ষা করতে হলে তার পরিবেশ এবং স্থানিক অবস্থানকেও রক্ষা করতে হয়।

ছাত্র ফ্রন্টের বিক্ষোভ : সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটি শনিবার সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানার সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাশিদুজ্জামান ফরিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী প্রমুখ।

এক হাজার গাছ লাগানো হবে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে প্রায় ১ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক ও যুগ্মসচিব মো. হাবিবুল ইসলাম বাসসকে শনিবার এ কথা জানান। তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, আধুনিক নগর উপযোগী সবুজের আবহে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন