হোটেলে বহিরাগত স্বজনের সংস্পর্শে সংক্রমণ ঝুঁকি
jugantor
হোটেলে বহিরাগত স্বজনের সংস্পর্শে সংক্রমণ ঝুঁকি
যশোরে ভারতফেরতদের কোয়ারেন্টিন * মার্কেট সংলগ্ন হোটেলে জনসমাগম বেশি

  ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর  

১০ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হোটেলে বহিরাগত স্বজনের সংস্পর্শে সংক্রমণ ঝুঁকি

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আসা বাংলাদেশি যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন (সঙ্গত্যাগ) নিশ্চিত করছে জেলা প্রশাসন। বেনাপোল, ঝিকরগাছা ও যশোর শহরের হোটেলে তাদের নিজ খরচে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব হোটেলের মধ্যে বেশ কয়েকটি শহরের প্রাণকেন্দ্রের বিপণিবিতান সংলগ্ন। ফলে হোটেল ভবনে জনসমাগম বেশি হচ্ছে। একই সাথে বাইরে থেকে খাবার সরবরাহকারী আত্মীয়স্বজনের সংস্পর্শে যাচ্ছেন তারা। সম্প্রতি হোটেলে থাকা ভারতফেরত এক ব্যক্তির বহিরাগত স্বজনের সংস্পর্শ ঠেকাতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন ট্যাগ অফিসার (সরকারি কর্মকর্তা)। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

গত ১৩ দিনে (২৬ এপ্রিল থেকে ৮ মে) বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ২ হাজার ৫৬৪ জন যাত্রী। এদের ১৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দুইজনের শরীরে ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ পাওয়া গেছে। তাদেরকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, আবাসিক হোটেলে রাখা ভারতফেরত বাংলাদেশিদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন। পাসপোর্টধারীদের হোটেলের বাইরে আসার সুযোগ নেই। আবার বহিরাগতদেরও তাদের সংস্পর্শে যাওয়ার সুযোগ নেই। এটি নিশ্চিতে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। একই সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিটরিং করছে। নিরাপত্তায় আনসার সদস্য ও পুলিশ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে আত্মীয়স্বজনের দেখা করে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ায় একজন ট্যাগ অফিসার লাঞ্ছিত করেছে। ওই কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ করেছেন। মানুষকে কোয়ারেন্টিন মানাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আসা ২ হাজার ৫৬৪ জন যাত্রীর মধ্যে যশোর জেলায় অবস্থান করছে এক হাজার ১৪৯ জন। যার মধ্যে যশোর শহরের বিভিন্ন হোটেলে ৪৩৭ জন, বেনাপোলে হোটেলে ৪৩৮ জন, গাজীরদরগায় ১৪০ জন, যশোর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ৯৯ জন, অন্যান্য ক্লিনিক ৩ জন ও যশোর জেনারেল হাসপাতাল করোনা ইউনিটে পজিটিভ ১৩ জনসহ ৩২ জনকে রাখা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য জেলায় এক হাজার ১৬৩ জনকে রাখা হয়েছে। ভারত ফেরত রোগীদের কোয়ারেন্টিনে রাখার জন্য যশোর শহরের ১৪টি হোটেল রিকুইজিশন করেছে জেলা প্রশাসন। সরেজমিনে রোববার দেখা যায়, বিপণিবিতান সংলগ্ন হোটেলগুলোর ভবনে মানুষের ভিড়। কেনাকাটা করতে আসা মানুষের সঙ্গে একই সিঁড়িতে যাতায়াত করছেন রোগীর স্বজন, হোটেলকর্মীরা। ব্যাপক জনসমাগম হওয়ায় কোয়ারেন্টিনে থাকা মানুষের সঙ্গে তাদের সংস্পর্শের আশংকা থেকেই যাচ্ছে। একই সাথে হোটেল খাবার দিতে আসা বহিরাগত আত্মীয়স্বজনের অনেকেই তাদের সংস্পর্শে যাচ্ছেন। এতে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। যদিও হোটেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের দাবি সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনেই তাদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করছে।

হোটেলে স্বজনের খাবার দিতে আসা অনুপ কুমার পিন্টু বলেন, ক্যানসার, কিডনির মতো জটিল রোগে আক্রান্তরা চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তাদের খাবার মান ও পরিমাণ চিকিৎসক নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে হোটেলের খাবার তাদের উপযোগী নয়। এজন্য আত্মীয়স্বজনের বাড়ির খাবার দিতে হচ্ছে। যাদের আত্মীয়স্বজন আশপাশে নেই, তাদের ভোগান্তি বেশি। শহরের দড়াটানা মোড় সংলগ্ন এইচএমএম রোডে অবস্থিত হোটেল মাস্ক। সেখানে রাখা হয়েছে ২৪ জন ভারতফেরত বাংলাদেশি। হোটেলটির ম্যানেজার মোহাম্মদ মঈন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভারতফেরত যাত্রীদের ফ্লোরের বাইরে আসার সুযোগ নেই। সেখান থেকেই তারা দরকারি জিনিস অর্ডার করলে হোটেল কর্মীরা পৌঁছে দেয়। অনলাইন অর্ডার ও হোটেল কর্মীদের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হয়। ফলে তাদেরকে সংস্পর্শে যাওয়ার সুযোগ নেই।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, ভারত থেকে অবৈধ পথে চুয়াডাঙ্গায় আসা চারজনকে বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছে প্রশাসন। তাদেরকে শরিবার সন্ধ্যায় অ্যাম্বুলেন্সে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা শুক্রবার অবৈধ পথে ভারত থেকে চুয়াডাঙ্গায় ফেরেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা তাদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। তারা এখন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আছেন।’

হোটেলে বহিরাগত স্বজনের সংস্পর্শে সংক্রমণ ঝুঁকি

যশোরে ভারতফেরতদের কোয়ারেন্টিন * মার্কেট সংলগ্ন হোটেলে জনসমাগম বেশি
 ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর 
১০ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
হোটেলে বহিরাগত স্বজনের সংস্পর্শে সংক্রমণ ঝুঁকি
ফাইল ছবি

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আসা বাংলাদেশি যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন (সঙ্গত্যাগ) নিশ্চিত করছে জেলা প্রশাসন। বেনাপোল, ঝিকরগাছা ও যশোর শহরের হোটেলে তাদের নিজ খরচে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব হোটেলের মধ্যে বেশ কয়েকটি শহরের প্রাণকেন্দ্রের বিপণিবিতান সংলগ্ন। ফলে হোটেল ভবনে জনসমাগম বেশি হচ্ছে। একই সাথে বাইরে থেকে খাবার সরবরাহকারী আত্মীয়স্বজনের সংস্পর্শে যাচ্ছেন তারা। সম্প্রতি হোটেলে থাকা ভারতফেরত এক ব্যক্তির বহিরাগত স্বজনের সংস্পর্শ ঠেকাতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন ট্যাগ অফিসার (সরকারি কর্মকর্তা)। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

গত ১৩ দিনে (২৬ এপ্রিল থেকে ৮ মে) বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ২ হাজার ৫৬৪ জন যাত্রী। এদের ১৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দুইজনের শরীরে ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ পাওয়া গেছে। তাদেরকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, আবাসিক হোটেলে রাখা ভারতফেরত বাংলাদেশিদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন। পাসপোর্টধারীদের হোটেলের বাইরে আসার সুযোগ নেই। আবার বহিরাগতদেরও তাদের সংস্পর্শে যাওয়ার সুযোগ নেই। এটি নিশ্চিতে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। একই সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিটরিং করছে। নিরাপত্তায় আনসার সদস্য ও পুলিশ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে আত্মীয়স্বজনের দেখা করে কথা বলার সুযোগ না দেওয়ায় একজন ট্যাগ অফিসার লাঞ্ছিত করেছে। ওই কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ করেছেন। মানুষকে কোয়ারেন্টিন মানাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আসা ২ হাজার ৫৬৪ জন যাত্রীর মধ্যে যশোর জেলায় অবস্থান করছে এক হাজার ১৪৯ জন। যার মধ্যে যশোর শহরের বিভিন্ন হোটেলে ৪৩৭ জন, বেনাপোলে হোটেলে ৪৩৮ জন, গাজীরদরগায় ১৪০ জন, যশোর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ৯৯ জন, অন্যান্য ক্লিনিক ৩ জন ও যশোর জেনারেল হাসপাতাল করোনা ইউনিটে পজিটিভ ১৩ জনসহ ৩২ জনকে রাখা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য জেলায় এক হাজার ১৬৩ জনকে রাখা হয়েছে। ভারত ফেরত রোগীদের কোয়ারেন্টিনে রাখার জন্য যশোর শহরের ১৪টি হোটেল রিকুইজিশন করেছে জেলা প্রশাসন। সরেজমিনে রোববার দেখা যায়, বিপণিবিতান সংলগ্ন হোটেলগুলোর ভবনে মানুষের ভিড়। কেনাকাটা করতে আসা মানুষের সঙ্গে একই সিঁড়িতে যাতায়াত করছেন রোগীর স্বজন, হোটেলকর্মীরা। ব্যাপক জনসমাগম হওয়ায় কোয়ারেন্টিনে থাকা মানুষের সঙ্গে তাদের সংস্পর্শের আশংকা থেকেই যাচ্ছে। একই সাথে হোটেল খাবার দিতে আসা বহিরাগত আত্মীয়স্বজনের অনেকেই তাদের সংস্পর্শে যাচ্ছেন। এতে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। যদিও হোটেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের দাবি সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনেই তাদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করছে।

হোটেলে স্বজনের খাবার দিতে আসা অনুপ কুমার পিন্টু বলেন, ক্যানসার, কিডনির মতো জটিল রোগে আক্রান্তরা চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তাদের খাবার মান ও পরিমাণ চিকিৎসক নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে হোটেলের খাবার তাদের উপযোগী নয়। এজন্য আত্মীয়স্বজনের বাড়ির খাবার দিতে হচ্ছে। যাদের আত্মীয়স্বজন আশপাশে নেই, তাদের ভোগান্তি বেশি। শহরের দড়াটানা মোড় সংলগ্ন এইচএমএম রোডে অবস্থিত হোটেল মাস্ক। সেখানে রাখা হয়েছে ২৪ জন ভারতফেরত বাংলাদেশি। হোটেলটির ম্যানেজার মোহাম্মদ মঈন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভারতফেরত যাত্রীদের ফ্লোরের বাইরে আসার সুযোগ নেই। সেখান থেকেই তারা দরকারি জিনিস অর্ডার করলে হোটেল কর্মীরা পৌঁছে দেয়। অনলাইন অর্ডার ও হোটেল কর্মীদের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হয়। ফলে তাদেরকে সংস্পর্শে যাওয়ার সুযোগ নেই।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, ভারত থেকে অবৈধ পথে চুয়াডাঙ্গায় আসা চারজনকে বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছে প্রশাসন। তাদেরকে শরিবার সন্ধ্যায় অ্যাম্বুলেন্সে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা শুক্রবার অবৈধ পথে ভারত থেকে চুয়াডাঙ্গায় ফেরেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশরাত জাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা তাদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। তারা এখন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আছেন।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস