টঙ্গীতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে অর্ধশত আহত
jugantor
টঙ্গীতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে অর্ধশত আহত
গুলিবিদ্ধ ১৩ জনকে ঢাকায় স্থানান্তও * সোমবার থেকে ছুটি ঘোষণা

  যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর, কালিয়াকৈর ও টঙ্গী পশ্চিম প্রতিনিধি  

১১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টঙ্গীতে গার্মেন্ট শ্রমিক ও পুলিশ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে সোমবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও যানবাহন ভাঙচুর চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া আরও ৩০ জন শ্রমিক এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। গুলিবিদ্ধ ১৩ শ্রমিকসহ গুরুতর আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গীর মিলবাজার হামীম শিল্পগোষ্ঠীর ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় মিলগেট শহীদ সুন্দর আলী সড়কের ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড কারখানা ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশত শ্রমিক আহত হন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১৩ শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা হলেন- মামুন, রবি, লতিফ, ইমরান, রুবেল, রনি, এহসানুল হক, রাজীবুল, হাসান, হাসিনা ও সাব্বির। এছাড়া পুলিশের সিটি এসবি শাখার এএসআই রুবেলকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের ওই হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ১০ দিনের ছুটির জন্য তারা অনেক আগে থেকে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ১০ দিনের ছুটি ভোগ করার শর্তে দুটি সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকরা কাজ করেন। ঈদের ছুটির মধ্যে আরেকটি সাপ্তাহিক বন্ধের দিন পড়ায় শ্রমিকদের হিসাবে ১০ দিনের ছুটি প্রাপ্ত হন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সাত দিনের ছুটি দিতে চান। সোমবার সকালে শ্রমিকরা কাজে এসে জানতে পারেন তাদের সাত দিনের ছুটিই দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিকরা ১০ দিনের ছুটির দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন এবং রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেটের মুখে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বেলা পৌনে ১টার দিকে তারা আবার একত্রিত হয়ে স্থানীয় মিলগেট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-ময়নসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও শটগানের গুলিবর্ষণ করে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে। দুপুর দেড়টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

হামিম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষ্যে শ্রমিকদের সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আন্দোলন চালিয়ে শ্রমিকরা কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ জানান, অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় কারখানায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বেলা ১১টার দিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ শটগানের ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। শ্রমিকদের হামলায় শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ, গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল পাশা ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রুবেল হাওলাদারসহ পাঁচজন আহত হন। তাদের টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাসুদ রানা জানান, জরুরি বিভাগে ১৯ শ্রমিককে আনা হয়। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আহত শ্রমিকদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ (রাবার বুলেট)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, গুলিবিদ্ধ নয় শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ : এদিকে ঈদ বোনাস, বকেয়া বেতন ও বর্ধিত ছুটির দাবিতে টঙ্গীর সাতাইশ এলাকার তামিশনা পোশাক কারখানায়ও শ্রমিক অসন্তোষ বিরাজ করে। কারখানাটির আন্দোলনরত শ্রমিকরা সোমবার কর্মবিরতি পালন করেন। পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সফল আলোচনার পর বিকাল ৩টার দিকে তারা কাজে যোগ দেন।

কালিয়াকৈরে বিশ্বাসপাড়ায় বিক্ষোভ : কালিয়াকৈর উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকার স্টার লিঙ্ক ডিজাইন লিমিটেড নামের কারখানার শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, কারখানার শ্রমিকরা সোমবার সকালে কাজে যোগ দিতে গিয়ে জানতে পারেন তাদের ঈদের ছুটি তিন দিন দেওয়া হয়েছে। খবরটি কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ছুটি বাড়ানোর দাবিতে তারা কাজ বন্ধ করে কারখানার সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়কের পাশে নিয়ে যায়। শ্রমিকদের দাবি, তাদের ১০ দিনের ছুটি দিতে হবে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক কমর উদ্দিন বলেন, কারখানার শ্রমিকরা প্রথমে ১০ দিনের ছুটি চেয়েছিলেন। সেটি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ১০ দিনের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। এখন শ্রমিকরা আরও বেশি ছুটির দাবি করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিক্ষোভের মুখে ছুটি বাড়াল কর্তৃপক্ষ : গাজীপুর সদরের হোতাপাড়ার ফুয়াং ফুড লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা ঈদ বোনাস ও ছুটি ১০ দিন করার দাবিতে সোমবার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আল রশিদ জানান, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যেতে বলা হয়। কর্তৃপক্ষ ছুটি বাড়ালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন।

কারখানার ম্যানেজার শুক্কুর মাহবুব বলেন, শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ ঈদ বোনাস দিতে ও ছুটি বাড়াতে সম্মত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হবে।

টঙ্গীতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে অর্ধশত আহত

গুলিবিদ্ধ ১৩ জনকে ঢাকায় স্থানান্তও * সোমবার থেকে ছুটি ঘোষণা
 যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর, কালিয়াকৈর ও টঙ্গী পশ্চিম প্রতিনিধি 
১১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

টঙ্গীতে গার্মেন্ট শ্রমিক ও পুলিশ সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে সোমবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও যানবাহন ভাঙচুর চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া আরও ৩০ জন শ্রমিক এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। গুলিবিদ্ধ ১৩ শ্রমিকসহ গুরুতর আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গীর মিলবাজার হামীম শিল্পগোষ্ঠীর ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় মিলগেট শহীদ সুন্দর আলী সড়কের ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড কারখানা ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশত শ্রমিক আহত হন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১৩ শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা হলেন- মামুন, রবি, লতিফ, ইমরান, রুবেল, রনি, এহসানুল হক, রাজীবুল, হাসান, হাসিনা ও সাব্বির। এছাড়া পুলিশের সিটি এসবি শাখার এএসআই রুবেলকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের ওই হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ১০ দিনের ছুটির জন্য তারা অনেক আগে থেকে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ১০ দিনের ছুটি ভোগ করার শর্তে দুটি সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকরা কাজ করেন। ঈদের ছুটির মধ্যে আরেকটি সাপ্তাহিক বন্ধের দিন পড়ায় শ্রমিকদের হিসাবে ১০ দিনের ছুটি প্রাপ্ত হন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সাত দিনের ছুটি দিতে চান। সোমবার সকালে শ্রমিকরা কাজে এসে জানতে পারেন তাদের সাত দিনের ছুটিই দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিকরা ১০ দিনের ছুটির দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন এবং রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেটের মুখে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বেলা পৌনে ১টার দিকে তারা আবার একত্রিত হয়ে স্থানীয় মিলগেট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-ময়নসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে দুপুর সোয়া ১টার দিকে কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও শটগানের গুলিবর্ষণ করে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে। দুপুর দেড়টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। 

হামিম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষ্যে শ্রমিকদের সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আন্দোলন চালিয়ে শ্রমিকরা কারখানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার থেকে কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ জানান, অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় কারখানায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বেলা ১১টার দিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ শটগানের ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। শ্রমিকদের হামলায় শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ, গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল পাশা ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রুবেল হাওলাদারসহ পাঁচজন আহত হন। তাদের টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাসুদ রানা জানান, জরুরি বিভাগে ১৯ শ্রমিককে আনা হয়। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আহত শ্রমিকদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ (রাবার বুলেট)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, গুলিবিদ্ধ নয় শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ : এদিকে ঈদ বোনাস, বকেয়া বেতন ও বর্ধিত ছুটির দাবিতে টঙ্গীর সাতাইশ এলাকার তামিশনা পোশাক কারখানায়ও শ্রমিক অসন্তোষ বিরাজ করে। কারখানাটির আন্দোলনরত শ্রমিকরা সোমবার কর্মবিরতি পালন করেন। পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সফল আলোচনার পর বিকাল ৩টার দিকে তারা কাজে যোগ দেন।

কালিয়াকৈরে বিশ্বাসপাড়ায় বিক্ষোভ : কালিয়াকৈর উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকার স্টার লিঙ্ক ডিজাইন লিমিটেড নামের কারখানার শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, কারখানার শ্রমিকরা সোমবার সকালে কাজে যোগ দিতে গিয়ে জানতে পারেন তাদের ঈদের ছুটি তিন দিন দেওয়া হয়েছে। খবরটি কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ছুটি বাড়ানোর দাবিতে তারা কাজ বন্ধ করে কারখানার সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়কের পাশে নিয়ে যায়। শ্রমিকদের দাবি, তাদের ১০ দিনের ছুটি দিতে হবে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক কমর উদ্দিন বলেন, কারখানার শ্রমিকরা প্রথমে ১০ দিনের ছুটি চেয়েছিলেন। সেটি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ১০ দিনের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। এখন শ্রমিকরা আরও বেশি ছুটির দাবি করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিক্ষোভের মুখে ছুটি বাড়াল কর্তৃপক্ষ : গাজীপুর সদরের হোতাপাড়ার ফুয়াং ফুড লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা ঈদ বোনাস ও ছুটি ১০ দিন করার দাবিতে সোমবার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আল রশিদ জানান, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যেতে বলা হয়। কর্তৃপক্ষ ছুটি বাড়ালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন।

কারখানার ম্যানেজার শুক্কুর মাহবুব বলেন, শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ ঈদ বোনাস দিতে ও ছুটি বাড়াতে সম্মত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বেতন ও বোনাস পরিশোধ করা হবে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন