খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’: মির্জা ফখরুল
jugantor
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১২ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো ‘ক্রিটিক্যাল’ বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার কতগুলো বিষয় এখনো বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে আছে। তার কিডনি ও হার্টের সমস্যা আছে। তবে অক্সিজেন লাগছে না। তার প্রেসার, টেম্পারেচার, অক্সিজেন স্যাচুরেশন কিছুটা স্বাভাবিক। তবে খালেদা জিয়ার সার্বিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন। তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

এদিকে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি না দেওয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, মন্ত্রীরা বলেছেন তারা অনুমতি দিতে পারছেন না। না পারার যে যুক্তিগুলো তারা (মন্ত্রীরা) দিয়েছেন, সেই যুক্তিগুলো একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও খোঁড়া যুক্তি। সাজাপ্রাপ্তদের বিদেশে পাঠানোর নজির নেই-মন্ত্রিরা এমন ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৯ সালে আ স ম আবদুর রবকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য জার্মানি পাঠানো হয়েছিল। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে ২০০৮ সালে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এ রকম আরও নজির আছে। তিনি বলেন, কিন্তু কেন এসব খোঁড়া যুক্তি দেখানো হচ্ছে? সোজা করে বলেন আমরা যেতে দেব না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্পর্কে সরকারের কিছু প্রভাবশালী মন্ত্রীর বক্তব্য শুধু অশালীন নয়, অমার্জিত ও অগ্রহণযোগ্য। এভাবে যাচ্ছেতাই কথা বলে সরকার পার পাবে না। মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দয়া করে সংযত হোন, কথা একটু কমান। জনগণ সবকিছু দেখছে। সময় এলে তারা তার জবাব দেবে। খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনায় মির্জা ফখরুল দেশবাসীর কাছে আবার দোয়া চান।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ওইভাবে ক্ষমতায় না আসলে এসব মন্ত্রী কোনোদিন এমপি হওয়ারও স্বপ্ন দেখতে পারতেন না। ভবিষ্যতে এ ধরনের উক্তি করলে তার যথাযোগ্য জবাব দেশের জনগণ দেবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনাদের সেই বদান্যতা নেই। সেই বড় হৃদয় আপনাদের নেই। শেখ মুজিবুর রহমানের এটা ছিল। তিনি তার অনেক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অনেক সুবিধা দিয়েছেন, ছেড়ে দিয়েছেন, মুক্তি দিয়েছেন। তাদের সাহায্যও করেছেন। কিন্তু আপনাদের সেই বদান্যতা নেই। থাকলে খালেদা জিয়াকে অনেকদিন আগেই আপনারা ছেড়ে দিতেন, রাজনীতি করতে দিতেন। খালেদা জিয়াকে এত ভয় কেন? নির্বাচন! কারণ আপনারা জানেন যে নির্বাচন হলে আপনারা কোনোদিনই জিততে পারবেন না।

ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য যেতে না দেওয়াটা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, অমানবিক। এ ব্যাপারে জনগণকে ভ্রান্ত ধারণা দেওয়া হচ্ছে। বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার জন্য আবেদন আমরা করিনি। তার পরিবার আবেদনটা করেছেন। তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। সবাই আশা করেছিলেন, এমনকি বিদেশিরা পর্যন্ত আশা করেছিলেন-চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু সেটা দেওয়া হয়নি।

বিএনপির মহাসচিব ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে অন্তরিন করা, তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, তার দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, এ দেশে জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে একটি দলই আছে, আর সেটা হচ্ছে বিএনপি। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করে বিএনপি। এ দলের মূল শক্তি জনগণ। যারা বাংলাদেশি ও বাংলাদেশকে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসাবে দেখতে চায়, তারা বিএনপি শক্তির। শতকরা একশ মানুষের যে মূল্যবোধ, ধর্মীয় বোধ, চিন্তাবোধ তাদের প্রতিনিধি হিসাবে বিএনপি কাজ করে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য যা যা করা দরকার, এ সরকার সেসবই করছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের আত্মাকে তারা মেরে ফেলছে, ধ্বংস করে ফেলছে।

খালেদা জিয়া সরকারের কোনো শর্ত ভঙ্গ করেননি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বাসায় কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় খালেদা জিয়া একদিনের জন্যও শর্ত ভঙ্গ করেননি। একদিনের জন্যও তিনি ঘরের বাইরে যাননি। কোথাও কোনো বক্তব্য দেননি।

লকডাউনের সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীসহ দলের নেতাকর্মী এবং আলেম-উলামাসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ঈদের আগেই নিঃশর্ত মুক্তিরও দাবি জানান বিএনপির মহাসচিব ফখরুল।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’: মির্জা ফখরুল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১২ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো ‘ক্রিটিক্যাল’ বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার কতগুলো বিষয় এখনো বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে আছে। তার কিডনি ও হার্টের সমস্যা আছে। তবে অক্সিজেন লাগছে না। তার প্রেসার, টেম্পারেচার, অক্সিজেন স্যাচুরেশন কিছুটা স্বাভাবিক। তবে খালেদা জিয়ার সার্বিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন। তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

এদিকে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি না দেওয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, মন্ত্রীরা বলেছেন তারা অনুমতি দিতে পারছেন না। না পারার যে যুক্তিগুলো তারা (মন্ত্রীরা) দিয়েছেন, সেই যুক্তিগুলো একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও খোঁড়া যুক্তি। সাজাপ্রাপ্তদের বিদেশে পাঠানোর নজির নেই-মন্ত্রিরা এমন ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৯ সালে আ স ম আবদুর রবকে মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য জার্মানি পাঠানো হয়েছিল। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে ২০০৮ সালে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এ রকম আরও নজির আছে। তিনি বলেন, কিন্তু কেন এসব খোঁড়া যুক্তি দেখানো হচ্ছে? সোজা করে বলেন আমরা যেতে দেব না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্পর্কে সরকারের কিছু প্রভাবশালী মন্ত্রীর বক্তব্য শুধু অশালীন নয়, অমার্জিত ও অগ্রহণযোগ্য। এভাবে যাচ্ছেতাই কথা বলে সরকার পার পাবে না। মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দয়া করে সংযত হোন, কথা একটু কমান। জনগণ সবকিছু দেখছে। সময় এলে তারা তার জবাব দেবে। খালেদা জিয়ার আশু আরোগ্য কামনায় মির্জা ফখরুল দেশবাসীর কাছে আবার দোয়া চান।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ওইভাবে ক্ষমতায় না আসলে এসব মন্ত্রী কোনোদিন এমপি হওয়ারও স্বপ্ন দেখতে পারতেন না। ভবিষ্যতে এ ধরনের উক্তি করলে তার যথাযোগ্য জবাব দেশের জনগণ দেবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনাদের সেই বদান্যতা নেই। সেই বড় হৃদয় আপনাদের নেই। শেখ মুজিবুর রহমানের এটা ছিল। তিনি তার অনেক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অনেক সুবিধা দিয়েছেন, ছেড়ে দিয়েছেন, মুক্তি দিয়েছেন। তাদের সাহায্যও করেছেন। কিন্তু আপনাদের সেই বদান্যতা নেই। থাকলে খালেদা জিয়াকে অনেকদিন আগেই আপনারা ছেড়ে দিতেন, রাজনীতি করতে দিতেন। খালেদা জিয়াকে এত ভয় কেন? নির্বাচন! কারণ আপনারা জানেন যে নির্বাচন হলে আপনারা কোনোদিনই জিততে পারবেন না।

ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য যেতে না দেওয়াটা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, অমানবিক। এ ব্যাপারে জনগণকে ভ্রান্ত ধারণা দেওয়া হচ্ছে। বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার জন্য আবেদন আমরা করিনি। তার পরিবার আবেদনটা করেছেন। তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। সবাই আশা করেছিলেন, এমনকি বিদেশিরা পর্যন্ত আশা করেছিলেন-চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু সেটা দেওয়া হয়নি।

বিএনপির মহাসচিব ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে অন্তরিন করা, তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, তার দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, এ দেশে জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে একটি দলই আছে, আর সেটা হচ্ছে বিএনপি। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করে বিএনপি। এ দলের মূল শক্তি জনগণ। যারা বাংলাদেশি ও বাংলাদেশকে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসাবে দেখতে চায়, তারা বিএনপি শক্তির। শতকরা একশ মানুষের যে মূল্যবোধ, ধর্মীয় বোধ, চিন্তাবোধ তাদের প্রতিনিধি হিসাবে বিএনপি কাজ করে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য যা যা করা দরকার, এ সরকার সেসবই করছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের আত্মাকে তারা মেরে ফেলছে, ধ্বংস করে ফেলছে।

খালেদা জিয়া সরকারের কোনো শর্ত ভঙ্গ করেননি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বাসায় কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় খালেদা জিয়া একদিনের জন্যও শর্ত ভঙ্গ করেননি। একদিনের জন্যও তিনি ঘরের বাইরে যাননি। কোথাও কোনো বক্তব্য দেননি।

লকডাউনের সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীসহ দলের নেতাকর্মী এবং আলেম-উলামাসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ঈদের আগেই নিঃশর্ত মুক্তিরও দাবি জানান বিএনপির মহাসচিব ফখরুল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন