আপাতত উদ্যানের গাছ কাটা যাবে না
jugantor
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে হাইকোর্ট
আপাতত উদ্যানের গাছ কাটা যাবে না

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১২ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা আপাতত বন্ধ রাখতে বলেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে মঙ্গলবার আদালত বলেছেন, তিনি যেন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়ে দেন। এদিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটায় কারও অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঘটনার তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের কোনো অবহেলা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুধু ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য যদি গাছ কাটা হয়ে থাকে, তা দুঃখজনক। দায়িত্ব পালনে অসাবধানতার কারণে যদি গাছ কাটা হয়ে থাকে তা তদন্ত করে আমরা দেখব। অবহেলা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উদ্যানের গাছ কাটায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনজীবীর আনা ‘আদালত অবমাননার’ অভিযোগের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক মামনুন রহমান বলেন, ‘আমাদের আদেশ হচ্ছে, আগামী ২০ তারিখ বিষয়টি শুনানির জন্য আসবে। আপনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) মৌখিকভাবে বলে দিয়েন, আপাতত যাতে গাছ না কাটে। অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন এ সময় আদালতকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমি এখনই কথা বলছি।’ অভিযোগকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ নিজেও আদালতে আবেদনটির ওপর শুনানিতে ছিলেন। পরে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দুটি প্রেক্ষাপট-একটি ঐতিহাসিক, অন্যটি আইনগত ও পরিবেশগত। ঐহিতাসিক দিক বিবেচনা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, সেই রায়ের নির্দেশনা অনুসারে কী করা হচ্ছে, সেটা কখনোই জানানো হয়নি, প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নির্দেশনার বাইরে কাজ হচ্ছে, কাজ করছে। অথচ ওই নির্দেশনাগুলো গত ১১ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। এটা আদালত অবমাননা।

গাছ কাটায় কারও অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা -মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার ঘটনার তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের কোনো অবহেলা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মঙ্গলবার পরিবেশবিদ, উদ্যানবিদ, নগরবিদ ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঈদের পর সভা করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের পরামর্শে প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তা-ও করা হবে। তাদের পরামর্শে উদ্যানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ১০ গুণ বেশি গাছ লাগানো হবে। এখন পর্যন্ত ৫০টি গাছ কাটা হয়েছে। এখন যে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে, হয়তো আরও ৫০টি গাছ কাটা লাগতে পারে। তবে যতটুকু সম্ভব মিনিমাইজ করে যত কম গাছ কাটা যায়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আর কোনো গাছ কাটা হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেখানে আবার পরিদর্শন করব, কোনো দুষ্প্রাপ্য গাছ যদি কাটার তালিকায় থেকে থাকে এবং তা যদি না কাটলে চলে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম সূতিকাগার ও অত্যন্ত আবেগের জায়গা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ইতিহাসসহ দেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।’

ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) শীর্ষক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে জানিয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, আধুনিক নগর উপযোগী সবুজের আবহে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে আন্তর্জাতিক মানের স্মৃতিকেন্দ্র গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসাবে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে পাকিস্তানি শাসনবিরোধী ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রাম ও ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংবলিত ভাস্কর্য স্থাপন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন, ইন্দিরা মঞ্চ নির্মাণ, ওয়াটার বডি ও ফাউন্টেইন নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ ৫০০ গাড়ির কার পার্কিং ও শিশুপার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে হাইকোর্ট

আপাতত উদ্যানের গাছ কাটা যাবে না

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১২ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা আপাতত বন্ধ রাখতে বলেছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে মঙ্গলবার আদালত বলেছেন, তিনি যেন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়ে দেন। এদিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটায় কারও অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঘটনার তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের কোনো অবহেলা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুধু ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য যদি গাছ কাটা হয়ে থাকে, তা দুঃখজনক। দায়িত্ব পালনে অসাবধানতার কারণে যদি গাছ কাটা হয়ে থাকে তা তদন্ত করে আমরা দেখব। অবহেলা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উদ্যানের গাছ কাটায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনজীবীর আনা ‘আদালত অবমাননার’ অভিযোগের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক মামনুন রহমান বলেন, ‘আমাদের আদেশ হচ্ছে, আগামী ২০ তারিখ বিষয়টি শুনানির জন্য আসবে। আপনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) মৌখিকভাবে বলে দিয়েন, আপাতত যাতে গাছ না কাটে। অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন এ সময় আদালতকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমি এখনই কথা বলছি।’ অভিযোগকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ নিজেও আদালতে আবেদনটির ওপর শুনানিতে ছিলেন। পরে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দুটি প্রেক্ষাপট-একটি ঐতিহাসিক, অন্যটি আইনগত ও পরিবেশগত। ঐহিতাসিক দিক বিবেচনা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, সেই রায়ের নির্দেশনা অনুসারে কী করা হচ্ছে, সেটা কখনোই জানানো হয়নি, প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নির্দেশনার বাইরে কাজ হচ্ছে, কাজ করছে। অথচ ওই নির্দেশনাগুলো গত ১১ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। এটা আদালত অবমাননা।

গাছ কাটায় কারও অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা -মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার ঘটনার তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের কোনো অবহেলা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মঙ্গলবার পরিবেশবিদ, উদ্যানবিদ, নগরবিদ ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঈদের পর সভা করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের পরামর্শে প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তা-ও করা হবে। তাদের পরামর্শে উদ্যানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ১০ গুণ বেশি গাছ লাগানো হবে। এখন পর্যন্ত ৫০টি গাছ কাটা হয়েছে। এখন যে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে, হয়তো আরও ৫০টি গাছ কাটা লাগতে পারে। তবে যতটুকু সম্ভব মিনিমাইজ করে যত কম গাছ কাটা যায়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আর কোনো গাছ কাটা হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেখানে আবার পরিদর্শন করব, কোনো দুষ্প্রাপ্য গাছ যদি কাটার তালিকায় থেকে থাকে এবং তা যদি না কাটলে চলে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম সূতিকাগার ও অত্যন্ত আবেগের জায়গা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ইতিহাসসহ দেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।’

ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) শীর্ষক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে জানিয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, আধুনিক নগর উপযোগী সবুজের আবহে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে আন্তর্জাতিক মানের স্মৃতিকেন্দ্র গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসাবে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে পাকিস্তানি শাসনবিরোধী ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রাম ও ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংবলিত ভাস্কর্য স্থাপন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন, ইন্দিরা মঞ্চ নির্মাণ, ওয়াটার বডি ও ফাউন্টেইন নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ ৫০০ গাড়ির কার পার্কিং ও শিশুপার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন