তালমিছরি ঘোষণায় এলো ভারতীয় শাড়ি
jugantor
হিলি স্থলবন্দর
তালমিছরি ঘোষণায় এলো ভারতীয় শাড়ি

  দিনাজপুর ও বিরামপুর প্রতিনিধি  

১২ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শুল্ক ফাঁকি দিতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে তালমিছরি আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছে ভারতীয় শাড়ি, কাপড়চোপড়সহ অন্যান্য পণ্য। প্রায় অর্ধকোটি টাকা আমদানি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে এসব পণ্য বন্দর থেকে নিয়ে যাওয়ায় সময় আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাস্টমসের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের মেসার্স এসএন ট্রেডিং কোম্পানি গত শনিবার তালমিছরি আনার ঘোষণা দিয়ে জিইআই/টিআর/আইএনভি/০১/২০২১-২২ নং চালানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করে দুই ট্রাক পণ্য। সামান্য শুল্কে তালমিছরি হিসাবে ওই পণ্যের ছাড়পত্র দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর ভিত্তিতে হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডও পণ্যগুলো হস্তান্তর করে আমদানিকারকের কাছে। কিন্তু গত রোববার দুটি ট্রাকে সেসব পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আটক করে হাকিমপুর ইউএনও মোহাম্মদ নুর এ আলমের নেতৃত্বে টাস্কফোর্সের একটি দল। হাকিমপুর থানায় পর দিন ট্রাকগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে দুই হাজার তিনশ পিস ভারতীয় শাড়িসহ অন্যান্য কাপড়চোপড় ও ইনজেকশন অ্যাম্পুল ও কিছু তালমিছরি পাওয়া যায়।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের কাছ থেকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আনার তথ্য পেয়ে রোববার বিকালে হিলি স্থলবন্দরের সামনের সড়ক থেকে দুটি ট্রাক আটক করা হয়। ট্রাক দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে ঘোষণা অনুযায়ী ১৭ টন তালমিছরির পরিবর্তে তাল মিছরি পাওয়া যায় মাত্র ১১ টন। ট্রাকগুলোতে বেশিরভাগই ছিল ভারতীয় শাড়ী, থ্রি-পিস, অন্তর্বাসসহ বিভিন্ন কাপড় ও ইনজেকশন অ্যাম্বুল। তিনি জানান, তাল মিছরির আমদানি শুল্ক মাত্র ২৩ শতাংশ। কিন্তু শাড়ি, থ্রিপিসসহ অন্যান্য কাপড়চোপড়ের আমদানি শুল্ক ৭০ শতাংশের বেশি। এতে বড় অঙ্কের শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আপাতত আমদানিকারকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও এর পেছনে কারা জড়িত, পরবর্তীতে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে আটক মালামালের হিসাব অনুযায়ী এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আমদানি শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এসব আমদানিকৃত পণ্য কাস্টমস ছাড়পত্র দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ জানান, এখানে কাস্টমসের দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তারা সব পণ্য ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ছাড়পত্র দিবেন। কিন্তু এখানে কীভাবে তারা দিল, এটা কাস্টমসই জানে। তিনি এ ঘটনার তদন্ত দাবি করেন।

এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরের কাস্টমস ডেপুটি কমিশনার সাইদুর আলম বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশের আসে। প্রতিটি পণ্য শতভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। আমাদের কর্মকর্তারা ৮ মে আমদানিকৃত এসব পণ্য পরীক্ষা করার পর ছাড়পত্র দিয়েছে। এরপর সেগুলো বন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ভেতরেই ছিল। এখানে কীভাবে কী হয়েছে তা তারা জানেন না। পরের দিন পণ্যগুলো বন্দরের বাইরে গেছে। বাইরে কিভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটা আমরা জানি না।

হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের পরিচালক অনন্ত কুমার চক্রবর্তী নেপাল বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তারা পণ্যের আউটার পাস দেওয়ার পর শ্রমিকরা বাংলাদেশি ট্রাকে পণ্য স্থানান্তর করেন। আমদানির ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের মিল না রেখেই কীভাবে কাস্টমস আউটার পাশ দিল-এ বিষয়ে তদন্ত দাবি করেন তিনি।

রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স বিভাগের উপ-পরিচালক সুনন্দন দাস সাংবাদিকদের বলেন, আমদানি পণ্য পুরোপুরি পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এবং ঘোষনার সঙ্গে পুরোপুরি মিলিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তা ছাড়পত্র দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দর

তালমিছরি ঘোষণায় এলো ভারতীয় শাড়ি

 দিনাজপুর ও বিরামপুর প্রতিনিধি 
১২ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শুল্ক ফাঁকি দিতে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে তালমিছরি আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছে ভারতীয় শাড়ি, কাপড়চোপড়সহ অন্যান্য পণ্য। প্রায় অর্ধকোটি টাকা আমদানি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে এসব পণ্য বন্দর থেকে নিয়ে যাওয়ায় সময় আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাস্টমসের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের মেসার্স এসএন ট্রেডিং কোম্পানি গত শনিবার তালমিছরি আনার ঘোষণা দিয়ে জিইআই/টিআর/আইএনভি/০১/২০২১-২২ নং চালানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করে দুই ট্রাক পণ্য। সামান্য শুল্কে তালমিছরি হিসাবে ওই পণ্যের ছাড়পত্র দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর ভিত্তিতে হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডও পণ্যগুলো হস্তান্তর করে আমদানিকারকের কাছে। কিন্তু গত রোববার দুটি ট্রাকে সেসব পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আটক করে হাকিমপুর ইউএনও মোহাম্মদ নুর এ আলমের নেতৃত্বে টাস্কফোর্সের একটি দল। হাকিমপুর থানায় পর দিন ট্রাকগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে দুই হাজার তিনশ পিস ভারতীয় শাড়িসহ অন্যান্য কাপড়চোপড় ও ইনজেকশন অ্যাম্পুল ও কিছু তালমিছরি পাওয়া যায়।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের কাছ থেকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আনার তথ্য পেয়ে রোববার বিকালে হিলি স্থলবন্দরের সামনের সড়ক থেকে দুটি ট্রাক আটক করা হয়। ট্রাক দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে ঘোষণা অনুযায়ী ১৭ টন তালমিছরির পরিবর্তে তাল মিছরি পাওয়া যায় মাত্র ১১ টন। ট্রাকগুলোতে বেশিরভাগই ছিল ভারতীয় শাড়ী, থ্রি-পিস, অন্তর্বাসসহ বিভিন্ন কাপড় ও ইনজেকশন অ্যাম্বুল। তিনি জানান, তাল মিছরির আমদানি শুল্ক মাত্র ২৩ শতাংশ। কিন্তু শাড়ি, থ্রিপিসসহ অন্যান্য কাপড়চোপড়ের আমদানি শুল্ক ৭০ শতাংশের বেশি। এতে বড় অঙ্কের শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আপাতত আমদানিকারকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও এর পেছনে কারা জড়িত, পরবর্তীতে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে আটক মালামালের হিসাব অনুযায়ী এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আমদানি শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এসব আমদানিকৃত পণ্য কাস্টমস ছাড়পত্র দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ জানান, এখানে কাস্টমসের দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তারা সব পণ্য ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ছাড়পত্র দিবেন। কিন্তু এখানে কীভাবে তারা দিল, এটা কাস্টমসই জানে। তিনি এ ঘটনার তদন্ত দাবি করেন।

এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরের কাস্টমস ডেপুটি কমিশনার সাইদুর আলম বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশের আসে। প্রতিটি পণ্য শতভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। আমাদের কর্মকর্তারা ৮ মে আমদানিকৃত এসব পণ্য পরীক্ষা করার পর ছাড়পত্র দিয়েছে। এরপর সেগুলো বন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ভেতরেই ছিল। এখানে কীভাবে কী হয়েছে তা তারা জানেন না। পরের দিন পণ্যগুলো বন্দরের বাইরে গেছে। বাইরে কিভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটা আমরা জানি না।

হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের পরিচালক অনন্ত কুমার চক্রবর্তী নেপাল বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তারা পণ্যের আউটার পাস দেওয়ার পর শ্রমিকরা বাংলাদেশি ট্রাকে পণ্য স্থানান্তর করেন। আমদানির ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের মিল না রেখেই কীভাবে কাস্টমস আউটার পাশ দিল-এ বিষয়ে তদন্ত দাবি করেন তিনি।

রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স বিভাগের উপ-পরিচালক সুনন্দন দাস সাংবাদিকদের বলেন, আমদানি পণ্য পুরোপুরি পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এবং ঘোষনার সঙ্গে পুরোপুরি মিলিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত তা ছাড়পত্র দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন