গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলা
jugantor
গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১২ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অপরাধে জড়িয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার দায়ে স্বর্ণ চোরাকারবারি গোল্ডেন মনিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে মামলা করেছে সিআইডি। সিআইডির পরিদর্শক ইব্রাহীম হোসেন মঙ্গলবার বাড্ডা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় মনিরের স্ত্রী রওশন আক্তার, ছেলে রাফি হোসেন, বোন নাসিমা আক্তার, ভগ্নিপতি হাসান উদ্দিন খান, নাহিদ হাসান, মনিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জিএম আব্দুল হামিদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল শফিকুল শফিক ওরফে সোনা শফিক, সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. রিয়াজ ও তার ভাই হায়দার আলীকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তাদের সবার বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত রয়েছে। এসব সম্পদের মূল্য সুস্পষ্ট করে উল্লেখ করা না হলেও বর্তমান বাজার মূল্যে সম্পদের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিআইডির অর্গানাইজ ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর যুগান্তরকে বলেন, মামলার তদন্ত চলাকালে আসামিদের ব্যাংক হিসাবসহ স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদ জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

আর তদন্ত শেষে অপরাধলব্ধ আয়ে গড়ে তোলা সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও উদ্যোগ নেবে সিআইডি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গোল্ডেন মনির গ্রেফতার হওয়ার পর তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের অনুসন্ধানে নামে সিআইডি। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য দিয়ে ১৩ মার্চ ‘গোল্ডেন মনির নিয়ে সিআইডির অনুসন্ধান- হাজার কোটি টাকার সম্পদ’ শিরোনামে যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১২ বছরে মনির ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১২৯টি ব্যাংক হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৭৯১ কোটি টাকা। ব্যাংকে বর্তমানে জমা আছে ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এছাড়া আসামিদের নামে থাকা ডিআইটি প্রজেক্টের ২৯টি প্লটের বেশিরভাগেই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পূর্বাচলে আছে ৩টি প্লট। এছাড়া উত্তরায় বিশাল বহুতল ভবন বিশিষ্ট শপিং মল গ্র্যান্ড জমজম টাওয়ার ও আল সাফা টাওয়ার এবং হাউজিং কোম্পনি স্বদেশ প্রোপার্টিজে রয়েছে আসামিদের মালিকানা। আরও আছে বারিধারায় সাড়ে ৮ কাঠার দুটি প্লট, উত্তরার নলভোগ মৌজায় ১২ কাঠা জমি, খিলগাঁওয়ে পৌনে ২ কাঠার একটি প্লট ও কেরানীগঞ্জে আড়াই বিঘা জমি। এছাড়াও একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি ও ফ্ল্যাট আছে আসামিদের নামে।

রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ), বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ), বিএফআইইউকে (বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) বেশ কয়েকটি সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে মনির ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে এসব সম্পদের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

গত বছরের ২১ নভেম্বর মেরুল বাড্ডার বাসায় অভিযান চালিয়ে মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। এখনো তিনি কারাবন্দি। র‌্যাবের নিয়মিত মামলার জের ধরে অপরাধলব্ধ আয়ের অনুসন্ধান করতে গিয়ে এ বিপুল সম্পদের তথ্য পেয়ে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করল সিআইডি।

গ্রেফতারের সময় র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কর্নেল আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নব্বইয়ের দশকে গাউসিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানের বিক্রয়কর্মী হিসাবে কাজ করতেন মনির। সময়ের ব্যবধানে মনির শীর্ষস্থানীয় স্বর্ণ চোরাকারবারি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির। এরপর টাকার প্রভাবে সে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অসংখ্য প্লটের মালিক হন।

গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১২ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অপরাধে জড়িয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার দায়ে স্বর্ণ চোরাকারবারি গোল্ডেন মনিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে মামলা করেছে সিআইডি। সিআইডির পরিদর্শক ইব্রাহীম হোসেন মঙ্গলবার বাড্ডা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় মনিরের স্ত্রী রওশন আক্তার, ছেলে রাফি হোসেন, বোন নাসিমা আক্তার, ভগ্নিপতি হাসান উদ্দিন খান, নাহিদ হাসান, মনিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জিএম আব্দুল হামিদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল শফিকুল শফিক ওরফে সোনা শফিক, সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. রিয়াজ ও তার ভাই হায়দার আলীকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তাদের সবার বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত রয়েছে। এসব সম্পদের মূল্য সুস্পষ্ট করে উল্লেখ করা না হলেও বর্তমান বাজার মূল্যে সম্পদের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিআইডির অর্গানাইজ ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর যুগান্তরকে বলেন, মামলার তদন্ত চলাকালে আসামিদের ব্যাংক হিসাবসহ স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদ জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

আর তদন্ত শেষে অপরাধলব্ধ আয়ে গড়ে তোলা সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও উদ্যোগ নেবে সিআইডি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গোল্ডেন মনির গ্রেফতার হওয়ার পর তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের অনুসন্ধানে নামে সিআইডি। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য দিয়ে ১৩ মার্চ ‘গোল্ডেন মনির নিয়ে সিআইডির অনুসন্ধান- হাজার কোটি টাকার সম্পদ’ শিরোনামে যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১২ বছরে মনির ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১২৯টি ব্যাংক হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৭৯১ কোটি টাকা। ব্যাংকে বর্তমানে জমা আছে ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এছাড়া আসামিদের নামে থাকা ডিআইটি প্রজেক্টের ২৯টি প্লটের বেশিরভাগেই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পূর্বাচলে আছে ৩টি প্লট। এছাড়া উত্তরায় বিশাল বহুতল ভবন বিশিষ্ট শপিং মল গ্র্যান্ড জমজম টাওয়ার ও আল সাফা টাওয়ার এবং হাউজিং কোম্পনি স্বদেশ প্রোপার্টিজে রয়েছে আসামিদের মালিকানা। আরও আছে বারিধারায় সাড়ে ৮ কাঠার দুটি প্লট, উত্তরার নলভোগ মৌজায় ১২ কাঠা জমি, খিলগাঁওয়ে পৌনে ২ কাঠার একটি প্লট ও কেরানীগঞ্জে আড়াই বিঘা জমি। এছাড়াও একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি ও ফ্ল্যাট আছে আসামিদের নামে।

রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ), বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ), বিএফআইইউকে (বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) বেশ কয়েকটি সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে মনির ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে এসব সম্পদের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

গত বছরের ২১ নভেম্বর মেরুল বাড্ডার বাসায় অভিযান চালিয়ে মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। এখনো তিনি কারাবন্দি। র‌্যাবের নিয়মিত মামলার জের ধরে অপরাধলব্ধ আয়ের অনুসন্ধান করতে গিয়ে এ বিপুল সম্পদের তথ্য পেয়ে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করল সিআইডি।

গ্রেফতারের সময় র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কর্নেল আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নব্বইয়ের দশকে গাউসিয়া মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানের বিক্রয়কর্মী হিসাবে কাজ করতেন মনির। সময়ের ব্যবধানে মনির শীর্ষস্থানীয় স্বর্ণ চোরাকারবারি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির। এরপর টাকার প্রভাবে সে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অসংখ্য প্লটের মালিক হন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন