‘লকডাউন’র মেয়াদ বাড়ল ৭ দিন
jugantor
‘লকডাউন’র মেয়াদ বাড়ল ৭ দিন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৭ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধিনিষেধের (লকডাউন) মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। ‘সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়’ আগের সব বিধিনিষেধের মেয়াদ রোববার মধ্যরাত থেকে ২৩ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়িয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রোববার আদেশ জারি করেছে। এবারের আদেশে রাজস্ব আদায়ে সম্পৃক্ত সব দপ্তর ও সংস্থা সরকারের ‘জরুরি পরিষেবার’ আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আদেশে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধিনিষেধ ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী নতুন করে দুটি শর্ত সংযুক্ত করে বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা ১৬ মে মধ্যরাত থেকে ২৩ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। ১. সরকারের রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব দপ্তর/সংস্থা জরুরি পরিষেবার আওতাভুক্ত হবে। ২. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁ কেবল খাদ্য বিক্রি/সরবরাহ করতে পারবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় ধাপে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা ‘সর্বাত্মক’ লকডাউন নামে পরিচিতি পায়। শুরুতে লকডাউনে শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও ‘জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে’ ২৫ এপ্রিল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয় সরকার। পরে তিন দফা লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়, নির্দেশনায়ও সংশোধনী আসে। লকডাউনের সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হয় রোববার (১৬ মে) মধ্যরাতে। বিধিনিষেধের বর্ধিত মেয়াদেও জেলার মধ্যে বাস চলবে। আন্তঃজেলা গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া আগের মতোই বন্ধ থাকবে ট্রেন ও লঞ্চ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। খোলা থাকবে শিল্পকারখানা। জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া যথারীতি সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। সীমিত পরিসরে হবে ব্যাংকে লেনদেন।

দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর শুক্রবার উদ্যাপিত হয়। করোনা সংক্রমণ রোধে ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা থাকলেও তা মানেননি অনেকেই। ঈদের কিছুদিন আগে থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করে মানুষ। জেলার মধ্যে চলাচল করা বাসের মাধ্যমে মানুষ চলে যায় ফেরিঘাটগুলোয় কিংবা জেলার প্রান্তে। ফেরি পার হয়ে কিংবা গাড়ি পালটে পৌঁছান গন্তব্যে।

ব্যক্তিগত গাড়িতে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা না-থাকায় অনেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে বা প্রাইভেট কার নিয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে গেছেন ঈদ উদ্যাপনের জন্য। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ পণ্যবাহী বিভিন্ন গাড়িতেও রাজধানী ছেড়েছেন অনেকে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লা এর আগে বলেছিলেন, ‘আমাদের ধারণা হচ্ছে, এই পরিস্থিতির পর চলতি মাসের শেষদিকে বা আগামী মাসের শুরুর দিকে করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে পারে।’ এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞ কমিটি লকডাউন বাড়ানোর সুপারিশ করে। সে অনুযায়ী আরও এক সপ্তাহ বাড়ল লকডাউন।

লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শনিবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, লোকজন ঢাকা ছেড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে গেছে, তাদের বাড়ি থেকেও ফিরতে অন্তত ১০ দিন লাগবে। সংক্রমণের কী অবস্থা দাঁড়ায় বোঝা যাচ্ছে না। এজন্য মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সীমিত ব্যাংকিং : বাংলাদেশ ব্যাংকের রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৭ থেকে ২৩ মে সীমিত পর্যায়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ সময় দৈনিক ব্যাংকিং লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। লেনদেন-পরবর্তী আনুষঙ্গিক কাজ সারতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা এবং প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ এপ্রিল ২০২১ তারিখে জারি করা ডিওএস সার্কুলার লেটার নং-১৫-এ প্রদত্ত অন্যান্য নির্দেশাবলি অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ, প্রতিটি ব্যাংকের উপজেলা শহরের একটি শাখা খোলা থাকবে বৃহস্পতিবার, রোববার ও মঙ্গলবার। সিটি করপোরেশন এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে একটি শাখা প্রতি কর্মদিবস খোলা রাখতে হবে।

‘লকডাউন’র মেয়াদ বাড়ল ৭ দিন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৭ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধিনিষেধের (লকডাউন) মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। ‘সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়’ আগের সব বিধিনিষেধের মেয়াদ রোববার মধ্যরাত থেকে ২৩ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়িয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রোববার আদেশ জারি করেছে। এবারের আদেশে রাজস্ব আদায়ে সম্পৃক্ত সব দপ্তর ও সংস্থা সরকারের ‘জরুরি পরিষেবার’ আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আদেশে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের সব বিধিনিষেধ ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী নতুন করে দুটি শর্ত সংযুক্ত করে বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা ১৬ মে মধ্যরাত থেকে ২৩ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। ১. সরকারের রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব দপ্তর/সংস্থা জরুরি পরিষেবার আওতাভুক্ত হবে। ২. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁ কেবল খাদ্য বিক্রি/সরবরাহ করতে পারবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় ধাপে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা ‘সর্বাত্মক’ লকডাউন নামে পরিচিতি পায়। শুরুতে লকডাউনে শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও ‘জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে’ ২৫ এপ্রিল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয় সরকার। পরে তিন দফা লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়, নির্দেশনায়ও সংশোধনী আসে। লকডাউনের সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হয় রোববার (১৬ মে) মধ্যরাতে। বিধিনিষেধের বর্ধিত মেয়াদেও জেলার মধ্যে বাস চলবে। আন্তঃজেলা গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া আগের মতোই বন্ধ থাকবে ট্রেন ও লঞ্চ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। খোলা থাকবে শিল্পকারখানা। জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া যথারীতি সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। সীমিত পরিসরে হবে ব্যাংকে লেনদেন।

দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর শুক্রবার উদ্যাপিত হয়। করোনা সংক্রমণ রোধে ঈদের ছুটিতে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা থাকলেও তা মানেননি অনেকেই। ঈদের কিছুদিন আগে থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করে মানুষ। জেলার মধ্যে চলাচল করা বাসের মাধ্যমে মানুষ চলে যায় ফেরিঘাটগুলোয় কিংবা জেলার প্রান্তে। ফেরি পার হয়ে কিংবা গাড়ি পালটে পৌঁছান গন্তব্যে।

ব্যক্তিগত গাড়িতে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা না-থাকায় অনেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে বা প্রাইভেট কার নিয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে গেছেন ঈদ উদ্যাপনের জন্য। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ পণ্যবাহী বিভিন্ন গাড়িতেও রাজধানী ছেড়েছেন অনেকে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লা এর আগে বলেছিলেন, ‘আমাদের ধারণা হচ্ছে, এই পরিস্থিতির পর চলতি মাসের শেষদিকে বা আগামী মাসের শুরুর দিকে করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে পারে।’ এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞ কমিটি লকডাউন বাড়ানোর সুপারিশ করে। সে অনুযায়ী আরও এক সপ্তাহ বাড়ল লকডাউন।

লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শনিবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, লোকজন ঢাকা ছেড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে গেছে, তাদের বাড়ি থেকেও ফিরতে অন্তত ১০ দিন লাগবে। সংক্রমণের কী অবস্থা দাঁড়ায় বোঝা যাচ্ছে না। এজন্য মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সীমিত ব্যাংকিং : বাংলাদেশ ব্যাংকের রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৭ থেকে ২৩ মে সীমিত পর্যায়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ সময় দৈনিক ব্যাংকিং লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। লেনদেন-পরবর্তী আনুষঙ্গিক কাজ সারতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা এবং প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ এপ্রিল ২০২১ তারিখে জারি করা ডিওএস সার্কুলার লেটার নং-১৫-এ প্রদত্ত অন্যান্য নির্দেশাবলি অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ, প্রতিটি ব্যাংকের উপজেলা শহরের একটি শাখা খোলা থাকবে বৃহস্পতিবার, রোববার ও মঙ্গলবার। সিটি করপোরেশন এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে একটি শাখা প্রতি কর্মদিবস খোলা রাখতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন