কেন শিশুদের বোমা মারছে ওরা
jugantor
গাজার ছোট্ট নাদিনের প্রশ্ন
কেন শিশুদের বোমা মারছে ওরা

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৮ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফিলিস্তিনি শিশু নাদিন আবদেল তাইফ। বয়স মাত্র ১০। ইসরাইলি বর্বর হামলায় তাদের বাড়ি এখন ধ্বংসস্তূপ। গত কয়েকদিনে স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর মৃত্যু দেখেছে সে। এখানে-সেখানে পড়ে থাকতে দেখেছে শিশুর লাশ। এই নৃশংস হামলা থামানোর ক্ষমতা তার নেই।

তাই ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে নাদিন; বলে, ‘কী করব আমি? আমার কী ক্ষমতা আছে? আমার বয়স মাত্র ১০ বছর।’ নাদিনের ওই কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, গাজার এক ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মিডলইস্টআইকে নাদিন বলছে, ‘কী করব আমি, বলুন? ওই ধ্বংসস্তূপ সরাব?

আমার সত্যিই ভয় করছে। আমার লোকেদের জন্য আমি সব কিছু করতে পারি। কিন্তু কী করা উচিত এখন, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই যাতে লোককে সাহায্য করতে পারি। কিন্তু এখন কিছুই করতে পারছি না।’

তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমি যখনই এসব দেখি, আমার কান্না পায়। শুধু ভাবি, কেন আমাদের ওপরই হামলা হচ্ছে? বাড়ির লোকেরা বলে, আমরা মুসলিম বলে ওরা আমাদের ঘৃণা করে। এখানে এত শিশু থাকে। কেন শিশুদের ওপর বোমাবর্ষণ করছে ওরা?’

নাদিন বলে, ‘আমি অসুস্থ হয়েছে যাচ্ছি এসব দেখতে দেখতে। আমি কিছুই করতে পারছি না। আপনারা সবই দেখতে পাচ্ছেন। আমার মাত্র ১০ বছর। আমি এসবের সঙ্গে আর পেরে উঠছি না।’

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের একের পর এক বোমা হামলায় বহু আবাসিক ভবন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মিসাইল হামলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বড় বড় অট্টালিকা, কারখানা, বাসাবাড়ি, বিদ্যুৎকেন্দ্র ইত্যাদি। ইসরাইলের নৃশংস হামলায় গেল এক সপ্তাহে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে ৫৮ জন শিশু এবং ৩৪ জন নারী। এর ফলে গোটা গাজা শহরে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, গাজায় প্রতি ঘণ্টায় তিনটি শিশু আহত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এবং আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধ বিরতির দাবি নাকচ করে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।

ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘর্ষের শুরু গত সপ্তাহে। জেরুজালেমের আল-আকসায় পবিত্র জুমাতুল বিদা আদায়কে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বলা হচ্ছে, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা।

গাজার ছোট্ট নাদিনের প্রশ্ন

কেন শিশুদের বোমা মারছে ওরা

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৮ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফিলিস্তিনি শিশু নাদিন আবদেল তাইফ। বয়স মাত্র ১০। ইসরাইলি বর্বর হামলায় তাদের বাড়ি এখন ধ্বংসস্তূপ। গত কয়েকদিনে স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর মৃত্যু দেখেছে সে। এখানে-সেখানে পড়ে থাকতে দেখেছে শিশুর লাশ। এই নৃশংস হামলা থামানোর ক্ষমতা তার নেই।

তাই ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে নাদিন; বলে, ‘কী করব আমি? আমার কী ক্ষমতা আছে? আমার বয়স মাত্র ১০ বছর।’ নাদিনের ওই কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, গাজার এক ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মিডলইস্টআইকে নাদিন বলছে, ‘কী করব আমি, বলুন? ওই ধ্বংসস্তূপ সরাব?

আমার সত্যিই ভয় করছে। আমার লোকেদের জন্য আমি সব কিছু করতে পারি। কিন্তু কী করা উচিত এখন, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই যাতে লোককে সাহায্য করতে পারি। কিন্তু এখন কিছুই করতে পারছি না।’

তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমি যখনই এসব দেখি, আমার কান্না পায়। শুধু ভাবি, কেন আমাদের ওপরই হামলা হচ্ছে? বাড়ির লোকেরা বলে, আমরা মুসলিম বলে ওরা আমাদের ঘৃণা করে। এখানে এত শিশু থাকে। কেন শিশুদের ওপর বোমাবর্ষণ করছে ওরা?’

নাদিন বলে, ‘আমি অসুস্থ হয়েছে যাচ্ছি এসব দেখতে দেখতে। আমি কিছুই করতে পারছি না। আপনারা সবই দেখতে পাচ্ছেন। আমার মাত্র ১০ বছর। আমি এসবের সঙ্গে আর পেরে উঠছি না।’

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের একের পর এক বোমা হামলায় বহু আবাসিক ভবন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মিসাইল হামলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বড় বড় অট্টালিকা, কারখানা, বাসাবাড়ি, বিদ্যুৎকেন্দ্র ইত্যাদি। ইসরাইলের নৃশংস হামলায় গেল এক সপ্তাহে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে ৫৮ জন শিশু এবং ৩৪ জন নারী। এর ফলে গোটা গাজা শহরে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, গাজায় প্রতি ঘণ্টায় তিনটি শিশু আহত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এবং আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধ বিরতির দাবি নাকচ করে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।

ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘর্ষের শুরু গত সপ্তাহে। জেরুজালেমের আল-আকসায় পবিত্র জুমাতুল বিদা আদায়কে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বলা হচ্ছে, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার বিক্ষোভ