মমতার ধরনা, ১১ ঘণ্টা পর জামিন
jugantor
পশ্চিমবঙ্গের দুই মন্ত্রী গ্রেফতার
মমতার ধরনা, ১১ ঘণ্টা পর জামিন

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা  

১৮ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারদকাণ্ডের মামলায় পশ্চিমবঙ্গের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের ১১ ঘণ্টা পর জামিন দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে নাটকীয়ভাবে দুই মন্ত্রী ও এক বিধায়ককে গ্রেফতার করে সিবিআই। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ধরনার পর তাদের জামিন দেওয়া হয়। মমতার দক্ষিণহস্ত দুই মন্ত্রীর সঙ্গে একই মামলায় কলকাতার সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী এবং বর্তমানে বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়ও গ্রেফতার হন। এদিকে দুপক্ষের শুনানি শেষে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্ট শর্তসাপেক্ষে চারজনকেই জামিন দিয়েছেন। করোনাভাইরাস মহামারির (কোভিড) জেরে চারজনকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়।

প্রায় ১১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটক শেষে জামিন পেয়ে কলকাতার বর্তমান মেয়র ও পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘সত্যমেব জয়তে। সত্যের জয় হয়েছে।’ তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে হেরে প্রতিহিংসাপরায়ণ বিজেপি সিবিআইকে দিয়ে তাকে গ্রেফতার করিয়েছিল। কিন্তু আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। আদালত বিচার করেছেন। একই মামলায় সাবেক পরিবহণমন্ত্রী ও কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকেও গ্রেফতার করা হয়। ফিরহাদ বাদে অন্য তিনজনকে ভারতীয় সময় সোমবার সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফ দিয়ে গ্রেফতার করে নিজাম প্যালেসে সিবিআই দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। অপরদিকে শতাধিক সিআরপিএফ দিয়ে ফিরহাদকে বাড়ি থেকে সকাল ৯টায় নিয়ে আসা হয়। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ফিরহাদ বলেছিলেন, নারদ মামলায় আমাকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তিনি বলেন, স্পিকারের অনুমতি ছাড়া ও বিনা নোটিশে আমাকে গ্রেফতার করা হলো। এমন গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কলকাতা হাইকোর্ট বলেছিলেন- স্পিকারের অনুমতি নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু সিবিআই তা করেনি। এ কারণে এ গ্রেফতার সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। যদিও সিবিআইয়ের দাবি, সংবিধান মেনেই রাজ্যপালের সম্মতি নিয়ে নারদ মামলায় মন্ত্রী ও বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দুই মন্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার পরপরই সিবিআই দপ্তরে গিয়ে ধরনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বেলা পৌনে ১১টায় নিজাম প্যালেসের ১৫ তলায় পৌঁছে তিনি ডিআইজির সঙ্গে দেখা করেন। চারজনের গ্রেফতারকে তিনি ‘বেআইনি’ আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত তাকে (মমতা) গ্রেফতার করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজাম প্যালেস ছাড়বেন না। খবর পেয়ে নিজাম প্যালেসে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক জড়ো হন। দুপুর দেড়টা নাগাদ সিবিআই অফিস লক্ষ্য করে পাথর ও ইট ছোড়া হয়। এক সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী পাল্টা লাঠিচার্জ করে। এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। অতিরিক্ত ফোর্স নামায় সিবিআই। তবে তৃণমূল কাউন্সিলররা পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। প্রায় ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ ভার্চুয়ালি শুনানি শেষ হয়। এর ১৫ মিনিট পর নিজাম প্যালেস থেকে বেরিয়ে মমতা ব্যানার্জি সোজা নবান্নে চলে যান। এ সময় ছোট্ট প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমি এখন কিছু বলব না, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আদালত নেবে। এদিকে দুপুরে টুইট করে তৃণমূল যুব সভাপতি ও মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

দুই মন্ত্রী ও এক বিধায়ককে গ্রেফতারের ঘটনায় তৃণমূল কর্মীদের ক্ষোভ পড়ে রাজভবনের ওপর। তৃণমূল নেতাকর্মীরা নিজাম প্যালেসের পাশাপাশি রাজভবনের গেটেও বিক্ষোভ দেখান। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল কেন্দ্রের প্রতিনিধি। বিজেপির সাবেক সাংসদ ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় চারজনকে গ্রেফতারের অনুমতি দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক সাংসদ। তবে নিজাম প্যালেসে বিক্ষোভের খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে টুইট করেন রাজ্যপাল ধনখড়। মমতার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনাকে আমার অনুরোধ, সংবিধান মেনে চলুন। আইন ভাঙবেন না।’ তবে নিজাম প্যালেসে বিশৃঙ্খলার জন্য পুলিশকেই দায়ী করেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের দুই মন্ত্রী গ্রেফতার

মমতার ধরনা, ১১ ঘণ্টা পর জামিন

 কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা 
১৮ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নারদকাণ্ডের মামলায় পশ্চিমবঙ্গের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের ১১ ঘণ্টা পর জামিন দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে নাটকীয়ভাবে দুই মন্ত্রী ও এক বিধায়ককে গ্রেফতার করে সিবিআই। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ধরনার পর তাদের জামিন দেওয়া হয়। মমতার দক্ষিণহস্ত দুই মন্ত্রীর সঙ্গে একই মামলায় কলকাতার সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী এবং বর্তমানে বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়ও গ্রেফতার হন। এদিকে দুপক্ষের শুনানি শেষে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্ট শর্তসাপেক্ষে চারজনকেই জামিন দিয়েছেন। করোনাভাইরাস মহামারির (কোভিড) জেরে চারজনকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়।

প্রায় ১১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটক শেষে জামিন পেয়ে কলকাতার বর্তমান মেয়র ও পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘সত্যমেব জয়তে। সত্যের জয় হয়েছে।’ তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে হেরে প্রতিহিংসাপরায়ণ বিজেপি সিবিআইকে দিয়ে তাকে গ্রেফতার করিয়েছিল। কিন্তু আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। আদালত বিচার করেছেন। একই মামলায় সাবেক পরিবহণমন্ত্রী ও কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকেও গ্রেফতার করা হয়। ফিরহাদ বাদে অন্য তিনজনকে ভারতীয় সময় সোমবার সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফ দিয়ে গ্রেফতার করে নিজাম প্যালেসে সিবিআই দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। অপরদিকে শতাধিক সিআরপিএফ দিয়ে ফিরহাদকে বাড়ি থেকে সকাল ৯টায় নিয়ে আসা হয়। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ফিরহাদ বলেছিলেন, নারদ মামলায় আমাকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তিনি বলেন, স্পিকারের অনুমতি ছাড়া ও বিনা নোটিশে আমাকে গ্রেফতার করা হলো। এমন গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কলকাতা হাইকোর্ট বলেছিলেন- স্পিকারের অনুমতি নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু সিবিআই তা করেনি। এ কারণে এ গ্রেফতার সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। যদিও সিবিআইয়ের দাবি, সংবিধান মেনেই রাজ্যপালের সম্মতি নিয়ে নারদ মামলায় মন্ত্রী ও বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দুই মন্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার পরপরই সিবিআই দপ্তরে গিয়ে ধরনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বেলা পৌনে ১১টায় নিজাম প্যালেসের ১৫ তলায় পৌঁছে তিনি ডিআইজির সঙ্গে দেখা করেন। চারজনের গ্রেফতারকে তিনি ‘বেআইনি’ আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত তাকে (মমতা) গ্রেফতার করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজাম প্যালেস ছাড়বেন না। খবর পেয়ে নিজাম প্যালেসে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক জড়ো হন। দুপুর দেড়টা নাগাদ সিবিআই অফিস লক্ষ্য করে পাথর ও ইট ছোড়া হয়। এক সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী পাল্টা লাঠিচার্জ করে। এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। অতিরিক্ত ফোর্স নামায় সিবিআই। তবে তৃণমূল কাউন্সিলররা পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। প্রায় ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ ভার্চুয়ালি শুনানি শেষ হয়। এর ১৫ মিনিট পর নিজাম প্যালেস থেকে বেরিয়ে মমতা ব্যানার্জি সোজা নবান্নে চলে যান। এ সময় ছোট্ট প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমি এখন কিছু বলব না, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আদালত নেবে। এদিকে দুপুরে টুইট করে তৃণমূল যুব সভাপতি ও মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

দুই মন্ত্রী ও এক বিধায়ককে গ্রেফতারের ঘটনায় তৃণমূল কর্মীদের ক্ষোভ পড়ে রাজভবনের ওপর। তৃণমূল নেতাকর্মীরা নিজাম প্যালেসের পাশাপাশি রাজভবনের গেটেও বিক্ষোভ দেখান। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল কেন্দ্রের প্রতিনিধি। বিজেপির সাবেক সাংসদ ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় চারজনকে গ্রেফতারের অনুমতি দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক সাংসদ। তবে নিজাম প্যালেসে বিক্ষোভের খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে টুইট করেন রাজ্যপাল ধনখড়। মমতার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনাকে আমার অনুরোধ, সংবিধান মেনে চলুন। আইন ভাঙবেন না।’ তবে নিজাম প্যালেসে বিশৃঙ্খলার জন্য পুলিশকেই দায়ী করেন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন