প্রেমিকাকে বিয়ে করেই দ্বিতীয় বিয়ে করতে ছুটল বর
jugantor
শাহজাদপুরে চাঞ্চল্য
প্রেমিকাকে বিয়ে করেই দ্বিতীয় বিয়ে করতে ছুটল বর

  শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি  

১৯ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শরিফুল ইসলাম রায়হান (২৫) অনশনরত প্রেমিকাকে বিয়ে করেই দ্বিতীয় বিয়ে করতে খুলনায় ছুটে গেছেন। প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ে না করায় সোমবার রায়হানের বাড়িতে অনশন শুরু করেন প্রেমিকা রানি খাতুন (২০)। দুপুরে গ্রামের মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় রানিকে বিয়ে করেন রায়হান। এর পরক্ষণেই দ্বিতীয় বিয়ে করতে বরযাত্রী নিয়ে রায়হান খুলনার উদ্দেশে রওনা হন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা বাজারপাড়া গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে রায়হান ৬ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে প্রেমিকা রানি খাতুনকে (২০) বিয়ে করেন। এ বিয়ের কিছু সময় পর দ্বিতীয় বিয়ে করতে তিনি চারটি মাইক্রোবাসে বরযাত্রী নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন।

জানা গেছে, খুলনার মেয়েটির সঙ্গেও রায়হানের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। প্রথম বিয়ের খবর জানার পরও তাকে বিয়ে করতে ওই মেয়ে রাজি হয়েছেন। তবে রায়হানের দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

পোরজনা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য ওসমান গণি জানান, খুলনার এক কনের সঙ্গে রায়হানের বিয়ে উপলক্ষ্যে তার বাড়িতে উৎসব শুরু হয়। আত্মীয়স্বজনরাও আসতে শুরু করেন। এরই মধ্যে বিয়ের দাবিতে রায়হানের বাড়িতে রোববার রাতে অনশন শুরু করেন একই ইউনিয়নের জামিরতা ব্যাপারীপাড়া গ্রামের রমজান আলীর মেয়ে রানি। তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে রায়হানের লোকজন ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনাও ঘটে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত দেন-দরবার শেষে ৬ লাখ টাকা যৌতুক এবং ৯ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে রায়হানের সঙ্গে রানির কাবিন হয়। নববধূ রানিকে বাড়িতে রেখে কিছুক্ষণ পর রায়হান চারটি মাইক্রোবাসে বরযাত্রী নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করতে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন।

নববধূ রানি খাতুন জানান, এক বছর আগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে নারায়ণগঞ্জ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে রায়হানের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৮ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়িতে বেড়াতে নিয়ে একটি হোটেলে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকেন। খাগড়াছড়ি থেকে ফিরে রায়হান বাড়ি চলে আসেন। এরপর জানতে পারি সোমবার রায়হান খুলনার এক মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। রোববার রায়হানের সঙ্গে দেখা করলে সে আমাদের সম্পর্ক অস্বীকার করে। এরপর আমি তার বাড়িতে অবস্থান নেই। এরপর গ্রামের মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় আমাদের বিয়ের কাবিন করা হয়। কাবিনের পরই রায়হান দ্বিতীয় বিয়ে করতে বরযাত্রী নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন।

রায়হানের বাড়ি থেকে রানিকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে গালা ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক লাভলী খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। দ্বিতীয় বিয়ের বরযাত্রী হয়েছেন লাভলী। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে লাভলী বলেন, আমি কাউকে মারধর করিনি। বরং দুপক্ষের মারামারি ঠেকাতে গিয়ে আমিও মার খেয়েছি।

শাহজাদপুর থানার এসআই আসাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহজাদপুরে চাঞ্চল্য

প্রেমিকাকে বিয়ে করেই দ্বিতীয় বিয়ে করতে ছুটল বর

 শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি 
১৯ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শরিফুল ইসলাম রায়হান (২৫) অনশনরত প্রেমিকাকে বিয়ে করেই দ্বিতীয় বিয়ে করতে খুলনায় ছুটে গেছেন। প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ে না করায় সোমবার রায়হানের বাড়িতে অনশন শুরু করেন প্রেমিকা রানি খাতুন (২০)। দুপুরে গ্রামের মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় রানিকে বিয়ে করেন রায়হান। এর পরক্ষণেই দ্বিতীয় বিয়ে করতে বরযাত্রী নিয়ে রায়হান খুলনার উদ্দেশে রওনা হন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা বাজারপাড়া গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে রায়হান ৬ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে প্রেমিকা রানি খাতুনকে (২০) বিয়ে করেন। এ বিয়ের কিছু সময় পর দ্বিতীয় বিয়ে করতে তিনি চারটি মাইক্রোবাসে বরযাত্রী নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন।

জানা গেছে, খুলনার মেয়েটির সঙ্গেও রায়হানের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। প্রথম বিয়ের খবর জানার পরও তাকে বিয়ে করতে ওই মেয়ে রাজি হয়েছেন। তবে রায়হানের দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

পোরজনা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য ওসমান গণি জানান, খুলনার এক কনের সঙ্গে রায়হানের বিয়ে উপলক্ষ্যে তার বাড়িতে উৎসব শুরু হয়। আত্মীয়স্বজনরাও আসতে শুরু করেন। এরই মধ্যে বিয়ের দাবিতে রায়হানের বাড়িতে রোববার রাতে অনশন শুরু করেন একই ইউনিয়নের জামিরতা ব্যাপারীপাড়া গ্রামের রমজান আলীর মেয়ে রানি। তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে রায়হানের লোকজন ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনাও ঘটে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত দেন-দরবার শেষে ৬ লাখ টাকা যৌতুক এবং ৯ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে রায়হানের সঙ্গে রানির কাবিন হয়। নববধূ রানিকে বাড়িতে রেখে কিছুক্ষণ পর রায়হান চারটি মাইক্রোবাসে বরযাত্রী নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করতে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন।

নববধূ রানি খাতুন জানান, এক বছর আগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে নারায়ণগঞ্জ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে রায়হানের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৮ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়িতে বেড়াতে নিয়ে একটি হোটেলে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকেন। খাগড়াছড়ি থেকে ফিরে রায়হান বাড়ি চলে আসেন। এরপর জানতে পারি সোমবার রায়হান খুলনার এক মেয়েকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। রোববার রায়হানের সঙ্গে দেখা করলে সে আমাদের সম্পর্ক অস্বীকার করে। এরপর আমি তার বাড়িতে অবস্থান নেই। এরপর গ্রামের মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় আমাদের বিয়ের কাবিন করা হয়। কাবিনের পরই রায়হান দ্বিতীয় বিয়ে করতে বরযাত্রী নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হন।

রায়হানের বাড়ি থেকে রানিকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে গালা ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক লাভলী খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। দ্বিতীয় বিয়ের বরযাত্রী হয়েছেন লাভলী। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে লাভলী বলেন, আমি কাউকে মারধর করিনি। বরং দুপক্ষের মারামারি ঠেকাতে গিয়ে আমিও মার খেয়েছি।

শাহজাদপুর থানার এসআই আসাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন