সরকারের চেয়ে ২.১% কম প্রবৃদ্ধি
jugantor
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস
সরকারের চেয়ে ২.১% কম প্রবৃদ্ধি

  যুগান্তর ডেস্ক  

১০ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী অর্থবছরে (২০২১-২২) বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। কিন্তু ৩ জুন বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্যের চেয়ে ২ দশমিক ১ শতাংশ কম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। করোনা পরিস্থিতির কারণে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার রাতে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। চলতি বিদায়ী অর্থবছরে (২০২০-২১) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে বৈশ্বিক আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থাটি। সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য প্রথমে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করেছিল। কিন্তু বাজেটে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।

বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, মহামারির প্রভাব দীর্ঘতর হওয়া এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এবং পুনরায় লকডাউন ঘোষণার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শ্লথ অবস্থা বিরাজ করছে। তাছাড়া রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে পায়নি। তবে প্রবাস আয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন হওয়া এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সরকার ঘোষিত বৃহৎ প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন বিবেচনায় নিয়ে চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন সংশোধন করে ৬ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ হবে।

গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, চলতি বছর ১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। পরে গত মার্চে প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস স্প্রিং ২০২১ : সাউথ এশিয়া ভ্যাকসিনেটস’ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করে বিশ্বব্যাংক। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে তা মোকাবিলায় বিধিনিষেধ আরোপের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। কর্মস্থলে চলাফেরা ও বেচাকেনা মহামারি-পূর্ব পরিস্থিতির অনেক নিচে নেমেছে। করোনাভাইরাস মহামারির এমন গুরুতর পরিস্থিতির কারণে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি চাপের মুখে থাকবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। আগামী অর্থবছরের ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। এগুলো হলো স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি এবং তৈরি পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধি।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য অভ্যন্তরীণ আর্থিক খাতের চাপ উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে থাকবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দেশের মোট ঋণের অংশ হিসেবে ‘মন্দ ঋণের’ পরিমাণ মহামারির আগেই অনেক বেড়ে যায়, যার ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে মন্দা তৈরি হয়েছে। এটা বেসরকারি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্বব্যাংক মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলছে, আগামী অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। গত অর্থবছরে (২০২০-২১) ভারতের জিডিপি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে মালদ্বীপে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ, ভুটানে ৫ শতাংশ, নেপালে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, পাকিস্তানে ২ শতাংশ ও শ্রীলংকায় ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস

সরকারের চেয়ে ২.১% কম প্রবৃদ্ধি

 যুগান্তর ডেস্ক 
১০ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী অর্থবছরে (২০২১-২২) বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। কিন্তু ৩ জুন বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্যের চেয়ে ২ দশমিক ১ শতাংশ কম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। করোনা পরিস্থিতির কারণে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার রাতে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। চলতি বিদায়ী অর্থবছরে (২০২০-২১) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে বৈশ্বিক আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থাটি। সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য প্রথমে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করেছিল। কিন্তু বাজেটে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।

বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, মহামারির প্রভাব দীর্ঘতর হওয়া এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এবং পুনরায় লকডাউন ঘোষণার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শ্লথ অবস্থা বিরাজ করছে। তাছাড়া রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে পায়নি। তবে প্রবাস আয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন হওয়া এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সরকার ঘোষিত বৃহৎ প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন বিবেচনায় নিয়ে চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন সংশোধন করে ৬ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ হবে।

গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, চলতি বছর ১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। পরে গত মার্চে প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস স্প্রিং ২০২১ : সাউথ এশিয়া ভ্যাকসিনেটস’ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করে বিশ্বব্যাংক। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে তা মোকাবিলায় বিধিনিষেধ আরোপের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। কর্মস্থলে চলাফেরা ও বেচাকেনা মহামারি-পূর্ব পরিস্থিতির অনেক নিচে নেমেছে। করোনাভাইরাস মহামারির এমন গুরুতর পরিস্থিতির কারণে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি চাপের মুখে থাকবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। আগামী অর্থবছরের ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। এগুলো হলো স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি এবং তৈরি পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধি।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য অভ্যন্তরীণ আর্থিক খাতের চাপ উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি হিসেবে থাকবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দেশের মোট ঋণের অংশ হিসেবে ‘মন্দ ঋণের’ পরিমাণ মহামারির আগেই অনেক বেড়ে যায়, যার ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে মন্দা তৈরি হয়েছে। এটা বেসরকারি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্বব্যাংক মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলছে, আগামী অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। গত অর্থবছরে (২০২০-২১) ভারতের জিডিপি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে মালদ্বীপে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ, ভুটানে ৫ শতাংশ, নেপালে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, পাকিস্তানে ২ শতাংশ ও শ্রীলংকায় ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন