পিডিএম সরবরাহ টেন্ডারে কারসাজি!
jugantor
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড
পিডিএম সরবরাহ টেন্ডারে কারসাজি!

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

১০ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে প্রডাক্ট ডেলিভারি মিটার (পিডিএম, ২ ইঞ্চি ও ৩ ইঞ্চি) সরবরাহের আড়াই কোটি টাকার টেন্ডারে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।

যেসব ব্র্যান্ড বাংলাদেশে প্রচলিত বা সক্রিয় নয়; এমন ব্র্যান্ডের নিম্নমানের পণ্য টেন্ডার প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান প্রক্রিয়ায় টেন্ডার সম্পন্ন হলে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মেঘনার তালিকাভুক্ত একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন- একটি বিশেষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে কারসাজির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, দরপত্রে প্রদত্ত ব্র্যান্ডের সঙ্গে ‘ইক্যুইভ্যালেন্ট’ বা সমমান শব্দটি সংযোজন করা হয়নি ইচ্ছাকৃতভাবে। এ কারণে এ টেন্ডারে বিশেষ প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউ অংশ নিতে পারছে না। টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডার আহ্বানের জন্য বিপিসির কাছে চিঠি দিয়েছেন ঠিকাদাররা।

সূত্র জানায়, ১৫টি ৩ ইঞ্চি ও ১৫টি ২ ইঞ্চি প্রডাক্ট ডেলিভারি মিটার (পিডিএম) কেনার জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা। অথচ ২০১৯ সালে বিপিসি ২৫টি একই ধরনের মিটার ক্রয় করেছিল ১ কোটি ২০ লাখ টাকায়।

ঠিকাদাররা জানিয়েছেন, এসব পিডিএম তেল কোম্পানি নিলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে প্রায় কোটি টাকা। ২৫ মার্চ পিডিএম সরবরাহের টেন্ডার আহ্বান করে মেঘনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। এতে যে পাঁচটি ব্র্যান্ড উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- স্মিথ, লিকোয়েড কন্ট্রোল (এলসি), অ্যাভেরি হারডল, নেপচুন ও আইজল। এগুলোর মধ্যে স্মিথ, অ্যাভেরি হারডল ও নেপচুন ব্র্যান্ড বাংলাদেশে গত ৮-১০ বছর ধরে আসে না বা আমদানি নেই।

এ তিনটি ব্র্যান্ড ৩ ইঞ্চি প্রডাক্ট ডেলিভারি মিটার এখন তৈরিও করে না। অপর একটি ব্র্যান্ড স্মিথ ৩ ইঞ্চি পিডিএম তৈরি করলেও দাম বেশি হওয়ায় এ ব্র্যান্ডের মিটার তেল কোম্পানিগুলোতে সরবরাহ করেন না ঠিকাদাররা। শুধু ইটালীয় ব্র্যান্ড ‘আইজল’ এরই আছে দরপত্রে উল্লিখিত শিডিউলের শর্ত পূরণ করার মতো মিটার। মূলত এ ব্র্যান্ডের পিডিএম নেওয়ার জন্যই দরপত্রে কিছু হাস্যকর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে অন্য কোনো ঠিকাদার বা ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিতে পারছে না। ২১ জুন টেন্ডারে অংশগ্রহণের শেষ তারিখ ধার্য রয়েছে।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ঠিকাদারদের অভিযোগ একেবারে অমূলক নয়। অভিযোগ দিলেও আমাদের করার কিছু নেই। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনা মেনে টেন্ডার দেওয়াতে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

‘ইস্টার্ন এজেন্সিস’ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দিদারুল আলম ছিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, একটি ব্র্যান্ডকে সুবিধা দিতে এ কারসাজি করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে পক্ষান্তরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। আমরা এ ব্যাপারে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছি। ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও লিখিতভাবে টেন্ডার কারসাজির বিষয়টি জানিয়েছি।’

এ ব্যাপারে মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ক্রয়) ইনাম ইলাহী চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন এবং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত এলপিআর ও দরপত্র দলিল যথাযথ অনুরসণ করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এখানে কারসাজির কোনো সুযোগ নেই।’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রামের সাবেক বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ যুগান্তরকে জানান, ‘এ ব্যাপারে পরিচালকের (অপারেশন) সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়। চেয়ারম্যান হিসাবে আমি নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে এখনই আমি কিছু বলতে পারব না।’

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড

পিডিএম সরবরাহ টেন্ডারে কারসাজি!

 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
১০ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে প্রডাক্ট ডেলিভারি মিটার (পিডিএম, ২ ইঞ্চি ও ৩ ইঞ্চি) সরবরাহের আড়াই কোটি টাকার টেন্ডারে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে।

যেসব ব্র্যান্ড বাংলাদেশে প্রচলিত বা সক্রিয় নয়; এমন ব্র্যান্ডের নিম্নমানের পণ্য টেন্ডার প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান প্রক্রিয়ায় টেন্ডার সম্পন্ন হলে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মেঘনার তালিকাভুক্ত একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন- একটি বিশেষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে কারসাজির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, দরপত্রে প্রদত্ত ব্র্যান্ডের সঙ্গে ‘ইক্যুইভ্যালেন্ট’ বা সমমান শব্দটি সংযোজন করা হয়নি ইচ্ছাকৃতভাবে। এ কারণে এ টেন্ডারে বিশেষ প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউ অংশ নিতে পারছে না। টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডার আহ্বানের জন্য বিপিসির কাছে চিঠি দিয়েছেন ঠিকাদাররা।

সূত্র জানায়, ১৫টি ৩ ইঞ্চি ও ১৫টি ২ ইঞ্চি প্রডাক্ট ডেলিভারি মিটার (পিডিএম) কেনার জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক আড়াই কোটি টাকা। অথচ ২০১৯ সালে বিপিসি ২৫টি একই ধরনের মিটার ক্রয় করেছিল ১ কোটি ২০ লাখ টাকায়।

ঠিকাদাররা জানিয়েছেন, এসব পিডিএম তেল কোম্পানি নিলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে প্রায় কোটি টাকা। ২৫ মার্চ পিডিএম সরবরাহের টেন্ডার আহ্বান করে মেঘনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। এতে যে পাঁচটি ব্র্যান্ড উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- স্মিথ, লিকোয়েড কন্ট্রোল (এলসি), অ্যাভেরি হারডল, নেপচুন ও আইজল। এগুলোর মধ্যে স্মিথ, অ্যাভেরি হারডল ও নেপচুন ব্র্যান্ড বাংলাদেশে গত ৮-১০ বছর ধরে আসে না বা আমদানি নেই।

এ তিনটি ব্র্যান্ড ৩ ইঞ্চি প্রডাক্ট ডেলিভারি মিটার এখন তৈরিও করে না। অপর একটি ব্র্যান্ড স্মিথ ৩ ইঞ্চি পিডিএম তৈরি করলেও দাম বেশি হওয়ায় এ ব্র্যান্ডের মিটার তেল কোম্পানিগুলোতে সরবরাহ করেন না ঠিকাদাররা। শুধু ইটালীয় ব্র্যান্ড ‘আইজল’ এরই আছে দরপত্রে উল্লিখিত শিডিউলের শর্ত পূরণ করার মতো মিটার। মূলত এ ব্র্যান্ডের পিডিএম নেওয়ার জন্যই দরপত্রে কিছু হাস্যকর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে অন্য কোনো ঠিকাদার বা ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিতে পারছে না। ২১ জুন টেন্ডারে অংশগ্রহণের শেষ তারিখ ধার্য রয়েছে।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ঠিকাদারদের অভিযোগ একেবারে অমূলক নয়। অভিযোগ দিলেও আমাদের করার কিছু নেই। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনা মেনে টেন্ডার দেওয়াতে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

‘ইস্টার্ন এজেন্সিস’ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দিদারুল আলম ছিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, একটি ব্র্যান্ডকে সুবিধা দিতে এ কারসাজি করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে পক্ষান্তরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। আমরা এ ব্যাপারে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছি। ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও লিখিতভাবে টেন্ডার কারসাজির বিষয়টি জানিয়েছি।’

এ ব্যাপারে মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ক্রয়) ইনাম ইলাহী চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন এবং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত এলপিআর ও দরপত্র দলিল যথাযথ অনুরসণ করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এখানে কারসাজির কোনো সুযোগ নেই।’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রামের সাবেক বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ যুগান্তরকে জানান, ‘এ ব্যাপারে পরিচালকের (অপারেশন) সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়। চেয়ারম্যান হিসাবে আমি নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে এখনই আমি কিছু বলতে পারব না।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন