করোনা প্রতিরোধে সামাজিক অংশগ্রহণ জরুরি
jugantor
বিআইডিএসের ওয়েবিনারে বক্তারা
করোনা প্রতিরোধে সামাজিক অংশগ্রহণ জরুরি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১০ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার সংক্রমণ রোধে সামাজিক অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। এজন্য যতদিন টিকা পাওয়া না যায় ততদিন মাস্ক পরিধানের অভ্যাস করতে হবে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্কের বিকল্প নেই। সবাইকে মাস্ক পরাতে হলে এটিকে সামাজিক রীতিতে রূপ দিতে হবে। সেজন্য জনপ্রতিনিধি ও ইমামদের কাজে লাগাতে হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘মাস্কের সহজলভ্যতা : স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বুধবার গবেষক ও অর্থনীতিবিদরা এসব কথা বলেছেন। বিআইডিএসের মহাপরিচালক বিনায়ক সেনের সঞ্চালনায় আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। আরও বক্তব্য দেন সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার ও পরিকল্পনা সচিব জয়নুল বারী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশফিক মোবারক। প্যানেল আলোচক ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। মুশফিক মোবারক বলেন, ১ লাখ ৩০ হাজার খানার ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, প্রচারকের মাধ্যমে মাস্ক ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করার ফলে এর ব্যবহার ২৯ শতাংশ হারে বাড়ে, যা ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত টেকসই হয়। বিনা পয়সায় মাস্ক বিতরণে জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম ও প্রচারকের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আসিফ সালেহ বলেন, করোনা ঠেকাতে বিধিনিষেধ বা লকডাউন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই পদ্ধতি কার্যকর নয়। বরং অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে কমিউনিটি ছাড়া সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিক দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। মসিউর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম নিয়ে কথা হচ্ছে। অনেকে এসব অনিয়মের সঙ্গে মন্ত্রীর সম্পৃক্ততার কথা বলছেন। কিন্তু মন্ত্রীর পাশাপাশি সেখানে অন্যদেরও দায়িত্ব থাকে। তিনি বলেন, মাস্ক এখন রক্ষা করবে। কিন্তু টিকার বিকল্প মাস্ক নয়।

আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, দেশে বড় সমস্যা হচ্ছে মানুষের আচরণ। গ্রামের মানুষকে মাস্ক পরতে দেখা যায় না। অভিযান পরিচালনা, বল প্রয়োগ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও মানুষকে মাস্ক পরানো যায়নি। মাস্কের পরিবর্তে সরকার টিকার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। সব জায়গা থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য খাতে টাকা কোনো সমস্যা নয়, চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা। কোভিডের সময়ও স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে যা টাকা চাওয়া হয়েছে তাই দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বছর শেষে দেখা যাবে যা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার সব খরচ করা যায়নি।

ড. রেহমান সোবহান বলেন, করোনা প্রতিরোধে স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। যে যার মতো করে সুপারিশ দিলে হবে না। নীতিনির্ধারকদের ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ড. আতিউর রহমান বলেন, মাস্ক ব্যবহারের কারণে যে পোশাক খাতে বড় পরিবর্তন এসেছে সেটি একটি উদাহরণ। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

বিনায়ক সেন বলেন, সীমান্ত এলাকায় মৃত্যু ও সংক্রমণ দুটোই বাড়ছে। আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দিকে সবার নজর ছিল। এখন ঢাকায় সংক্রমণ কমেছে। দেশের অন্য অঞ্চলগুলোতে করোনা বাড়ছে। এজন্য করোনা সংক্রমিত অঞ্চলগুলো থেকে ঢাকায় গণপরিবহণ পরিচালনা ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। মালামাল পরিবহণ অব্যাহত রাখলেও গণপরিবহণে ঢাকায় আসা বন্ধ করা উচিত।

বিআইডিএসের ওয়েবিনারে বক্তারা

করোনা প্রতিরোধে সামাজিক অংশগ্রহণ জরুরি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১০ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার সংক্রমণ রোধে সামাজিক অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। এজন্য যতদিন টিকা পাওয়া না যায় ততদিন মাস্ক পরিধানের অভ্যাস করতে হবে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্কের বিকল্প নেই। সবাইকে মাস্ক পরাতে হলে এটিকে সামাজিক রীতিতে রূপ দিতে হবে। সেজন্য জনপ্রতিনিধি ও ইমামদের কাজে লাগাতে হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘মাস্কের সহজলভ্যতা : স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বুধবার গবেষক ও অর্থনীতিবিদরা এসব কথা বলেছেন। বিআইডিএসের মহাপরিচালক বিনায়ক সেনের সঞ্চালনায় আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। আরও বক্তব্য দেন সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার ও পরিকল্পনা সচিব জয়নুল বারী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশফিক মোবারক। প্যানেল আলোচক ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। মুশফিক মোবারক বলেন, ১ লাখ ৩০ হাজার খানার ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, প্রচারকের মাধ্যমে মাস্ক ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করার ফলে এর ব্যবহার ২৯ শতাংশ হারে বাড়ে, যা ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত টেকসই হয়। বিনা পয়সায় মাস্ক বিতরণে জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম ও প্রচারকের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আসিফ সালেহ বলেন, করোনা ঠেকাতে বিধিনিষেধ বা লকডাউন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই পদ্ধতি কার্যকর নয়। বরং অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে কমিউনিটি ছাড়া সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিক দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। মসিউর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম নিয়ে কথা হচ্ছে। অনেকে এসব অনিয়মের সঙ্গে মন্ত্রীর সম্পৃক্ততার কথা বলছেন। কিন্তু মন্ত্রীর পাশাপাশি সেখানে অন্যদেরও দায়িত্ব থাকে। তিনি বলেন, মাস্ক এখন রক্ষা করবে। কিন্তু টিকার বিকল্প মাস্ক নয়।

আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, দেশে বড় সমস্যা হচ্ছে মানুষের আচরণ। গ্রামের মানুষকে মাস্ক পরতে দেখা যায় না। অভিযান পরিচালনা, বল প্রয়োগ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও মানুষকে মাস্ক পরানো যায়নি। মাস্কের পরিবর্তে সরকার টিকার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। সব জায়গা থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য খাতে টাকা কোনো সমস্যা নয়, চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা। কোভিডের সময়ও স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে যা টাকা চাওয়া হয়েছে তাই দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বছর শেষে দেখা যাবে যা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার সব খরচ করা যায়নি।

ড. রেহমান সোবহান বলেন, করোনা প্রতিরোধে স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। যে যার মতো করে সুপারিশ দিলে হবে না। নীতিনির্ধারকদের ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ড. আতিউর রহমান বলেন, মাস্ক ব্যবহারের কারণে যে পোশাক খাতে বড় পরিবর্তন এসেছে সেটি একটি উদাহরণ। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

বিনায়ক সেন বলেন, সীমান্ত এলাকায় মৃত্যু ও সংক্রমণ দুটোই বাড়ছে। আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দিকে সবার নজর ছিল। এখন ঢাকায় সংক্রমণ কমেছে। দেশের অন্য অঞ্চলগুলোতে করোনা বাড়ছে। এজন্য করোনা সংক্রমিত অঞ্চলগুলো থেকে ঢাকায় গণপরিবহণ পরিচালনা ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। মালামাল পরিবহণ অব্যাহত রাখলেও গণপরিবহণে ঢাকায় আসা বন্ধ করা উচিত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন