সীমান্তের গ্রামে গ্রামে করোনার উপসর্গ
jugantor
সীমান্তের গ্রামে গ্রামে করোনার উপসর্গ
খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে একদিনে ১৮ জনের মৃত্যু * সাতক্ষীরায় শনাক্তের হার ৬০ শতাংশ

  যুগান্তর ডেস্ক  

১০ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার নানা উপসর্গ। গ্রামের বাসিন্দারা একে ‘সিজন্যাল অসুখ’ বলেই মনে করছেন। জ্বর, সর্দি-কাশি, গা ব্যথা ও ডায়রিয়া দেখা দিলেও বেশিরভাগ লোক ডাক্তার দেখাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে সচেতনদের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এলাকাভিত্তিক লকডাউন ও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ১৬টি গ্রাম লকডাউন করেছে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। এদিকে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে রেকর্ড ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের মেঝেতেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। সাতক্ষীরায় বেড়েছে সংক্রমণ, বুধবার এ জেলায় শনাক্তের হার ছিল ৬০ শতাংশ। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সাতক্ষীরা : লকডাউন চললেও জেলার বিভিন্ন গ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ফলে সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন সোনাবাড়িয়া, কেড়াগাছি, কুশখালি, বৈকারি, ঘোনা, ভোমরা, দেবহাটাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনার নানা উপসর্গ। তবে গ্রামের বাসিন্দারা এসব উপসর্গকে ‘সিজন্যাল অসুখ’ মনে করছেন। তারা হাসপাতাল কিংবা ডাক্তারের কাছে যেতেও অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকে গ্রামীণ এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা লাইসেন্সবিহীন বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুরুতর অবস্থা না হলে তারা শহরে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন না। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, গ্রামের মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব বেশি। করোনা সংক্রমণ রোধে গ্রামে গ্রামে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হলেও গ্রামবাসী এর তোয়াক্কা করছেন না। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্ত হয়ে বুধবার পর্যন্ত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ২২৭ জন। মৃতদের বেশিরভাগই গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন সাফায়েত বলেন, বুধবার ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০৩ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। শনাক্তের হার ৬০ শতাংশেরও বেশি।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) : উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে ২ জুন ৩৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় ৭টি গ্রামে লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। এগুলো হলো- মুন্সিপুর, পীরপুরকুল্লা, হরিরামপুর, কতুবপুর, শিবনগর, হুদাপাড়া ও জাহাজপোতা। এরপর ৫ জুন দুপুরে আরও ৯ গ্রাম লকডাউন করে দামুড়হুদা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। গ্রামগুলো হলো- সীমান্তবর্তী নাস্তিপুর, ঝাঝাডাঙ্গা, ছোটবলদিয়া, বড়বলদিয়া, বাড়াদি, কামারপাড়া, চাকুলিয়া, ঠাকুরপুর ও ফুলবাড়ি। দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আবুহেনা মোস্তফা কামাল শুভ জানান, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪৫১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, এদের মধ্যে মারা গেছেন ১৮ জন। আক্রান্ত ও মৃতদের প্রায় সবার বাড়ি সীমান্ত এলাকায়। এদিকে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল খালেকুজ্জামান জানান, সীমান্তে কঠোর নজরদারিসহ মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করছেন তারা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মাস্ক বিতরণ ও মতবিনিময় সভা করছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশি ৪ অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে।

রাজশাহী : রোগীর অব্যাহত চাপের কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আরও একটি করোনা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। এ নিয়ে রামেকে ওয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়াল চার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এরপরও সক্ষমতার অনেক বেশি করোনা রোগী ভর্তি আছেন। বুধবার দুপুর পর্যন্ত সক্ষমতার অতিরিক্ত ৪৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বেড না থাকায় অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের ভেতরে মেঝেতে রাখা হয়েছে। ফলে অক্সিজেন সংযোগ পেতে সমস্যা হচ্ছে এসব রোগীর। আর আইসিইউতে আছেন ১৮ জন করোনা রোগী। বুধবার পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেলে আরও ৮ জন করোনায় মারা গেছেন।

খুলনা : বুধবার সকাল পর্যন্ত খুলনা বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে রেকর্ড ৫৫৭ জনের। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫৭ জন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলার ৩ জন, বাগেরহাটের ৪ জন, কুষ্টিয়ার ২ জন এবং যশোরের একজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এদিকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ। সেখানে ধারণ ক্ষমতার বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে।

তানোর (রাজশাহী) : জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পর ৩ দিন ধরে তানোর উপজেলার প্রবেশমুখগুলোতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। জরুরি সেবা ছাড়া কাউকেই তানোরে ঢুকতে কিংবা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। বুধবার সকালে উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া হাড়দো বিল চেকপোস্টে দেখা যায়, নানা অজুহাতে তানোরে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়া লোকজনকে সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

শেরপুর : সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরে গেল ২৪ ঘণ্টায় ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় আরও ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে এদিন কেউ মারা যাননি। জুনের ৯ দিনে জেলায় ৭১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে শেরপুর সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ জন। এদিকে জেলার একমাত্র নাকুগাঁও স্থলবন্দরে দেড় মাস ধরে লকডাউন চলছে। ফলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট দিয়ে লোকজন আসা-যাওয়া ও স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর পরিবহণ বন্ধ রয়েছে।

অভয়নগর (যশোর) : যশোরের অভয়নগরে গেল ২৪ ঘণ্টায় ২৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে ৫ জন, ৬নং ওয়ার্ডে ২ জন, ৯নং ওয়ার্ডে ১ জন, শ্রীধরপুর ইউনিয়নে ২ জন এবং সমশপুর, কোটা, চলিশিয়া গ্রাম ও শুভরাড়া ইউনিয়নে একজন করে আক্রান্ত হয়েছেন। উপজেলায় করোনা সংক্রমণের হার ৪৮ শতাংশের উপরে।

নাটোর ও সিংড়া : নাটোর ও সিংড়া পৌরসভায় ৭ দিনের লকডাউনের প্রথম দিন বুধবার ব্যাপক কড়াকড়ি দেখা গেছে। সিংড়া পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, ইউএনও এমএম সামিরুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিবুল হাসান রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে ঘরে ফিরতে অনুরোধ করেন। এসময় সরকারি আদেশ অমান্য করায় ১৮ পথচারী ও ব্যবসায়ীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে জেলায় গেল ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নওগাঁ : নওগাঁ পৌরসভা এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় শর্ত শিথিল করে চলমান বিশেষ লকডাউনের মেয়াদ আরও ৭ দিন বাড়ানো হয়েছে। লকডাউন ১৬ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে-সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান, শপিংমল ও বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে। তবে চায়ের স্টল বন্ধ থাকবে। জেলা সদর থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চলাচল করতে পারবে।

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) : ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ কয়েকজন কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বীরগঞ্জে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডে ৯ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপজেলা কমিটি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদের এ ঘোষণা দেন। ব্যাংকের মূল ফটকে লাল কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া : জেলায় করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। করোনা রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের করোনার দুটি ওয়ার্ডে কোনো শয্যা ফাঁকা নেই। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত ৫৬টি শয্যার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৬৭ জন। এরমধ্যে করোনা পজিটিভ রোগী ৫০ জন। বাকি ২০ জন অভজারভেশনে ছিলেন। জেলায় গেল ২৪ ঘণ্টায় চারজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৬৭ জন।

মোংলা (বাগেরহাট) : জেলায় বুধবার ৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। বন্দর ও শ্রমিক অধ্যুষিত এ এলাকায় করোনা সংক্রমনের হার ৬৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তৃতীয় দফায় ১৬ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বিশেষ লকডাউন। অবস্থার উন্নতি না হলে লকডাউনের সময় আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

সীমান্তের গ্রামে গ্রামে করোনার উপসর্গ

খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে একদিনে ১৮ জনের মৃত্যু * সাতক্ষীরায় শনাক্তের হার ৬০ শতাংশ
 যুগান্তর ডেস্ক 
১০ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার নানা উপসর্গ। গ্রামের বাসিন্দারা একে ‘সিজন্যাল অসুখ’ বলেই মনে করছেন। জ্বর, সর্দি-কাশি, গা ব্যথা ও ডায়রিয়া দেখা দিলেও বেশিরভাগ লোক ডাক্তার দেখাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে সচেতনদের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এলাকাভিত্তিক লকডাউন ও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় ১৬টি গ্রাম লকডাউন করেছে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। এদিকে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে রেকর্ড ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের মেঝেতেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। সাতক্ষীরায় বেড়েছে সংক্রমণ, বুধবার এ জেলায় শনাক্তের হার ছিল ৬০ শতাংশ। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সাতক্ষীরা : লকডাউন চললেও জেলার বিভিন্ন গ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ফলে সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন সোনাবাড়িয়া, কেড়াগাছি, কুশখালি, বৈকারি, ঘোনা, ভোমরা, দেবহাটাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনার নানা উপসর্গ। তবে গ্রামের বাসিন্দারা এসব উপসর্গকে ‘সিজন্যাল অসুখ’ মনে করছেন। তারা হাসপাতাল কিংবা ডাক্তারের কাছে যেতেও অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকে গ্রামীণ এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা লাইসেন্সবিহীন বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুরুতর অবস্থা না হলে তারা শহরে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন না। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, গ্রামের মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব বেশি। করোনা সংক্রমণ রোধে গ্রামে গ্রামে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হলেও গ্রামবাসী এর তোয়াক্কা করছেন না। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্ত হয়ে বুধবার পর্যন্ত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ২২৭ জন। মৃতদের বেশিরভাগই গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন সাফায়েত বলেন, বুধবার ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০৩ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। শনাক্তের হার ৬০ শতাংশেরও বেশি।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) : উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে ২ জুন ৩৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় ৭টি গ্রামে লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। এগুলো হলো- মুন্সিপুর, পীরপুরকুল্লা, হরিরামপুর, কতুবপুর, শিবনগর, হুদাপাড়া ও জাহাজপোতা। এরপর ৫ জুন দুপুরে আরও ৯ গ্রাম লকডাউন করে দামুড়হুদা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। গ্রামগুলো হলো- সীমান্তবর্তী নাস্তিপুর, ঝাঝাডাঙ্গা, ছোটবলদিয়া, বড়বলদিয়া, বাড়াদি, কামারপাড়া, চাকুলিয়া, ঠাকুরপুর ও ফুলবাড়ি। দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আবুহেনা মোস্তফা কামাল শুভ জানান, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪৫১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, এদের মধ্যে মারা গেছেন ১৮ জন। আক্রান্ত ও মৃতদের প্রায় সবার বাড়ি সীমান্ত এলাকায়। এদিকে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল খালেকুজ্জামান জানান, সীমান্তে কঠোর নজরদারিসহ মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করছেন তারা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মাস্ক বিতরণ ও মতবিনিময় সভা করছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশি ৪ অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে।

রাজশাহী : রোগীর অব্যাহত চাপের কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আরও একটি করোনা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। এ নিয়ে রামেকে ওয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়াল চার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এরপরও সক্ষমতার অনেক বেশি করোনা রোগী ভর্তি আছেন। বুধবার দুপুর পর্যন্ত সক্ষমতার অতিরিক্ত ৪৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বেড না থাকায় অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের ভেতরে মেঝেতে রাখা হয়েছে। ফলে অক্সিজেন সংযোগ পেতে সমস্যা হচ্ছে এসব রোগীর। আর আইসিইউতে আছেন ১৮ জন করোনা রোগী। বুধবার পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেলে আরও ৮ জন করোনায় মারা গেছেন।

খুলনা : বুধবার সকাল পর্যন্ত খুলনা বিভাগে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে রেকর্ড ৫৫৭ জনের। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫৭ জন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলার ৩ জন, বাগেরহাটের ৪ জন, কুষ্টিয়ার ২ জন এবং যশোরের একজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এদিকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ। সেখানে ধারণ ক্ষমতার বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে।

তানোর (রাজশাহী) : জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পর ৩ দিন ধরে তানোর উপজেলার প্রবেশমুখগুলোতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। জরুরি সেবা ছাড়া কাউকেই তানোরে ঢুকতে কিংবা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। বুধবার সকালে উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া হাড়দো বিল চেকপোস্টে দেখা যায়, নানা অজুহাতে তানোরে প্রবেশ ও বাইরে যাওয়া লোকজনকে সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

শেরপুর : সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরে গেল ২৪ ঘণ্টায় ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় আরও ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে এদিন কেউ মারা যাননি। জুনের ৯ দিনে জেলায় ৭১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে শেরপুর সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ জন। এদিকে জেলার একমাত্র নাকুগাঁও স্থলবন্দরে দেড় মাস ধরে লকডাউন চলছে। ফলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও ইমিগ্রেশন চেক পোস্ট দিয়ে লোকজন আসা-যাওয়া ও স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর পরিবহণ বন্ধ রয়েছে।

অভয়নগর (যশোর) : যশোরের অভয়নগরে গেল ২৪ ঘণ্টায় ২৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে ৫ জন, ৬নং ওয়ার্ডে ২ জন, ৯নং ওয়ার্ডে ১ জন, শ্রীধরপুর ইউনিয়নে ২ জন এবং সমশপুর, কোটা, চলিশিয়া গ্রাম ও শুভরাড়া ইউনিয়নে একজন করে আক্রান্ত হয়েছেন। উপজেলায় করোনা সংক্রমণের হার ৪৮ শতাংশের উপরে।

নাটোর ও সিংড়া : নাটোর ও সিংড়া পৌরসভায় ৭ দিনের লকডাউনের প্রথম দিন বুধবার ব্যাপক কড়াকড়ি দেখা গেছে। সিংড়া পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, ইউএনও এমএম সামিরুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিবুল হাসান রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে ঘরে ফিরতে অনুরোধ করেন। এসময় সরকারি আদেশ অমান্য করায় ১৮ পথচারী ও ব্যবসায়ীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে জেলায় গেল ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নওগাঁ : নওগাঁ পৌরসভা এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় শর্ত শিথিল করে চলমান বিশেষ লকডাউনের মেয়াদ আরও ৭ দিন বাড়ানো হয়েছে। লকডাউন ১৬ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে-সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান, শপিংমল ও বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে। তবে চায়ের স্টল বন্ধ থাকবে। জেলা সদর থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চলাচল করতে পারবে।

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) : ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ কয়েকজন কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বীরগঞ্জে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডে ৯ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপজেলা কমিটি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদের এ ঘোষণা দেন। ব্যাংকের মূল ফটকে লাল কাপড় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া : জেলায় করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। করোনা রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের করোনার দুটি ওয়ার্ডে কোনো শয্যা ফাঁকা নেই। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত ৫৬টি শয্যার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৬৭ জন। এরমধ্যে করোনা পজিটিভ রোগী ৫০ জন। বাকি ২০ জন অভজারভেশনে ছিলেন। জেলায় গেল ২৪ ঘণ্টায় চারজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৬৭ জন।

মোংলা (বাগেরহাট) : জেলায় বুধবার ৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। বন্দর ও শ্রমিক অধ্যুষিত এ এলাকায় করোনা সংক্রমনের হার ৬৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তৃতীয় দফায় ১৬ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বিশেষ লকডাউন। অবস্থার উন্নতি না হলে লকডাউনের সময় আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন