মোংলা ও ফুলতলায় কঠোর বিধিনিষেধ
jugantor
মোংলা ও ফুলতলায় কঠোর বিধিনিষেধ
সাতক্ষীরা নোয়াখালীতে বেড়েছে লকডাউন * সিংড়ায় স্বাস্থ্যবিধি অমান্য, ১৫ জনকে জরিমানা

  যুগান্তর ডেস্ক  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মোংলা পৌর শহর ও বন্দর এলাকা এবং খুলনার ফুলতলায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা ও নোয়াখালীতে এলাকাভিত্তিক চলমান লকডাউন এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিংড়ায় স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ১৫ জনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

খুলনা : আজ থেকে ফুলতলা উপজেলায় এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। উপজেলার মুদি দোকান, সেলুন, চায়ের দোকান ইত্যাদি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ৪ জনের বেশি লোক জমায়েত হতে পারবে না। মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ইউএনও’র অফিস কক্ষে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও ইউএনও সাদিয়া আফরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ আকরাম হোসেন। সভায় উপজেলার ৪ ইউনিয়নে ব্যাপক প্রচারণা, কমিটি গঠনের মাধ্যমে মনিটরিং, আক্রান্তদের বাড়িতে কঠোর লকডাউন ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মোংলা (বাগেরহাট) : নদী পারাপারের ট্রলারের ওপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত সময় ছাড়া ট্রলার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্দর এলাকায় জনসাধারণের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। এমনকি স্থায়ীভাবে বন্দর এলাকায় বসবাসকারী বন্দরের কর্মচারীরাও যাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোয় নজরদারি ও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তবে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে মোংলায় বৃহস্পতিবার ৫১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৬ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

সাতক্ষীরা : জেলায় লকডাউনের মেয়াদ আরও ৭ দিন বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সকাল থেকে তা কার্যকর হবে। এর আগে ৫ জুন ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী লকডাউনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ রাতে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়।

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) : নোয়াখালীর পৌরসভা ও সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চলমান লকডাউন আরও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে। এবার সিএনজি ও অটোরিকশাসহ সব ধরনের গণপরিবহণও বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ৫ জুন থেকে ওইসব এলাকায় সাত দিনের লকডাউন শুরু হয়েছিল।

নাটোর ও সিংড়া : গেল ২৪ ঘণ্টায় পৌর এলাকাসহ সদরে আক্রান্তের হার ছিল ৭৫ শতাংশ। জেলায় ১৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬২ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর মধ্যে ৪৭ জনই নাটোর সদর ও পৌর এলাকার। একই এলাকায় একই সময়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নাটোরে করোনায় মোট মৃত্যু ৩৩ জনের। সিংড়ায় বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ‘হাটবার’ থাকলেও বুধবার রাতেই প্রশাসনের নির্দেশে কাঁচাবাজার, গরু-ছাগল, ধানসহ সব হাটবাজার মাইকিং করে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারি আদেশ অমান্য করায় ১৫ জন পথচারী ও ব্যবসায়ীকে ৯ হাজার একশ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শেরপুর : জেলায় গেল ২৪ ঘণ্টায় ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় আরও ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে এ সময় কেউ মারা যাননি। জুনের প্রথম ৯ দিনে জেলায় কোভিডে আক্রান্ত হন ৭১ জন। এর মধ্যে শেরপুর সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ জন। শেরপুর পৌরসভার নৌহাটা, নবীনগর, নারায়ণপুর, চকপাঠক ও গৌরীপুর মহল্লায় সংক্রমণের হার বেশি।

মোংলা ও ফুলতলায় কঠোর বিধিনিষেধ

সাতক্ষীরা নোয়াখালীতে বেড়েছে লকডাউন * সিংড়ায় স্বাস্থ্যবিধি অমান্য, ১৫ জনকে জরিমানা
 যুগান্তর ডেস্ক 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মোংলা পৌর শহর ও বন্দর এলাকা এবং খুলনার ফুলতলায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা ও নোয়াখালীতে এলাকাভিত্তিক চলমান লকডাউন এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিংড়ায় স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় ১৫ জনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

খুলনা : আজ থেকে ফুলতলা উপজেলায় এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। উপজেলার মুদি দোকান, সেলুন, চায়ের দোকান ইত্যাদি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ৪ জনের বেশি লোক জমায়েত হতে পারবে না। মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ইউএনও’র অফিস কক্ষে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও ইউএনও সাদিয়া আফরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ আকরাম হোসেন। সভায় উপজেলার ৪ ইউনিয়নে ব্যাপক প্রচারণা, কমিটি গঠনের মাধ্যমে মনিটরিং, আক্রান্তদের বাড়িতে কঠোর লকডাউন ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মোংলা (বাগেরহাট) : নদী পারাপারের ট্রলারের ওপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত সময় ছাড়া ট্রলার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্দর এলাকায় জনসাধারণের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। এমনকি স্থায়ীভাবে বন্দর এলাকায় বসবাসকারী বন্দরের কর্মচারীরাও যাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোয় নজরদারি ও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তবে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে মোংলায় বৃহস্পতিবার ৫১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৬ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

সাতক্ষীরা : জেলায় লকডাউনের মেয়াদ আরও ৭ দিন বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সকাল থেকে তা কার্যকর হবে। এর আগে ৫ জুন ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী লকডাউনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ রাতে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়।

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) : নোয়াখালীর পৌরসভা ও সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চলমান লকডাউন আরও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে। এবার সিএনজি ও অটোরিকশাসহ সব ধরনের গণপরিবহণও বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ৫ জুন থেকে ওইসব এলাকায় সাত দিনের লকডাউন শুরু হয়েছিল।

নাটোর ও সিংড়া : গেল ২৪ ঘণ্টায় পৌর এলাকাসহ সদরে আক্রান্তের হার ছিল ৭৫ শতাংশ। জেলায় ১৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬২ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর মধ্যে ৪৭ জনই নাটোর সদর ও পৌর এলাকার। একই এলাকায় একই সময়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নাটোরে করোনায় মোট মৃত্যু ৩৩ জনের। সিংড়ায় বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ‘হাটবার’ থাকলেও বুধবার রাতেই প্রশাসনের নির্দেশে কাঁচাবাজার, গরু-ছাগল, ধানসহ সব হাটবাজার মাইকিং করে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারি আদেশ অমান্য করায় ১৫ জন পথচারী ও ব্যবসায়ীকে ৯ হাজার একশ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শেরপুর : জেলায় গেল ২৪ ঘণ্টায় ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় আরও ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে এ সময় কেউ মারা যাননি। জুনের প্রথম ৯ দিনে জেলায় কোভিডে আক্রান্ত হন ৭১ জন। এর মধ্যে শেরপুর সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ জন। শেরপুর পৌরসভার নৌহাটা, নবীনগর, নারায়ণপুর, চকপাঠক ও গৌরীপুর মহল্লায় সংক্রমণের হার বেশি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন