প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত আর নেই
jugantor
প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত আর নেই

  কলকাতা প্রতিনিধি  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চিরঘুমের দেশে চলে গেলেন ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক ও দুই বাংলার প্রখ্যাত কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার নিজ বাসভবনে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। কয়েক মাস ধরে তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।

বাংলা চলচ্চিত্রের তিন প্রয়াত প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেনদের সুযোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। চলচ্চিত্র তৈরির পাশাপাশি তিনি কাব্য রচনায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। তার প্রতিটি ছবি যেমন কাব্য; তেমনি প্রতিটি কাব্যই একেকটা জীবন্ত ছায়াছবি। তিনি যখন বক্তব্য রাখতেন শ্রোতারা প্রতিটি কথার মধ্যেই কাব্যের স্বাদ খুঁজে পেতেন।

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের জন্ম ১৯৪৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার আনারায়। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি কলকাতায় চলে আসেন পড়াশোনার উদ্দেশ্যে। কর্মজীবন শুরু করেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসাবে। ১৯৬৮ সালে মাত্র ১০ মিনিটের একটা তথ্যচিত্র দিয়ে ছায়াছবি নির্মাণে তার হাতেখড়ি। কবিতার মতোই সুন্দর ছিল তার কল্পনা। দেশ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০০৮ সালে স্পেনের মাদ্রিদে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাকে জীবনকৃতি সম্মান দেওয়া হয়। তার উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছ- বাঘ বাহাদুর, চরাচর, লাল দরজা, কালপুরুষ।

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এক শোক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের প্রয়াণের খবর যন্ত্রণাদায়ক। তার বৈচিত্র্যময় কাজ সমাজের একাংশের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। তিনি প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও কবিও ছিলেন।’

তার মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘প্রখ্যাত পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মিত্র, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত আর নেই

 কলকাতা প্রতিনিধি 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চিরঘুমের দেশে চলে গেলেন ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক ও দুই বাংলার প্রখ্যাত কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার নিজ বাসভবনে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। কয়েক মাস ধরে তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।

বাংলা চলচ্চিত্রের তিন প্রয়াত প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেনদের সুযোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। চলচ্চিত্র তৈরির পাশাপাশি তিনি কাব্য রচনায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। তার প্রতিটি ছবি যেমন কাব্য; তেমনি প্রতিটি কাব্যই একেকটা জীবন্ত ছায়াছবি। তিনি যখন বক্তব্য রাখতেন শ্রোতারা প্রতিটি কথার মধ্যেই কাব্যের স্বাদ খুঁজে পেতেন।

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের জন্ম ১৯৪৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার আনারায়। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি কলকাতায় চলে আসেন পড়াশোনার উদ্দেশ্যে। কর্মজীবন শুরু করেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসাবে। ১৯৬৮ সালে মাত্র ১০ মিনিটের একটা তথ্যচিত্র দিয়ে ছায়াছবি নির্মাণে তার হাতেখড়ি। কবিতার মতোই সুন্দর ছিল তার কল্পনা। দেশ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০০৮ সালে স্পেনের মাদ্রিদে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাকে জীবনকৃতি সম্মান দেওয়া হয়। তার উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছ- বাঘ বাহাদুর, চরাচর, লাল দরজা, কালপুরুষ।

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এক শোক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের প্রয়াণের খবর যন্ত্রণাদায়ক। তার বৈচিত্র্যময় কাজ সমাজের একাংশের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। তিনি প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও কবিও ছিলেন।’

তার মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘প্রখ্যাত পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রাজ চক্রবর্তী, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মিত্র, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন