আমলা ও ধনীদের স্বার্থের বাজেট
jugantor
বাম জোটের বিক্ষোভ
আমলা ও ধনীদের স্বার্থের বাজেট

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১১ জুন ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সামরিক-বেসামরিক আমলা ও ধনিক গোষ্ঠীর স্বার্থে প্রণীত প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। একইসঙ্গে বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ উৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল থেকে এ দাবি জানানো হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদক বাচ্চু ভুইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তার বলেন, ধনিক শ্রেণি ও আমলা ব্যবসায়ীদের স্বার্থে প্রণীত এই বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াই ত্রুটিপূর্ণ। আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রণীত এই বাজেট পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক। এর সাথে দেশের শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র- পেশাজীবীসহ সাধারণ মানুষের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। গ্রাম-ইউনিয়ন-উপজেলা-জেলা-বিভাগ পর্যায় থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণের চাহিদা নিরূপণ করে মন্ত্রণালয় থেকে একটা সমন্বিত প্রস্তাব সংসদে পাঠালে তা আলোচনা-পর্যালোচনা করে বাজেট পাশ করলেই কেবল গণআকাক্সক্ষার পরিপূরক বাজেট হতে পারে। কিন্তু ৫০ বছর ধরে তা না করে উপর থেকে আমলারা বসে বাজেট প্রণয়ন করে, ফলে বাজেট জনবান্ধব না হয়ে আমলা-ধনিক শ্রেণির স্বার্থেই হয়ে আসছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তা আবারও প্রমাণিত হলো।

তারা আরও বলেন, বাজেট ঘোষণার আগে সরকার বলেছিল এবারের বাজেট হবে করোনা মোকাবিলার অর্থাৎ জীবন ও জীবিকা রক্ষার। কিন্তু ঘোষণার পর দেখা গেল ঋণনির্ভর ঘাটতি বাজেটের বেশিরভাগ টাকাই আগের ধারাবাহিকতায় আমলা, ব্যবসায়ী, সামরিক ও পুলিশ খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। ১০০ টাকার মধ্যে ৬২ টাকা চলে যাবে রাষ্ট্রের পরিচালন ব্যয়ে অর্থাৎ বেতন-ভাতা ও আমলা-ব্যবসায়ীদের পেছনে। আর উন্নয়ন বাজেটের বেশিরভাগ টাকা যাবে সরকারের ১১টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে। ফলে জনগণের স্বার্থে বা কল্যাণের জন্য আর কোনো টাকা থাকছে না। স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা খাত শুধু উপেক্ষিতই থাকেনি, কোনো কোনো খাতে বরাদ্দ গতবারের তুলনায় কমে গেছে। করোনায় কর্মহীন, আয় কমে যাওয়া নতুন আড়াই কোটি দরিদ্র মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় বাজেটে কোনো বরাদ্দ করা হয়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, করোনা মোকাবিলার বাজেট বললেও ১৭ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও টিকা কার্যক্রমের কোনো রোডম্যাপ এতে নেই। ১৭ মাস ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা, শিক্ষা পুনরুদ্ধারে বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। প্রতি বছর ২২ লাখ যুবক চাকরির বাজারে আসে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে বাজেটে কোনো বক্তব্য নেই। ৬ লাখ প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছে। সরকার রেমিট্যান্সের বড়াই করলেও ফিরে আসা শ্রমিকের ব্যাপারে বাজেটে কোনো পদক্ষেপ নেই। অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন এবারের বাজেট পুরোপুরিই ব্যবসাবান্ধব, যা বাস্তবে ব্যবসাবান্ধব শুধু না পুরোপুরি ব্যবসায়ী ধনিক শ্রেণির বাজেট।

বাম জোটের বিক্ষোভ

আমলা ও ধনীদের স্বার্থের বাজেট

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১১ জুন ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সামরিক-বেসামরিক আমলা ও ধনিক গোষ্ঠীর স্বার্থে প্রণীত প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। একইসঙ্গে বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ উৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল থেকে এ দাবি জানানো হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদক বাচ্চু ভুইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তার বলেন, ধনিক শ্রেণি ও আমলা ব্যবসায়ীদের স্বার্থে প্রণীত এই বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াই ত্রুটিপূর্ণ। আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রণীত এই বাজেট পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক। এর সাথে দেশের শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র- পেশাজীবীসহ সাধারণ মানুষের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। গ্রাম-ইউনিয়ন-উপজেলা-জেলা-বিভাগ পর্যায় থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণের চাহিদা নিরূপণ করে মন্ত্রণালয় থেকে একটা সমন্বিত প্রস্তাব সংসদে পাঠালে তা আলোচনা-পর্যালোচনা করে বাজেট পাশ করলেই কেবল গণআকাক্সক্ষার পরিপূরক বাজেট হতে পারে। কিন্তু ৫০ বছর ধরে তা না করে উপর থেকে আমলারা বসে বাজেট প্রণয়ন করে, ফলে বাজেট জনবান্ধব না হয়ে আমলা-ধনিক শ্রেণির স্বার্থেই হয়ে আসছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তা আবারও প্রমাণিত হলো।

তারা আরও বলেন, বাজেট ঘোষণার আগে সরকার বলেছিল এবারের বাজেট হবে করোনা মোকাবিলার অর্থাৎ জীবন ও জীবিকা রক্ষার। কিন্তু ঘোষণার পর দেখা গেল ঋণনির্ভর ঘাটতি বাজেটের বেশিরভাগ টাকাই আগের ধারাবাহিকতায় আমলা, ব্যবসায়ী, সামরিক ও পুলিশ খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। ১০০ টাকার মধ্যে ৬২ টাকা চলে যাবে রাষ্ট্রের পরিচালন ব্যয়ে অর্থাৎ বেতন-ভাতা ও আমলা-ব্যবসায়ীদের পেছনে। আর উন্নয়ন বাজেটের বেশিরভাগ টাকা যাবে সরকারের ১১টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে। ফলে জনগণের স্বার্থে বা কল্যাণের জন্য আর কোনো টাকা থাকছে না। স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা খাত শুধু উপেক্ষিতই থাকেনি, কোনো কোনো খাতে বরাদ্দ গতবারের তুলনায় কমে গেছে। করোনায় কর্মহীন, আয় কমে যাওয়া নতুন আড়াই কোটি দরিদ্র মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় বাজেটে কোনো বরাদ্দ করা হয়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, করোনা মোকাবিলার বাজেট বললেও ১৭ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও টিকা কার্যক্রমের কোনো রোডম্যাপ এতে নেই। ১৭ মাস ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা, শিক্ষা পুনরুদ্ধারে বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। প্রতি বছর ২২ লাখ যুবক চাকরির বাজারে আসে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে বাজেটে কোনো বক্তব্য নেই। ৬ লাখ প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছে। সরকার রেমিট্যান্সের বড়াই করলেও ফিরে আসা শ্রমিকের ব্যাপারে বাজেটে কোনো পদক্ষেপ নেই। অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন এবারের বাজেট পুরোপুরিই ব্যবসাবান্ধব, যা বাস্তবে ব্যবসাবান্ধব শুধু না পুরোপুরি ব্যবসায়ী ধনিক শ্রেণির বাজেট।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন